📄 নিজেকে পুরস্কৃত করুন
এ পৃথিবীতে সবাইকে আপনার পক্ষে কখনোই পাবেন না। সবাই কখনও আপনার আইডিয়াগুলোকে বাহবা দেবে না বা আপনার প্রচেষ্টাগুলোর প্রশংসা করবে না। কিন্তু আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে। তাই নিজেই নিজেকে অনুপ্রেরণা দিন, কঠিন দিনগুলো পার হতে নিজেকে সাহস দিন।
নিজেকে উৎসাহিত করার একটি দিক হলো নিজের সব ছোটবড় অর্জনে নিজেকে পুরস্কৃত করা। এটা আপনার এগিয়ে চলার গতি বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে, সাফল্যের পথটাও সহজ করে দেবে। ছোটখাটো অর্জনগুলো ছোট ছোট উপহার দিয়েই উদ্যাপন করুন। উদাহরণ হিসেবে ধরুন, আপনার একটি রিপোর্ট লেখা বাকি ছিল। আপনি সেটা লিখে শেষ করেছেন ঠিক সময়ের ভেতরেই। এজন্য ১০ মিনিটের একটি ব্রেক আর এক কাপ কফি খেয়ে নিজেকে পুরস্কৃত করুন।
আর বড় অর্জনগুলোর পুরস্কারও হওয়া উচিত বড়সড়। যেমন, একটি গুরুত্বপূর্ণ কোর্স শেষ করা অথবা ব্যবসায় বড় মাপের লেনদেন হওয়া এসব অর্জনে পুরস্কারটাও হতে হবে বড় কিছু। এক্ষেত্রে রাতের বেলা পরিবারসহ আপনার পছন্দের কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া হতে পারে সবচে সেরা পুরস্কার।
মোদ্দাকথা হলো, নিজেই নিজের যত্ন নেওয়া। এটা আপনাকে আরও এগিয়ে যেতে আর অর্জনের পাল্লা ভারী করতে অনুপ্রাণিত করবে।
📄 প্রতিটা কাজের জন্য সময় নির্ধারণ করুন
আমরা সারা দিন ধরে একটি কাজের পেছনে লেগে থাকতে পারি না। কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিরতি নিতে হয়। একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে আর কাজ করতে ইচ্ছে করে না। আবার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিলে দ্রুত কাজ করার একটি চাপ কাজ করে এবং এতে করে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হয়ে যায়। যদি একটি কাজ করতে আপনার সাধারণত দুই ঘণ্টা সময় লাগে, তবে সে কাজের জন্য এক ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিন। আপনি দেখে অবাক হবেন যে, কাজটি শেষ করতে সম্ভবত আপনার ৪৫ মিনিটের বেশি লাগছে না। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো, সাধারণত যেটুকু সময় লাগে, তার অর্ধেক সময় নির্ধারিত করা।
কারণ ধরাবাঁধা সময়সীমা থাকলে আমাদের মন কাজটি দ্রুত করার জন্য পথ খুঁজতে থাকে। সময়সীমা বেঁধে দেওয়া শৃঙ্খলা মেনে চলার পথে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবার দ্রুত এবং ভালোভাবে কাজ করতেও সাহায্য করে।
📄 আপনার সময়ের ‘মূল্য’ কত?
সময়ের আরেক নাম অর্থ। এটা পরীক্ষিত সত্য। অপ্রয়োজনীয় কাজে নষ্ট হওয়া প্রতিটি মুহূর্ত আর কখনও ফেরত পাবেন না। অনেকে এ সমস্যার সমাধান করেন সারা দিনের প্রতিটা ঘণ্টাকে টাকার অঙ্কে মূল্যায়িত করে।
যদি আপনি মাসে ২০,০০০ টাকা কামাই করেন, তা হলে কাজের দিনগুলো টাকার অঙ্কে একেকটা দিন প্রায় ৮০০ টাকার সমতুল্য। আর যদি আপনি দিনে দশ ঘণ্টা কাজ করেন তা হলে এক ঘণ্টা সমান ৮০ টাকা। তো এক ঘণ্টা সময় নষ্ট করা মানে ৮০ টাকা নষ্ট করা। অবশ্য আপনি যদি সে সময়টাতে বেশি কাজ করেন, তা হলে টাকার পরিমাণটাও কিন্তু বাড়বে। কারণ, কর্মঠ লোকেরা স্বাভাবিকভাবেই অলস লোকেদের চেয়ে বেশি কামাই করে। তা ছাড়া আপনার সময় যত বেশি 'দামি', সেটা অপচয় করার সম্ভাবনা তত কম। কারণ, আপনি জানেন আপনার সময় কতটা 'মূল্যবান'।
📄 নিখুঁত হতে যাবেন না
আমি সব সময় চেয়েছি লেখক হতে। আমি এটা ভালোভাবেই জানতাম। কারণ, লেখালেখিতে আমি ভালো ছিলাম। কিন্তু আরও নিখুঁত হবে, পারফেক্ট হতে হবে এই মরীচিকার পেছনে ছুটতে গিয়ে শুরু করব করব করেও এগোনো হয়নি।
যখন আমি নিখুঁত হবার অপচেষ্টা বাদ দিয়ে লেখালেখি আসলেই শুরু করলাম, তখনই আমার যাত্রা সত্যিকার অর্থে আরম্ভ হলো।
আমরা নিখুঁতভাবে সবকিছু করার জন্য মাঝে মাঝে এতটাই অস্থির হয়ে থাকি যে, খুব ভালো মানের কাজকেও অবজ্ঞা করে ফেলি। আর অতিরিক্ত চাপাচাপি করে সে কাজটির মান অনেকগুণে কমিয়ে ফেলি। এর মানে এই না যে, একরকম কাজ করলেই হলো, ভালো হওয়ার দরকার নেই। না, আমাদের ফোকাস হবে কাজের মান উন্নত করা; নিখুঁত করা নয়। এ পৃথিবীর কোনো কিছুই নিখুঁত না। তাই নিখুঁত হতে চাওয়াটা আপনার জন্য আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াবে। প্রতিটা মুহূর্তে হতাশ হয়ে পড়বেন। সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করুন, সব সময় উন্নতি করার সুযোগ পাবেন। ভুল থেকেও শিখুন। কিন্তু অসম্ভব কোনো কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করার চেয়ে কাজটি করে ফেলা বেশি ভালো।