📘 তুমিও পারবে 📄 শুধু আজকের দিনটিই তোমার

📄 শুধু আজকের দিনটিই তোমার


সকালে জেগে ওঠার পর সন্ধ্যার আশা করো না। তোমার দৃষ্টি কেবল 'এখন'এর দিকেই রাখো। ভেবো না গতকালের কথাও। আর ভবিষ্যৎ- সে তো 'বহুত দূর কি বাত হ্যায়'। আজকের সূর্য তুমি দেখতে পেয়েছো। মনে করো তোমার জীবনকাল কেবল একটি দিন, আর তা আজই। যেন আজই জন্ম হয়েছে তোমার এবং আজই মারা যাবে তুমি। তাহলে দেখবে অতীত তোমাকে পিছু টানবে না। ভবিষ্যতের আশা-নিরাশার দোলাচল তোমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলবে না।

তোমার মেধা ও যোগ্যতার পুরোটা, তোমার মনোযোগের সবটুকু কেবল আজকের জন্য ব্যয় করো। নিশ্চিদ্র একাগ্রতার সাথে আদায় করো আজকের সালাত।

একাগ্রচিত্তে তেলাওয়াত করো পবিত্র কোরআন। বোঝার চেষ্টা করো তার অর্থ। আল্লাহ ﷺ-কে সবসময় স্মরণে রাখো। কাজকারবারে ভারসাম্যতা রক্ষা করো। প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানোর জন্য দিনের সময়গুলোকে ভাগ করে নাও। প্রতিটি মিনিটকে মনে করো একটি বছর। সেকেন্ডকে মনে করো মাস। কল্যাণের চারাগাছ বপন করো। মানুষের প্রতি দয়া করো। আল্লাহ ﷻ-র কাছে কৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা চাও। পরকালের প্রস্তুতি নাও। দেখবে, এভাবে তোমার দিনটি হবে আনন্দময়। তুমি থাকবে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও বিষণ্ণতা থেকে মুক্ত।

﴿فَخُذْ مَا آتَيْتُكَ وَكُنْ مِنَ الشَّكِرِينَ ﴾
অতএব, আমি তোমাকে কিছু দান করলাম, তা গ্রহণ করো এবং কৃতজ্ঞ থাকো। [সূরা আ'রাফ: ১৪۴]

হৃদয়ের ডায়রীতে এ কথাটি লিখে রাখো- আজকের দিনটিই কেবল আমার। চাইলে ঘর কিংবা অফিসেও লিখে রাখতে পারো কথাটি।

তুমি যদি আজ টাটকা ও সুস্বাদু খাবার পেয়ে থাকো, তাহলে গতকালের বাসি খাবার কেন খাবে? আগামীকালের অনিশ্চিত খাবার নিয়ে কেন হবে পেরেশান? আজ যখন শীতল ও মিষ্টি পানি পান করে তৃষ্ণা জুড়াতে পারছো, তখন গতকালের লোনা পানির কথা ভেবে কেন বিষণ্ণ হচ্ছো? আগামীকালে অনিশ্চিত পানি নিয়ে কেনই বা দুশ্চিন্তা করছো?

তোমার সংকল্প যদি হয় স্থির, মনোবল যদি হয় সুদৃঢ়, তাহলে তুমি নিজেকে নিজে বলো যে- আমি শুধু আজকের দিনটিই বেঁচে থাকবো। তখন দেখবে, তোমার ব্যক্তিত্বে উন্নতি এসেছে, তোমার কর্মদক্ষতা বহুগুণে বেড়ে গেছে এবং দিনের প্রতিটি মুহূর্ত তোমার কাজে লেগেছে। এবার তুমি নিজেকে সম্বোধন করে বলো-আজ আমি পরিশুদ্ধ করবো আমার কথাবর্তা। বলবো না কোনো মন্দ কথা। দেবো না কাউকে গালি। করবো না কারও দোষচর্চা।

আজ আমি গোছাবো আমার ঘর। সাজাবো আমার অফিস। কিছুই রাখবো না এলোমেলো। সবই রাখবো পরিপাটি।

আজ আমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবো। বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতিও হবো মনোযোগী। কথাবার্তা করবো মার্জিত। আচার-আচরণে আনবো ভারসাম্য।

আজ আমি আনুগত্য করবো আমার প্রভুর। বিশুদ্ধভাবে আদায় করবো সালাত। তেলাওয়াত করবো পবিত্র কোরআন। পড়বো উপকারী বই-পুস্তক। আজই যেহেতু জীবনের শেষ দিন, তাই হৃদয়ে বপন করবো ভালো কাজের বীজ। মুছে ফেলবো অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ, কপটতা ও মোনাফেকির শেষচিহ্নটুকু।

যেহেতু কেবল আজকে ঘিরেই আমার জীবন, তাই এই স্বল্প সময়ে যথাসম্ভব মানুষের উপকার করবো। সবার সাথে উত্তম আচরণ করবো। রোগীর সেবা করবো। জানাযার শরিক হবো। পথহারাদের পথ দেখাবো। ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়াবো। দুর্দশাগ্রস্তের কষ্ট লাঘব করবো। মজলুমের পাশে দাঁড়াবো। দুর্বলকে সাহায্য করবো। দুশ্চিন্তাগ্রস্তের দুশ্চিন্তা দূর করবো। আলেমকে সম্মান করবো। অসহায়কে দয়া করবো। বড়দের শ্রদ্ধা করবো।

আমি শুধু আজই বেঁচে থাকবো। হে অতীত! তুমি তোমার সূর্যের ন্যায় ডুবে যাও। তাই, আমি তোমাকে নিয়ে কাঁদবো না। এক মুহূর্তের জন্যেও তোমায় স্মরণ করবো না। কারণ, তুমিতো বিদায় নিয়ে চলে গেছো বহুদূরে। না ফেরার দেশে।

হে ভবিষ্যত! তুমি তো এখনও অজ্ঞাত, অদৃশ্য। তোমার কল্পনায় আমি বিভোর হবো না। যা এখনও অস্তিত্বেই আসেনি, তার পেছনে আমি পড়ব না।

হে মানুষ, সৌভাগ্যের অভিধানের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট কথা হলো- ‘তোমার জন্য কেবল আজকের দিন’।

কথাটি যে তার মনের গভীরে গেঁথে রাখে, জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ সেই পূর্ণরূপে উপভোগ করতে পারে।

📘 তুমিও পারবে 📄 আগামী নিয়ে নয় আগাম দুশ্চিন্তা

📄 আগামী নিয়ে নয় আগাম দুশ্চিন্তা


أَتَى أَمْرُ اللَّهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ * আল্লাহর আদেশ আসবেই, অতএব তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করো না। [সূরা নাহল: ১]

আগামী নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ো না। করো না তাড়াহুড়া। মনে রেখো, যা হবার তা যথাসময়েই হবে। সময়ের আগেই বাচ্চার জন্ম কামনা করা, পরিপক্ক হবার আগেই ফল ছিঁড়ে ফেলা- কোনোটিই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

আগামীকাল এক অদৃশ্য অস্তিত্বহীন বিষয়। যার রূপ, রস, গন্ধ কিছুই নেই। তা হলে আগামীর বিপর্যয় নিয়ে তোমার কেন এতো শঙ্কা? ভবিষ্যতের দুর্ভাবনায় কেন তুমি বিভোর? ভবিষ্যত কি আদৌ তোমার জীবনে আসবে? এলেও বা কেমন হবে তা- একথা জানা নেই কারোরই। সবচেয়ে বড় কথা হলো- ভবিষ্যত অদৃশ্য জগতের এমন এক সেতু, যা আমাদের সামনে না আসা পর্যন্ত আমরা তা পার হতে পারবো না। কে জানে, আমরা হয়তো পারবো না সেই সেতুর কাছে পৌঁছতে। কিংবা কাছে পৌঁছার আগেই হয়তো তা হয়ে যাবে ধ্বংস। কিংবা হতে পারে, আমরা সেই সেতুর কাছে পৌঁছতে পারবো এবং পারবো নিরাপদে তা অতিক্রম করতে।

ভবিষ্যতের আশঙ্কায় মানসিক যন্ত্রণার বেড়াজালে বন্দি হওয়া, অদৃশ্যের কিতাব খুলে সম্ভাব্য কষ্টের কথা ভেবে হা-হুতাশ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। কেননা, তা পৃথিবীর সাথে আমাদের সুদীর্ঘ সম্পর্ক কায়েমের কথা মনে করিয়ে দেয়। এটা প্রবৃত্তির প্রতারণা বৈ কিছু নয়। যুক্তির বিবেচনায়ও এটা নিন্দনীয়। কারণ, এ হচ্ছে ছায়ার সাথে লড়াই। জগতের বহু মানুষ ভবিষ্যত দূর্যোগ-দূর্বিপাক, রোগ-বালাই ও বিপদ-আপদের ভয়ে শঙ্কিত। এসবই শয়তানের কুমন্ত্রণা।

الشَّيْطَنُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ ۚ وَاللَّهُ يَعِدُكُمْ مَّغْفِرَةٌ مِّنْهُ وَفَضْلا
শয়তান তোমাদেরকে অভাব-অনটনের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অধিক অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। [সূরা বাকারা: ২৬৮]

বহু মানুষ এমন রয়েছে, যারা আগামীকাল ক্ষুধার্ত থাকবে, একবছর পর অসুস্থ হয়ে যাবে, একশ বছর পর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে- এসব কথা ভেবে আজ কান্না করে। যার জীবনটাই রয়েছে অন্যের হাতে। যে নিজেই জানে না কখন তার সময় ফুরিয়ে যাবে। ভবিষ্যত নিয়ে এসব ভাবনা সে ভাবে কী করে! আগামীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কিভাবে তাকে আষ্টেপৃষ্টে ধরে!

অতএব, আগামী নিয়ে দুশ্চিন্তা করো না। তাকে আসতে দাও। আগামীতে ভালো-মন্দ কী ঘটবে তা অনুসন্ধান করতে যেও না। কারণ, তোমার 'আজ'-ই তো এখনও পূর্ণ হয়নি।

আশ্চর্য! মানুষ আগামীর ভাবনাকে নগদ গ্রহণ করছে! সেকি এটা পরিশোধ করবে সেই দিন, যে দিনের সূর্য ওঠেনি এখনও? সাবধান! দীর্ঘ আশা পরিত্যাগ করো।

📘 তুমিও পারবে 📄 কারো নিন্দা-সমালোচনায় কষ্ট নিও না

📄 কারো নিন্দা-সমালোচনায় কষ্ট নিও না


এই জগত সংসারে এমন কিছু মুর্খ রয়েছে যারা আল্লাহ -কেও গালমন্দ করে। তাই কেউ যদি তোমাকে গালমন্দ দেয় কিংবা সমালোচনার আঘাতে তোমাকে ক্ষতবিক্ষত করে, তা হলে কষ্ট নিও না। বরং নিজেকে এই বলে প্রবোধ দাও যে, কিছু মানুষ যখন আল্লাহ -র ক্ষেত্রেও এরূপ ধৃষ্টতা দেখাতে পেরেছে, অথচ তিনি আমাদের মহান স্রষ্টা, পরমপ্রিয় প্রভু। আমাদের একমাত্র মাবুদ ও রিযিকদাতা। তা হলে তোমার আমার ব্যাপারটা তো নিতান্তই গৌণ।

আমাদের জীবন ভুলে ভরা। পাপে পূর্ণ। মানুষ আমাদের নিন্দা- সমালোচনা করতেই পারে। এক্ষেত্রে আমাদের কাজ হলো ধৈর্য ধারণ করা।

মনে রেখো, তুমি যখনই উন্নতি করবে, অন্যের প্রতি দানের হাত প্রসারিত করবে, নিজেকে বিকশিত করবে, অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার করবে, তখনই মানুষ তোমার সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠবে। আর সমালোচনার এ ঝড় অবিরাম বইতেই থাকবে। এ থেকে বাঁচতে হলে তোমাকে মাটির নিচে কোনো গর্তে ঢুকে যেতে হবে কিংবা পাড়ি জমাতে হবে সুদূর আকাশে। যেন নিন্দুক ও সমালোচকের দৃষ্টি খুঁজে না পায় তোমায়। মানব সমাজে যতদিন তুমি বসবাস করবে, ততদিন কষ্ট তোমার সঙ্গী থাকবে। চোখ তোমার অশ্রু ঝরাবে।

حَسَدُوا الفتى إذ لم ينالوا سعيه فالناس أعداء له خصوم
উৎকর্ষতায় যে তাদেরকে ছাড়িয়ে গেছে, তাকে নিয়ে তারা হিংসা করে, তার প্রতি তারা শত্রুতা পোষণ করে। তার বিরোধিতা করে। মনে রেখো, মাটিতে বসে থাকা ব্যক্তি কখনও মাটিতে পড়ে যায় না। ঘোড়সওয়ারীই চষে বেড়াতে পারে যুদ্ধের ময়দান।

তুমি বিদ্যা-বুদ্ধিতে, উন্নতি-উৎকর্ষতায়, আচার-আচরণে ও ধন-সম্পদে তাদেরকে ছাড়িয়ে গেছো বলেই তারা তোমার উপর এতো রুষ্ট। তুমি যতক্ষণ না প্রশংসনীয় এসব গুণাবলি থেকে নিজেকে মুক্ত করছো, যতক্ষণ না আল্লাহ প্রদত্ত এ নেয়ামতগুলো তোমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে, যতক্ষণ না তুমি নির্বোধ, অথর্ব, অপদার্থে পরিণত হচ্ছো, ততক্ষণ তারা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে জি। তারা যে এটাই চায়। তাই, নিন্দা, সমালোচনার আঘাত তোমাকে সইতেই হবে।

উহুদ পাহাড়ের মতো সুদৃঢ় হও তুমি। হও এমন শক্ত পাথরের ন্যায়, শিলার আঘাতও পারে না যাকে টলাতে। বরং আঘাতকারী শিলাই হয়ে যায় বিচূর্ণ। মনে রেখো, তুমি যদি মর্মাহত হও তাদের নিন্দায়, ভেঙে পড়ো তাদের সমালোচনায়, তাহলে ব্যর্থ হবে তুমি আর সফল হবে তারা। কারণ, তারা এটাই চেয়েছিল যে, তুমি ক্রুদ্ধ হয়ে দমে যাও, ব্যথিত হয়ে হারাও মনোবল।

অতএব, তুমি তাদের কথা কানে তুলো না। সাবধানে এড়িয়ে যাও তাদের।

إِذَا مَحَاسِنِي اللائِي أُدِلُّ بها كَانَتْ ذُنُوبِي فَقُلْ لِي كَيفَ أعتذر؟!
আচারিক সৌন্দর্যই যদি হয় আমার পাপ হয়ে, তা হলে দয়া করে বলো, আমি কিভাবে করবো এর ক্ষতিপূরণ?

মনে রেখো, মানুষের মাঝে তোমার মর্যাদা যত বাড়বে, সমাজের বুকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তোমার প্রভাব যতটা প্রতিষ্ঠা পাবে, নিন্দুকদের নিন্দা, সমালোচকের সমালোচনা ততই বৃদ্ধি পেতে থাকবে। ক'জনার মুখ বন্ধ করতে পারবে তুমি? তাই তাদেরকে থাকতে দাও তাদের মতোই। সাবধানে এড়িয়ে চলো তাদের। তা হলেই পারবে তাদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে।

* قُلْ مُوْتُوا بِغَيْظِكُمْ
তুমি বলে দাও, তোমরা তোমাদের আক্রোশেই মরতে থাকো। [সূরা আলে ইমরান: ১১৯]

তাছাড়া তুমি তোমার যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা আরো বাড়িয়ে নিয়ে, ভুল-ত্রুটিগুলো শোধরে নিয়ে তাদের মুখে কুলুপ এঁটে দিতে পারো। তবে একটি কথা মনে রেখো, তুমি যদি গোটা পৃথিবীর সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে চাও; তাহলে সেটি অসম্ভব কল্পনা বৈ কিছু নয়।

📘 তুমিও পারবে 📄 কারো ধন্যবাদের আশায় থেকো না

📄 কারো ধন্যবাদের আশায় থেকো না


مَن يَفْعَلُ الْخَيْرَ لَا يَعْدِمُ جَوَازِيْهِ لَا يَذْهَبُ الْعَرْف بَيْنَ اللَّهِ وَالنَّاسِ
ভালো কাজের প্রতিদান কখনও বিনষ্ট হয় না।
আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার পরিচয় কখনও মুছে যায় না।

আল্লাহ তাঁর এবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন বান্দাদের। তাঁর শুকরিয়া আদায় করার জন্য করেছেন রিযিকের ব্যবস্থা। কিন্তু সবাই তাঁর এবাদত করে না। উল্টো তাঁর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করে অন্যকে। অধিকাংশ মানুষই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না তাঁর। অন্যায়, অস্বীকার, বাড়াবাড়ি ও নাফরমানীর প্রবণতা বেশিরভাগ মানুষের মাঝেই প্রবল। তাই তুমি যখন দেখবে যে, মানুষ ভুলে গেছে তোমার কৃপা, অস্বীকার করছে তোমার দয়া, অবজ্ঞা করছে তোমার সদাচরণ, শত্রুতার মাধ্যমে প্রতিদান দিচ্ছে তোমার অনুগ্রহের, তখন তুমি হয়ো না হতাশ কিংবা পেরেশান। করো না মন খারাপ। কারণ, মানুষ যে এমনই।

আল্লাহ ও তার রাসুল নিজ গুণে তাদেরকে সম্পদশালী করে দিয়েছেন- এ ছাড়া তাদের অসন্তুষ্টির আর কোনো কারণ নেই। [সূরা তওবা: ৭৪]

পৃথিবীর ইতিহাস তোমার সামনেই। পড়ে দেখো। এর পাতায় পাতায় সেই পিতার কাহিনী বর্ণিত আছে, যিনি তার সন্তানকে লালন পালন করেছেন সযতনে। ব্যবস্থা করেছেন তার উত্তম শিক্ষা-দীক্ষার। নিজে না খেয়ে খাইয়েছেন তাকে। তার শান্তির জন্য করেছেন কঠোর পরিশ্রম। কিন্তু এ সন্তানই যখন বড় হয়েছে, হয়েছে সামর্থ্যবান, তখন সে-ই তার পিতার জন্য মহা বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবাধ্যতা, অবজ্ঞা, অসম্মান ও ঘৃণার মাধ্যমে প্রতিদান দিয়েছে তার কষ্টের। পিতার জন্য সে পরিণত হয়েছে সাক্ষাত এক আযাবে।

সুতরাং, যে নির্বোধেরা ভুলে গেছে তাদের প্রতি তোমার দয়া ও অনুগ্রহের কথা, উল্টো অকৃতজ্ঞতার আঘাতে তোমাকে করেছে জর্জরিত, তাদের প্রতি তুমি মন খারাপ করো না। বরং তোমার জন্য আনন্দের সংবাদ হলো- তুমি পুরষ্কার পাবে এমন সত্তার কাছ থেকে যার ভান্ডার কখনও শেষ হবার নয়।

আমি একথা বলব না যে, তুমি মানুষের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহের হাত সংকুচিত করে নাও। সদাচরণ পরিত্যাগ করো। বরং আমি বলবো, তুমি তাদের অকৃতজ্ঞতার জন্য প্রস্তুত থাকো। কৃতঘ্নের কৃতঘ্নতায় হয়ো না হতাশ। একমাত্র আল্লাহ -র সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই করে যাও ভালো কাজ। তাহলেই তুমি হতে পারবে সর্ব ক্ষেত্রে সফল। কারও অকৃতজ্ঞতায় কোনো ক্ষতি হবে না তোমার। তুমি অনুগ্রহকারী হবে। তোমার হাত উঁচু হবে; যা নীচের হাত থেকে উত্তম।

﴿إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنْكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا﴾
আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তোমাদেরকে আহার্য দান করি এবং তোমাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা কামনা করি না। [সূরা দাহর : ৯]

কখনও কখনও অনেক জ্ঞানী ব্যক্তিরাও মানুষের অকৃতজ্ঞ স্বভাবের কথা ভুলে যান। যেন তারা অকৃতজ্ঞতা সম্পর্কে আল্লাহ -র এ বাণী কখনও শোনেননি-

﴿وَإِذَا مَسَّ الْإِنْسَانَ الضُّرُّ دَعَانَا لِجَنْبِةٍ أَوْ قَاعِدًا أَوْ قَائِمًا فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُ ضُرَّةً مَرَّكَانُ لَمْ يَدْعُنَا إِلَى ضُرِّ مَسَّهُ كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْمُسْرِفِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴾
আর যখন মানুষ কষ্টের সম্মুখীন হয়, তখন শুয়ে, বসে, দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। তারপর আমি যখন তা থেকে মুক্ত করে দিই, সে কষ্ট যখন চলে যায়, তখন সে এমন পথ অবলম্বন করে, যেন তাকে যে দুখ-দুর্দশা স্পর্শ করেছিল, তার জন্য সে কোনোদিন আমাকে ডাকেইনি। এভাবেই সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য তাদের কৃতকর্মকে সুসজ্জিত করে দেওয়া হয়েছে। [সূরা ইউনুস : ১২]

ধরো, তুমি কাউকে একটি কলম উপহার দিলে। আর সে ওই কলম দিয়ে তোমার বিরুদ্ধে লিখতে শুরু করল। কিংবা তুমি কাউকে ভর দিয়ে হাঁটার জন্য একটি লাঠি দিলে। আর সে ওই লাঠি দিয়েই ফাটিয়ে দিলো তোমার মাথা। তা হলেও তুমি রাগ করো না। মানুষ তো এমনই। অধিকাংশ মানুষই যখন তাদের মহান প্রতিপালকের প্রতিই অকৃতজ্ঞ তখন আমি আর তুমি তাদের কাছ থেকে কী-ই বা আশা করতে পারি?

ফন্ট সাইজ
15px
17px