📄 সারা দুনিয়ার বোঝা তোমার কাঁধে তুলে নিও না
কিছু মানুষ এমন আছে, যাদের মাথার ভেতর সারাক্ষণ চলতে থাকে বিশ্বযুদ্ধ। এ যুদ্ধের ফলে তারা আক্রান্ত হয় পেটের পীড়া, ব্লাড প্রেসার, ডায়বেটিসসহ নানা ধরনের মারাত্মক ব্যাধিতে। তাদের ভেতর সারাক্ষণ জ্বলতে থাকে হাজারো বিষয় ও ঘটনার অগ্নি। যা তাদেরকে প্রতিনিয়ত অস্থিরতায় ভোগায়।
অল্পতেই নৈরাশ্য এদের জেঁকে ধরে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখলে এরা ক্ষেপে যায়। এভাবে সর্বদাই তারা অস্থির, উদ্বিগ্ন, বিরক্ত ও বিষণ্ণ থাকেন।
يَحْسَبُونَ كُلَّ صَيْحَةٍ عَلَيْهِمْ
যে কোনো শোরগোলকেই তারা নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। [সূরা মুনাফিকুন: ৪]
এ ধরনের লোকদের জন্য আমার পরামর্শ হলো, সারা দুনিয়ার বোঝা তুমি তোমার কাঁধে তুলে নিও না। যা কিছু ঘটে তার বোঝা ভূমিকেই বহন করতে দাও। কিছু কিছু মানুষের মন যেন স্পঞ্জ; যা সব ধরনের গুজব-রটনাই শুষতে থাকে। সামান্যতেই তারা হয়ে পড়ে উৎকণ্ঠিত। খুশির ক্ষুদ্র উপকরণেই হয়ে যায় অত্যধিক আনন্দিত। স্বল্প সমস্যাতে তাদের মন হয়ে যায় অস্থির। এ ধরণের মানসিকতা যার আছে তার ব্যক্তিত্ব হয়ে যায় বিলুপ্ত। কখনো বা তার অস্তিত্বই পড়ে যায় হুমকির মুখে।
যারা সৎ পথে প্রতিষ্ঠিত, সমস্যা-সংকট তাদের বিচলিত করে না; বরং এগুলো তাদের ঈমান-ইয়াকিনে বৃদ্ধি ঘটায়। পক্ষান্তরে দুর্বলচিত্তদের জন্য বিপরীত অবস্থাটাই সত্য। সমস্যা-সংকট ও প্রতিকূল অবস্থা তাদের ভয়ের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দেয়। অথচ বীর পুরুষদের দেখো, দুর্যোগের বিরুদ্ধে তারা কেমন হাসিমুখে খেলা করে। সাহস তাদের পাহাড়সম। বিশ্বাস তাদের সুদৃঢ়। স্নায়ু তাদের সুশীতল। তারা হয়ে থাকেন দৃঢ় প্রত্যয়ী। আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর থাকে তাদের মন。
এর বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে কাপুরুষ ও ভীরুদের মাঝে। বিপদের আশঙ্কা ও কল্পিত সংকটের তারবারী তাদেরকে প্রত্যহ দ্বিখন্ডিত করতে থাকে বারবার।
অতএব, জীবনে দৃঢ়তা ও প্রশান্তি যদি তোমার কাম্য হয়, তা হলে বীরত্ব ও সাহসিকতার সাথে যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবেলায় সচেষ্ট হও।
وَلَا يَسْتَخِفَنَّكَ الَّذِينَ لَا يُوْقِنُونَ
আর যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয়, তারা যেন তোমাকে বিচলিত করতে না পারে। [সূরা রুম: ৬০]
وَلَا تَكُ فِي ضَيْقٍ مِمَّا يَمْكُرُونَ
এবং তাদের ষড়যন্ত্রে তুমি মনোক্ষুণ্ণ হয়ো না। [সূরা নাহল: ১২৭]
পরিবেশের চেয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ী হও তুমি। দুর্বিপাকের ঝড়ো হাওয়ার চেয়েও কঠিন হও তুমি। মনে রেখো, ভীতু ও দুর্বলমনারা করুণার পাত্র হয়ে থাকে। কালের আবর্তন-বিবর্তন তাদেরকে বিচলিত করে তোলে।
وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيُوةٍ
তুমি তাদেরকে জীবনের প্রতি সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক লোভী দেখতে পাবে। [সূরা বাকারা: ৯৬]
আত্মমর্যাদাশীল ও আত্মপ্রত্যয়ীরা আল্লাহ -র পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন।
﴿فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ ﴾
তিনি তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল করেছেন। [সূরা ফাতাহ : ১৮]
📄 তুচ্ছ কারণে ভেঙ্গে পড়ো না
অনেক মানুষ আছে যারা অতি তুচ্ছ কারণে অল্পতেই ভেঙে পড়ে। হয়ে যায় বিমর্ষ ও উদ্বিগ্ন।
وَتَعْظُمُ فِي عَيْنِ الصَّغِيرِ صِغَارُهَا * وَتَصْغُرُ فِي عَيْنِ الْعَظِيمِ الْعَظَائِمُ
ছোট (মনের) মানুষের চোখে ছোট জিনিসও দেখায় বড়, আর মহৎ মানুষের চোখে বড় জিনিসও দেখায় ছোট।
মুনাফিকদের অবস্থা দেখো। তাদের হিম্মত কত দুর্বল। সংকল্প কত নড়েবড়ে। তারা বলে-
لَا تَنْفِرُوا فِي الْحَرِّ
গরমের মধ্যে অভিযানে বের হওয়া না। [সূরা তওবা: ৮১]
ائْذَنْ لِي وَلَا تَفْتِنِي
আমাকে (যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা থেকে) অব্যাহতি দিন। আমাকে ফিতনায় ফেলবেন না। [সূরা তওবা: ৪৯]
إِنَّ بُيُوتَنَا عَوْرَةٌ
আমাদের বাড়িঘর অরক্ষিত। [সূরা আহযাব: ১৩]
نَخْشَى أَنْ تُصِيبَنَا دَائِرَةٌ
আমাদের আশংকা হয়- আমাদের ভাগ্যবিপর্যয় ঘটবে। [সূরা মায়িদা: ৫২]
وَعَدَنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ إِلَّا غُرُورًا
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা প্রতারণা বৈ কিছুই নয়। [সূরা আহযাব: ১২]
কতই না নীচ তারা! কতই না অনুভূতিহীন! দৃষ্টি তাদের পেটপূজা, বাড়ি-গাড়ি আর দালান কোঠার মাঝেই সীমাবদ্ধ। বিস্তীর্ণ আকাশের অধরা উচ্চতার দিকে তাকাতে তারা অভ্যস্ত নয়। শ্রেষ্ঠত্বের তারকারাজির দিকে তারা চায় না চোখ মেলে দেখতে। তাদের চিন্তার পরিধি জুড়ে রয়েছে কেবল দামি গাড়ি, জামা, জুতা ও খাওয়া-দাওয়া এসব।
আবার এমন লোকের সংখ্যাও নিতান্ত কম নয়, বউ-বাচ্চা, আত্মীয়-স্বজনদের নিয়েই যাদের অহর্নিশ ব্যস্ততা। ছোট খাটো ঝগড়া, গালমন্দ কিংবা ক্ষুদ্র বিষয় নিয়েই যারা মর্মপীড়ায় ভোগে। তাদের সামনে সুউচ্চ কোনো লক্ষ্য নেই। মহৎ কোনো পরিকল্পনা নেই। কথায় বলে- 'পাত্র যখন শূন্য হয়, বাতাসে তা পূর্ণ হয়।'
তাই, ভেবে দেখো, যে বিষয়টি নিয়ে তুমি পেরেশানীতে ভুগছো তা কোন পর্যায়ের। সেটি কি আদৌ পেরেশান হবার মতো কোনো বিষয়? বিষয়টি কি এতটাই জটিল যে, তুমি তার জন্য তোমার রক্ত, মাংস, সময়, শান্তি সবকিছু নষ্ট করবে? তা হলে যে এ ব্যবসায় তোমার কেবল লোকসানই গুণতে হবে।
মনোবিজ্ঞানীদের ভাষ্য মতে, প্রতিটি বস্তুকে তার প্রাপ্য মূল্যানুপাতে মূল্য দিতে হবে। এরচেয়েও বিশুদ্ধতম কথা হলো আল্লাহ-র বাণী-
قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا ﴾
আল্লাহ সবকিছুর জন্য নির্দিষ্ট মাত্রা নির্ধারণ করে রেখেছেন। [সূরা তালাক : ৩]
অতএব, প্রতিটি বিষয়ের মূল্যায়ন তার বাস্তবতা, প্রয়োজন ও গুরুত্ব অনুপাতে করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনোরূপ বাড়াবাড়ি কিংবা ছাড়াছাড়ি করা যাবে না।
হুদাইবিয়ার সন্ধির সময়কার একটি ঘটনা স্মরণ করো। রাসুল ﷺ-র হাতে সাহাবায়ে কেরাম বাইআত হচ্ছিলেন। তখন তাঁদের সমস্ত মনোযোগ ও চিন্তা চেতনা ছিল বাইআতকে ঘিরেই। ঠিক সে সময় তাদের সঙ্গে এমন এক লোকও ছিল, যে ছিল তার হারানো উটের চিন্তায় বিভোর। ফলে সে বঞ্চিত হয়েছিল বাইয়াতের মহান নেয়ামত থেকে। মাহরূহ হয়েছিল আল্লাহ ﷺ-র স্থায়ী সন্তুষ্টি অর্জন থেকে।
সুতরাং, তুচ্ছ-নগন্য বস্তুর জন্য পেরেশান হয়ো না। দেখবে, অধিকাংশ দুশ্চিন্তাই তোমাকে ছেড়ে পালিয়ে গেছে। আনন্দ ও সুখে কাটবে তোমার সময়।
📄 আল্লাহ যা দিয়েছেন তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকো
আল্লাহ তোমাকে যে ধন-সম্পদ, রূপ-সৌন্দর্য, ঘর-বাড়ি, সন্তান- সন্ততি, মেধা-যোগ্যতা দান করেছেন, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত। ঐশী আদেশও সেরকমই-
فَخُذْ مَا آتَيْتُكَ وَكُنْ مِّنَ الشَّكِرِينَ﴾
আমি তোমাকে যা দিয়েছি, তা গ্রহণ করো এবং কৃতজ্ঞ হও। [সূরা আ'রাফ : ১৪৪]
আমাদের পূর্বসূরী উলামায়ে কেরাম ও ইসলামের সূচনা লগ্নের মানুষেরা গরীব ছিলেন। বাড়ি-গাড়ি, দালান- কোঠা, গোলাম-বাঁদি কিছুই ছিল না তাদের। তথাপি তারা ছিলেন সুখী ও সফল। মানবতার কল্যাণে তারা কাজ করে গেছেন নিরলস। কারণ, আল্লাহ তাদেরকে কল্যাণের যতটুকু তওফীক দিয়েছিলেন, তার যথাযথ প্রয়োগ তারা করেছিলেন। ফলে তারা সকল কাজকর্মে পেয়েছিলেন প্রভূত বরকত।
অপরপক্ষে এমনকিছু মানুষ ছিল যাদেরকে ধন-ঐশ্বর্য, সন্তান- সন্ততিসহ সব ধরণের নেয়ামত দ্বারা ভূষিত করা হয়েছিল। কিন্তু সত্যপথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণে সেসকল নেয়ামত তাদের কোনো কাজেই আসেনি। দুর্ভাগ্য ও অস্থিরতা কখনও তাদের পিছু ছাড়েনি। পার্থিব উপায়-উপকরণই যে সব কিছু নয়- এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে?
তুমি দেখবে, এমন অনেক মানুষে রয়েছে, যারা বড় বড় বহু ডিগ্রী বগলদাবা করে ঘুরছে। কিন্তু তাদের মেধা, ও যোগ্যতা অকেজোই থেকে গেছে। এর বিপরীতে তুমি এমনও বহু মানুষ দেখতে পাবে, যাদের ইলম ও জ্ঞান সীমিত। কিন্তু সেটুকুতেই তারা মানবজাতির উপকার ও কল্যাণের জন্য নির্ঝরিনী বানিয়ে প্রবাহিত করছে।
যদি তুমি সুখী হতে চাও, তা হলে আল্লাহ প্রদত্ত তোমার রূপ-সৌন্দর্য যেমনই হোক; যে বংশেই হোক তোমার জন্ম, যেমনই হোক তোমার কণ্ঠ, তাতেই থাকো তুমি সন্তুষ্ট। নিজের আয়-উন্নতির উপরই থাকো পরিতৃপ্ত।
ইতিহাস পড়ে দেখো, সেখানে এমন বহু মানুষের কথা উল্লেখ রয়েছে, যাদের জীবন কেটেছে অল্পেতুষ্টিতে। ফলে তারা অর্জন করতে পেরেছিলেন জগতজোড়া সুনাম-সুখ্যাতি।
উদাহরণত:
আতা ইবনে আবী রাবাহ : তিনি তার সময়ের সবচেয়ে বড় আলেম ছিলেন। অথচ তিনি পূর্বে ক্রীতদাস ছিলেন। তার গায়ের রঙ ছিল কালো। নাক ছিল চেপ্টা। তদুপরি তিনি ছিলেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত।
আহনাফ ইবনে কাইস : ধৈর্য ও সহনশীলতায় সমগ্র আরবে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। ছিলেন শীর্ণকায়, কুঁজো, দুর্বল ও ন্যুব্জ। তার এক পায়ের গোছা ছিল আরেক পায়ের তুলনায় বেশ খাটো।
আ'মাশ : তিনি তার সময়ের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ছিলেন। অথচ তিনি ছিলেন একজন আযাদকৃত গোলাম। তার দৃষ্টিশক্তি ছিল ক্ষীণ। ছিলেন হতদরিদ্র। ছেঁড়া-ফাটা ছিল তার পোশাক।
এছাড়াও আম্বিয়ায়ে কেরামের জীবনও আমাদের সামনে উৎকৃষ্ট উদাহরণ। অনেক নবী-রাসুলই মেষ চড়িয়েছিলেন। দাউদ ছিলেন কর্মকার। যাকারিয়া ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। ইদরিস ছিলেন দর্জি। অথচ তাঁরা সবাই ছিলেন শ্রেষ্ঠ মানব।
মনে রেখো, তোমার মূল্য ও মর্যাদা নির্ণিত হয় তোমার যোগ্যতা ও কর্মে। তাই, রূপ-লাবণ্য, ধন-সম্পদ কিংবা পরিবারে কোনো ঘাটতি দেখা দিলে সেজন্য দুঃখ করো না। আল্লাহ যা দিয়েছেন, তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকো।
نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَّعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيُوةِ الدُّنْيَا
আমিই তাদের মাঝে তাদের জীবিকা বন্টন করে দিয়েছি পার্থিব জীবনে। [সূরা যুখরুফ: ৩২]
📄 জান্নাতের কথা স্মরণ করো
পৃথিবীতে যদি তুমি অভুক্ত, অসুখী, মুখাপেক্ষী, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, অসুস্থ, প্রতারিত ও অত্যাচারিত হও, তা হলে স্মরণ করো চিরস্থায়ী জান্নাতে কথা। যখন তুমি এমনটি করা শুরু করবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করবে, তখন দেখবে, তোমার লোকসানগুলো পরিণত হবে লাভে। বিপদ-আপদগুলো পরিণত হবে উপহারে।
দুনিয়ার বুকে সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী তিনিই, যিনি আখেরাতের জন্য কাজ করেন। কেননা, আখেরাতই উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী।
সৃষ্টিজীকুলের মধ্যে সর্বাধিক নির্বোধ সে-ই, যে দুনিয়ার সুখ-শোভা ও আশা-আকাঙ্ক্ষাকে আখেরাতের উপর প্রাধান্য দেয়। এ শ্রেণির লোকেরা যখনই কোনো বিপদে পড়ে, তখন ভীষণ রকম ঘাবড়ে যায়। সীমাতিরিক্ত অস্থিরতায় ভোগে। কেননা, তাদের দৃষ্টির সীমা জুড়ে রয়েছে কেবল এই তুচ্ছ-নগণ্য দুনিয়া। তাদের সকল কার্যাদির কেন্দ্র জুড়ে রয়েছে এই পার্থিব জীবন। দুনিয়া ছাড়া তাদের ভাবনায় নেই অন্যকিছুই।
إِنَّ الْآخِرَةَ قَدْ ارْتَحَلتْ مقْبِلَةً ، وَإِنَّ الدُّنْيَا قَدْ ارْتَحَلَتْ مُدْبِرَةٌ
আখেরাত এগিয়ে আসছে আমাদের দিকে, আর দুনিয়া যাচ্ছে দূরে সরে।
فَكُونُوا مِن أَبناء الآخِرَةِ ، وَلَا تَكُونُوا مِن أَبناء الدُّنْيا ،
তাই হও আখেরাতমুখী; দুনিয়ামুখী হয়োনা।
فَإِنَّ الْيَوْمَ عَمَلُ ولا حساب ، وغَداً حساب ولا عَمَلُ.
মনে রেখো, দুনিয়া আমলের জায়গা, হিসাব-নিকাসের জায়গা নয়; আর আখেরাত হিসাব-নিকাসের জায়গা আমলের জায়গা নয়।
নির্বিঘ্ন জগত-জীবন, নির্ঝঞ্ঝাট সুখ-শান্তিই তাদের একমাত্র কাম্য। অথচ তাদের দিলের মরিচা যদি দূর হতো, তাদের চোখ থেকে যদি মূর্খতার পর্দা সরে যেতো, তা হলে তারা চিরস্থায়ী জান্নাত, তার অফুরন্ত নেয়ামত, সুরম্য অট্টালিকা ও চিরস্থায়ী জীবনের কথা ভাবতো। পবিত্র কোরআনে জান্নাতের যে সকল গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্যাবলির কথা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতো।
জান্নাতের সেই নেয়ামতরাজি পেতে হলে অবশ্যই প্রয়োজন কঠোর ত্যাগ ও পরিশ্রমের। জান্নাতের সুখ-শোভা, আরাম-আয়েশ হবে অসীম। আমারা কি ভেবে দেখেছি যে, জান্নাতবাসীরা কখনও হবে না রোগাক্রান্ত। হবে না দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। তারা সেখানে অমর ও চিরকুমার হয়ে থাকবে। তাদের পরিধানের কাপড় কখনো হবে না পুরোনো। জান্নাতের কক্ষগুলো এমন হবে যে, বাইরে থেকে ভেতরে এবং ভেতর থেকে বাইরে দেখা যাবে। সেখানে থাকবে এমনসব নেয়ামত, কোনো চক্ষু যা কখনও দেখেনি, কোনো কান যা কখনও শোনেনি, কোনো অন্তর যার কল্পনাও কখনও করেনি।
আরোহী ব্যক্তি একশ' বছরেও জান্নাতের একটি গাছের ছায়া অতিক্রম করতে পারবে না। জান্নাতের একটি তাবুর দৈর্ঘ হবে ষাট মাইল। জান্নাতের নদীগুলো থাকবে সদা প্রবাহমান।
প্রাসাদগুলো হবে সুরম্য ও সুবিশাল। গাছের ফলগুলো থাকবে সন্নিকটে ঝুলন্ত। নির্ঝরিনী প্রবাহিত হতে থাকবে অবিরাম। হাতের কাছেই প্রস্তুত থাকবে পানপাত্র। বিছানো থাকবে কোমল আসন ও অমূল্য গালিচা। থাকবে আনন্দ-সুখের পূর্ণ আয়োজন। চারপাশ সুবাসে করবে মৌ মৌ। জান্নাতের সবকিছুই হবে সতেজ-সজীব। এক কথায়, জান্নাতের গুণ-বৈশিষ্ট বর্ণনাতীত।
কী হলো আমাদের বিবেক-বুদ্ধির? কেন আমরা তা নিয়ে চিন্তা-ফিকির করছি না? আমরা সবাই যেহেতু চাই জান্নাতে প্রবেশ করতে, তা হলে রুগ্ন, দরিদ্র, দুর্দশাগ্রস্তদের কিসের দুশ্চিন্তা? শেষ পরিণতি শুভ হবে-এই ভেবে বরং তাদের খুশিই হওয়া উচিত। আমদের সকলেরই উচিত, পার্থিব দুঃখ-কষ্টের প্রতি লক্ষ না করে নেক আমল করে যাওয়া। যাতে পেতে পারি আল্লাহ -র নেয়ামতরাজি। হতে পারি তাঁর জান্নাতে হকদার।
سَلْمٌ عَلَيْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ
তোমরা যে ধৈর্য ধারণ করেছ, সেজন্য তোমাদের উপর শান্তি; কতই না উত্তম এই পরিণাম। [সূরা রা'দ : ২৪]