📄 তুমিও জিতবে
* (তুমিও জিতবে-) চোগলখোর, হিংসুক ও পরচর্চাকারীদের সঙ্গে ওঠাবসা করবে না। কারণ, এরা মানুষের ক্ষতি করে বেড়ায়। এরা মানুষের মাঝে দুঃখ ও হতাশা ছড়িয়ে দেয়।
* (তুমিও জিতবে-) যাপিত জীবনে কোরআনকে বানাও সঙ্গী। মুখস্ত করো কোরআন। তেলাওয়াত শোনো কোরআনের। বোঝার চেষ্টা করো কোরআন। হতাশা ও দুশ্চিন্তা দূরীকরণে কোরআনের বিকল্প নেই।
* (তুমিও জিতবে-) হালাল রিযিক উপার্জন করো। হারাম থেকে বেঁচে থাকো। মানুষের কাছে হাত পেতো না। মনে রেখো, চাকুরী করা থেকে ব্যবসা করা অধিকতর শ্রেয়। তাই নিজের অর্থ-সম্পদ কাজে-কারবারে বিনিয়োগ করো। জীবন যাপনে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো।
* (তুমিও জিতবে-) সর্বদা তাকবীরে তাহরীমার সাথে সালাত আদায় করো। মসজিদে বেশি বেশি সময় কাটাও এবং এটাকে অভ্যাস বানিয়ে নাও। সালাত আদায়ের জন্য আগে আগে মসজিদে যাও। এতে হৃদয়-মনে প্রশান্তি অনুভব করবে।
* (তুমিও জিতবে-) যা কিছু কল্যাণকর তা গ্রহণ করো। হতাশ হয়ো না। প্রতিপালকের প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করো। তাঁর পক্ষ থেকে ভালো ও মঙ্গলজনক বিষয়ের অপেক্ষা করো।
* (তুমিও জিতবে-) ধন-সম্পদ সঞ্চয়ের পেছনে পড়ে নিজের সুস্থতা, স্বস্তি, দিবা-নিশীর শান্তি বরবাদ করো না। অর্জিত সম্পদ অপচয় কিংবা হারাম কাজে ব্যয় করো না।
* (তুমিও জিতবে-) হৃদয়ে লালিত ঘৃণার আগুন নিভিয়ে ফেলো। তাকে মাফ করে দাও যে তোমাকে কখনও কষ্ট দিয়েছে।
* (তুমিও জিতবে-) কখনো এমন ভেবো না যে, তুমি ছাড়া অন্যরা বুঝি পৃথিবীর সব সুখ-সম্ভোগ পেয়ে গেছে। মনে রেখো, এ পৃথিবীতে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যার সব স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এবং এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে সকল পেরেশানী থেকে নিরাপদ আছে।
* (তুমিও জিতবে-) বালা-মসিবতের জন্য অপেক্ষা করো না। অকল্যাণকর কিছু কামনা করো না। গুজবে কান দিও না। কুৎসা রটনাকারীদের কথা বিশ্বাস করো না।
* (তুমিও জিতবে-) নির্ভীক, কর্মঠ ও দৃঢ়প্রত্যয়ী হও। মনোবল দৃঢ় রাখো। কোনো বাঁধা-বিপত্তি ও উড়ো কথা তোমার সম্মান ক্ষুন্ন করতে পারবে না।
* (তুমিও জিতবে-) মন্দের প্রতিদান দাও ভালোর দ্বারা। বিনয়ী হও মানুষের প্রতি। পরিহার করো শত্রুতা। সন্ধি করে নাও শত্রুর সাথে। বৃদ্ধি করো বন্ধুর সংখ্যা।
* (তুমিও জিতবে-) রাগ করো না। রাগ এলে চুপ হয়ে যাও। শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ্-র কাছে আশ্রয় চাও। নিজের স্থান পরিবর্তন করো। দাঁড়ানো থাকলে বসে পড়ো। বেশি বেশি যিকির করো।
📄 সৌভাগ্য ও সফলতার মূলতত্ত্ব
সৌভাগ্য ও সফলতার মূলতত্ত্ব সম্পর্কে যদি তুমি উত্তমরূপে ওয়াকিফহাল হও, তা হলে তা পুরোপুরিভাবে উপভোগ করতে থাকো। আর যদি না হও, তা হলে সৌভাগ্য ও সফলতার খোঁজে এদিক-ওদিক শুধু ঘুরতেই থাকবে এবং না পাওয়ার অনুভূতি তোমাকে কেবল দংশন করতেই থাকবে। তোমার উপর ছড়িয়ে পড়বে হতাশার ছায়া। অস্থির হয়ে অভিযোগ করতে থাকবে তুমি。
এমতাবস্থায় তুমি অপেক্ষায় থাকো এবং বর্তমানকে অতীত হতে দাও। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পর তোমার কাছে কিছুই থাকবে না। থাকবে শুধু স্মৃতির শুষ্ক ডালে ফুলের অঝরা কিছু শুকনো পাঁপড়ি, যার প্রজাপতি উড়ে গেছে অনেক আগে。
* সৌভাগ্য আর সাফল্যের একটিই রাস্তা। যে বস্তু আমাদের ইচ্ছার বৃত্ত থেকে বাইরে; যা আমাদের সাধ্যের অতীত, সেটি হাসিল করার জন্য উন্মত্ত না হওয়া। থামো; ও দিকে আর পা বাড়িয়ো না।
* সৌভাগ্যের চিন্তা আবশ্যকভাবে অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। আর এই ভাবনা সৌভাগ্যের অনুভূতি নষ্ট করে দেয়।
* সফলতার মিষ্টতা ধৈর্যের তিক্ততাকে মিটিয়ে দেয়। বিজয়ের স্বাদ কষ্টের ক্লান্তিকে দূর করে দেয়। যেকোনো কাজ উত্তমরূপে সম্পাদন করার মাধ্যমে কষ্ট দূর হয়।
* সফল ব্যক্তিদের ব্যাপারে হিংসুকদের সমালোচনা, প্রকারান্তরে তাদের সফলতারই ঘোষণা। বিনা পারিশ্রমিকে হিংসুকরা তাদের সফলতার প্রচার করে বেড়ায়। হিংসুকদের সমালোচনা তাদের সফলতার স্বীকারোক্তি।
* যে মানুষ নিজেকে নিজে চিনেছে, নিজের যোগ্যতা-দক্ষতা সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং সেগুলোকে যথাযথ কাজে লাগিয়েছে, সেই প্রকৃত সফলতার আনন্দ লাভ করতে পেরেছে।
* বংশগৌরব ও ধন-সম্পদের নামই সফলতা নয়। দীন, ইলম আদব ও প্রয়োজনের পরিপূর্ণতার মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সফলতা।
* সফলতার ক্লান্তি স্বস্তিদায়ক। হিম্মতের প্রতিদান সুমিষ্ট। কাজের ঘাম মেশক-আম্বর। স্তুতি-প্রশংসা উত্তম সুগন্ধি।
* যখন আল্লাহ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবেন, তোমার আশেপাশের লোকেরাও সন্তুষ্ট থাকবে, সর্বোপরি সন্তুষ্ট থাকবে তোমার নফস এবং তোমার কৃত কাজগুলো যখন হবে কল্যাণকর- তখনই তোমাকে সফল বলে মানা যাবে।
* সফল ব্যক্তি কখনও ফাসেক হতে পারে না, অসুস্থ হতে পারে না, ঋণগ্রস্ত হতে পারে না, গরীব হতে পারে না, চিন্তিত হতে পারে না, বন্দি হতে পারে না এবং মানুষের কাছে অপছন্দনীয় হতে পারে না।
* বিপদ-আপদ, দুর্যোগ-দুর্ভোগ, বাধা-বিপত্তি, ধৈর্য-পরীক্ষা ইত্যাদির সমষ্টিগত নাম সফলতা। পক্ষান্তরে অলসতা, অযোগ্যতা, কর্মহীনতা ইত্যাদির নাম ব্যর্থতা।
* নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রাখো। অযথা বেকার বসে থেকো না। অলসতা পরিহার করো। নিজের ঘর ও পারিবারিক পাঠাগারের সঠিক দেখভাল করো। অর্পিত আবশ্যিক কর্তব্যগুলো যথাযথ আঞ্জাম দাও। দেখবে, আল্লাহ-র ইচ্ছায় সৌভাগ্য, আনন্দ, স্বস্তি ও অন্তরের প্রশস্ততা লাভ করবে।
📄 দুশ্চিন্তা করো না,পেরেশান হয়ো না
* দুশ্চিন্তা করে কোনো লাভ নেই। দুশ্চিন্তা ও পেরেশানীর মাধ্যমে হারানো বস্তু ফিরে পাওয়া যায় না। ভয় ও শঙ্কা দ্বারা গঠন হয় না উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার দ্বারা লাভ করা যায় না কাঙ্খিত সফলতা। বরং সুন্দর মন ও প্রশান্ত হৃদয়ই হয়ে থাকে সৌভাগ্যের বাহন।
* যদি দুশ্চিন্তার পাহাড় তোমার উপর চেপে বসে, হাজারো পেরেশানী তোমাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে, ধন-সম্পদ কিংবা অন্য কিছুর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়, তখনও তুমি হয়ো না নিরাশ। দেখো, আল্লাহ কোনো না কোনো পথ অবশ্যই খুলে দেবেন।
* দুশ্চিন্তা-পেরেশানী বিষতুল্য। অক্ষমতা মৃত্যুতুল্য। অলসতা ব্যর্থতার আরেক নাম। মানসিক অস্থিরতা চরম বিশৃঙ্খলার কারণ। অতএব, এসব থেকে দূরে থাকো।
* আল্লাহবিমুখতা ও জাগতিক লোভ-লালসাই দুশ্চিন্তা-পেরেশানী ও উদ্বিগ্নতার কারণ。
* অসুখ-বিসুখ, দারিদ্র-সংকট, বিপদ-আপদ সব কিছুরই তো প্রতিদান পাবে। তা হলে কিসের দুশ্চিন্তা তোমার?
* রাসুল -র প্রতি দুরূদ ও সালাম পাঠানো দ্বারা দূর হয় দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী। ব্যথিত হৃদয় খুঁজে পায় সান্ত্বনা। ইলমের দরজা হয় উন্মুক্ত এবং খুলে যায় তাকদীর।
* চিন্তা-ভাবনাকে লাগামহীন ছেড়ে দিও না। তা হলে দেখবে সে কেবল দুশ্চিন্তা ও পেরেশানীই বয়ে নিয়ে আসবে। তাই, দুশ্চিন্তা ও পেরেশানীর পরিবর্তে তোমার চিন্তাকে কল্যাণকর কাজে নিয়োজিত রাখো।
* নেক আমল করো। মানুষের সেবা করো। একাকী থেকো না। কারণ, একাকিত্ব দুশ্চিন্তা, পেরেশানী ও বিরক্তির কারণ হয়ে থাকে।
* মন থেকে দুঃখ-কষ্ট ও হতাশা উদ্রেককারী বিষয়াদি ঝেড়ে ফেলো। দুশ্চিন্তার জন্ম দেয় এমন কোনো বিষয় সামনে এলে শারীরিক কোনো কাজ শুরু করে দাও। এতে আত্মিক ও মানসিক উভয় অবস্থাই পরিবর্তন হয়ে যাবে। যেমন, ব্যায়াম করতে পারো, বন্ধুদের সাথে পিকনিকে যেতে পারো, ইত্যাদি।
* চিন্তা-ফিকিরের ঘোড়াকে লাগামহীন ছেড়ে দিও না। তাহলে তারা তোমাকে নিয়ে যাবে দুশ্চিন্তার বিস্তীর্ণ উপত্যকায়। সর্বদা প্রাপ্ত নেয়ামত, রহমত, যোগ্যতা ও সাফল্য নিয়ে চিন্তা-ফিকির করো।
* তুমি পেরেশানী নিয়ে চোখ জুড়ানো হাজারো শহর সফর করলেও আনন্দ পাবে না। তাই এক অনুভুতি থেকে অন্য অনুভুতিতে চলে যাও, তা হলে আনন্দ পাবে।
خَلِيلِي لا واللهِ مَا مِنْ مُلِمَّةٍ تَدُومُ على حَيَّ وَإِنْ هِي جَلَّتِ
বন্ধু আমার, শপথ করে বলছি আল্লাহর, বিপদ যত কঠিনই হোক তা কারো উপর স্থায়ী হয় না।
فإن نزلت يوماً فلا تَخْضَعَنْ لها . وَلا تُكثر الشَّكوى إِذا النَّعَلُ زَلَّتِ
فَكَمْ مِنْ كريم قد بلي بنوائب - فصابرها حتى مضت واضمحلت
তাই, আজ কোনো বিপদ দেখলে, তাতে দমে যেওনা। পা পিছলে গেলে, অভিযোগ করো না।
কতো মহান ব্যক্তিদের বিপদে ফেলে পরীক্ষা করা হয়েছে। তারা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। অতঃপর বিদূরিত হয়েছে সব আপদ।
وَكَانَتْ عَلَى الأَيَّامِ نَفْسِي عَزِيزَةً ، فَلَمَّا رَأَتْ صَبْرِي عَلَى الذُّلِّ ذَلَّتِ
আমার এ অন্তর কতকাল দুনিয়ার প্রতি মত্ত ছিল। যখন সে দেখল যে ধৈর্য আমার হার মেনেছে, তখন সে দমে গেলো।
وَالهَمُّ يَخْتَرِمُ الجَسِيمَ نَحَافَةً " وَيُشِيبُ نَاصِيَةَ الغُلامِ وَيُهْرِمُ
দুশ্চিন্তা মোটা ব্যক্তিকেও বানিয়ে দেয় শীর্ণকায়, যুবকের চুল করে দেয় শুভ্র, তাকে বানিয়ে দেয় বৃদ্ধ।
سهرت أعين ونامت عيون في شؤون تكون أو لا تكون
কিছু চোখ যখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন, তখন কিছু চোখ ক্লান্ত-সজাগ, কী ঘটবে, কী ঘটবে না তা নিয়ে চিন্তামগ্ন;
فدع الهم ما استطعت فحملاتك الهموم جُنون
তাই, যথাসম্ভব দুশ্চিন্তা পরিত্যাগ কর; কেননা, দুশ্চিন্তার বোঝা বহন করা পাগলামি বৈ কিছু নয়।
إن رباً كفاك ما كان بالأمس سيكفيك في غد ما يكون
دع المقادير تجري في أعنتها ، ولا تنامن إلا خالي البال
যে প্রভু তোমার গতকালের সমস্যা সমাধান করেছেন। তিনি তোমার আগামীকালের সমস্যাও সমাধান করবেন।
ঘটনা প্রবাহকে চলতে দাও তার পূর্ব নির্ধারিত পথে। আর তুমি ঘুমাও প্রশান্ত চিত্তে।
ما بين غمضة عين وانتباهتها . يغير الله من حال إلى حال
কেননা, পলকের মধ্যেই আল্লাহ পারেন অবস্থার পরিবর্তন করে দিতে।
وَلَرُبَّ نازلةٍ يضيقُ بها الفتى . ذَرْعاً وعند الله منها المخرج
ضَاقَتْ فلما استحكمت حلقاتها * فُرِجَتْ وكان يظنُّها لا تُفرج
মসিবতে পড়লে কত যুবকই হয়ে যায় নাজেহাল, অথচ পরিত্রানের উপায় আছে কেবল আল্লাহর কাছেই।
একসময় অবস্থা হয়ে পড়ে বেগতিক, অতঃপর যখন রশি শক্তভাবে কষে তখন তা ছিঁড়ে যায়, অথচ তারা ভাবতো যে রশি বুঝি ছিঁড়বে না।
وَمَا رَوْنَقُ الدُّنيَا بباق لأَهْلِها * وَمَا شَدَّةُ الدُّنيَا بضَرْبَةِ لَازِمٍ
দুনিয়ার সৌন্দর্য তার অধিবাসীদের জন্য স্থায়ী হবে না। দুনিয়ার দুঃখ কষ্টও নয় কঠিন কোনো আঘাত।
لِهذَا وَهذَا مُدَّةُ سَوْفَ تَنْقَضِي ، وَيُصْبِحُ مَا لَاقَيْتَهُ حُلْمٌ حَالِكٌ
এটা ওটা সবটার জন্যই রয়েছে নির্ধারিত সময়, অচিরেই যা ফুরিয়ে যাবে।
আর আমি অর্জন করেছি যে অভিজ্ঞতা, তা স্বপ্ন দ্রষ্টার স্বপ্ন হয়ে যাবে।
📄 অতীত নিয়ে ভেবো না
* যা অতীত হয়েছে তা চলে গেছে চিরদিনের তরে। যে সময় গত হয়েছে তা আর কখনও আসবে না ফিরে। তাই অতীত নিয়ে ভেবো না কখনও।
* আমরা অতীতকে বদলাতে পারি না; নিজেদের ইচ্ছামত নির্মাণ করতে পারি না ভবিষ্যতকেও। তা হলে সেসব বস্তুর বেদনায় কেন জীবনকে বিপন্ন করি, যেগুলো আমাদের ইচ্ছার বাইরে।
* অতীতের জন্য অশ্রু ফেলা বন্ধ করো। অনর্থক কান্নাকাটি কোরো না। কেননা, তুমি অতীতকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। বর্তমান হচ্ছে প্রকৃত জীবন। অতীতের দুঃখবেদনা এবং দূর ভবিষ্যতের আশঙ্কায় লিপ্ত হয়ে কোন লাভ নেই।
* অতীত ও বর্তমানকে জরিপ দাও। জীবন হচ্ছে অভিজ্ঞতার সমষ্টি। মানুষের উচিত অভিজ্ঞতার আলোকে জীবন কামিয়াব করা।
* অতীত হয়ে যাওয়া বিপদাপদ, আকস্মিক ঘটনাবলি, অসহনীয় স্মৃতি ও ভুলত্রুটি স্মরণ করা এবং সেগুলোর মধ্যে নিমগ্ন থাকা সমীচীন নয়।
* যে বিপদ নিয়েছে বিদায়, অনাকাঙ্খিত যে ঘটনা হয়েছে গত, দুঃসহ যে স্মৃতি কেবল কষ্ট বাড়ায়, অতীতের যে ভুলত্রুটির স্মরণ সম্মুখের পথ আগলে দাঁড়ায়- সেগুলো নিয়ে মগ্ন থাকা সমীচীন নয়। কারণ, তুমি কি কোথাও শুনেছো যে, দুঃখ ও বেদনা অতীতের ক্ষয়-ক্ষতি এবং চিন্তা-চেতনার ত্রুটিবিচ্যুতি সংশোধন করতে পারে? তা হলে অযথা কেন এই দুঃখবেদনার পসরা সাজিয়ে বসেছো?
* অতীত হচ্ছে একটি স্বপ্ন, যা বিগত হয়ে নিঃশেষ হয়ে গেছে; আর ভবিষ্যৎ হচ্ছে আশা-আকাঙ্ক্ষার দোলাচল। আজই হচ্ছে প্রকৃত বাস্তব।
* অতীত নিয়ে পড়ে থাকা বোকামী ও পাগলামী। এর উপমা হচ্ছে- আটাকে পুনরায় পেষা; চিরা কাঠকে পুনরায় চিরা; মৃত লাশকে কবর থেকে বের করে আনা।
* অতীতের কথা মনে পড়লে নিজের শানদার ইতিহাসের কথা স্মরণ করো; যাতে আনন্দিত থাকতে পারো। আজকের দিনে নিজের কামিয়াবীর প্রতি দৃষ্টি দাও; যাতে সুখী হতে পারো। আগামীকালের কথা স্মরণ হলে নিজের সুন্দর স্বপ্নের কথা মনে করো এবং শুভ লক্ষণ গ্রহণ করো।
مَا مَضَى فَاتَ وَالمُؤمَّلُ غَيْبُ * وَلَكَ السَّاعَةُ الَّتِي أَنْتَ فِيهَا
যা অতীত হয়ে গেছে তা তো চিরদিনের জন্য চলে গেছে, যা আশা করা হয় তা তো অজ্ঞাত।
আর তোমার যা আছে তা হলো বর্তমান মুহূর্তটি।