📄 আত্ম-নিয়ন্ত্রণ
আত্ম-নিয়ন্ত্রণ সবরের আরেকটা অনুবাদ। সাধারণভাবে এর অর্থ গুনাহ করতে চাওয়ার ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করা। টাইম ম্যানেজমেন্টের জন্যেও আত্ম-নিয়ন্ত্রণ খুব প্রয়োজনীয়। এটা আমাদের সবার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে থাকা উচিত। আমাদের সবারই কখনও না কখনও অযথা সময় নষ্ট করতে ইচ্ছে করে, এমন কিছু করার ইচ্ছে জাগে, যা নিয়ে পরবর্তী সময়ে আমরা হয়তো খুব আফসোস করব। সে সময়গুলোতে আত্ম-নিয়ন্ত্রণের গুণ থাকা খুব জরুরি। আমাদের মন্দ চাওয়াগুলোকে সাধ্যমতো দমন করে লক্ষ্যের প্রতি সজাগ থাকা উচিত।
আত্ম-নিয়ন্ত্রণ আত্ম-বিশ্বাসের জন্যেও খুব ভালো। আপনার প্রবৃত্তি, ভাবনা এবং কাজগুলো যত আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তত বেশি আপনি আত্ম-নিয়ন্ত্রণ অনুভব করবেন। এটি আবার আপনার প্রোডাক্টিভিটিও বাড়িয়ে দেবে। টাইম ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে আত্ম-নিয়ন্ত্রণের নিজস্ব মানে আছে। প্রয়োজনীয় কাজ করার সময় মোবাইল এবং ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ রাখাও এর মাঝে পড়ে। যখন অলসতা করবেন তখনও নিজেকে একটু জোর দিন, কাজ করুন। আবার কাজের দিনগুলোতে ইউটিউব আর কমেডি ওয়েবসাইটে সময় নষ্ট করার তীব্র ইচ্ছেটাকেও রোধ করুন।
📄 ধারাবাহিকতা
সবর ধারাবাহিকতার অর্থও বহন করে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখা টাইম ম্যানেজমেন্টের মৌলিকতম একটি বিষয়। শিডিউল তৈরি করেও যদি সে অনুযায়ী কাজ না করেন, তা হলে লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে। একটি শিডিউল বা টু-ডু লিস্ট মেনে চলা খুব গুরুত্বপূর্ণ আর এজন্যে দরকার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা।
যেকোনো কাজ হোক দীর্ঘ বা স্বল্প সময়ব্যাপী, উভয় ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। এ ধরনের লক্ষ্য অর্জনে প্রতিদিন ছোট ছোট পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া সফলতার ভিন্ন কোনো পথ নেই। কিন্তু এ পদক্ষেপগুলোকে হতে হবে সুপরিকল্পিত এবং প্রয়োগ করতে হবে ধারাবাহিকভাবে।
ইবনু জাওযী ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে একজন ভালো উদাহরণ। সারা জীবনে তিনি এক হাজারেরও বেশি বই লিখেছেন। এ অর্জন সম্ভব হয়েছে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং কঠোরভাবে সময় মেনে চলার কারণে। ইমাম যাহাবী আবদুল লাতিফের সূত্রে বলেছেন, “ইবনু জাওযী একমুহূর্ত সময়ও নষ্ট করেননি। তিনি দিনে চারবার রেজিস্ট্রি করতেন। তবু তার সংকলন, শিক্ষকতা এবং ফাতওয়া দেওয়ার কাজও অব্যাহত ছিল। এটা আসলে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদিনের লক্ষ্য পূরণ করে যাওয়ার সুফল।”
📄 সারাংশ
সাফল্যের পথে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হওয়া অনিবার্য। মূল কথা হলো লক্ষ্যে অবিচল থাকা, পরিকল্পনা এবং বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করা এবং সবরের চারটা গুণ ব্যবহার করে কাজে নেমে পড়া। এটুকু করুন, এরপর দেখবেন, আল্লাহর সহায়তা থাকলে আপনি অনেক বড় বড় কাজও করে ফেলতে পারছেন।