📄 বার্নআউট ফাঁদ
কোনো প্রকার বিশ্রাম কিংবা আনন্দ বিনোদন ছাড়াই কাজ করে গেলে বার্নআউট হয়। আমরা যতই পুরো সময়টা কাজে লাগাতে চাই না কেন, এটা সম্ভব না। আমাদের শরীর-মন একটি পর্যায়ে গিয়ে থেমে যায়, আর চলতে চায় না। কিছুক্ষণ কাজ করার পরই আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি, কাজ করার গতি কমে আসে। নিজের শতভাগ দেওয়াটাও তখন আর সম্ভব হয়ে ওঠে না।
এমন পরিস্থিতিতে যখন পড়বেন, তখনই সময় বিশ্রাম নেওয়ার, একটি ছোট বিরতির। বার্নআউট এড়াতে আমরা অনেকভাবে ব্রেক নিতে পারি :
• প্রতি ঘণ্টায় ৫ মিনিটের বিরতি
• দুপুরের খাবার আগে ১ ঘণ্টার বিশ্রাম
• প্রতি সন্ধ্যায় ১-২ ঘণ্টার আনন্দ-বিনোদন
• সপ্তাহে একদিন কাজের কথা একেবারে ভুলে যাওয়া
• বছরে ১-২ বার রুটিনের বাইরে ছুটি নেওয়া
হালালভাবে আনন্দ ও মজা করা নিয়ে অপরাধবোধের কিছু নেই। আল্লাহ এ পৃথিবীর ভালো ভালো জিনিসগুলো আমাদের উপভোগের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। আর মন উৎফুল্ল রাখার জন্য এবং ভালোভাবে কাজ করতে পারার জন্য বিনোদন খুব দরকার। বিনোদন ছাড়া আমাদের মন-মেজাজ ঝিমিয়ে পড়ে আর একাগ্রতাও হারিয়ে যায়। তা ছাড়া খুব বেশি বিনোদনে ডুবে থেকে সময়ের খেই হারিয়ে ফেলাও উচিত না। ভারসাম্য থাকাটা জরুরি। আর এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে বিনোদনের চাইতে বেশি প্রাধান্য দেওয়াই ভারসাম্য।
বিরতির সময় এমন কিছু করুন, যা আপনার কাছে সত্যিই আনন্দদায়ক। সেটা হতে পারে হাঁটাহাঁটি, হালাল কিছু দেখা, বই পড়া, ব্যায়াম করা অথবা শুধুই কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে ন্যাপ নেওয়া। কাজ নিয়ে একদমই ভাববেন না, শুধুই আরাম করুন।
অনেকেই ছুটি কাটাতে চান না। তাদের কাছে ছুটি কাটানোর জন্য টাকা খরচ করাটা বিলাসিতা মনে হয়। এরচেয়ে কাজ করাকে তারা ভালো মনে করেন। যদিও এ আচরণটা কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভালো, কিন্তু জীবনের টানাপড়েন থেকে মুক্তি পেতে মাঝে মাঝে ছুটির দরকার। ছুটি কাটানো মানেই অনেক টাকা-পয়সা খরচ করতে হবে, তা না। পৃথিবী জুড়ে অনেক জায়গাতেই ছুটি কাটানোর জন্য যাওয়া যেতে পারে। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা জায়গাগুলোকে পছন্দ করি যেমন, পাহাড়, সমুদ্র, দ্বীপ। যেখানে গেলে প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া যাবে, সৃষ্টিকর্তার মহিমা অনুভূত হবে, একইসাথে আত্মিক জাগরণও ঘটবে।
উমরা আমার জন্য বেশ উপকারী কিন্তু উমরা করতে সাধারণত অনেক খরচ হয়। তাই যখন তখন যাওয়া সম্ভব না। মাক্কা-মাদীনার আধ্যাত্মিক প্রশান্তিময় পরিবেশ ভ্রমণকারীর আত্মিক জগতে, তার বিশ্বাসে এক আলোড়ন সৃষ্টি করে। যদি উমরা না করে থাকেন এবং আপনার সামর্থ্য থাকে, তা হলে উমরা পালন করে আসুন। এটা এমন একটি যাত্রা, যা আপনি কখনও ভুলবেন না।