📄 আলোকিত মানুষ হতে চাও যদি
* কারো কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রাপ্তির আশা করো না। প্রতিদানের জন্যে তো প্রতিপালকই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে কৃতঘ্নের অকৃতজ্ঞতা ও হিংসুকের হিংসা তোমার কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারবে না。
* তোমার মনকে পরশ্রীকাতরতা থেকে পবিত্র রাখো। মন থেকে দূর করো ঘৃণা, বৈরিতা ও শত্রুতা。
* মানুষের কল্যানকামী হয়েই কেবল তাদের সাথে মেলামেশা করো। বেশিরভাগ সময় ঘরেই অবস্থান করো। নিজের কাজ নিয়েই থাকো ব্যস্ত। লোকজনের অধিক সাহচর্য থেকে থাকো দূরে。
* নিজ আকৃতি, কার্যদক্ষতা, পারদর্শিতা, পরিবার ও গৃহ নিয়ে পরিতৃপ্ত থাকো। শান্তি ও সফলতা লাভ করতে পারবে。
* কারো প্রতি মন্দ ধারণা, ভিত্তিহীন ভাবনা ও বিকৃত মানসিকতা পরিত্যাগ করো。
* নিন্দুকের নিন্দায় বিচলিত হয়ো না। এতে নিন্দুক নিজেই কষ্ট পাবে。
* শত্রুপক্ষ যদি তোমার দুর্নাম করে বেড়ায়, হিংসুকেরা যদি তোমাকে গালমন্দ করে, তাহ লে এতে তোমার সম্মান বৃদ্ধি পাবে। কারণ, এর দ্বারা তুমি মানুষের মাঝে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিগণিত হবে。
* মানুষের সাথে সাক্ষাতকালে হাসিখুশি থাকো। তাদের ভালোবাসা পাবে। কথায় বিনম্র ও আচরণে বিনয়ী হও। তাদের সম্মান পাবে。
* মানুষকে সহজরূপে গ্রহণ করো, সে যেমনই হোক। ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখো তাদের দোষত্রুটি। মনে রেখো, ক্ষমা ও অনুগ্রহ আল্লাহ ﷻ-এর বিশেষ গুণ।
📄 মনে রেখো
* মনে রেখো, যারা আযানের ধ্বনি শোনার জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকে, তাকবীরে উলার সাথে সালাত আদায়ের জন্য যারা সর্বাগ্রে মসজিদ পানে ছোটে, প্রথম কাতারে জায়গা পাবার জন্য যাদের মন ব্যাকুল থাকে, জিকিরের মজলিশগুলো যাদের উপস্থিতিতে সরব থাকে, হৃদয় যাদের উদার, সুন্নাতের প্রতি যারা যত্নবান, আল্লাহর জিকিরে জিহ্বা যাদের সতেজ, রিযিক যাদের হালাল, মুসলিম ভাইয়ের দুঃখে কাঁদে যাদের মন, ঝগড়া-বিবাদ থেকে যোজন যোজন দূরে যাদের অবস্থান, বিপদে ধৈর্য ধারণ যাদের সহজাত স্বভাব, সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ যারা করেন, উপযুক্ত খাতে সম্পদ ব্যয় যারা করেন- তারাই হলেন প্রকৃত আল্লাহওয়ালা।
* মনে রেখো, দুঃখের পরই আসে সুখ। অসচ্ছলতার পরেই আসে সচ্ছলতা। অবস্থা সর্বদা এক রকম থাকে না। কালের বিবর্তন চিরন্তন।
* মনে রেখো, পৃথিবীতে তুমি একাই বিপদগ্রস্ত নও। দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত নয় কেউই। সংকট মানুষের পিছু ছাড়ে না।
* মনে রেখো, তোমার মাঝে যে নেয়ামতের ভান্ডার ও কল্যাণের খাজানা রয়েছে, তা আল্লাহ-রই দান।
* মনে রেখো, তোমার জীবন অপ্রসন্ন ও বিষাদময় হোক-এটাই কামনা করে তোমার শত্রুপক্ষ। তাই নিজের দুশ্চিন্তা-পেরেশানী ও দুঃখ-কষ্ট প্রকাশ করে তাদেরকে খুশি করো না।
* মনে রেখো, যে ব্যক্তি দুনিয়া পাওয়ার আশায় কোনো কাজ করে, আল্লাহ তাকে ওই কাজের বিনিময় দুনিয়াতেই পুরোপুরি দিয়ে দেন। পক্ষান্তরে যে আখেরাতের জন্য ভালো কাজ করে, সে তার ফল দুনিয়া আখেরাত উভয় স্থানেই লাভ করে।
* মনে রেখো, আনন্দের মুহূর্তগুলো ধার করা। পেরেশানী কাফ্ফারা। গোস্বা অকল্যাণকর। বেকারত্ব ক্ষতিকর। ইবাদত উপকারী ব্যবসা।
* মনে রেখো, কলম তোমার সাথী। বই তোমার বন্ধু। ঘর তোমার রাজত্ব। তোমার রিযিক তোমার ধনভান্ডার। অতএব, যা চলে গেছে তার নিয়ে আক্ষেপ করো না।
* মনে রেখো, কিছু বিষয়ের শুরুটা কষ্টের হয়ে থাকে; কিন্তু তার ফলাফল মিষ্টি হয়ে ধরা দেয়। যেমন, মেঘ। শুরুতে তর্জন-গর্জন করলেও শেষটায় বর্ষণ করে রহমতের বারিধারা।
* মনে রেখো, দুটি নেয়ামত অপ্রকাশ্য। ১. শরীরের সুস্থতা। ২. স্বদেশের শান্তি ও নিরাপত্তা।
দুটি নেয়ামত প্রকাশ্য। ১. মানুষের চর্চিত স্তুতি-প্রশংসা। ২. সৎ ও নেককার সন্তান-সন্তুতি।
* মনে রেখো, যে তোমার দোষচর্চা করছে, সে তার অর্জিত নেকগুলো তোমাকে উপঢৌকন স্বরূপ দিয়ে দিচ্ছে। তোমার পাপরাজি মিটিয়ে দিচ্ছে। তোমাকে লোক সমাজে প্রসিদ্ধ করে তুলছে। এটাও এক প্রকারের নেয়ামত।
* মনে রেখো, তোমার মন সেই তরল বস্তুর ন্যায়, যা পাত্রসমূহকে নিজের রঙ দান করে। অতএব, তোমার মন যদি সন্তুষ্ট ও প্রশান্ত হয়, তা হলে সে সুখ, কল্যাণ ও সৌন্দর্য দেখবে। আর যদি সে সংকীর্ণ হয় এবং অশুভ লক্ষণ গ্রহণে অভ্যস্ত হয়, তা হলে সে অশান্তি, অকল্যাণ ও মন্দেরই মুখোমুখী হবে。
* মনে রেখো, সাহাবায়ে কেরাম আজমাইন অন্যদের মন নিয়ে বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতেন না; নফসের ওয়াসওয়াসা ও অপ্রয়োজনীয় সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়কে অন্তরে স্থান দিতেন না। বরং মূলনীতির উপর জোর দিতেন এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের প্রতি অধিক মনোযোগী থাকতেন। আর এ জন্যই তাঁরা সকলের চেয়ে সুখী ছিলেন。
* মনে রেখো, উদারতা হচ্ছে, অপচয় ও কৃপণতার মাঝামাঝি। সাহস হচ্ছে কাপুরুষতা ও বেপরোয়াভাবের মাঝামাঝি। মুচকি হাসি হচ্ছে ভ্রূকুটি ও অট্টহাসির মাঝামাঝি। ধৈর্য হচ্ছে কঠোরতা ও খুঁতখুঁতে স্বভাবের মাঝামাঝি。
* মনে রেখো, কেউ যদি আল্লাহ -র জন্য কোনোকিছু ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে এরচেয়ে উত্তম জিনিস দান করেন। কারণ, আল্লাহ পবিত্র, পবিত্র জিনিসকেই তিনি কবুল করে থাকেন।
📄 হৃদয়ে প্রশান্তি পেতে
* মানুষের সাথে উত্তম আচরণ করো। তাদের কল্যাণে ব্যাপৃত থাকো। অসুস্থের শুশ্রুষা করো। অভাবগ্রস্তকে দান করো। এতিমের প্রতি অনুগ্রহ করো। হৃদয়ে প্রশান্তি পাবে।
* তাকে ক্ষমা করো, যে তোমার উপর অবিচার করে। তার সঙ্গে সম্পর্ক জুড়ো, যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে। তাকে দান করো, যে তোমাকে বঞ্চিত করে। তার প্রতি সহনশীল হও, যে তোমার সাথে মন্দ আচরণ করে। এতে তুমি লাভ করবে প্রশান্তি ও নিরাপত্তা।
📄 ইবাদতে একনিষ্ঠ হও
* ইবাদতের ব্যাপারে নিজের উপর অধিক বাড়াবাড়ি করো না। সুন্নতের অনুসরণ করো। আল্লাহ-র আদেশ মেনে চলো। বাড়াবাড়ি পরিহার করো। সর্বক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো।
* খালেস একত্ববাদ অবলম্বন করো। এতে হৃদয় হয় প্রশস্ত। একত্ববাদে তুমি যতটা খাঁটি হবে, ইবাদতে ততটা একনিষ্ঠ হবে; সে অনুযায়ী তোমার সৌভাগ্যের দুয়ার উন্মোচিত হবে।
* রাতের শেষ প্রহরে এমন বার্তা পাঠাও, অশ্রু হবে যার কালি, কপোল হবে যার কাগজ, কবুলিয়্যত হবে যার ডাক, রবের আরশ হবে যার গন্তব্য। তারপর অপেক্ষায় থাকো প্রতিউত্তরের।
* সেজদায় লুটিয়ে পড়ে মনের গোপন কথাগুলো খুলে বলো তাঁর কাছে। তাঁর কাছে যে, গোপন নেই কিছুই। প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সবকিছুই জানেন তিনি। তবে সেসব কথা কারো কাছে বলবে না। কারণ, ভালোবাসার গোপন ভেদ ফাঁস করতে নেই। আর এ ভেদ তো তোমার আর প্রভুর মাঝে। স্রষ্টা আর সৃষ্টির মাঝে। তাছাড়া মানুষের মাঝে কল্যাণকামী ও হিংসুক সব ধরনের লোকই থাকে।
* শেষ রাতে উঠো। হাত প্রসারিত করো। একাগ্রচিত্তে বলো- 'দয়াময় প্রভু! সামান্য পুঁজি নিয়ে তোমার দরবারে হাজির হয়েছি। তুমি পুরোপুরি দান করো।
* ইবাদতই সৌভাগ্য। যোগ্যতাই সাফল্য। যে ব্যক্তি আল্লাহর স্মরণে নিজেকে ব্যস্ত রাখে, সর্বদা করতে থাকে দোআ-ইস্তেগফার, আল্লাহর কাছে তুলে ধরে মুখাপেক্ষিতা তার- সেই তো নেককার।