📘 তুমিও পারবে 📄 মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো

📄 মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো


তোমার বিবেক ও শরীয়ত দুটোই তোমাকে বলে- মধ্যমপন্থী হতে। বলে বাড়াবাড়ি কিংবা ছাড়াছাড়ি কোনোটিই না করতে। চরমপন্থা কিংবা নরমপন্থা কোনোটিই অবলম্বন না করতে। সুখ-অন্বেষী ব্যক্তির উচিত নিজের কামনা-বাসনাকে নিয়ন্ত্রণ করা; সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি, হাসি-আনন্দ, দুঃখ-কষ্ট সর্বাবস্থায়ই মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা। কেননা, পরিস্থিতির প্রভাবে আচার-আচরণে বাড়াবাড়ি কিংবা অপরিমিত শিথিলতা নফসের উপর জুলুম করার নামান্তর। মধ্যমপন্থাই সর্বোত্তম পন্থা। শরীয়ত অবতীর্ণ হয়েছে নির্দিষ্ট একটি মানদন্ড নিয়ে। জীবনের ভারসাম্যতা ন্যায়ানুগের উপর প্রতিষ্ঠিত।

সর্বাধিক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত সেই ব্যক্তি যে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করে চলে। তুচ্ছ বিষয়ও তার কাছে বড় হয়ে দেখা দেয়। আলোকে অন্ধকার মনে হয়। ঈর্ষা, কপটতা ও হিংসা-বিদ্বেষের চতুর্মুখী লড়াইয়ে তার মন ক্ষত-বিক্ষত হতে থাকে। সে কল্পনা-বিলাসে মোহগ্রস্ত থাকে। দুনিয়ার সবাইকে সে তার বিরুদ্ধবাদী জ্ঞান করতে থাকে। সবাই তাকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত- এমনটি ভাবতে থাকে। এ কারণে সে দুশ্চিন্তা ও পেরেশানীর আবর্তে সে ঘুরপাক খেতে থাকে। এমনটা কেবল সে-ই করে, যে আত্মিক শক্তি থেকে বঞ্চিত ও ঐশী হুকুম আহকাম সম্পর্কে অজ্ঞ।

﴿ يَحْسَبُونَ كُلَّ صَيْحَةٍ عَلَيْهِمْ ﴾ *
প্রত্যেক শোরগোলকেই তারা নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। [সূরা মুনাফিকুন : ৪]

অতএব, তোমার মনকে আপন অবস্থায় থাকতে দাও। প্রায়ই এমন হয় যে, যে বিষয় নিয়ে অধিক আশঙ্কা করা হয়, তা ঘটে না। তাই তুমি যে বিষয়টি নিয়ে ভয় পাচ্ছো তার সর্বাপেক্ষা অশুভ পরিণতির কথা ভেবে সে পরিণতিতে নিজেকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকো। এভাবে তুমি নিজেকে সেসকল আতঙ্ক ও অমূলক ধ্যান-ধারণা থেকে রক্ষা করতে পারবে, যেগুলো ঘটার আশঙ্কায় তুমি ভীত-সন্ত্রস্ত ছিলে।

অতএব, প্রতিটি বিষয়কে তার বাস্তবতা ও প্রয়োজন অনুপাতে মূল্যায়ন করো। এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি কিংবা ছাড়াছাড়ি করো না। বরং মধ্যমপন্থা অবলম্বন করো। অহেতুক সন্দেহপ্রবণ ও কল্পবিলাসী হয়ো না। অলীক ধ্যান-ধারণার পেছনে পড়ো না। ভালোবাসা কিংবা ঘৃণা-উভয় ক্ষেত্রেই হাদিসে বর্ণিত মাপকাঠি মেনে চলো-

أَحْبِبْ حَبِيْبَكَ هَوْناً مَا ، فَعَسَى أَن يَكُوْنَ بَغِيضَكَ يَوْماً مَا ، وَأَبَعْضُ بَغِيْضَكَ هَوْناً مَا ، فَعَسَى أَن يَكُونَ حَبِيبَكَ يَوْماً مَا
যাকে তুমি ভালোবাস তাকে পরিমিত পরিমাণে ভালোবাসো, কেননা হতে পারে এমন একদিন আসবে, যেদিন সে তোমার ঘৃণার পাত্রে পরিণত হবে। আর যাকে তুমি ঘৃণা করো, তাকে সংযত পরিমাণে ঘৃণা করো। কারণ, হতে পারে এমন একদিন আসবে, যেদিন সে তোমার প্রিয়পাত্রে পরিণত হবে।

عَسَى اللَّهُ أَن يَجْعَلَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ الَّذِينَ عَادَيْتُم مِّنْهُم مَّوَدَّةً وَاللَّهُ قَدِيرٌ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
যারা তোমাদের শত্রু, আল্লাহ্ তাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে হয়তো বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন, আল্লাহ সবই করতে পারেন এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়। [সূরা মুমতাহিনাহ: ৭]

মনে রেখো, অধিকাংশ আশঙ্কা ও গুজব বাস্তব হয় না。

ফন্ট সাইজ
15px
17px