📄 তাকদীরকে মেনে নাও, সুখী হবে
* তাকদিরের অবধারিত সিদ্ধান্ত ও বন্টিত রিযিকের উপর সন্তুষ্ট থেকো। যা কিছু হয় তা তাকদিরের ফয়সালা হিসেবে মেনে নিও। অযথা পেরেশান হয়ো না।
* তোমার উপর যে বিপদ এসেছে, তা না-আসার ছিল না। আর যে বিপদ আসেনি, তা আসার ছিল না। শুকিয়ে গেছে কলম। গুটিয়ে ফেলা হয়েছে দফতর। তাই, তাকদীরের ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট হওয়া ছাড়া নেই কোনো উপায়।
* তাকদীরে যা লেখা আছে, তা বাস্তবায়ন হবেই। মৃত্যুর আগমন অবশ্যম্ভাবী। রিযিক বণ্টিত। অতএব, দুশ্চিন্তা, পেরেশানী ও বিষণ্ণতায় কী লাভ?
* যে সন্তুষ্ট নয় তাকদীরের ফায়সালার উপর এবং যে চায় অন্যের মতো হতে- তার চেয়ে বড় হতভাগা আর কেউ নেই।
كُلُّ شَيْءٍ بِقَضَاءٍ وَقَدَرٍ والمنايا عبر أي عبر
তাকদীরের ফয়সালা অনুসারেই ঘটে সবকিছু, আর অন্যদের মৃত্যুর মাঝে রয়েছে শিক্ষা।
📄 যিকির করো, দিল ঠান্ডা হবে
* আল্লাহ-র যিকিরে- হৃদয় হয় শীতল, পাপ হয় মাফ, প্রতিপালক হন সন্তুষ্ট, দুশ্চিন্তা হয় বিদূরিত।
* যিকিরের দ্বারা আল্লাহ সন্তুষ্ট হন; মানুষ সৌভাগ্যবান হয়; শয়তান লাঞ্ছিত হয়; পেরেশানী দূর হয় এবং নেকীর পাল্লা ভারী হয়。
* ইখলাসের সঙ্গে বেশি বেশি يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ * يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْتُ পাঠ করো। এতে সুখ, শান্তি, আনন্দ ও প্রশস্ততা লাভ করবে।
* বেশি বেশি لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ পাঠ করো। এতে বক্ষ হয় প্রশস্ত। অবস্থা হয় উন্নত। বোঝা হয় লঘু এবং আল্লাহ হন সন্তুষ্ট।
* নিয়মিত لا إلهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ পাঠ করো। কারণ, বালা-মসিবত দূরীকরণে এটি খুবই কার্যকরী একটি দোআ।
* বিভিন্ন সময় ও স্থানে পাঠ্য দোআ ও যিকিরের প্রতি যত্নবান হও। কারণ, এগুলো তোমার নিরাপত্তা ও হেফাজতের মাধ্যম।
* যখন পেরেশানীর মুখোমুখি হবে এবং একের পর এক দুশ্চিন্তা তোমাকে চেপে ধরবে, তখন কালিমায়ে তাইয়্যেবার যিকির করো- لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ; -আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ (প্রতিপালক) নেই।
* দুনিয়ার বুকেও একটি জান্নাত আছে। সেই জান্নাতে যে প্রবেশ করে না, আখেরাতের জান্নাতেও সে প্রবেশ করতে পারবে না। দুনিয়ার সেই জান্নাতটি হলো- আল্লাহ -এর যিকির, তাঁর আনুগত্য, তাঁর মুহাব্বত, তাঁর সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও তাঁর প্রতি আগ্রহ।
* যিকির-আযকার ও ইবাদত-বন্দেগী করার সময় অন্তরকে হাযির রাখা এবং মনোযোগের সবটুকু সেদিকেই দেওয়া উচিত। কেননা, যে ইলম-এ কোনো গভীরতা নেই, সেই ইলম-এ কোনো ফায়দা নেই। ঠিক তেমনিভাবে খুশুখুযুহীন সালাত-ইবাদত এবং চিন্তা-গবেষণাহীন পাঠেও বেশি উপকার নেই।
* সর্বদা স্মরণ করো সেই মহান পবিত্র সত্তাকে, যিনি লাঞ্ছনাকে ইয্যত, মুখাপেক্ষিতাকে অমুখাপেক্ষিতা, চাওয়াকে সম্মান, বিনয়কে উচ্চতা ও তাওয়াক্কুলকে প্রাচুর্য বানিয়ে দিয়েছেন।
* حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ -আশ্চর্য এক দোয়া। এ দোয়াটি কখনো ভুলে যেও না। এ দোয়ার বরকতে নিভে যায় জ্বলন্ত আগুন, বেঁচে যায় ডুবন্ত মানুষ, পথ খুঁজে পায় পথহারা; সর্বোপরি আল্লাহ -এর সাথে সম্পর্ক হয় সুদৃঢ়।
* হে পাখি! কতইনা সুখী তুমি। ঘুড়ে বেড়াও নদীর পাড়ে। গাছের চূড়া নিবাস তোমার। খাও নানা ফলফলাদি। কোনো কিছুর নেই আশঙ্কা। নেই জাহান্নামে যাওয়ার ভয়ও। অবস্থার বিবেচনায় মানুষের তুলনায় তুমিই বেশি সুখী।
* গাইরুল্লাহর ভালোবাসা মন থেকে দূরে সরিয়ে দাও। কারণ, এটা রূহের আযাব; অন্তরের ব্যাধি। আল্লাহ -এর স্মরণ ও আনুগত্যের প্রতি অধিক মনোযোগী হও।
ومن لقاء الله قد أحبا • كان له الله أشد حبا
وعكسه الكاره فالله اسأل • رحمته فضلاً ولا تتكل
যে ব্যক্তি আল্লাহ -এর সাক্ষাতে আগ্রহী, আল্লাহ তাকে বেশি ভালোবাসেন। আর যে আল্লাহ-কে ভালোবাসে না তার অবস্থা এর বিপরীত (অর্থাৎ আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন না)। অতএব শ্রেষ্ঠত্ব পেতে হলে আল্লাহ-র কাছে রহমত চাও। এবং অলস বসে থেকো না (বরং নেক কাজ করো)।
📄 দান-সদকা করো,হোক না সামান্যই
* দানশীল হও। কারণ, দানশীল ব্যক্তির বক্ষ থাকে উন্মুক্ত। হৃদয় থাকে প্রশস্ত। আর কৃপণ ব্যক্তির চিন্তা- চেতনা ও ধ্যান-ধারণা হয়ে থাকে সংকীর্ণ।
* দান-খয়রাত করো, হোক না তা পরিমাণে স্বল্প। কারণ, দান-সদকা পাপ মোচন করে। হৃদয়ে প্রফুল্লতা আনে। দুশ্চিন্তা দূর করে। রিযিকে বরকত আনে।
* রহমতের অন্যতম এক দরজা হচ্ছে সদকা। এর মাধ্যমে উদারতা ও হৃদয়ের প্রশস্ততা বাড়ে। এতে মন খুলে নেক কাজ করার আবেগ সৃষ্টি হয়। এজন্য সদকার মতো মহান আমল যারা করেন, তাদের জন্য আল্লাহ যথেষ্ট। এর বিনিময়ে তিনি হৃদয়ের উন্মেষ, ঈমানের নূর, মনের উদারতা ও সুখময় জীবন দান করেন।
* সদকা করো, চাই তা সামান্য হোক না কেন। সদকায় প্রদেয় বস্তুকে তুচ্ছ জ্ঞান করো না। খেজুরের টুকরা, এক লোকমা খাবার, এক ঢোক পানি অথবা সামান্য মাঠা কোন মিসকীনকে দিয়ে দাও। কোনো ক্ষুধার্তকে খাবার দাও। কোনো রোগীকে দেখতে যাও। তখন তোমার কাছে অনুভূত হবে যে, আল্লাহ তোমার পেরেশানী দূর করে দিয়েছেন। তোমার দুঃখ-বেদনা, বিরক্তি ও অস্থিরতা দূর করে দিয়েছেন। সদকা এমন একটি পরীক্ষিত ওষুধ, যা শুধু ইসলামী দাওয়াখানায় পাওয়া যায়।
* 'উত্তম কথাও সদকা'। কেননা, এর দ্বারা নক্স বিজয়ী হয়। অন্তর আনন্দিত হয়। দিলের জখম ভালো হয়। ক্রোধ দূরিভূত হয়। নিরাপত্তা ও শান্তি বিস্তৃত হয়।
* অন্যের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাও সদকাতুল্য। কারণ, চেহারা হচ্ছে ভেতরের শিরোনাম; মনের আয়না; অন্তরের নির্দেশক এবং আমাদের প্রথম পরিচয়।
الله أعطاك فابذل من عطيته . فالمال عارية والعمر رحال
أريني كريماً مات من قبل حينه * فيرضى فؤادي أو بخيلاً مخلدا
সম্পদ আল্লাহ তোমাকে দান করেছেন, তার দেওয়া সম্পদ থেকেই খরচ করো。
আমাকে এমন একজন দানশীল ব্যক্তি দেখাও (দান করার কারণে অভাবে পড়ে যে) তার নির্ধারিত সময়ের আগেই মৃত্যুবরণ করেছে।
অথবা আমাকে শান্তি দাও এমন একজন কৃপন ব্যক্তিকে দেখিয়ে যে (তার খাজানা নিয়ে) চিরকাল বেঁচে আছে।
📄 সৌভাগ্যের সাতকাহন
* সৌভাগ্য নামক বৃক্ষটির জন্য যে আলো, বাতাস ও পানির প্রয়োজন তার যোগান আল্লাহ ﷻ ও পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে অর্জিত হয়।
* ৪টি জিনিস বয়ে আনে সৌভাগ্য – উপাকারী বই, নেককার সন্তানাদি, প্রেমবতী স্ত্রী, ভালো বন্ধু। এদের সকলের প্রতিদান আল্লাহ ﷻ-র কাছে।
* মা-বাবার দোআ - সৌভাগ্যের বড় মাধ্যমগুলোর একটি। তাদেরকে অমূল্য সম্পদ মনে করো। তোমার যে কোনো অনিষ্টের বিরুদ্ধে তাদের দোআ ঢালের মতো কাজ করবে।
* রাসূল ﷺ-কে তোমার আদর্শরূপে গ্রহণ করো। (ইহলোকে) সৌভাগ্যের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছতে পারবে। (পরকালে) মুক্তি ও সাফল্য লাভ করবে।
* যে ব্যক্তি প্রসিদ্ধি অর্জনের পেছনে ছুটে বেড়ায়, সে সৌভাগ্যের শত্রু।
* বাড়িতে কিংবা অফিসে চিৎকার-চেঁচামেচি থেকে বিরত থেকো। শান্তশিষ্ট থাকাটাও সৌভাগ্যের একটি নিদর্শন।
* বাঁধা-বিপত্তি ও প্রতিকূল অবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারাটা সৌভাগ্যের লক্ষণ। সফলতা অর্জনের মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই।
* সৌভাগ্যের ভিত্তি পাঁচটি জিনিস- শান্তি, নিরাপত্তা, অমুখাপেক্ষিতা, দীন ও সুস্থতা। দরিদ্র ব্যক্তি সর্বদা থাকে ভীত। অসুস্থ ও বেদীন ব্যক্তির সুখ মিলে না কখনও।
* তুমি আল্লাহ-র হুকুম কতটা মানো, তাঁর সৃষ্টিজীবের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করো- এর উপরই নির্ভর করবে তোমার সৌভাগ্য ও সফলতা। মনে রেখো, শ্রুতিমধুর ও চটকদার কথা বলা খুব সহজ, কিন্তু কঠিন হলো সে অনুযায়ী আমল করা।
* নেক ও কল্যাণকর কাজে সময়কে কাজে লাগাও। এক্ষেত্রে ধৈর্য, দৃঢ়তা ও অবিচলতার মাধ্যমে প্রতিযোগিতা করো। তুমি যদি কারো উপকার করতে পারো, অপরের কল্যাণ সাধনে ত্যাগের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করতে পারো, তাহলে জেনে নিও, তুমিই পরম সৌভাগ্যবান।
* চারটি জিনিষ এমন যা সৌভাগ্যকে বয়ে আনে- ১. উপকারী বই ২. নেক সন্তান ৩. প্রিয়তমা স্ত্রী ৪. ভালো সঙ্গী。
আর আল্লাহ-র কাছে প্রত্যেকের জন্যেই রয়েছে যথাযথ প্রতিদান।