📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 নিখুঁত হতে যাবেন না

📄 নিখুঁত হতে যাবেন না


আমি সব সময় চেয়েছি লেখক হতে। আমি এটা ভালোভাবেই জানতাম। কারণ, লেখালেখিতে আমি ভালো ছিলাম। কিন্তু আরও নিখুঁত হবে, পারফেক্ট হতে হবে এই মরীচিকার পেছনে ছুটতে গিয়ে শুরু করব করব করেও এগোনো হয়নি।

যখন আমি নিখুঁত হবার অপচেষ্টা বাদ দিয়ে লেখালেখি আসলেই শুরু করলাম, তখনই আমার যাত্রা সত্যিকার অর্থে আরম্ভ হলো।

আমরা নিখুঁতভাবে সবকিছু করার জন্য মাঝে মাঝে এতটাই অস্থির হয়ে থাকি যে, খুব ভালো মানের কাজকেও অবজ্ঞা করে ফেলি। আর অতিরিক্ত চাপাচাপি করে সে কাজটির মান অনেকগুণে কমিয়ে ফেলি। এর মানে এই না যে, একরকম কাজ করলেই হলো, ভালো হওয়ার দরকার নেই। না, আমাদের ফোকাস হবে কাজের মান উন্নত করা; নিখুঁত করা নয়। এ পৃথিবীর কোনো কিছুই নিখুঁত না। তাই নিখুঁত হতে চাওয়াটা আপনার জন্য আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াবে। প্রতিটা মুহূর্তে হতাশ হয়ে পড়বেন। সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করুন, সব সময় উন্নতি করার সুযোগ পাবেন। ভুল থেকেও শিখুন। কিন্তু অসম্ভব কোনো কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করার চেয়ে কাজটি করে ফেলা বেশি ভালো।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 আপনার সেরা সময়টা চিহ্নিত করুন

📄 আপনার সেরা সময়টা চিহ্নিত করুন


২৪ ঘণ্টা সময়ের ভেতর প্রত্যেকের একটি সময় থাকে যখন তারা সবচে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। আপনার সময়টা বের করুন (অধিকাংশের ক্ষেত্রে এটা হয় ভোরে অথবা গভীর রাতে)। আর সে সময়টাতে আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শিডিউল করুন। এতে করে আপনি কাজটিতে খুব ভালোভাবে মনযোগ দিতে পারবেন আর কাজের মানও ভালো হবে।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজটিতে ফোকাস করুন

📄 আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজটিতে ফোকাস করুন


প্রতিদিন নিজেকে জিজ্ঞেস করুন আজকের জন্যে আপনার সবচে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কোনটি। সে কাজটি মনযোগ দিয়ে করুন এবং পারতপক্ষে দ্রুত সেরে ফেলুন। এতে করে অন্যান্য কাজের জন্যেও সময় পাবেন আবার সবচে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে ভেবে প্রশান্তিও অনুভব করবেন।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 হেলথ টিপস

📄 হেলথ টিপস


প্রোডাক্টিভ হবার জন্য সুস্বাস্থ্য খুব জরুরি। আপনার শারীরিক, মানসিক এবং আত্মিক স্বাস্থ্যের কোথাও একটু ঘাটতি হলে সেটা আপনার প্রোডাক্টিভিটি এবং কাজে প্রভাব ফেলবে। তাই প্রোডাক্টিভ থাকতে হলে নিজের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। আমাদের দেহ আল্লাহপ্রদত্ত। তাই এর যত্ন নেওয়া আবশ্যক।

নিচের টিপসগুলো আমাদের শারীরিক, মানসিক এবং আত্মিকভাবে ফিট থাকতে সাহায্য করবে:

প্রতিদিন কুরআন পড়ুন
কুরআন আল্লাহর সাথে আমাদের সংযোগের মাধ্যম এবং সবচে বেশি অনুপ্রেরণার উৎস। প্রতিদিন বুঝেশুনে কুরআন তিলাওয়াত করার জন্য সময় বের করুন। এটা আপনার আত্মিক স্বাস্থ্যের সুষমতা এবং প্রশান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করবে। ফলে আপনার প্রোডাক্টিভিটিও সচল থাকবে।

দিনের শুরুটা হোক ফজর পড়ে
ফজরের সময়টা খুব সুন্দর এবং বরকতময়। তখন পৃথিবী নিশ্চুপ এবং স্থির আর এর বারাকাহটাও চারপাশে অনুভূত হয়। ফজর পড়ার মাধ্যমে আপনার দিনটা সঠিকভাবে শুরু হয়। ঠিক সময়ে ফজর পড়লে দেখবেন আপনি সারা দিনে অনেক কিছুই করতে পারছেন। সময়ে বারাকাহ পাওয়ার জন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান
সাধারণত প্রোডাক্টিভ থাকার জন্য আমাদের গড়ে ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। এর কম হলে ঝিমানো আর বেশি হলে অলসতা কাজ করবে। আবার কারো কারো খুব বেশি ঘুমানোর প্রয়োজন হয় না। প্রত্যেকেই স্বতন্ত্র এবং প্রত্যেকেই নিজের প্রয়োজন ও সীমা ভালো করে জানে। আপনার নিজের প্রতিদিন কতটুকু ঘুম দরকার, তা বের করুন এবং তাড়াতাড়ি বিছানায় যান। আপনি সারা দিন ভালো অনুভব করবেন, বেশি সক্রিয় থাকবেন এবং অবশ্যই অনেক বেশি কাজ করতে পারবেন।

পরিমিত খান
এই বিষয়ে হাদিসের বক্তব্য বেশ স্পষ্ট। অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া অলসতা সৃষ্টির অন্যতম কারণ। তাই প্রোডাক্টিভ থাকতে হলে খাওয়া-দাওয়া পরিমিত হতে হবে। সকালে স্বাস্থ্যকর খাবার, দুপুরে আর রাতে পরিমিত খাবার খান। খাবার ফাঁকে বেশি বেশি মিষ্টি খাবার এবং পানীয় খাবেন না। অনেক বেশি পরিমাণে পানি পান করবেন। এগুলো শুনতে বেশ সহজ মনে হলেও প্রোডাক্টিভিটি বজায় রাখতে এ টিপসগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।

প্রয়োজনমতো বিশ্রাম নিন
আপনার শরীর ও মন তাদের সাধ্যের ব্যাপারে অবগত। নিজের ওপর বেশি চাপ দেবেন না। ঝিমানো কিংবা ক্লান্তি নিয়ে কাজ করলে কাজের মান খারাপ হবে। প্রতি ঘণ্টায় কমপক্ষে পাঁচ মিনিটের বিশ্রাম নিন। হাত পা ছোড়াছুড়ি করুন, পানি পান করুন আর কিছুক্ষণ নিশ্বাস ছাড়ার ব্যায়াম করুন। শরীর মন চাইলে ১০-২০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ নিন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। আপনার শরীর ও মন থেকে সেরাটা পেতে চাইলে নিজেকে যথেষ্ট পরিমাণ বিশ্রাম দিতে হবে।

শান্ত থাকুন, চাপ নেবেন না
সুস্বাস্থ্যের অধিকাংশই নির্ভর করে আমরা নিজেদের কীভাবে দেখি তার ওপর। অসুস্থতা এবং আলস্যের অনেক বড় কারণ হলো দুশ্চিন্তা এবং চাপ। চাপ নিয়ন্ত্রণ বা স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আমি আলাদা একটি বই-ই লিখছি ইন শা আল্লাহ। যাই হোক, সংক্ষেপে বলতে গেলে, দুশ্চিন্তা করে, চাপ নিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না বরং তা আরও বাড়ে। তাই বিধ্বস্ত হয়ে না পড়ে সমাধানের প্রতি মনযোগ দিন। পৃথিবীটা এমনই আর সবার জীবনেই খারাপ দিন আসে, এটা মেনে নিন। প্রোডাক্টিভিটির পথ থেকে কোনো কিছুই যেন আপনাকে বিচ্যুত করে না দেয়। কারণ, দুশ্চিন্তা করে যে শক্তিটা আপনার নষ্ট হয় তা কখনও ফিরে পাবেন না।

মুড বুঝে কাজ করুন
সবারই ভালো দিন খারাপ দিন আছে। দিনের কোনো সময় খুব উদ্যমী থাকি আবার কোনো সময় ক্লান্ত। ভালো দিনগুলোতে স্বাভাবিক দিনের চেয়ে একটু বেশি করে কাজ করুন, যাতে খারাপ দিনগুলোতে একটু কম কাজ করলেও সমস্যা না হয়। শক্তি থাকতে থাকতে কঠিন কাজগুলো সেরে ফেলুন। শক্তি যখন কমে আসে তখনকার জন্য বিরক্তিকর কাজগুলো রেখে দিন। এভাবে ভারসাম্যও ঠিক থাকে, বার্নআউটও হতে হয় না।

প্রিয়জনদের ভালোবাসুন
পরিবারে কোনো ঝামেলা হলে কাজে মন দেওয়া বা প্রোডাক্টিভ হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। সুখী সুন্দর পারিবারিক সম্পর্ক আমাদের কাজে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে। স্বামী স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে এবং ছেলে/মেয়ে থাকলে তাদের সময় দিন। ওই সময়ে পরিবারের সান্নিধ্যে যে ইতিবাচক আর সতেজ ভাব আপনার মনে সৃষ্টি হয়েছে, সেটা অন্য কাজগুলো করতে ব্যবহার করুন। একটি সুখী পারিবারিক জীবন কর্মক্ষেত্রে আপনাকে প্রোডাক্টিভ করে তোলে। তাই সুখী পরিবার গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px