📄 একটু ভাবো ও কৃতজ্ঞ হও
মাঝে মাঝে তোমার প্রতি আল্লাহ-র দেওয়া অপার নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, দেখবে তাঁর অসংখ্য নেয়ামতরাজি কিভাবে বেষ্টন করে রেখেছে তোমার আপাদমস্তক।
وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَتَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا
তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামতসমূহকে গণনা করতে শুরু করো, তা হলে তা কখনোই গুণে শেষ করতে পারবে না। [সূরা ইবরাহীম : ৩৪]
তিনি তোমাকে দৈহিক সুস্থতা দিয়েছেন। দিয়েছেন খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের নিরাপত্তা। গোটা দুনিয়াটাকেই তিনি নিয়োজিত রেখেছেন তোমার খেদমতে। অথচ তুমি তা পারছো না বুঝতে। পূর্ণ একটা জীবনের মালিকানা দিয়েছেন তিনি তোমায়, কিন্তু তুমি পারছো না তা অনুভব করতে।
وَ اسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً
তিনি তোমাদের উপর তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করে দিয়েছেন। [সূরা লোকমান: ২০]
তোমার আছে দুটি চোখ, একটি জিহ্বা, দুটি ঠোঁট, দুটি হাত এবং দুটি পা।
فَبِأَيِّ الَآءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبُنِ ﴾
অতএব তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অনুগ্রহকে অস্বীকার করবে? [সূরা আর রহমান: ১৩]
হতে পারে এটি তোমার কাছে খুবই সাধারণ বিষয় যে, আল্লাহ তোমাকে দু'টো পা দিয়েছেন। তুমি তাতে ভর দিয়ে চলাফেরা করতে পারো অনায়াসে। অথচ এমন বহু মানুষ রয়েছে যাদের একটি পাও নেই। কিংবা একদা ছিল। কিন্তু কোনো কারণে তা কেটে ফেলা হয়েছে।
তোমার কি মনে হয় তুমি এর উপযুক্ত যে, রাতের বেলা গভীর ঘুমে তুমি অচেতন থাকবে, অথচ এমন বহু মানুষ রয়েছে দুঃখ-যাতনা কেড়ে নিয়েছে যাদের নিদ্রাসুখ।
এই যে তুমি কতো সুস্বাদু খাবার পেট পুরে খাচ্ছো, শীতল পানি পান করে তৃষ্ণা জুড়াচ্ছো। কখনও কী ভেবে দেখেছো, কতো মানুষ রয়েছে যাদের দিনরাত কেটে যায় না খেয়ে; কতজনার সামনে নানারকম মজাদার খাবার ও সুপেয় পানীয় থাকা সত্ত্বেও রোগ-বালাইয়ের আতিশয্য তাকে তা খেতে দিচ্ছে না।
তুমি তোমার চোখ-কান নিয়ে ভাবো, তুমি অন্ধ নও, সবকিছু দেখতে পাও। তুমি বধির নও, সবকিছু শুনতে পাও।
তুমি একবার তোমার ত্বকের দিকে তাকাও, দেখো তা কুষ্ঠ, শ্বেত ও নানাবিধ চর্মরোগ থেকে মুক্ত। তুমি তোমার বিবেক নিয়ে একটু ভাবো, তুমি পাগল নও। পূর্ণ সুস্থ একজন মানুষ। মানসিক কোনো ব্যাধি তোমার নেই।
তুমি কি রাজি আছো উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণের বিনিময়ে তোমার চোখ দুটো বিক্রি করতে?
তুমি কি রাজি আছো, পাহাড়সম রূপার বিনিময়ে তোমার শ্রবণশক্তি বিক্রি করতে?
তুমি কি মেনে নেবে, তোমার জিহ্বার বিনিময়ে বিশাল অট্টালিকা গ্রহণ করে বোবা হয়ে যেতে?
তুমি কি রাজি আছো মূল্যবান মণি-মুক্তার বিনিময়ে তোমার হাত দু'টো বিক্রি করে দিতে?
একটুখানি ভাবো, কি বিপুল নেয়ামতের মাঝে ডুবে আছো তুমি! কত অনুগ্রহ লাভে ধন্য হয়েছো তুমি। এতদসত্ত্বেও হতাশা ও বিষণ্ণতার কারাগারে বন্দি থাকছো তুমি।
তুমি যথাসময়ে টাটকা খাবার খাচ্ছো। শীতল পানি পান করছো। দৈহিক সুস্থতা অনুভব করছো। শান্তিতে ঘুমাতে পারছো। তথাপি তুমি হচ্ছো পেরেশান। দুশ্চিন্তাকে দিচ্ছো অন্তরে স্থান। তোমার যা নেই কিংবা যা হারিয়ে গেছে তা নিয়ে ভাবছো। যা আছে তার কৃতজ্ঞতা আদায় করছো না। সামান্য আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েই বিব্রত হচ্ছো। অথচ বহু কল্যাণের চাবিকাঠিই রয়েছে তোমার হাতে ন্যস্ত। সেগুলোর কথা একটু ভাবো। হও আল্লাহ-র প্রতি কৃতজ্ঞ।
وَفِي أَنفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ
আর তোমাদের নিজেদের মধ্যেও (আমার নিদর্শন) রয়েছে, তোমরা কি তা অনুধাবন করো না? [সূরা যারিয়াত: ২১]
তুমি তোমার নিজের কথা, পরিবার-পরিজনের কথা ভাবো। চিন্তা করো তোমার কাজকর্ম, বন্ধু-বান্ধব ও চারপাশের পৃথিবীর নিয়ে।
يَعْرِفُونَ نِعْمَتَ اللَّهِ ثُمَّ يُنْكِرُونَهَا
তারা আল্লাহর নেয়ামত অনুধাবন করতে পারে, তারপরও তারা তা অস্বীকার করে। তাদের অধিকাংশই কাফের। [সূরা নাহল: ৮৩]
📄 অতীত নিয়ে ভেবো না সে আর আসবে না
অতীত নিয়ে পড়ে থাকা বোকামী। বিগত দিনের দুঃখ, কষ্ট, যাতনা ও দূর্ঘটনাকে মনে করে অনুশোচনার আগুনে পোড়া পাগলামি। এগুলো তোমার সংকল্পকে করবে দুর্বল। বর্তমানকে করবে হতাশাপূর্ণ। জীবনকে করবে সংকীর্ণ। এক্ষেত্রে জ্ঞানীদের বাণী হলো- ভুলে যাও অতীতকে। গুটিয়ে রাখো অতীতের ডায়রী। ভুলেও যেন খুলে দেখো না তাকে। কেননা, সেগুলো তলিয়ে গেছে বিস্মৃতির অতলে। তোমার কাছে তা আর আসবে না ফিরে। তোমার দুঃখ পারবে না সেগুলোর ক্ষতি পোষাতে। তোমার বিষণ্ণতা পারবে না সেগুলোকে শোধরাতে। কারণ, অতীত মানে বিলীন; অতীত মানেই অস্তিত্বহীন।
অতীত নিয়ে বিভোর থাকা একটি রোগ। এ রোগ যেন কখনও তোমায় পেয়ে না বসে। যা হারিয়েছো তার জন্য মিছে আশা করো না। কারণ, তুমি কী পারবে সমুদ্রকে তার উৎসের কাছে, সূর্যকে তার উদয়স্থলে, শিশুকে তার মায়ের গর্ভে, দুধকে তার স্তনে এবং অশ্রুকে চোখের মাঝে ফিরিয়ে দিতে?
অতীতকে আঁকড়ে পড়ে থাকা, অতীত নিয়ে অনবরত ভেবে ভেবে নিজেকে কষ্ট দেওয়া মানে নিজের বর্তমানকে ধ্বংস করা। এটি মূল্যবান সময়ের মহা অপচয়ও বটে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ অতীতের বিভিন্ন সম্প্রদায় ও তাদের কার্যকলাপের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন-
تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ
তারা ছিল এক সম্প্রদায় যারা গত হয়ে গেছে। [সূরা বাকারা: ১৩৪]
অতীতের পেছনে পড়ে থেকে কী লাভ বলো? চলে যাওয়া দিনগুলোর কথা ভেবে তুমি কী পাবে শুনি? অতীত নিয়ে সারাক্ষণ যে পড়ে থাকে সে ওই ব্যক্তির ন্যায়, যে পেষাইকৃত আটাকে চায় আবার পিষতে। কিংবা চেরা লাকড়িকে চায় আবার চিরতে। অতীত নিয়ে যারা হাপিত্যেশ করছে, হারানো দিনের কথা ভেবে যারা কেঁদে বুক ভাসাচ্ছে, তাদের সম্পর্কে পূর্ববর্তীগণ বলেছেন, ‘মৃতদেরকে তোমরা কবর থেকে বের করে এনো না।’
দুঃখজনক হলেও সত্য যে বর্তমানের সাথে আমাদের সম্পর্ক ততোটা নিবিড় নয়। অথচ অতীতের সঙ্গে আমরা জড়িয়ে আছি আষ্টেপৃষ্ঠে। বর্তমানের সুরম্য প্রাসাদ ফেলে আমরা অতীতের ধ্বংস দালানকোঠার জন্য কেঁদে মরছি। অথচ জীন-ইনসান সবাই মিলে সর্বশক্তি ব্যয় করেও পারবে না ফিরিয়ে আনতে অতীতকে।
জগতের সবকিছুই এগিয়ে চলে। বাতাস সামনের দিকে বয়ে যায়। পানি সম্মুখ পানে প্রবাহিত হয়। কাফেলা এগিয়ে চলে- এই তো জীবনের ধারা। তাহলে তুমি কেন চলবে পেছন পানে?
📄 শুধু আজকের দিনটিই তোমার
সকালে জেগে ওঠার পর সন্ধ্যার আশা করো না। তোমার দৃষ্টি কেবল 'এখন'এর দিকেই রাখো। ভেবো না গতকালের কথাও। আর ভবিষ্যৎ- সে তো 'বহুত দূর কি বাত হ্যায়'। আজকের সূর্য তুমি দেখতে পেয়েছো। মনে করো তোমার জীবনকাল কেবল একটি দিন, আর তা আজই। যেন আজই জন্ম হয়েছে তোমার এবং আজই মারা যাবে তুমি। তাহলে দেখবে অতীত তোমাকে পিছু টানবে না। ভবিষ্যতের আশা-নিরাশার দোলাচল তোমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলবে না।
তোমার মেধা ও যোগ্যতার পুরোটা, তোমার মনোযোগের সবটুকু কেবল আজকের জন্য ব্যয় করো। নিশ্চিদ্র একাগ্রতার সাথে আদায় করো আজকের সালাত।
একাগ্রচিত্তে তেলাওয়াত করো পবিত্র কোরআন। বোঝার চেষ্টা করো তার অর্থ। আল্লাহ ﷺ-কে সবসময় স্মরণে রাখো। কাজকারবারে ভারসাম্যতা রক্ষা করো। প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানোর জন্য দিনের সময়গুলোকে ভাগ করে নাও। প্রতিটি মিনিটকে মনে করো একটি বছর। সেকেন্ডকে মনে করো মাস। কল্যাণের চারাগাছ বপন করো। মানুষের প্রতি দয়া করো। আল্লাহ ﷻ-র কাছে কৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা চাও। পরকালের প্রস্তুতি নাও। দেখবে, এভাবে তোমার দিনটি হবে আনন্দময়। তুমি থাকবে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও বিষণ্ণতা থেকে মুক্ত।
﴿فَخُذْ مَا آتَيْتُكَ وَكُنْ مِنَ الشَّكِرِينَ ﴾
অতএব, আমি তোমাকে কিছু দান করলাম, তা গ্রহণ করো এবং কৃতজ্ঞ থাকো। [সূরা আ'রাফ: ১৪۴]
হৃদয়ের ডায়রীতে এ কথাটি লিখে রাখো- আজকের দিনটিই কেবল আমার। চাইলে ঘর কিংবা অফিসেও লিখে রাখতে পারো কথাটি।
তুমি যদি আজ টাটকা ও সুস্বাদু খাবার পেয়ে থাকো, তাহলে গতকালের বাসি খাবার কেন খাবে? আগামীকালের অনিশ্চিত খাবার নিয়ে কেন হবে পেরেশান? আজ যখন শীতল ও মিষ্টি পানি পান করে তৃষ্ণা জুড়াতে পারছো, তখন গতকালের লোনা পানির কথা ভেবে কেন বিষণ্ণ হচ্ছো? আগামীকালে অনিশ্চিত পানি নিয়ে কেনই বা দুশ্চিন্তা করছো?
তোমার সংকল্প যদি হয় স্থির, মনোবল যদি হয় সুদৃঢ়, তাহলে তুমি নিজেকে নিজে বলো যে- আমি শুধু আজকের দিনটিই বেঁচে থাকবো। তখন দেখবে, তোমার ব্যক্তিত্বে উন্নতি এসেছে, তোমার কর্মদক্ষতা বহুগুণে বেড়ে গেছে এবং দিনের প্রতিটি মুহূর্ত তোমার কাজে লেগেছে। এবার তুমি নিজেকে সম্বোধন করে বলো-আজ আমি পরিশুদ্ধ করবো আমার কথাবর্তা। বলবো না কোনো মন্দ কথা। দেবো না কাউকে গালি। করবো না কারও দোষচর্চা।
আজ আমি গোছাবো আমার ঘর। সাজাবো আমার অফিস। কিছুই রাখবো না এলোমেলো। সবই রাখবো পরিপাটি।
আজ আমি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবো। বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতিও হবো মনোযোগী। কথাবার্তা করবো মার্জিত। আচার-আচরণে আনবো ভারসাম্য।
আজ আমি আনুগত্য করবো আমার প্রভুর। বিশুদ্ধভাবে আদায় করবো সালাত। তেলাওয়াত করবো পবিত্র কোরআন। পড়বো উপকারী বই-পুস্তক। আজই যেহেতু জীবনের শেষ দিন, তাই হৃদয়ে বপন করবো ভালো কাজের বীজ। মুছে ফেলবো অহংকার, হিংসা-বিদ্বেষ, কপটতা ও মোনাফেকির শেষচিহ্নটুকু।
যেহেতু কেবল আজকে ঘিরেই আমার জীবন, তাই এই স্বল্প সময়ে যথাসম্ভব মানুষের উপকার করবো। সবার সাথে উত্তম আচরণ করবো। রোগীর সেবা করবো। জানাযার শরিক হবো। পথহারাদের পথ দেখাবো। ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়াবো। দুর্দশাগ্রস্তের কষ্ট লাঘব করবো। মজলুমের পাশে দাঁড়াবো। দুর্বলকে সাহায্য করবো। দুশ্চিন্তাগ্রস্তের দুশ্চিন্তা দূর করবো। আলেমকে সম্মান করবো। অসহায়কে দয়া করবো। বড়দের শ্রদ্ধা করবো।
আমি শুধু আজই বেঁচে থাকবো। হে অতীত! তুমি তোমার সূর্যের ন্যায় ডুবে যাও। তাই, আমি তোমাকে নিয়ে কাঁদবো না। এক মুহূর্তের জন্যেও তোমায় স্মরণ করবো না। কারণ, তুমিতো বিদায় নিয়ে চলে গেছো বহুদূরে। না ফেরার দেশে।
হে ভবিষ্যত! তুমি তো এখনও অজ্ঞাত, অদৃশ্য। তোমার কল্পনায় আমি বিভোর হবো না। যা এখনও অস্তিত্বেই আসেনি, তার পেছনে আমি পড়ব না।
হে মানুষ, সৌভাগ্যের অভিধানের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট কথা হলো- ‘তোমার জন্য কেবল আজকের দিন’।
কথাটি যে তার মনের গভীরে গেঁথে রাখে, জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ সেই পূর্ণরূপে উপভোগ করতে পারে।
📄 আগামী নিয়ে নয় আগাম দুশ্চিন্তা
أَتَى أَمْرُ اللَّهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ * আল্লাহর আদেশ আসবেই, অতএব তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করো না। [সূরা নাহল: ১]
আগামী নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ো না। করো না তাড়াহুড়া। মনে রেখো, যা হবার তা যথাসময়েই হবে। সময়ের আগেই বাচ্চার জন্ম কামনা করা, পরিপক্ক হবার আগেই ফল ছিঁড়ে ফেলা- কোনোটিই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
আগামীকাল এক অদৃশ্য অস্তিত্বহীন বিষয়। যার রূপ, রস, গন্ধ কিছুই নেই। তা হলে আগামীর বিপর্যয় নিয়ে তোমার কেন এতো শঙ্কা? ভবিষ্যতের দুর্ভাবনায় কেন তুমি বিভোর? ভবিষ্যত কি আদৌ তোমার জীবনে আসবে? এলেও বা কেমন হবে তা- একথা জানা নেই কারোরই। সবচেয়ে বড় কথা হলো- ভবিষ্যত অদৃশ্য জগতের এমন এক সেতু, যা আমাদের সামনে না আসা পর্যন্ত আমরা তা পার হতে পারবো না। কে জানে, আমরা হয়তো পারবো না সেই সেতুর কাছে পৌঁছতে। কিংবা কাছে পৌঁছার আগেই হয়তো তা হয়ে যাবে ধ্বংস। কিংবা হতে পারে, আমরা সেই সেতুর কাছে পৌঁছতে পারবো এবং পারবো নিরাপদে তা অতিক্রম করতে।
ভবিষ্যতের আশঙ্কায় মানসিক যন্ত্রণার বেড়াজালে বন্দি হওয়া, অদৃশ্যের কিতাব খুলে সম্ভাব্য কষ্টের কথা ভেবে হা-হুতাশ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। কেননা, তা পৃথিবীর সাথে আমাদের সুদীর্ঘ সম্পর্ক কায়েমের কথা মনে করিয়ে দেয়। এটা প্রবৃত্তির প্রতারণা বৈ কিছু নয়। যুক্তির বিবেচনায়ও এটা নিন্দনীয়। কারণ, এ হচ্ছে ছায়ার সাথে লড়াই। জগতের বহু মানুষ ভবিষ্যত দূর্যোগ-দূর্বিপাক, রোগ-বালাই ও বিপদ-আপদের ভয়ে শঙ্কিত। এসবই শয়তানের কুমন্ত্রণা।
الشَّيْطَنُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ ۚ وَاللَّهُ يَعِدُكُمْ مَّغْفِرَةٌ مِّنْهُ وَفَضْلا
শয়তান তোমাদেরকে অভাব-অনটনের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অধিক অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। [সূরা বাকারা: ২৬৮]
বহু মানুষ এমন রয়েছে, যারা আগামীকাল ক্ষুধার্ত থাকবে, একবছর পর অসুস্থ হয়ে যাবে, একশ বছর পর পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে- এসব কথা ভেবে আজ কান্না করে। যার জীবনটাই রয়েছে অন্যের হাতে। যে নিজেই জানে না কখন তার সময় ফুরিয়ে যাবে। ভবিষ্যত নিয়ে এসব ভাবনা সে ভাবে কী করে! আগামীর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কিভাবে তাকে আষ্টেপৃষ্টে ধরে!
অতএব, আগামী নিয়ে দুশ্চিন্তা করো না। তাকে আসতে দাও। আগামীতে ভালো-মন্দ কী ঘটবে তা অনুসন্ধান করতে যেও না। কারণ, তোমার 'আজ'-ই তো এখনও পূর্ণ হয়নি।
আশ্চর্য! মানুষ আগামীর ভাবনাকে নগদ গ্রহণ করছে! সেকি এটা পরিশোধ করবে সেই দিন, যে দিনের সূর্য ওঠেনি এখনও? সাবধান! দীর্ঘ আশা পরিত্যাগ করো।