📘 তুমিও পারবে 📄 অতীত নিয়ে ভেবো না

📄 অতীত নিয়ে ভেবো না


* যা অতীত হয়েছে তা চলে গেছে চিরদিনের তরে। যে সময় গত হয়েছে তা আর কখনও আসবে না ফিরে। তাই অতীত নিয়ে ভেবো না কখনও।
* আমরা অতীতকে বদলাতে পারি না; নিজেদের ইচ্ছামত নির্মাণ করতে পারি না ভবিষ্যতকেও। তা হলে সেসব বস্তুর বেদনায় কেন জীবনকে বিপন্ন করি, যেগুলো আমাদের ইচ্ছার বাইরে।
* অতীতের জন্য অশ্রু ফেলা বন্ধ করো। অনর্থক কান্নাকাটি কোরো না। কেননা, তুমি অতীতকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। বর্তমান হচ্ছে প্রকৃত জীবন। অতীতের দুঃখবেদনা এবং দূর ভবিষ্যতের আশঙ্কায় লিপ্ত হয়ে কোন লাভ নেই।
* অতীত ও বর্তমানকে জরিপ দাও। জীবন হচ্ছে অভিজ্ঞতার সমষ্টি। মানুষের উচিত অভিজ্ঞতার আলোকে জীবন কামিয়াব করা।
* অতীত হয়ে যাওয়া বিপদাপদ, আকস্মিক ঘটনাবলি, অসহনীয় স্মৃতি ও ভুলত্রুটি স্মরণ করা এবং সেগুলোর মধ্যে নিমগ্ন থাকা সমীচীন নয়।
* যে বিপদ নিয়েছে বিদায়, অনাকাঙ্খিত যে ঘটনা হয়েছে গত, দুঃসহ যে স্মৃতি কেবল কষ্ট বাড়ায়, অতীতের যে ভুলত্রুটির স্মরণ সম্মুখের পথ আগলে দাঁড়ায়- সেগুলো নিয়ে মগ্ন থাকা সমীচীন নয়। কারণ, তুমি কি কোথাও শুনেছো যে, দুঃখ ও বেদনা অতীতের ক্ষয়-ক্ষতি এবং চিন্তা-চেতনার ত্রুটিবিচ্যুতি সংশোধন করতে পারে? তা হলে অযথা কেন এই দুঃখবেদনার পসরা সাজিয়ে বসেছো?
* অতীত হচ্ছে একটি স্বপ্ন, যা বিগত হয়ে নিঃশেষ হয়ে গেছে; আর ভবিষ্যৎ হচ্ছে আশা-আকাঙ্ক্ষার দোলাচল। আজই হচ্ছে প্রকৃত বাস্তব।
* অতীত নিয়ে পড়ে থাকা বোকামী ও পাগলামী। এর উপমা হচ্ছে- আটাকে পুনরায় পেষা; চিরা কাঠকে পুনরায় চিরা; মৃত লাশকে কবর থেকে বের করে আনা।
* অতীতের কথা মনে পড়লে নিজের শানদার ইতিহাসের কথা স্মরণ করো; যাতে আনন্দিত থাকতে পারো। আজকের দিনে নিজের কামিয়াবীর প্রতি দৃষ্টি দাও; যাতে সুখী হতে পারো। আগামীকালের কথা স্মরণ হলে নিজের সুন্দর স্বপ্নের কথা মনে করো এবং শুভ লক্ষণ গ্রহণ করো।

مَا مَضَى فَاتَ وَالمُؤمَّلُ غَيْبُ * وَلَكَ السَّاعَةُ الَّتِي أَنْتَ فِيهَا
যা অতীত হয়ে গেছে তা তো চিরদিনের জন্য চলে গেছে, যা আশা করা হয় তা তো অজ্ঞাত।
আর তোমার যা আছে তা হলো বর্তমান মুহূর্তটি।

📘 তুমিও পারবে 📄 বর্তমান ও ভবিষ্যৎ

📄 বর্তমান ও ভবিষ্যৎ


* বিত্তশালী ও তোমার জন্য দিন কেবল একটিই- আজকের দিন। সুখময় গতকাল ফিরে পাবে না তারাও, ফিরে পাবে না তুমিও। আর আগামীকাল- না তোমার, না তাদের। সকলের জন্য দিন একটিই-আজকের দিন; যা খুবই সংক্ষিপ্ত।
* গতকাল বিদায় নিয়েছে। আজ যাই যাই করছে। আগামীকাল আসেনি এখনও। কেবল আজকের দিনটিই রয়েছে তোমার হাতে। অতএব, কাজে লাগাও একে। স্রষ্টার আনুগত্য করো। প্রভূত কল্যাণ লাভ করতে পারবে।
* আজ যে সুখ পেলে তা নিয়েই থাকো সন্তুষ্ট। কারণ, আগামীকালও তা বাকি থাকবে কি না সেই নিশ্চয়তা নেই। কালের পাকড়াও থেকে আমরা কেউই নিরাপদ নই।
* সকালে করো না সন্ধ্যার আশা। থাকো আজকের গন্ডির ভেতরই। তোমার আজ-কে সংশোধন করার জন্য প্রচেষ্টার সবটুকু ব্যয় করো।
* ভবিষ্যতের কথা ছাড়ো। তাকে আসতে দাও। আগামীর চিন্তায় বিচলিত হয়ো না। তোমার আজ যদি দুরস্ত হয়ে যায় ইনশাআল্লাহ আগামীও হবে সুন্দর।
* আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমরা বর্তমানের ব্যাপারে অক্ষম। বসে থাকি অতীত নিয়ে। আজ কোনো কাজ করি না, আগামীকাল কী হবে সে ভাবনায় থাকি বিভোর। বিবেক ও প্রজ্ঞার দাবি তো এটা নয়।
* যা হারিয়েছো তা নিয়ে কেন মিছে দুশ্চিন্তা করছো? যা আছে কেন তার শুকরিয়া আদায় করছো না? কেন ভুলে যাচ্ছো তোমার বর্তমান নেয়ামতরাজির কথা? কেন অধরা নেয়ামতের জন্য করছো হা-হুতাশ? অন্যকে দেখে কেন হিংসায় জ্বলছো? যে আছে তোমার পাশে কেন অবজ্ঞা করছো তাকে?
* তুমি যদি তোমার বর্তমান অবস্থার উপর খুশি না থাকতে পারো, তাহলে সেই খুশির জন্য মিছে অপেক্ষায় থেকো না, যা দিগন্তের ওপার থেকে আসবে বলে ভাবছো।
* যে সত্তা তোমার অতীতের সমস্যার সমাধান করেছেন, তিনি তোমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের সমস্যাগুলোরও সমাধান করবেন। ভরসা রাখো তাঁর উপর। তিনি যদি পাশে থাকেন, তবে ভয় কি তোমার? আর তিনি যদি তোমার বিরোধী হন, তবে তোমার আশা-ভরসার জায়গা কোথায়?
* তুমি আগামীকালের রিযিকের চিন্তায় পেরেশান! অথচ তোমার জীবনে আগামীকাল আসবে কি না তার কোনো গ্যারান্টি নেই। আর গতকাল তোমার জীবন থেকে চলে গেছে, তা আর কোনোদিন সে আসবে না ফিরে।

📘 তুমিও পারবে 📄 তাকদীরকে মেনে নাও, সুখী হবে

📄 তাকদীরকে মেনে নাও, সুখী হবে


* তাকদিরের অবধারিত সিদ্ধান্ত ও বন্টিত রিযিকের উপর সন্তুষ্ট থেকো। যা কিছু হয় তা তাকদিরের ফয়সালা হিসেবে মেনে নিও। অযথা পেরেশান হয়ো না।
* তোমার উপর যে বিপদ এসেছে, তা না-আসার ছিল না। আর যে বিপদ আসেনি, তা আসার ছিল না। শুকিয়ে গেছে কলম। গুটিয়ে ফেলা হয়েছে দফতর। তাই, তাকদীরের ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট হওয়া ছাড়া নেই কোনো উপায়।
* তাকদীরে যা লেখা আছে, তা বাস্তবায়ন হবেই। মৃত্যুর আগমন অবশ্যম্ভাবী। রিযিক বণ্টিত। অতএব, দুশ্চিন্তা, পেরেশানী ও বিষণ্ণতায় কী লাভ?
* যে সন্তুষ্ট নয় তাকদীরের ফায়সালার উপর এবং যে চায় অন্যের মতো হতে- তার চেয়ে বড় হতভাগা আর কেউ নেই।

كُلُّ شَيْءٍ بِقَضَاءٍ وَقَدَرٍ والمنايا عبر أي عبر
তাকদীরের ফয়সালা অনুসারেই ঘটে সবকিছু, আর অন্যদের মৃত্যুর মাঝে রয়েছে শিক্ষা।

📘 তুমিও পারবে 📄 যিকির করো, দিল ঠান্ডা হবে

📄 যিকির করো, দিল ঠান্ডা হবে


* আল্লাহ-র যিকিরে- হৃদয় হয় শীতল, পাপ হয় মাফ, প্রতিপালক হন সন্তুষ্ট, দুশ্চিন্তা হয় বিদূরিত।
* যিকিরের দ্বারা আল্লাহ সন্তুষ্ট হন; মানুষ সৌভাগ্যবান হয়; শয়তান লাঞ্ছিত হয়; পেরেশানী দূর হয় এবং নেকীর পাল্লা ভারী হয়。
* ইখলাসের সঙ্গে বেশি বেশি يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ * يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْتُ পাঠ করো। এতে সুখ, শান্তি, আনন্দ ও প্রশস্ততা লাভ করবে।
* বেশি বেশি لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ পাঠ করো। এতে বক্ষ হয় প্রশস্ত। অবস্থা হয় উন্নত। বোঝা হয় লঘু এবং আল্লাহ হন সন্তুষ্ট।
* নিয়মিত لا إلهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ পাঠ করো। কারণ, বালা-মসিবত দূরীকরণে এটি খুবই কার্যকরী একটি দোআ।
* বিভিন্ন সময় ও স্থানে পাঠ্য দোআ ও যিকিরের প্রতি যত্নবান হও। কারণ, এগুলো তোমার নিরাপত্তা ও হেফাজতের মাধ্যম।
* যখন পেরেশানীর মুখোমুখি হবে এবং একের পর এক দুশ্চিন্তা তোমাকে চেপে ধরবে, তখন কালিমায়ে তাইয়্যেবার যিকির করো- لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ; -আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ (প্রতিপালক) নেই।
* দুনিয়ার বুকেও একটি জান্নাত আছে। সেই জান্নাতে যে প্রবেশ করে না, আখেরাতের জান্নাতেও সে প্রবেশ করতে পারবে না। দুনিয়ার সেই জান্নাতটি হলো- আল্লাহ -এর যিকির, তাঁর আনুগত্য, তাঁর মুহাব্বত, তাঁর সাথে সম্পর্ক স্থাপন ও তাঁর প্রতি আগ্রহ।
* যিকির-আযকার ও ইবাদত-বন্দেগী করার সময় অন্তরকে হাযির রাখা এবং মনোযোগের সবটুকু সেদিকেই দেওয়া উচিত। কেননা, যে ইলম-এ কোনো গভীরতা নেই, সেই ইলম-এ কোনো ফায়দা নেই। ঠিক তেমনিভাবে খুশুখুযুহীন সালাত-ইবাদত এবং চিন্তা-গবেষণাহীন পাঠেও বেশি উপকার নেই।
* সর্বদা স্মরণ করো সেই মহান পবিত্র সত্তাকে, যিনি লাঞ্ছনাকে ইয্যত, মুখাপেক্ষিতাকে অমুখাপেক্ষিতা, চাওয়াকে সম্মান, বিনয়কে উচ্চতা ও তাওয়াক্কুলকে প্রাচুর্য বানিয়ে দিয়েছেন।
* حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ -আশ্চর্য এক দোয়া। এ দোয়াটি কখনো ভুলে যেও না। এ দোয়ার বরকতে নিভে যায় জ্বলন্ত আগুন, বেঁচে যায় ডুবন্ত মানুষ, পথ খুঁজে পায় পথহারা; সর্বোপরি আল্লাহ -এর সাথে সম্পর্ক হয় সুদৃঢ়।
* হে পাখি! কতইনা সুখী তুমি। ঘুড়ে বেড়াও নদীর পাড়ে। গাছের চূড়া নিবাস তোমার। খাও নানা ফলফলাদি। কোনো কিছুর নেই আশঙ্কা। নেই জাহান্নামে যাওয়ার ভয়ও। অবস্থার বিবেচনায় মানুষের তুলনায় তুমিই বেশি সুখী।
* গাইরুল্লাহর ভালোবাসা মন থেকে দূরে সরিয়ে দাও। কারণ, এটা রূহের আযাব; অন্তরের ব্যাধি। আল্লাহ -এর স্মরণ ও আনুগত্যের প্রতি অধিক মনোযোগী হও।

ومن لقاء الله قد أحبا • كان له الله أشد حبا
وعكسه الكاره فالله اسأل • رحمته فضلاً ولا تتكل
যে ব্যক্তি আল্লাহ -এর সাক্ষাতে আগ্রহী, আল্লাহ তাকে বেশি ভালোবাসেন। আর যে আল্লাহ-কে ভালোবাসে না তার অবস্থা এর বিপরীত (অর্থাৎ আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন না)। অতএব শ্রেষ্ঠত্ব পেতে হলে আল্লাহ-র কাছে রহমত চাও। এবং অলস বসে থেকো না (বরং নেক কাজ করো)।

ফন্ট সাইজ
15px
17px