📘 তুমিও পারবে 📄 ঈমান : সুখময় জীবনের পূর্বশর্ত

📄 ঈমান : সুখময় জীবনের পূর্বশর্ত


ঈমান দূর করে দুশ্চিন্তা ও নৈরাশ্য। ঈমান মোমিনের চোখে আনে প্রশান্তি, ইবাদতকারীর জন্য হয় সান্ত্বনা।

* প্রত্যেক জ্ঞানীই চায় জ্ঞান, সম্পদ ও মর্যাদার মাধ্যমে সুখ ও সৌভাগ্য অর্জন করতে। কিন্তু তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুখী ও সৌভাগ্যবান ওই ব্যক্তিই হয়ে থাকে, যার মাঝে ঈমান আছে। কেননা, ঈমানের মাধ্যমে অর্জিত সুখ ও সৌভাগ্য স্থায়ী।
* ঈমান, সুস্থতা, স্বাধীনতা, যৌবন ও ইলম- ব্যস, এগুলোর জন্যেই চেষ্টা করে থাকেন জ্ঞানীগণ। অবশ্য কোনো একক ব্যক্তির মাঝে সবকটি গুণের সম্মিলন বিরল।
* খাঁটি ঈমানের মাঝেই নিহিত রয়েছে প্রকৃত সুখ ও সৌভাগ্য। যার মন-মনন, চিন্তা-চেতনা আল্লাহ -র ভালোবাসায় ভরপুর, কেবল সে-ই অনুভব করতে পেরেছে ঈমানের অব্যক্ত স্বাদ।
* দুনিয়ার সবচেয়ে উত্তম জিনিস হচ্ছে খাঁটি ঈমান, উত্তম চরিত্র, সুস্থ বিবেক, সুস্থ শরীর এবং উত্তম রিযিক।
* রাজা ভৃত্যের সাথে, রাষ্ট্রপ্রধান বডিগার্ডের সাথে, প্রসিদ্ধ কবি অখ্যাত ফকিরের সাথে এবং ধনী ব্যক্তি দরিদ্রের সাথে সমাধীস্থ হবে। কিন্তু রূহের জগতে ঈমান ও নেক আমল অনুপাতে সকলেরই স্তর ভিন্ন ভিন্ন হবে।
* 'ওই ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পাবে, যে আল্লাহ -কে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ -কে রাসুল হিসেবে মেনে নেবে।' এ তিনটি বিষয় সন্তুষ্টি ও সফলতার ভিত্তি।
* খাওয়া-দাওয়ার সুখ একদিনের। ভ্রমন সুখ এক সপ্তাহের। বিবাহের সুখ এক মাসের। ধন-সম্পদের সুখ এক বছরের। আর ঈমানের সুখ সারা জীবনের।
* সব জ্ঞানীরাই ইলম, ধন সম্পদ বা খ্যাতি ইত্যাদির মাধ্যমে নিজের উন্নতি সাধন করতে চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের মাঝে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান হলো- ঈমানদার। কারণ, তার উন্নতি তার রবের সাথে সাক্ষাত পর্যন্ত চলমান থাকে।
* পাথর গাছপালা থেকে শক্তিশালী, লোহা পাথর থেকে শক্তিশালী, আগুন লোহা থেকে শক্তিশালী, বাতাস আগুন থেকে শক্তিশালী আর ঈমান- ঝঞ্ঝা বাতাস থেকেও শক্তিশালী।
* একজন মানুষ দুর্বল হতে পারে এবং তার থেকে গুনাহে লিপ্ত হওয়ার মত ঘটনাও ঘটতে পারে। কেননা, মানুষকে স্বভাবতই দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। এক মুহূর্তে সে পথভ্রষ্টও হতে পারে। কেননা, তার মধ্যে ত্রুটি রয়েছে। কিন্তু যখন তার অন্তরে ঈমানের বীজ বোপন করা হয় এবং তার গাছ ফল দিতে শুরু করে, তখন তার প্রকৃত চেতনা ও ঈমানের দৃঢ়তা ষোলকলা পূর্ণ করে সামনে আসে।

📘 তুমিও পারবে 📄 সালাত পড়ো, সফল হও

📄 সালাত পড়ো, সফল হও


* “বেলাল (তাড়াতাড়ি) সালাত আদায়ের ব্যবস্থা করো এবং এর মাধ্যমে আমাদেরকে একটু আরাম দাও।' রাসুল এটা এজন্য বলেছেন যে, সালাত হলো প্রশান্তির ফোয়ারা। সালাত হলো সেই নির্মল ঠান্ডা হাওয়া যা অন্তরের উপর দিয়ে আলতোভাবে বয়ে যায়। ফলে নিভে যায় ভয় ও দুশ্চিন্তার অগ্নিধারা।
* সালাত বিপদ-আপদ দূরীকরণ ও জটিলতা নিরসনে সাহায্য করে। সালাত নফসের মর্যাদাকে সমুন্নত করে। সালাত রূহকে আলোকিত করে এবং পৌঁছে দেয় সফলতার শিখরে।
* তোমার জন্য সুসংবাদ হলো, সালাত পূর্বের গুনাহসমূহের কাফ্ফারা হয়। বর্তমান গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়। ভবিষ্যত জীবনকে পরিশুদ্ধ করে। সালাত মুক্তি দেয় বন্দিত্ব থেকে। সালাত হয়ে থাকে চোখের শীতলতা।
* সালাত সময়কে করে সুবিন্যস্ত। তাই প্রতি ওয়াক্ত সালাতের পর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর কোনো একটি সম্পাদনের জন্য নির্ধারণ করে রাখো।
* রজনীর সালাত দিবসের আলো। অন্যের কল্যাণকামিতা অন্তরের পরিচ্ছন্নতার পরিচায়ক। দুরাবস্থা থেকে মুক্তির অপেক্ষা- ইবাদত।
* দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা পাঁচটি কাজের মাঝে নিহিত- ১. জামাতের সাথে সালাত আদায় করা ২. অভাবগ্রস্তের প্রয়োজন পূরণ করা ৩. মুসলমানদের ভালোবাসা অর্জন করা ৪. গুনাহ পরিত্যাগ করা ৫. হালাল রিযিক ভক্ষণ করা।

📘 তুমিও পারবে 📄 তুমিও জিতবে

📄 তুমিও জিতবে


* (তুমিও জিতবে-) চোগলখোর, হিংসুক ও পরচর্চাকারীদের সঙ্গে ওঠাবসা করবে না। কারণ, এরা মানুষের ক্ষতি করে বেড়ায়। এরা মানুষের মাঝে দুঃখ ও হতাশা ছড়িয়ে দেয়।
* (তুমিও জিতবে-) যাপিত জীবনে কোরআনকে বানাও সঙ্গী। মুখস্ত করো কোরআন। তেলাওয়াত শোনো কোরআনের। বোঝার চেষ্টা করো কোরআন। হতাশা ও দুশ্চিন্তা দূরীকরণে কোরআনের বিকল্প নেই।
* (তুমিও জিতবে-) হালাল রিযিক উপার্জন করো। হারাম থেকে বেঁচে থাকো। মানুষের কাছে হাত পেতো না। মনে রেখো, চাকুরী করা থেকে ব্যবসা করা অধিকতর শ্রেয়। তাই নিজের অর্থ-সম্পদ কাজে-কারবারে বিনিয়োগ করো। জীবন যাপনে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো।
* (তুমিও জিতবে-) সর্বদা তাকবীরে তাহরীমার সাথে সালাত আদায় করো। মসজিদে বেশি বেশি সময় কাটাও এবং এটাকে অভ্যাস বানিয়ে নাও। সালাত আদায়ের জন্য আগে আগে মসজিদে যাও। এতে হৃদয়-মনে প্রশান্তি অনুভব করবে।
* (তুমিও জিতবে-) যা কিছু কল্যাণকর তা গ্রহণ করো। হতাশ হয়ো না। প্রতিপালকের প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করো। তাঁর পক্ষ থেকে ভালো ও মঙ্গলজনক বিষয়ের অপেক্ষা করো।
* (তুমিও জিতবে-) ধন-সম্পদ সঞ্চয়ের পেছনে পড়ে নিজের সুস্থতা, স্বস্তি, দিবা-নিশীর শান্তি বরবাদ করো না। অর্জিত সম্পদ অপচয় কিংবা হারাম কাজে ব্যয় করো না।
* (তুমিও জিতবে-) হৃদয়ে লালিত ঘৃণার আগুন নিভিয়ে ফেলো। তাকে মাফ করে দাও যে তোমাকে কখনও কষ্ট দিয়েছে।
* (তুমিও জিতবে-) কখনো এমন ভেবো না যে, তুমি ছাড়া অন্যরা বুঝি পৃথিবীর সব সুখ-সম্ভোগ পেয়ে গেছে। মনে রেখো, এ পৃথিবীতে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যার সব স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এবং এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে সকল পেরেশানী থেকে নিরাপদ আছে।
* (তুমিও জিতবে-) বালা-মসিবতের জন্য অপেক্ষা করো না। অকল্যাণকর কিছু কামনা করো না। গুজবে কান দিও না। কুৎসা রটনাকারীদের কথা বিশ্বাস করো না।
* (তুমিও জিতবে-) নির্ভীক, কর্মঠ ও দৃঢ়প্রত্যয়ী হও। মনোবল দৃঢ় রাখো। কোনো বাঁধা-বিপত্তি ও উড়ো কথা তোমার সম্মান ক্ষুন্ন করতে পারবে না।
* (তুমিও জিতবে-) মন্দের প্রতিদান দাও ভালোর দ্বারা। বিনয়ী হও মানুষের প্রতি। পরিহার করো শত্রুতা। সন্ধি করে নাও শত্রুর সাথে। বৃদ্ধি করো বন্ধুর সংখ্যা।
* (তুমিও জিতবে-) রাগ করো না। রাগ এলে চুপ হয়ে যাও। শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ্‌-র কাছে আশ্রয় চাও। নিজের স্থান পরিবর্তন করো। দাঁড়ানো থাকলে বসে পড়ো। বেশি বেশি যিকির করো।

📘 তুমিও পারবে 📄 সৌভাগ্য ও সফলতার মূলতত্ত্ব

📄 সৌভাগ্য ও সফলতার মূলতত্ত্ব


সৌভাগ্য ও সফলতার মূলতত্ত্ব সম্পর্কে যদি তুমি উত্তমরূপে ওয়াকিফহাল হও, তা হলে তা পুরোপুরিভাবে উপভোগ করতে থাকো। আর যদি না হও, তা হলে সৌভাগ্য ও সফলতার খোঁজে এদিক-ওদিক শুধু ঘুরতেই থাকবে এবং না পাওয়ার অনুভূতি তোমাকে কেবল দংশন করতেই থাকবে। তোমার উপর ছড়িয়ে পড়বে হতাশার ছায়া। অস্থির হয়ে অভিযোগ করতে থাকবে তুমি。

এমতাবস্থায় তুমি অপেক্ষায় থাকো এবং বর্তমানকে অতীত হতে দাও। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পর তোমার কাছে কিছুই থাকবে না। থাকবে শুধু স্মৃতির শুষ্ক ডালে ফুলের অঝরা কিছু শুকনো পাঁপড়ি, যার প্রজাপতি উড়ে গেছে অনেক আগে。

* সৌভাগ্য আর সাফল্যের একটিই রাস্তা। যে বস্তু আমাদের ইচ্ছার বৃত্ত থেকে বাইরে; যা আমাদের সাধ্যের অতীত, সেটি হাসিল করার জন্য উন্মত্ত না হওয়া। থামো; ও দিকে আর পা বাড়িয়ো না।
* সৌভাগ্যের চিন্তা আবশ্যকভাবে অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। আর এই ভাবনা সৌভাগ্যের অনুভূতি নষ্ট করে দেয়।
* সফলতার মিষ্টতা ধৈর্যের তিক্ততাকে মিটিয়ে দেয়। বিজয়ের স্বাদ কষ্টের ক্লান্তিকে দূর করে দেয়। যেকোনো কাজ উত্তমরূপে সম্পাদন করার মাধ্যমে কষ্ট দূর হয়।
* সফল ব্যক্তিদের ব্যাপারে হিংসুকদের সমালোচনা, প্রকারান্তরে তাদের সফলতারই ঘোষণা। বিনা পারিশ্রমিকে হিংসুকরা তাদের সফলতার প্রচার করে বেড়ায়। হিংসুকদের সমালোচনা তাদের সফলতার স্বীকারোক্তি।
* যে মানুষ নিজেকে নিজে চিনেছে, নিজের যোগ্যতা-দক্ষতা সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং সেগুলোকে যথাযথ কাজে লাগিয়েছে, সেই প্রকৃত সফলতার আনন্দ লাভ করতে পেরেছে।
* বংশগৌরব ও ধন-সম্পদের নামই সফলতা নয়। দীন, ইলম আদব ও প্রয়োজনের পরিপূর্ণতার মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সফলতা।
* সফলতার ক্লান্তি স্বস্তিদায়ক। হিম্মতের প্রতিদান সুমিষ্ট। কাজের ঘাম মেশক-আম্বর। স্তুতি-প্রশংসা উত্তম সুগন্ধি।
* যখন আল্লাহ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবেন, তোমার আশেপাশের লোকেরাও সন্তুষ্ট থাকবে, সর্বোপরি সন্তুষ্ট থাকবে তোমার নফস এবং তোমার কৃত কাজগুলো যখন হবে কল্যাণকর- তখনই তোমাকে সফল বলে মানা যাবে।
* সফল ব্যক্তি কখনও ফাসেক হতে পারে না, অসুস্থ হতে পারে না, ঋণগ্রস্ত হতে পারে না, গরীব হতে পারে না, চিন্তিত হতে পারে না, বন্দি হতে পারে না এবং মানুষের কাছে অপছন্দনীয় হতে পারে না।
* বিপদ-আপদ, দুর্যোগ-দুর্ভোগ, বাধা-বিপত্তি, ধৈর্য-পরীক্ষা ইত্যাদির সমষ্টিগত নাম সফলতা। পক্ষান্তরে অলসতা, অযোগ্যতা, কর্মহীনতা ইত্যাদির নাম ব্যর্থতা।
* নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রাখো। অযথা বেকার বসে থেকো না। অলসতা পরিহার করো। নিজের ঘর ও পারিবারিক পাঠাগারের সঠিক দেখভাল করো। অর্পিত আবশ্যিক কর্তব্যগুলো যথাযথ আঞ্জাম দাও। দেখবে, আল্লাহ-র ইচ্ছায় সৌভাগ্য, আনন্দ, স্বস্তি ও অন্তরের প্রশস্ততা লাভ করবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px