📄 আপনার সেরা সময়টা চিহ্নিত করুন
২৪ ঘণ্টা সময়ের ভেতর প্রত্যেকের একটি সময় থাকে যখন তারা সবচে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। আপনার সময়টা বের করুন (অধিকাংশের ক্ষেত্রে এটা হয় ভোরে অথবা গভীর রাতে)। আর সে সময়টাতে আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শিডিউল করুন। এতে করে আপনি কাজটিতে খুব ভালোভাবে মনযোগ দিতে পারবেন আর কাজের মানও ভালো হবে।
📄 আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজটিতে ফোকাস করুন
প্রতিদিন নিজেকে জিজ্ঞেস করুন আজকের জন্যে আপনার সবচে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কোনটি। সে কাজটি মনযোগ দিয়ে করুন এবং পারতপক্ষে দ্রুত সেরে ফেলুন। এতে করে অন্যান্য কাজের জন্যেও সময় পাবেন আবার সবচে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে ভেবে প্রশান্তিও অনুভব করবেন।
📄 হেলথ টিপস
প্রোডাক্টিভ হবার জন্য সুস্বাস্থ্য খুব জরুরি। আপনার শারীরিক, মানসিক এবং আত্মিক স্বাস্থ্যের কোথাও একটু ঘাটতি হলে সেটা আপনার প্রোডাক্টিভিটি এবং কাজে প্রভাব ফেলবে। তাই প্রোডাক্টিভ থাকতে হলে নিজের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। আমাদের দেহ আল্লাহপ্রদত্ত। তাই এর যত্ন নেওয়া আবশ্যক।
নিচের টিপসগুলো আমাদের শারীরিক, মানসিক এবং আত্মিকভাবে ফিট থাকতে সাহায্য করবে:
প্রতিদিন কুরআন পড়ুন
কুরআন আল্লাহর সাথে আমাদের সংযোগের মাধ্যম এবং সবচে বেশি অনুপ্রেরণার উৎস। প্রতিদিন বুঝেশুনে কুরআন তিলাওয়াত করার জন্য সময় বের করুন। এটা আপনার আত্মিক স্বাস্থ্যের সুষমতা এবং প্রশান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবে। ফলে আপনার প্রোডাক্টিভিটিও সচল থাকবে।
দিনের শুরুটা হোক ফজর পড়ে
ফজরের সময়টা খুব সুন্দর এবং বরকতময়। তখন পৃথিবী নিশ্চুপ এবং স্থির আর এর বারাকাহটাও চারপাশে অনুভূত হয়। ফজর পড়ার মাধ্যমে আপনার দিনটা সঠিকভাবে শুরু হয়। ঠিক সময়ে ফজর পড়লে দেখবেন আপনি সারা দিনে অনেক কিছুই করতে পারছেন। সময়ে বারাকাহ পাওয়ার জন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান
সাধারণত প্রোডাক্টিভ থাকার জন্য আমাদের গড়ে ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। এর কম হলে ঝিমানো আর বেশি হলে অলসতা কাজ করবে। আবার কারো কারো খুব বেশি ঘুমানোর প্রয়োজন হয় না। প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র এবং প্রত্যেকেই নিজের প্রয়োজন ও সীমা ভালো করে জানে। আপনার নিজের প্রতিদিন কতটুকু ঘুম দরকার, তা বের করুন এবং তাড়াতাড়ি বিছানায় যান। আপনি সারা দিন ভালো অনুভব করবেন, বেশি সক্রিয় থাকবেন এবং অবশ্যই অনেক বেশি কাজ করতে পারবেন।
পরিমিত খান
এই বিষয়ে হাদিসের বক্তব্য বেশ স্পষ্ট। অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া অলসতা সৃষ্টির অন্যতম কারণ। তাই প্রোডাক্টিভ থাকতে হলে খাওয়া-দাওয়া পরিমিত হতে হবে। সকালে স্বাস্থ্যকর খাবার, দুপুরে আর রাতে পরিমিত খাবার খান। খাবার ফাঁকে বেশি বেশি মিষ্টি খাবার এবং পানীয় খাবেন না। অনেক বেশি পরিমাণে পানি পান করবেন। এগুলো শুনতে বেশ সহজ মনে হলেও প্রোডাক্টিভিটি বজায় রাখতে এ টিপসগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রয়োজনমতো বিশ্রাম নিন
আপনার শরীর ও মন তাদের সাধ্যের ব্যাপারে অবগত। নিজের ওপর বেশি চাপ দেবেন না। ঝিমানো কিংবা ক্লান্তি নিয়ে কাজ করলে কাজের মান খারাপ হবে। প্রতি ঘণ্টায় কমপক্ষে পাঁচ মিনিটের বিশ্রাম নিন। হাত পা ছোড়াছুড়ি করুন, পানি পান করুন আর কিছুক্ষণ নিশ্বাস ছাড়ার ব্যায়াম করুন। শরীর মন চাইলে ১০-২০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ নিন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। আপনার শরীর ও মন থেকে সেরাটা পেতে চাইলে নিজেকে যথেষ্ট পরিমাণ বিশ্রাম দিতে হবে।
শান্ত থাকুন, চাপ নেবেন না
সুস্বাস্থ্যের অধিকাংশই নির্ভর করে আমরা নিজেদের কীভাবে দেখি তার ওপর। অসুস্থতা এবং আলস্যের অনেক বড় কারণ হলো দুশ্চিন্তা এবং চাপ। চাপ নিয়ন্ত্রণ বা স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আমি আলাদা একটি বই-ই লিখছি ইন শা আল্লাহ। যাই হোক, সংক্ষেপে বলতে গেলে, দুশ্চিন্তা করে, চাপ নিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না বরং তা আরও বাড়ে। তাই বিধ্বস্ত হয়ে না পড়ে সমাধানের প্রতি মনযোগ দিন। পৃথিবীটা এমনই আর সবার জীবনেই খারাপ দিন আসে, এটা মেনে নিন। প্রোডাক্টিভিটির পথ থেকে কোনো কিছুই যেন আপনাকে বিচ্যুত করে না দেয়। কারণ, দুশ্চিন্তা করে যে শক্তিটা আপনার নষ্ট হয় তা কখনও ফিরে পাবেন না।
মুড বুঝে কাজ করুন
সবারই ভালো দিন খারাপ দিন আছে। দিনের কোনো সময় খুব উদ্যমী থাকি আবার কোনো সময় ক্লান্ত। ভালো দিনগুলোতে স্বাভাবিক দিনের চেয়ে একটু বেশি করে কাজ করুন, যাতে খারাপ দিনগুলোতে একটু কম কাজ করলেও সমস্যা না হয়। শক্তি থাকতে থাকতে কঠিন কাজগুলো সেরে ফেলুন। শক্তি যখন কমে আসে তখনকার জন্য বিরক্তিকর কাজগুলো রেখে দিন। এভাবে ভারসাম্যও ঠিক থাকে, বার্নআউটও হতে হয় না।
প্রিয়জনদের ভালোবাসুন
পরিবারে কোনো ঝামেলা হলে কাজে মন দেওয়া বা প্রোডাক্টিভ হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। সুখী সুন্দর পারিবারিক সম্পর্ক আমাদের কাজে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে। স্বামী স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে এবং ছেলে/মেয়ে থাকলে তাদের সময় দিন। ওই সময়ে পরিবারের সান্নিধ্যে যে ইতিবাচক আর সতেজ ভাব আপনার মনে সৃষ্টি হয়েছে, সেটা অন্য কাজগুলো করতে ব্যবহার করুন। একটি সুখী পারিবারিক জীবন কর্মক্ষেত্রে আপনাকে প্রোডাক্টিভ করে তোলে। তাই সুখী পরিবার গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।
📄 বারাকাহ টিপস
আমরা বইয়ের শেষ দিকে চলে এসেছি। তাই ভালোভাবে টাইম ম্যানেজ করার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত প্রতিষ্ঠা করুন
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা ছাড়া আপনি বারাকাহ পাওয়ার আশা করতে পারেন না। পাঁচবার সালাত আদায় করাটা আল্লাহর বান্দা হিসেবে আমাদের একেবারে মৌলিক দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে জীবনে বারাকাহ আসার সুযোগ নেই।
বারাকাহর জন্য দু'আ করুন
সময়ে বারাকাহ পেতে চাইলে আল্লাহর কাছে সেটা চাইতে হবে। জীবনের অন্যসব চাওয়া-পাওয়ার কথা যেমন আমরা আল্লাহকেই বলি, বারাকাহর জন্যেও তেমনি আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। তাই প্রতিদিন দু'আয় আল্লাহর কাছে আপনার সময়, সম্পদ, স্বাস্থ্য, প্রচেষ্টা সবকিছুতে বারাকাহ খুঁজুন।
ভোরের প্রহরগুলো কাজে লাগান
রাতের শেষ তৃতীয়াংশ এবং ভোরের শুরুর সময়টা বারাকাহময় সময়। একদিন চেষ্টা করে দেখুন, তাহাজ্জুদের জন্য উঠুন, ফজর পড়ে আপনার কাজগুলো করা শুরু করুন। লক্ষ করে দেখবেন, কত অল্প সময়ে কত বেশি কাজ আপনি করতে পারছেন। এর সবটাই কিন্তু এ সময়গুলোতে বিরাজমান বারাকাহর কারণে হয়েছে।
উপার্জন, ব্যয়, খাবার এবং লক্ষ্যগুলো যেন হালাল হয়
দু'আ কবুল হওয়ার জন্য উপার্জন, খাদ্য এসবকিছু হালাল হওয়া আবশ্যক। সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন যেন আপনার সম্পদ উপার্জন হালাল হয়। ঠিকভাবে খরচ করুন, শুধু হালাল খাবার কিনুন আর মহৎ লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। এভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে বারাকাহ পাবেন।
বেশি বেশি সাদাকাহ করুন
সম্পদে বারাকাহ আসে অন্যদের পেছনে খরচ করলে। একই ব্যাপার আমাদের সময়ের ক্ষেত্রে। ভালো কাজের পেছনে সময় দিন, দেখবেন আপনার লক্ষ্যগুলো পূরণের জন্য অনেক সময় পাচ্ছেন। যেভাবে আপনি অন্যদের পেছনে ব্যয় করলে আল্লাহ আপনাকে দেন, তেমনি সময়ের ক্ষেত্রেও তা-ই। অন্যদের যত সময় দেবেন, আল্লাহও আপনার সময় তত বাড়িয়ে দেবেন।
যা আছে তা নিয়ে কৃতজ্ঞ থাকুন
আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, "(স্মরণ করো) যখন তোমাদের প্রভু ঘোষণা করেছিলেন, 'যদি তোমরা কৃতজ্ঞ থাক তা হলে তোমাদেরকে আরও দেব, কিন্তু যদি অকৃতজ্ঞ হও তা হলে (মনে রাখবে) অবশ্যই আমার শাস্তি ভীষণ কঠোর'।"
এর মানে জীবন ও জীবনপোকরণের কোনো কিছুতে বৃদ্ধি আল্লাহর প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সাথে সম্পর্কিত। কাজেই সময়ে বারাকাহ চাইতে হলে আগে আল্লাহপ্রদত্ত সময়টুকুর জন্য কৃতজ্ঞ হতে হবে। যা নেই, সে ব্যাপারে অভিযোগ করা যাবে না। সূত্রটা সহজ এবং জীবনের সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য: কৃতজ্ঞতা প্রকাশে বাড়ে আর অভিযোগ প্রকাশে কমে।