📄 দুশ্চিন্তা করো না,পেরেশান হয়ো না
* দুশ্চিন্তা করে কোনো লাভ নেই। দুশ্চিন্তা ও পেরেশানীর মাধ্যমে হারানো বস্তু ফিরে পাওয়া যায় না। ভয় ও শঙ্কা দ্বারা গঠন হয় না উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার দ্বারা লাভ করা যায় না কাঙ্খিত সফলতা। বরং সুন্দর মন ও প্রশান্ত হৃদয়ই হয়ে থাকে সৌভাগ্যের বাহন।
* যদি দুশ্চিন্তার পাহাড় তোমার উপর চেপে বসে, হাজারো পেরেশানী তোমাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে, ধন-সম্পদ কিংবা অন্য কিছুর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়, তখনও তুমি হয়ো না নিরাশ। দেখো, আল্লাহ কোনো না কোনো পথ অবশ্যই খুলে দেবেন।
* দুশ্চিন্তা-পেরেশানী বিষতুল্য। অক্ষমতা মৃত্যুতুল্য। অলসতা ব্যর্থতার আরেক নাম। মানসিক অস্থিরতা চরম বিশৃঙ্খলার কারণ। অতএব, এসব থেকে দূরে থাকো।
* আল্লাহবিমুখতা ও জাগতিক লোভ-লালসাই দুশ্চিন্তা-পেরেশানী ও উদ্বিগ্নতার কারণ。
* অসুখ-বিসুখ, দারিদ্র-সংকট, বিপদ-আপদ সব কিছুরই তো প্রতিদান পাবে। তা হলে কিসের দুশ্চিন্তা তোমার?
* রাসুল -র প্রতি দুরূদ ও সালাম পাঠানো দ্বারা দূর হয় দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী। ব্যথিত হৃদয় খুঁজে পায় সান্ত্বনা। ইলমের দরজা হয় উন্মুক্ত এবং খুলে যায় তাকদীর।
* চিন্তা-ভাবনাকে লাগামহীন ছেড়ে দিও না। তা হলে দেখবে সে কেবল দুশ্চিন্তা ও পেরেশানীই বয়ে নিয়ে আসবে। তাই, দুশ্চিন্তা ও পেরেশানীর পরিবর্তে তোমার চিন্তাকে কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত রাখো।
* নেক আমল করো। মানুষের সেবা করো। একাকী থেকো না। কারণ, একাকিত্ব দুশ্চিন্তা, পেরেশানী ও বিরক্তির কারণ হয়ে থাকে।
* মন থেকে দুঃখ-কষ্ট ও হতাশা উদ্রেককারী বিষয়াদি ঝেড়ে ফেলো। দুশ্চিন্তার জন্ম দেয় এমন কোনো বিষয় সামনে এলে শারীরিক কোনো কাজ শুরু করে দাও। এতে আত্মিক ও মানসিক উভয় অবস্থাই পরিবর্তন হয়ে যাবে। যেমন, ব্যায়াম করতে পারো, বন্ধুদের সাথে পিকনিকে যেতে পারো, ইত্যাদি।
* চিন্তা-ফিকিরের ঘোড়াকে লাগামহীন ছেড়ে দিও না। তাহলে তারা তোমাকে নিয়ে যাবে দুশ্চিন্তার বিস্তীর্ণ উপত্যকায়। সর্বদা প্রাপ্ত নেয়ামত, রহমত, যোগ্যতা ও সাফল্য নিয়ে চিন্তা-ফিকির করো।
* তুমি পেরেশানী নিয়ে চোখ জুড়ানো হাজারো শহর সফর করলেও আনন্দ পাবে না। তাই এক অনুভুতি থেকে অন্য অনুভুতিতে চলে যাও, তা হলে আনন্দ পাবে।
خَلِيلِي لا واللهِ مَا مِنْ مُلِمَّةٍ تَدُومُ على حَيَّ وَإِنْ هِي جَلَّتِ
বন্ধু আমার, শপথ করে বলছি আল্লাহর, বিপদ যত কঠিনই হোক তা কারো উপর স্থায়ী হয় না।
فإن نزلت يوماً فلا تَخْضَعَنْ لها . وَلا تُكثر الشَّكوى إِذا النَّعَلُ زَلَّتِ
فَكَمْ مِنْ كريم قد بلي بنوائب - فصابرها حتى مضت واضمحلت
তাই, আজ কোনো বিপদ দেখলে, তাতে দমে যেওনা। পা পিছলে গেলে, অভিযোগ করো না।
কতো মহান ব্যক্তিদের বিপদে ফেলে পরীক্ষা করা হয়েছে। তারা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। অতঃপর বিদূরিত হয়েছে সব আপদ।
وَكَانَتْ عَلَى الأَيَّامِ نَفْسِي عَزِيزَةً ، فَلَمَّا رَأَتْ صَبْرِي عَلَى الذُّلِّ ذَلَّتِ
আমার এ অন্তর কতকাল দুনিয়ার প্রতি মত্ত ছিল। যখন সে দেখল যে ধৈর্য আমার হার মেনেছে, তখন সে দমে গেলো।
وَالهَمُّ يَخْتَرِمُ الجَسِيمَ نَحَافَةً " وَيُشِيبُ نَاصِيَةَ الغُلامِ وَيُهْرِمُ
দুশ্চিন্তা মোটা ব্যক্তিকেও বানিয়ে দেয় শীর্ণকায়, যুবকের চুল করে দেয় শুভ্র, তাকে বানিয়ে দেয় বৃদ্ধ।
سهرت أعين ونامت عيون في شؤون تكون أو لا تكون
কিছু চোখ যখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন, তখন কিছু চোখ ক্লান্ত-সজাগ, কী ঘটবে, কী ঘটবে না তা নিয়ে চিন্তামগ্ন;
فدع الهم ما استطعت فحملاتك الهموم جُنون
তাই, যথাসম্ভব দুশ্চিন্তা পরিত্যাগ কর; কেননা, দুশ্চিন্তার বোঝা বহন করা পাগলামি বৈ কিছু নয়।
إن رباً كفاك ما كان بالأمس سيكفيك في غد ما يكون
دع المقادير تجري في أعنتها ، ولا تنامن إلا خالي البال
যে প্রভু তোমার গতকালের সমস্যা সমাধান করেছেন। তিনি তোমার আগামীকালের সমস্যাও সমাধান করবেন।
ঘটনা প্রবাহকে চলতে দাও তার পূর্ব নির্ধারিত পথে। আর তুমি ঘুমাও প্রশান্ত চিত্তে।
ما بين غمضة عين وانتباهتها . يغير الله من حال إلى حال
কেননা, পলকের মধ্যেই আল্লাহ পারেন অবস্থার পরিবর্তন করে দিতে।
وَلَرُبَّ نازلةٍ يضيقُ بها الفتى . ذَرْعاً وعند الله منها المخرج
ضَاقَتْ فلما استحكمت حلقاتها * فُرِجَتْ وكان يظنُّها لا تُفرج
মসিবতে পড়লে কত যুবকই হয়ে যায় নাজেহাল, অথচ পরিত্রানের উপায় আছে কেবল আল্লাহর কাছেই।
একসময় অবস্থা হয়ে পড়ে বেগতিক, অতঃপর যখন রশি শক্তভাবে কষে তখন তা ছিঁড়ে যায়, অথচ তারা ভাবতো যে রশি বুঝি ছিঁড়বে না।
وَمَا رَوْنَقُ الدُّنيَا بباق لأَهْلِها * وَمَا شَدَّةُ الدُّنيَا بضَرْبَةِ لَازِمٍ
দুনিয়ার সৌন্দর্য তার অধিবাসীদের জন্য স্থায়ী হবে না। দুনিয়ার দুঃখ কষ্টও নয় কঠিন কোনো আঘাত।
لِهذَا وَهذَا مُدَّةُ سَوْفَ تَنْقَضِي ، وَيُصْبِحُ مَا لَاقَيْتَهُ حُلْمٌ حَالِكٌ
এটা ওটা সবটার জন্যই রয়েছে নির্ধারিত সময়, অচিরেই যা ফুরিয়ে যাবে।
আর আমি অর্জন করেছি যে অভিজ্ঞতা, তা স্বপ্ন দ্রষ্টার স্বপ্ন হয়ে যাবে।
📄 অতীত নিয়ে ভেবো না
* যা অতীত হয়েছে তা চলে গেছে চিরদিনের তরে। যে সময় গত হয়েছে তা আর কখনও আসবে না ফিরে। তাই অতীত নিয়ে ভেবো না কখনও।
* আমরা অতীতকে বদলাতে পারি না; নিজেদের ইচ্ছামত নির্মাণ করতে পারি না ভবিষ্যতকেও। তা হলে সেসব বস্তুর বেদনায় কেন জীবনকে বিপন্ন করি, যেগুলো আমাদের ইচ্ছার বাইরে।
* অতীতের জন্য অশ্রু ফেলা বন্ধ করো। অনর্থক কান্নাকাটি কোরো না। কেননা, তুমি অতীতকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। বর্তমান হচ্ছে প্রকৃত জীবন। অতীতের দুঃখবেদনা এবং দূর ভবিষ্যতের আশঙ্কায় লিপ্ত হয়ে কোন লাভ নেই।
* অতীত ও বর্তমানকে জরিপ দাও। জীবন হচ্ছে অভিজ্ঞতার সমষ্টি। মানুষের উচিত অভিজ্ঞতার আলোকে জীবন কামিয়াব করা।
* অতীত হয়ে যাওয়া বিপদাপদ, আকস্মিক ঘটনাবলি, অসহনীয় স্মৃতি ও ভুলত্রুটি স্মরণ করা এবং সেগুলোর মধ্যে নিমগ্ন থাকা সমীচীন নয়।
* যে বিপদ নিয়েছে বিদায়, অনাকাঙ্খিত যে ঘটনা হয়েছে গত, দুঃসহ যে স্মৃতি কেবল কষ্ট বাড়ায়, অতীতের যে ভুলত্রুটির স্মরণ সম্মুখের পথ আগলে দাঁড়ায়- সেগুলো নিয়ে মগ্ন থাকা সমীচীন নয়। কারণ, তুমি কি কোথাও শুনেছো যে, দুঃখ ও বেদনা অতীতের ক্ষয়-ক্ষতি এবং চিন্তা-চেতনার ত্রুটিবিচ্যুতি সংশোধন করতে পারে? তা হলে অযথা কেন এই দুঃখবেদনার পসরা সাজিয়ে বসেছো?
* অতীত হচ্ছে একটি স্বপ্ন, যা বিগত হয়ে নিঃশেষ হয়ে গেছে; আর ভবিষ্যৎ হচ্ছে আশা-আকাঙ্ক্ষার দোলাচল। আজই হচ্ছে প্রকৃত বাস্তব।
* অতীত নিয়ে পড়ে থাকা বোকামী ও পাগলামী। এর উপমা হচ্ছে- আটাকে পুনরায় পেষা; চিরা কাঠকে পুনরায় চিরা; মৃত লাশকে কবর থেকে বের করে আনা।
* অতীতের কথা মনে পড়লে নিজের শানদার ইতিহাসের কথা স্মরণ করো; যাতে আনন্দিত থাকতে পারো। আজকের দিনে নিজের কামিয়াবীর প্রতি দৃষ্টি দাও; যাতে সুখী হতে পারো। আগামীকালের কথা স্মরণ হলে নিজের সুন্দর স্বপ্নের কথা মনে করো এবং শুভ লক্ষণ গ্রহণ করো।
مَا مَضَى فَاتَ وَالمُؤمَّلُ غَيْبُ * وَلَكَ السَّاعَةُ الَّتِي أَنْتَ فِيهَا
যা অতীত হয়ে গেছে তা তো চিরদিনের জন্য চলে গেছে, যা আশা করা হয় তা তো অজ্ঞাত।
আর তোমার যা আছে তা হলো বর্তমান মুহূর্তটি।
📄 বর্তমান ও ভবিষ্যৎ
* বিত্তশালী ও তোমার জন্য দিন কেবল একটিই- আজকের দিন। সুখময় গতকাল ফিরে পাবে না তারাও, ফিরে পাবে না তুমিও। আর আগামীকাল- না তোমার, না তাদের। সকলের জন্য দিন একটিই-আজকের দিন; যা খুবই সংক্ষিপ্ত।
* গতকাল বিদায় নিয়েছে। আজ যাই যাই করছে। আগামীকাল আসেনি এখনও। কেবল আজকের দিনটিই রয়েছে তোমার হাতে। অতএব, কাজে লাগাও একে। স্রষ্টার আনুগত্য করো। প্রভূত কল্যাণ লাভ করতে পারবে।
* আজ যে সুখ পেলে তা নিয়েই থাকো সন্তুষ্ট। কারণ, আগামীকালও তা বাকি থাকবে কি না সেই নিশ্চয়তা নেই। কালের পাকড়াও থেকে আমরা কেউই নিরাপদ নই।
* সকালে করো না সন্ধ্যার আশা। থাকো আজকের গন্ডির ভেতরই। তোমার আজ-কে সংশোধন করার জন্য প্রচেষ্টার সবটুকু ব্যয় করো।
* ভবিষ্যতের কথা ছাড়ো। তাকে আসতে দাও। আগামীর চিন্তায় বিচলিত হয়ো না। তোমার আজ যদি দুরস্ত হয়ে যায় ইনশাআল্লাহ আগামীও হবে সুন্দর।
* আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমরা বর্তমানের ব্যাপারে অক্ষম। বসে থাকি অতীত নিয়ে। আজ কোনো কাজ করি না, আগামীকাল কী হবে সে ভাবনায় থাকি বিভোর। বিবেক ও প্রজ্ঞার দাবি তো এটা নয়।
* যা হারিয়েছো তা নিয়ে কেন মিছে দুশ্চিন্তা করছো? যা আছে কেন তার শুকরিয়া আদায় করছো না? কেন ভুলে যাচ্ছো তোমার বর্তমান নেয়ামতরাজির কথা? কেন অধরা নেয়ামতের জন্য করছো হা-হুতাশ? অন্যকে দেখে কেন হিংসায় জ্বলছো? যে আছে তোমার পাশে কেন অবজ্ঞা করছো তাকে?
* তুমি যদি তোমার বর্তমান অবস্থার উপর খুশি না থাকতে পারো, তাহলে সেই খুশির জন্য মিছে অপেক্ষায় থেকো না, যা দিগন্তের ওপার থেকে আসবে বলে ভাবছো।
* যে সত্তা তোমার অতীতের সমস্যার সমাধান করেছেন, তিনি তোমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের সমস্যাগুলোরও সমাধান করবেন। ভরসা রাখো তাঁর উপর। তিনি যদি পাশে থাকেন, তবে ভয় কি তোমার? আর তিনি যদি তোমার বিরোধী হন, তবে তোমার আশা-ভরসার জায়গা কোথায়?
* তুমি আগামীকালের রিযিকের চিন্তায় পেরেশান! অথচ তোমার জীবনে আগামীকাল আসবে কি না তার কোনো গ্যারান্টি নেই। আর গতকাল তোমার জীবন থেকে চলে গেছে, তা আর কোনোদিন সে আসবে না ফিরে।
📄 তাকদীরকে মেনে নাও, সুখী হবে
* তাকদিরের অবধারিত সিদ্ধান্ত ও বন্টিত রিযিকের উপর সন্তুষ্ট থেকো। যা কিছু হয় তা তাকদিরের ফয়সালা হিসেবে মেনে নিও। অযথা পেরেশান হয়ো না।
* তোমার উপর যে বিপদ এসেছে, তা না-আসার ছিল না। আর যে বিপদ আসেনি, তা আসার ছিল না। শুকিয়ে গেছে কলম। গুটিয়ে ফেলা হয়েছে দফতর। তাই, তাকদীরের ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট হওয়া ছাড়া নেই কোনো উপায়।
* তাকদীরে যা লেখা আছে, তা বাস্তবায়ন হবেই। মৃত্যুর আগমন অবশ্যম্ভাবী। রিযিক বণ্টিত। অতএব, দুশ্চিন্তা, পেরেশানী ও বিষণ্ণতায় কী লাভ?
* যে সন্তুষ্ট নয় তাকদীরের ফায়সালার উপর এবং যে চায় অন্যের মতো হতে- তার চেয়ে বড় হতভাগা আর কেউ নেই।
كُلُّ شَيْءٍ بِقَضَاءٍ وَقَدَرٍ والمنايا عبر أي عبر
তাকদীরের ফয়সালা অনুসারেই ঘটে সবকিছু, আর অন্যদের মৃত্যুর মাঝে রয়েছে শিক্ষা।