📄 আগামী নিয়ে নয় আগাম দুশ্চিন্তা
أَتَى أَمْرُ اللَّهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ * আল্লাহর আদেশ আসবেই, অতএব তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করো না। [সূরা নাহল: ১]
আগামী নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ো না। করো না তাড়াহুড়া। মনে রেখো, যা হবার তা যথাসময়েই হবে। সময়ের আগেই বাচ্চার জন্ম কামনা করা, পরিপক্ক হবার আগেই ফল ছিঁড়ে ফেলা- কোনোটিই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
আগামীকাল এক অদৃশ্য অস্তিত্বহীন বিষয়। যার রূপ, রস, গন্ধ কিছুই নেই। তা হলে আগামীর বিপর্যয় নিয়ে তোমার কেন এতো শঙ্কা? ভবিষ্যতের দুর্ভাবনায় কেন তুমি বিভোর? ভবিষ্যত কি আদৌ তোমার জীবনে আসবে? এলেও বা কেমন হবে তা- একথা জানা নেই কারোরই। সবচেয়ে বড় কথা হলো- ভবিষ্যত অদৃশ্য জগতের এমন এক সেতু, যা আমাদের সামনে না আসা পর্যন্ত আমরা তা পার হতে পারবো না। কে জানে, আমরা হয়তো পারবো না সেই সেতুর কাছে পৌঁছতে। কিংবা কাছে পৌঁছার আগেই হয়তো তা হয়ে যাবে ধ্বংস। কিংবা হতে পারে, আমরা সেই সেতুর কাছে পৌঁছতে পারবো এবং পারবো নিরাপদে তা অতিক্রম করতে।
ভবিষ্যতের আশঙ্কায় মানসিক যন্ত্রণার বেড়াজালে বন্দি হওয়া, অদৃশ্যের কিতাব খুলে সম্ভাব্য কষ্টের কথা ভেবে হা-হুতাশ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। কেননা, তা পৃথিবীর সাথে আমাদের সুদীর্ঘ সম্পর্ক কায়েমের কথা মনে করিয়ে দেয়। এটা প্রবৃত্তির প্রতারণা বৈ কিছু নয়। যুক্তির বিবেচনায়ও এটা নিন্দনীয়। কারণ, এ হচ্ছে ছায়ার সাথে লড়াই। জগতের বহু মানুষ ভবিষ্যত দূর্যোগ-দূর্বিপাক, রোগ-বালাই ও বিপদ-আপদের ভয়ে শঙ্কিত। এসবই শয়তানের কুমন্ত্রণা।
الشَّيْطَنُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ ۚ وَاللَّهُ يَعِدُكُمْ مَّغْفِرَةٌ مِّنْهُ وَفَضْلا
শয়তান তোমাদেরকে অভাব-অনটনের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অধিক অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। [সূরা বাকারা: ২৬৮]
বহু মানুষ এমন রয়েছে, যারা আগামীকাল ক্ষুধার্ত থাকবে, একবছর পর অসুস্থ হয়ে যাবে, একশ বছর পর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে- এসব কথা ভেবে আজ কান্না করে। যার জীবনটাই রয়েছে অন্যের হাতে। যে নিজেই জানে না কখন তার সময় ফুরিয়ে যাবে। ভবিষ্যত নিয়ে এসব ভাবনা সে ভাবে কী করে! আগামীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কিভাবে তাকে আষ্টেপৃষ্টে ধরে!
অতএব, আগামী নিয়ে দুশ্চিন্তা করো না। তাকে আসতে দাও। আগামীতে ভালো-মন্দ কী ঘটবে তা অনুসন্ধান করতে যেও না। কারণ, তোমার 'আজ'-ই তো এখনও পূর্ণ হয়নি।
আশ্চর্য! মানুষ আগামীর ভাবনাকে নগদ গ্রহণ করছে! সেকি এটা পরিশোধ করবে সেই দিন, যে দিনের সূর্য ওঠেনি এখনও? সাবধান! দীর্ঘ আশা পরিত্যাগ করো।
📄 কারো নিন্দা-সমালোচনায় কষ্ট নিও না
এই জগত সংসারে এমন কিছু মুর্খ রয়েছে যারা আল্লাহ -কেও গালমন্দ করে। তাই কেউ যদি তোমাকে গালমন্দ দেয় কিংবা সমালোচনার আঘাতে তোমাকে ক্ষতবিক্ষত করে, তা হলে কষ্ট নিও না। বরং নিজেকে এই বলে প্রবোধ দাও যে, কিছু মানুষ যখন আল্লাহ -র ক্ষেত্রেও এরূপ ধৃষ্টতা দেখাতে পেরেছে, অথচ তিনি আমাদের মহান স্রষ্টা, পরমপ্রিয় প্রভু। আমাদের একমাত্র মাবুদ ও রিযিকদাতা। তা হলে তোমার আমার ব্যাপারটা তো নিতান্তই গৌণ।
আমাদের জীবন ভুলে ভরা। পাপে পূর্ণ। মানুষ আমাদের নিন্দা- সমালোচনা করতেই পারে। এক্ষেত্রে আমাদের কাজ হলো ধৈর্য ধারণ করা।
মনে রেখো, তুমি যখনই উন্নতি করবে, অন্যের প্রতি দানের হাত প্রসারিত করবে, নিজেকে বিকশিত করবে, অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার করবে, তখনই মানুষ তোমার সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠবে। আর সমালোচনার এ ঝড় অবিরাম বইতেই থাকবে। এ থেকে বাঁচতে হলে তোমাকে মাটির নিচে কোনো গর্তে ঢুকে যেতে হবে কিংবা পাড়ি জমাতে হবে সুদূর আকাশে। যেন নিন্দুক ও সমালোচকের দৃষ্টি খুঁজে না পায় তোমায়। মানব সমাজে যতদিন তুমি বসবাস করবে, ততদিন কষ্ট তোমার সঙ্গী থাকবে। চোখ তোমার অশ্রু ঝরাবে।
حَسَدُوا الفتى إذ لم ينالوا سعيه فالناس أعداء له خصوم
উৎকর্ষতায় যে তাদেরকে ছাড়িয়ে গেছে, তাকে নিয়ে তারা হিংসা করে, তার প্রতি তারা শত্রুতা পোষণ করে। তার বিরোধিতা করে। মনে রেখো, মাটিতে বসে থাকা ব্যক্তি কখনও মাটিতে পড়ে যায় না। ঘোড়সওয়ারীই চষে বেড়াতে পারে যুদ্ধের ময়দান।
তুমি বিদ্যা-বুদ্ধিতে, উন্নতি-উৎকর্ষতায়, আচার-আচরণে ও ধন-সম্পদে তাদেরকে ছাড়িয়ে গেছো বলেই তারা তোমার উপর এতো রুষ্ট। তুমি যতক্ষণ না প্রশংসনীয় এসব গুণাবলি থেকে নিজেকে মুক্ত করছো, যতক্ষণ না আল্লাহ প্রদত্ত এ নেয়ামতগুলো তোমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে, যতক্ষণ না তুমি নির্বোধ, অথর্ব, অপদার্থে পরিণত হচ্ছো, ততক্ষণ তারা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে জি। তারা যে এটাই চায়। তাই, নিন্দা, সমালোচনার আঘাত তোমাকে সইতেই হবে।
উহুদ পাহাড়ের মতো সুদৃঢ় হও তুমি। হও এমন শক্ত পাথরের ন্যায়, শিলার আঘাতও পারে না যাকে টলাতে। বরং আঘাতকারী শিলাই হয়ে যায় বিচূর্ণ। মনে রেখো, তুমি যদি মর্মাহত হও তাদের নিন্দায়, ভেঙে পড়ো তাদের সমালোচনায়, তাহলে ব্যর্থ হবে তুমি আর সফল হবে তারা। কারণ, তারা এটাই চেয়েছিল যে, তুমি ক্রুদ্ধ হয়ে দমে যাও, ব্যথিত হয়ে হারাও মনোবল।
অতএব, তুমি তাদের কথা কানে তুলো না। সাবধানে এড়িয়ে যাও তাদের।
إِذَا مَحَاسِنِي اللائِي أُدِلُّ بها كَانَتْ ذُنُوبِي فَقُلْ لِي كَيفَ أعتذر؟!
আচারিক সৌন্দর্যই যদি হয় আমার পাপ হয়ে, তা হলে দয়া করে বলো, আমি কিভাবে করবো এর ক্ষতিপূরণ?
মনে রেখো, মানুষের মাঝে তোমার মর্যাদা যত বাড়বে, সমাজের বুকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তোমার প্রভাব যতটা প্রতিষ্ঠা পাবে, নিন্দুকদের নিন্দা, সমালোচকের সমালোচনা ততই বৃদ্ধি পেতে থাকবে। ক'জনার মুখ বন্ধ করতে পারবে তুমি? তাই তাদেরকে থাকতে দাও তাদের মতোই। সাবধানে এড়িয়ে চলো তাদের। তা হলেই পারবে তাদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে।
* قُلْ مُوْتُوا بِغَيْظِكُمْ
তুমি বলে দাও, তোমরা তোমাদের আক্রোশেই মরতে থাকো। [সূরা আলে ইমরান: ১১৯]
তাছাড়া তুমি তোমার যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা আরো বাড়িয়ে নিয়ে, ভুল-ত্রুটিগুলো শোধরে নিয়ে তাদের মুখে কুলুপ এঁটে দিতে পারো। তবে একটি কথা মনে রেখো, তুমি যদি গোটা পৃথিবীর সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে চাও; তাহলে সেটি অসম্ভব কল্পনা বৈ কিছু নয়।
📄 কারো ধন্যবাদের আশায় থেকো না
مَن يَفْعَلُ الْخَيْرَ لَا يَعْدِمُ جَوَازِيْهِ لَا يَذْهَبُ الْعَرْف بَيْنَ اللَّهِ وَالنَّاسِ
ভালো কাজের প্রতিদান কখনও বিনষ্ট হয় না।
আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার পরিচয় কখনও মুছে যায় না।
আল্লাহ তাঁর এবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন বান্দাদের। তাঁর শুকরিয়া আদায় করার জন্য করেছেন রিযিকের ব্যবস্থা। কিন্তু সবাই তাঁর এবাদত করে না। উল্টো তাঁর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করে অন্যকে। অধিকাংশ মানুষই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না তাঁর। অন্যায়, অস্বীকার, বাড়াবাড়ি ও নাফরমানীর প্রবণতা বেশিরভাগ মানুষের মাঝেই প্রবল। তাই তুমি যখন দেখবে যে, মানুষ ভুলে গেছে তোমার কৃপা, অস্বীকার করছে তোমার দয়া, অবজ্ঞা করছে তোমার সদাচরণ, শত্রুতার মাধ্যমে প্রতিদান দিচ্ছে তোমার অনুগ্রহের, তখন তুমি হয়ো না হতাশ কিংবা পেরেশান। করো না মন খারাপ। কারণ, মানুষ যে এমনই।
আল্লাহ ও তার রাসুল নিজ গুণে তাদেরকে সম্পদশালী করে দিয়েছেন- এ ছাড়া তাদের অসন্তুষ্টির আর কোনো কারণ নেই। [সূরা তওবা: ৭৪]
পৃথিবীর ইতিহাস তোমার সামনেই। পড়ে দেখো। এর পাতায় পাতায় সেই পিতার কাহিনী বর্ণিত আছে, যিনি তার সন্তানকে লালন পালন করেছেন সযতনে। ব্যবস্থা করেছেন তার উত্তম শিক্ষা-দীক্ষার। নিজে না খেয়ে খাইয়েছেন তাকে। তার শান্তির জন্য করেছেন কঠোর পরিশ্রম। কিন্তু এ সন্তানই যখন বড় হয়েছে, হয়েছে সামর্থ্যবান, তখন সে-ই তার পিতার জন্য মহা বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবাধ্যতা, অবজ্ঞা, অসম্মান ও ঘৃণার মাধ্যমে প্রতিদান দিয়েছে তার কষ্টের। পিতার জন্য সে পরিণত হয়েছে সাক্ষাত এক আযাবে।
সুতরাং, যে নির্বোধেরা ভুলে গেছে তাদের প্রতি তোমার দয়া ও অনুগ্রহের কথা, উল্টো অকৃতজ্ঞতার আঘাতে তোমাকে করেছে জর্জরিত, তাদের প্রতি তুমি মন খারাপ করো না। বরং তোমার জন্য আনন্দের সংবাদ হলো- তুমি পুরষ্কার পাবে এমন সত্তার কাছ থেকে যার ভান্ডার কখনও শেষ হবার নয়।
আমি একথা বলব না যে, তুমি মানুষের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহের হাত সংকুচিত করে নাও। সদাচরণ পরিত্যাগ করো। বরং আমি বলবো, তুমি তাদের অকৃতজ্ঞতার জন্য প্রস্তুত থাকো। কৃতঘ্নের কৃতঘ্নতায় হয়ো না হতাশ। একমাত্র আল্লাহ -র সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই করে যাও ভালো কাজ। তাহলেই তুমি হতে পারবে সর্ব ক্ষেত্রে সফল। কারও অকৃতজ্ঞতায় কোনো ক্ষতি হবে না তোমার। তুমি অনুগ্রহকারী হবে। তোমার হাত উঁচু হবে; যা নীচের হাত থেকে উত্তম।
﴿إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنْكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا﴾
আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তোমাদেরকে আহার্য দান করি এবং তোমাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা কামনা করি না। [সূরা দাহর : ৯]
কখনও কখনও অনেক জ্ঞানী ব্যক্তিরাও মানুষের অকৃতজ্ঞ স্বভাবের কথা ভুলে যান। যেন তারা অকৃতজ্ঞতা সম্পর্কে আল্লাহ -র এ বাণী কখনও শোনেননি-
﴿وَإِذَا مَسَّ الْإِنْسَانَ الضُّرُّ دَعَانَا لِجَنْبِةٍ أَوْ قَاعِدًا أَوْ قَائِمًا فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُ ضُرَّةً مَرَّكَانُ لَمْ يَدْعُنَا إِلَى ضُرِّ مَسَّهُ كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْمُسْرِفِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴾
আর যখন মানুষ কষ্টের সম্মুখীন হয়, তখন শুয়ে, বসে, দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। তারপর আমি যখন তা থেকে মুক্ত করে দিই, সে কষ্ট যখন চলে যায়, তখন সে এমন পথ অবলম্বন করে, যেন তাকে যে দুখ-দুর্দশা স্পর্শ করেছিল, তার জন্য সে কোনোদিন আমাকে ডাকেইনি। এভাবেই সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য তাদের কৃতকর্মকে সুসজ্জিত করে দেওয়া হয়েছে। [সূরা ইউনুস : ১২]
ধরো, তুমি কাউকে একটি কলম উপহার দিলে। আর সে ওই কলম দিয়ে তোমার বিরুদ্ধে লিখতে শুরু করল। কিংবা তুমি কাউকে ভর দিয়ে হাঁটার জন্য একটি লাঠি দিলে। আর সে ওই লাঠি দিয়েই ফাটিয়ে দিলো তোমার মাথা। তা হলেও তুমি রাগ করো না। মানুষ তো এমনই। অধিকাংশ মানুষই যখন তাদের মহান প্রতিপালকের প্রতিই অকৃতজ্ঞ তখন আমি আর তুমি তাদের কাছ থেকে কী-ই বা আশা করতে পারি?
📄 অন্যের কল্যাণে ব্রত হও, সুখ পাবে
ভালো কাজের ফলাফল সবসময়ই ভালো হয়। কল্যাণকর কাজ, পরোপকারের নতিজা সর্বদাই হয় শুভ। পরোপকারী ব্যক্তি তার উপকার দ্বারা প্রথমে নিজেই হয় উপকৃত। হৃদয়-মনে অনুভব করে এক আশ্চর্য প্রশান্তি। তাই তুমি যদি কখনও কোনো উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হও তখন এগিয়ে আসো অন্যের কল্যাণসাধনে। সাহায্য করো বিপদগ্রস্তকে। এতে তুমি মানসিক প্রশান্তি পাবে। আত্মিক পরিতৃপ্তি লাভ করবে।
অভাবীকে দান করো। মজলুমকে সাহায্য করো। বিপদগ্রস্তকে উদ্ধার করো। ক্ষুধার্তকে খাবার দাও। অসুস্থের সেবা করো। এতে হৃদয় হবে প্রশান্ত। আত্মা হবে তৃপ্ত। জীবন হবে সৌভাগ্যময়। ভালো কাজ হলো উত্তম সুগন্ধির ন্যায়। যার উৎপাদনকারী, ক্রেতা, বিক্রেতা সবাই এর দ্বারা উপকৃত হয়।
মানুষের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাত করো। এটা তোমার জন্য সদকার শামিল। পক্ষান্তরে গোমরা মুখে কারো সাথে সাক্ষাত করাটা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ-ঘোষণার শামিল। যার অশুভ পরিণতির কথা একমাত্র আল্লাহ্-ই ভালো জানেন।
হাদীসে বর্ণিত সেই বেশ্যা নারীর গল্পটি নিশ্চয় শুনেছো? যে পিপাসায় কাতর একটি কুকুরকে পানি পান করিয়েছে। আর এক অঞ্জলি পানির বিনিময়ে হয়ে গেছে জান্নাতের হকদার। মনে রেখো, দো-জাহানের মালিক আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল ও দয়ালু। তিনি নিজে দয়ালু এবং ভালোবাসেন দয়ালুদের। তিনি প্রশংসিত। তিনি অমুখাপেক্ষী। অতএব, দুঃখ-দুর্দশা, ভয়-ভীতি, হতাশা ও নৈরাশ্য যদি তোমায় সংকুচিত করে রাখে, তাহলে তোমার উচিত নেকী ও কল্যাণের পথে আসা এবং সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে অন্যের পাশে দাঁড়ানো। তবেই তুমি পেয়ে যাবে তোমার কাঙ্ক্ষিত সুখের দেখা।
الَّذِي يُؤْتِي مَالَهُ يَتَزَكَّىٰ ۞ وَمَا لِأَحَدٍ عِندَهُ مِن نِّعْمَةٍ تُجْزَىٰ ۞ إِلَّا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِ الْأَعْلَىٰ ۞ وَلَسَوْفَ يَرْضَىٰ
(যে কারও প্রতি অনুগ্রহ করে) তার প্রতি কারও অনুগ্রহের প্রতিদানে নয়; কেবল তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায়, সে অচিরেই সন্তুষ্টি লাভ করবে। [সূরা লাইল : ১৮.১৯..২০]