📘 তুমিও পারবে 📄 অতীত নিয়ে ভেবো না সে আর আসবে না

📄 অতীত নিয়ে ভেবো না সে আর আসবে না


অতীত নিয়ে পড়ে থাকা বোকামী। বিগত দিনের দুঃখ, কষ্ট, যাতনা ও দূর্ঘটনাকে মনে করে অনুশোচনার আগুনে পোড়া পাগলামি। এগুলো তোমার সংকল্পকে করবে দুর্বল। বর্তমানকে করবে হতাশাপূর্ণ। জীবনকে করবে সংকীর্ণ। এক্ষেত্রে জ্ঞানীদের বাণী হলো- ভুলে যাও অতীতকে। গুটিয়ে রাখো অতীতের ডায়রী। ভুলেও যেন খুলে দেখো না তাকে। কেননা, সেগুলো তলিয়ে গেছে বিস্মৃতির অতলে। তোমার কাছে তা আর আসবে না ফিরে। তোমার দুঃখ পারবে না সেগুলোর ক্ষতি পোষাতে। তোমার বিষণ্ণতা পারবে না সেগুলোকে শোধরাতে। কারণ, অতীত মানে বিলীন; অতীত মানেই অস্তিত্বহীন।

অতীত নিয়ে বিভোর থাকা একটি রোগ। এ রোগ যেন কখনও তোমায় পেয়ে না বসে। যা হারিয়েছো তার জন্য মিছে আশা করো না। কারণ, তুমি কী পারবে সমুদ্রকে তার উৎসের কাছে, সূর্যকে তার উদয়স্থলে, শিশুকে তার মায়ের গর্ভে, দুধকে তার স্তনে এবং অশ্রুকে চোখের মাঝে ফিরিয়ে দিতে?

অতীতকে আঁকড়ে পড়ে থাকা, অতীত নিয়ে অনবরত ভেবে ভেবে নিজেকে কষ্ট দেওয়া মানে নিজের বর্তমানকে ধ্বংস করা। এটি মূল্যবান সময়ের মহা অপচয়ও বটে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ অতীতের বিভিন্ন সম্প্রদায় ও তাদের কার্যকলাপের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন-

تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ
তারা ছিল এক সম্প্রদায় যারা গত হয়ে গেছে। [সূরা বাকারা: ১৩৪]

অতীতের পেছনে পড়ে থেকে কী লাভ বলো? চলে যাওয়া দিনগুলোর কথা ভেবে তুমি কী পাবে শুনি? অতীত নিয়ে সারাক্ষণ যে পড়ে থাকে সে ওই ব্যক্তির ন্যায়, যে পেষাইকৃত আটাকে চায় আবার পিষতে। কিংবা চেরা লাকড়িকে চায় আবার চিরতে। অতীত নিয়ে যারা হাপিত্যেশ করছে, হারানো দিনের কথা ভেবে যারা কেঁদে বুক ভাসাচ্ছে, তাদের সম্পর্কে পূর্ববর্তীগণ বলেছেন, ‘মৃতদেরকে তোমরা কবর থেকে বের করে এনো না।’

দুঃখজনক হলেও সত্য যে বর্তমানের সাথে আমাদের সম্পর্ক ততোটা নিবিড় নয়। অথচ অতীতের সঙ্গে আমরা জড়িয়ে আছি আষ্টেপৃষ্ঠে। বর্তমানের সুরম্য প্রাসাদ ফেলে আমরা অতীতের ধ্বংস দালানকোঠার জন্য কেঁদে মরছি। অথচ জীন-ইনসান সবাই মিলে সর্বশক্তি ব্যয় করেও পারবে না ফিরিয়ে আনতে অতীতকে।

জগতের সবকিছুই এগিয়ে চলে। বাতাস সামনের দিকে বয়ে যায়। পানি সম্মুখ পানে প্রবাহিত হয়। কাফেলা এগিয়ে চলে- এই তো জীবনের ধারা। তাহলে তুমি কেন চলবে পেছন পানে?

📘 তুমিও পারবে 📄 শুধু আজকের দিনটিই তোমার

📄 শুধু আজকের দিনটিই তোমার


সকালে জেগে ওঠার পর সন্ধ্যার আশা করো না। তোমার দৃষ্টি কেবল 'এখন'এর দিকেই রাখো। ভেবো না গতকালের কথাও। আর ভবিষ্যৎ- সে তো 'বহুত দূর কি বাত হ্যায়'। আজকের সূর্য তুমি দেখতে পেয়েছো। মনে করো তোমার জীবনকাল কেবল একটি দিন, আর তা আজই। যেন আজই জন্ম হয়েছে তোমার এবং আজই মারা যাবে তুমি। তাহলে দেখবে অতীত তোমাকে পিছু টানবে না। ভবিষ্যতের আশা-নিরাশার দোলাচল তোমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলবে না।

তোমার মেধা ও যোগ্যতার পুরোটা, তোমার মনোযোগের সবটুকু কেবল আজকের জন্য ব্যয় করো। নিশ্চিদ্র একাগ্রতার সাথে আদায় করো আজকের সালাত।

একাগ্রচিত্তে তেলাওয়াত করো পবিত্র কোরআন। বোঝার চেষ্টা করো তার অর্থ। আল্লাহ ﷺ-কে সবসময় স্মরণে রাখো। কাজকারবারে ভারসাম্যতা রক্ষা করো। প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানোর জন্য দিনের সময়গুলোকে ভাগ করে নাও। প্রতিটি মিনিটকে মনে করো একটি বছর। সেকেন্ডকে মনে করো মাস। কল্যাণের চারাগাছ বপন করো। মানুষের প্রতি দয়া করো। আল্লাহ ﷻ-র কাছে কৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা চাও। পরকালের প্রস্তুতি নাও। দেখবে, এভাবে তোমার দিনটি হবে আনন্দময়। তুমি থাকবে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও বিষণ্ণতা থেকে মুক্ত।

﴿فَخُذْ مَا آتَيْتُكَ وَكُنْ مِنَ الشَّكِرِينَ ﴾
অতএব, আমি তোমাকে কিছু দান করলাম, তা গ্রহণ করো এবং কৃতজ্ঞ থাকো। [সূরা আ'রাফ: ১৪۴]

হৃদয়ের ডায়রীতে এ কথাটি লিখে রাখো- আজকের দিনটিই কেবল আমার। চাইলে ঘর কিংবা অফিসেও লিখে রাখতে পারো কথাটি।

তুমি যদি আজ টাটকা ও সুস্বাদু খাবার পেয়ে থাকো, তাহলে গতকালের বাসি খাবার কেন খাবে? আগামীকালের অনিশ্চিত খাবার নিয়ে কেন হবে পেরেশান? আজ যখন শীতল ও মিষ্টি পানি পান করে তৃষ্ণা জুড়াতে পারছো, তখন গতকালের লোনা পানির কথা ভেবে কেন বিষণ্ণ হচ্ছো? আগামীকালে অনিশ্চিত পানি নিয়ে কেনই বা দুশ্চিন্তা করছো?

তোমার সংকল্প যদি হয় স্থির, মনোবল যদি হয় সুদৃঢ়, তাহলে তুমি নিজেকে নিজে বলো যে- আমি শুধু আজকের দিনটিই বেঁচে থাকবো। তখন দেখবে, তোমার ব্যক্তিত্বে উন্নতি এসেছে, তোমার কর্মদক্ষতা বহুগুণে বেড়ে গেছে এবং দিনের প্রতিটি মুহূর্ত তোমার কাজে লেগেছে। এবার তুমি নিজেকে সম্বোধন করে বলো-আজ আমি পরিশুদ্ধ করবো আমার কথাবর্তা। বলবো না কোনো মন্দ কথা। দেবো না কাউকে গালি। করবো না কারও দোষচর্চা।

আজ আমি গোছাবো আমার ঘর। সাজাবো আমার অফিস। কিছুই রাখবো না এলোমেলো। সবই রাখবো পরিপাটি।

আজ আমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবো। বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতিও হবো মনোযোগী। কথাবার্তা করবো মার্জিত। আচার-আচরণে আনবো ভারসাম্য।

আজ আমি আনুগত্য করবো আমার প্রভুর। বিশুদ্ধভাবে আদায় করবো সালাত। তেলাওয়াত করবো পবিত্র কোরআন। পড়বো উপকারী বই-পুস্তক। আজই যেহেতু জীবনের শেষ দিন, তাই হৃদয়ে বপন করবো ভালো কাজের বীজ। মুছে ফেলবো অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ, কপটতা ও মোনাফেকির শেষচিহ্নটুকু।

যেহেতু কেবল আজকে ঘিরেই আমার জীবন, তাই এই স্বল্প সময়ে যথাসম্ভব মানুষের উপকার করবো। সবার সাথে উত্তম আচরণ করবো। রোগীর সেবা করবো। জানাযার শরিক হবো। পথহারাদের পথ দেখাবো। ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়াবো। দুর্দশাগ্রস্তের কষ্ট লাঘব করবো। মজলুমের পাশে দাঁড়াবো। দুর্বলকে সাহায্য করবো। দুশ্চিন্তাগ্রস্তের দুশ্চিন্তা দূর করবো। আলেমকে সম্মান করবো। অসহায়কে দয়া করবো। বড়দের শ্রদ্ধা করবো।

আমি শুধু আজই বেঁচে থাকবো। হে অতীত! তুমি তোমার সূর্যের ন্যায় ডুবে যাও। তাই, আমি তোমাকে নিয়ে কাঁদবো না। এক মুহূর্তের জন্যেও তোমায় স্মরণ করবো না। কারণ, তুমিতো বিদায় নিয়ে চলে গেছো বহুদূরে। না ফেরার দেশে।

হে ভবিষ্যত! তুমি তো এখনও অজ্ঞাত, অদৃশ্য। তোমার কল্পনায় আমি বিভোর হবো না। যা এখনও অস্তিত্বেই আসেনি, তার পেছনে আমি পড়ব না।

হে মানুষ, সৌভাগ্যের অভিধানের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট কথা হলো- ‘তোমার জন্য কেবল আজকের দিন’।

কথাটি যে তার মনের গভীরে গেঁথে রাখে, জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ সেই পূর্ণরূপে উপভোগ করতে পারে।

📘 তুমিও পারবে 📄 আগামী নিয়ে নয় আগাম দুশ্চিন্তা

📄 আগামী নিয়ে নয় আগাম দুশ্চিন্তা


أَتَى أَمْرُ اللَّهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ * আল্লাহর আদেশ আসবেই, অতএব তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করো না। [সূরা নাহল: ১]

আগামী নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ো না। করো না তাড়াহুড়া। মনে রেখো, যা হবার তা যথাসময়েই হবে। সময়ের আগেই বাচ্চার জন্ম কামনা করা, পরিপক্ক হবার আগেই ফল ছিঁড়ে ফেলা- কোনোটিই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

আগামীকাল এক অদৃশ্য অস্তিত্বহীন বিষয়। যার রূপ, রস, গন্ধ কিছুই নেই। তা হলে আগামীর বিপর্যয় নিয়ে তোমার কেন এতো শঙ্কা? ভবিষ্যতের দুর্ভাবনায় কেন তুমি বিভোর? ভবিষ্যত কি আদৌ তোমার জীবনে আসবে? এলেও বা কেমন হবে তা- একথা জানা নেই কারোরই। সবচেয়ে বড় কথা হলো- ভবিষ্যত অদৃশ্য জগতের এমন এক সেতু, যা আমাদের সামনে না আসা পর্যন্ত আমরা তা পার হতে পারবো না। কে জানে, আমরা হয়তো পারবো না সেই সেতুর কাছে পৌঁছতে। কিংবা কাছে পৌঁছার আগেই হয়তো তা হয়ে যাবে ধ্বংস। কিংবা হতে পারে, আমরা সেই সেতুর কাছে পৌঁছতে পারবো এবং পারবো নিরাপদে তা অতিক্রম করতে।

ভবিষ্যতের আশঙ্কায় মানসিক যন্ত্রণার বেড়াজালে বন্দি হওয়া, অদৃশ্যের কিতাব খুলে সম্ভাব্য কষ্টের কথা ভেবে হা-হুতাশ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। কেননা, তা পৃথিবীর সাথে আমাদের সুদীর্ঘ সম্পর্ক কায়েমের কথা মনে করিয়ে দেয়। এটা প্রবৃত্তির প্রতারণা বৈ কিছু নয়। যুক্তির বিবেচনায়ও এটা নিন্দনীয়। কারণ, এ হচ্ছে ছায়ার সাথে লড়াই। জগতের বহু মানুষ ভবিষ্যত দূর্যোগ-দূর্বিপাক, রোগ-বালাই ও বিপদ-আপদের ভয়ে শঙ্কিত। এসবই শয়তানের কুমন্ত্রণা।

الشَّيْطَنُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ ۚ وَاللَّهُ يَعِدُكُمْ مَّغْفِرَةٌ مِّنْهُ وَفَضْلا
শয়তান তোমাদেরকে অভাব-অনটনের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অধিক অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। [সূরা বাকারা: ২৬৮]

বহু মানুষ এমন রয়েছে, যারা আগামীকাল ক্ষুধার্ত থাকবে, একবছর পর অসুস্থ হয়ে যাবে, একশ বছর পর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে- এসব কথা ভেবে আজ কান্না করে। যার জীবনটাই রয়েছে অন্যের হাতে। যে নিজেই জানে না কখন তার সময় ফুরিয়ে যাবে। ভবিষ্যত নিয়ে এসব ভাবনা সে ভাবে কী করে! আগামীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কিভাবে তাকে আষ্টেপৃষ্টে ধরে!

অতএব, আগামী নিয়ে দুশ্চিন্তা করো না। তাকে আসতে দাও। আগামীতে ভালো-মন্দ কী ঘটবে তা অনুসন্ধান করতে যেও না। কারণ, তোমার 'আজ'-ই তো এখনও পূর্ণ হয়নি।

আশ্চর্য! মানুষ আগামীর ভাবনাকে নগদ গ্রহণ করছে! সেকি এটা পরিশোধ করবে সেই দিন, যে দিনের সূর্য ওঠেনি এখনও? সাবধান! দীর্ঘ আশা পরিত্যাগ করো।

📘 তুমিও পারবে 📄 কারো নিন্দা-সমালোচনায় কষ্ট নিও না

📄 কারো নিন্দা-সমালোচনায় কষ্ট নিও না


এই জগত সংসারে এমন কিছু মুর্খ রয়েছে যারা আল্লাহ -কেও গালমন্দ করে। তাই কেউ যদি তোমাকে গালমন্দ দেয় কিংবা সমালোচনার আঘাতে তোমাকে ক্ষতবিক্ষত করে, তা হলে কষ্ট নিও না। বরং নিজেকে এই বলে প্রবোধ দাও যে, কিছু মানুষ যখন আল্লাহ -র ক্ষেত্রেও এরূপ ধৃষ্টতা দেখাতে পেরেছে, অথচ তিনি আমাদের মহান স্রষ্টা, পরমপ্রিয় প্রভু। আমাদের একমাত্র মাবুদ ও রিযিকদাতা। তা হলে তোমার আমার ব্যাপারটা তো নিতান্তই গৌণ।

আমাদের জীবন ভুলে ভরা। পাপে পূর্ণ। মানুষ আমাদের নিন্দা- সমালোচনা করতেই পারে। এক্ষেত্রে আমাদের কাজ হলো ধৈর্য ধারণ করা।

মনে রেখো, তুমি যখনই উন্নতি করবে, অন্যের প্রতি দানের হাত প্রসারিত করবে, নিজেকে বিকশিত করবে, অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার করবে, তখনই মানুষ তোমার সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠবে। আর সমালোচনার এ ঝড় অবিরাম বইতেই থাকবে। এ থেকে বাঁচতে হলে তোমাকে মাটির নিচে কোনো গর্তে ঢুকে যেতে হবে কিংবা পাড়ি জমাতে হবে সুদূর আকাশে। যেন নিন্দুক ও সমালোচকের দৃষ্টি খুঁজে না পায় তোমায়। মানব সমাজে যতদিন তুমি বসবাস করবে, ততদিন কষ্ট তোমার সঙ্গী থাকবে। চোখ তোমার অশ্রু ঝরাবে।

حَسَدُوا الفتى إذ لم ينالوا سعيه فالناس أعداء له خصوم
উৎকর্ষতায় যে তাদেরকে ছাড়িয়ে গেছে, তাকে নিয়ে তারা হিংসা করে, তার প্রতি তারা শত্রুতা পোষণ করে। তার বিরোধিতা করে। মনে রেখো, মাটিতে বসে থাকা ব্যক্তি কখনও মাটিতে পড়ে যায় না। ঘোড়সওয়ারীই চষে বেড়াতে পারে যুদ্ধের ময়দান।

তুমি বিদ্যা-বুদ্ধিতে, উন্নতি-উৎকর্ষতায়, আচার-আচরণে ও ধন-সম্পদে তাদেরকে ছাড়িয়ে গেছো বলেই তারা তোমার উপর এতো রুষ্ট। তুমি যতক্ষণ না প্রশংসনীয় এসব গুণাবলি থেকে নিজেকে মুক্ত করছো, যতক্ষণ না আল্লাহ প্রদত্ত এ নেয়ামতগুলো তোমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে, যতক্ষণ না তুমি নির্বোধ, অথর্ব, অপদার্থে পরিণত হচ্ছো, ততক্ষণ তারা তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে জি। তারা যে এটাই চায়। তাই, নিন্দা, সমালোচনার আঘাত তোমাকে সইতেই হবে।

উহুদ পাহাড়ের মতো সুদৃঢ় হও তুমি। হও এমন শক্ত পাথরের ন্যায়, শিলার আঘাতও পারে না যাকে টলাতে। বরং আঘাতকারী শিলাই হয়ে যায় বিচূর্ণ। মনে রেখো, তুমি যদি মর্মাহত হও তাদের নিন্দায়, ভেঙে পড়ো তাদের সমালোচনায়, তাহলে ব্যর্থ হবে তুমি আর সফল হবে তারা। কারণ, তারা এটাই চেয়েছিল যে, তুমি ক্রুদ্ধ হয়ে দমে যাও, ব্যথিত হয়ে হারাও মনোবল।

অতএব, তুমি তাদের কথা কানে তুলো না। সাবধানে এড়িয়ে যাও তাদের।

إِذَا مَحَاسِنِي اللائِي أُدِلُّ بها كَانَتْ ذُنُوبِي فَقُلْ لِي كَيفَ أعتذر؟!
আচারিক সৌন্দর্যই যদি হয় আমার পাপ হয়ে, তা হলে দয়া করে বলো, আমি কিভাবে করবো এর ক্ষতিপূরণ?

মনে রেখো, মানুষের মাঝে তোমার মর্যাদা যত বাড়বে, সমাজের বুকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তোমার প্রভাব যতটা প্রতিষ্ঠা পাবে, নিন্দুকদের নিন্দা, সমালোচকের সমালোচনা ততই বৃদ্ধি পেতে থাকবে। ক'জনার মুখ বন্ধ করতে পারবে তুমি? তাই তাদেরকে থাকতে দাও তাদের মতোই। সাবধানে এড়িয়ে চলো তাদের। তা হলেই পারবে তাদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে।

* قُلْ مُوْتُوا بِغَيْظِكُمْ
তুমি বলে দাও, তোমরা তোমাদের আক্রোশেই মরতে থাকো। [সূরা আলে ইমরান: ১১৯]

তাছাড়া তুমি তোমার যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা আরো বাড়িয়ে নিয়ে, ভুল-ত্রুটিগুলো শোধরে নিয়ে তাদের মুখে কুলুপ এঁটে দিতে পারো। তবে একটি কথা মনে রেখো, তুমি যদি গোটা পৃথিবীর সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে চাও; তাহলে সেটি অসম্ভব কল্পনা বৈ কিছু নয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px