📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 পরিবার এবং বন্ধুদের মনে করিয়ে দিতে বলুন

📄 পরিবার এবং বন্ধুদের মনে করিয়ে দিতে বলুন


এ ধাপটা দু-ধারি তলোয়ারের মতো। আপনার আশেপাশের মানুষেরা যদি নিজেরাই অগোছালো হন, তা হলে তাদের পক্ষ থেকে এক্ষেত্রে তেমন কোনো উপকারই পাবেন না। কারণ তাদের নিজেদেরই মনে থাকবে না।

কিন্তু আপনার জীবনকে গুছিয়ে দিতে ভূমিকা রাখতে পারে, এমন পরিবারের সদস্য বা বন্ধু খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে আপনার জন্য। বিশেষ করে আপনার শুরুর দিনগুলোতে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পরিবারের সে সদস্যটি কিংবা বন্ধুটি ফোন করে অথবা মেসেজ দিয়ে আপনাকে মনে করিয়ে দিতে পারে।

সাধারণত অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেকে এসব ব্যাপারে প্রশিক্ষিত করে তোলা উচিত। কিন্তু আপনার যদি এখনও প্রস্তুত না হোন, তবে এ পদ্ধতিটি আপনার জন্য খুবই কার্যকর। অন্ততপক্ষে যতক্ষণ না এটা আপনার অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 আপনার কাজ এবং পছন্দগুলো যাচাই করুন

📄 আপনার কাজ এবং পছন্দগুলো যাচাই করুন


মানুষকে আল্লাহ এমন একটি বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন যেটা আর কোনো প্রাণীর নেই। সেটা হলো নিজের ভাবনাগুলো নিয়ে চিন্তা এবং বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। কাজ করার আগে চিন্তাভাবনা করে এ দক্ষতাটা আমরা কাজে লাগাতে পারি।

উদাহরণস্বরূপ: ধরুন, আপনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একটি রিপোর্ট লিখবেন, যাতে সময় লাগবে এক ঘণ্টা। কিন্তু হঠাৎ একটি ফেসবুক নোটিফিকেশন এসে আপনাকে ৩ মিনিটের একটি ফানি ভিডিও দেখতে বলল। এই ভিডিওটা আপনি দেখলেন, দেখা শেষে আরেকটা ৫ মিনিটের ভিডিওর লিংক এল। সেটাও দেখলেন এবং এভাবে টানা এক ঘণ্টা ধরে আপনি একের পর এক ভিডিও দেখতেই থাকবেন, যদি নিজেকে না আটকান। নিজেকে তখন এই প্রশ্নগুলো করবেন, 'কী করছি আমি'? 'এটা কি প্রোডাক্টিভ'? 'এ কাজে কি সময় নষ্ট হচ্ছে'?

এসব সময় নষ্টের কাজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো এত সহজে হয়ে ওঠে না। মনকে ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। এর আগপর্যন্ত 'কী করছি', সে ব্যাপারে নিজেকে সচেতন থাকতে হয়। পথ থেকে সরে যাচ্ছি টের পেলেও নিজেকে মনে করিয়ে দিতে হবে। এজন্য নিজের সাথে সততা বজায় রাখতে হবে এবং নিজের প্রতিটা সিদ্ধান্তকে যাচাই করে নিতে হবে।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 বার্নআউট সামলানো

📄 বার্নআউট সামলানো


কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে একই দিনে অনেকগুলো কাজ করে ফেলতে চান। এতে করে তারা নিজেদের ঘাড়ে অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন। আর শেষপর্যন্ত এ অতিরিক্ত বোঝা মোড় নেয় বার্নআউটে। বার্নআউট হলো খুব বেশি কাজ করে ফেলার ফলে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত ক্লান্তিকর অনুভূতি। এর ফলে আরও কাজ করতে যাওয়ার ব্যাপারে সমস্ত আগ্রহ চলে যায়। বার্নআউট বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে আসতে পারে।

বার্নআউট এড়ানোর সবচে ভালো উপায় হলো সাধ্যের চেয়ে অতিরিক্ত কাজের বোঝা কাঁধে না নেওয়া। এজন্য নিজের লক্ষ্য এবং সীমাবদ্ধতাগুলো জানা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। দরকারি ও সাধ্যের মধ্যকার কাজগুলোই হাতে নেওয়া উচিত। এই বিষয়টা আমি বেশ কাঠখড় পুড়িয়েই শিখেছি।

২০১১-এর দিকে অনেকগুলো কাজ একইসঙ্গে করছিলাম। ৬-৮ ঘণ্টা ধরে এরাবিক ক্লাস নিচ্ছি, বই লিখছি, ৮ ঘণ্টার ফুলটাইম চাকরি করছি সপ্তাহে ৬ দিন, একইসাথে চলছে BAIS-এ পড়াশোনা। ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন জায়গায় লেকচার দিচ্ছি, ১০ ঘণ্টা প্রতি সপ্তাহে অনলাইন ক্লাসও নিচ্ছি। এসবের পর পরিবারকেও সময় দিয়েছি। কাজের অতিরিক্ত চাপে আমি তখন বেশ মেজাজি এবং গম্ভীর হয়ে পড়লাম। কারণ, আমি আমার শরীর এবং মস্তিষ্কের সাধ্যের চেয়ে বেশি বোঝা নিয়ে ফেলেছিলাম। আবার নিজে যথাযথ সময় না দেওয়ায় সবকিছুর মাঝে ভারসাম্যও রক্ষা করতে পারছিলাম না।

এই অবস্থায় কিছু কিছু কাজ থেকে আমার অব্যাহতি নেওয়া জরুরি হয়ে দাঁড়াল। এরাবিক ক্লাস নেওয়া ছেড়ে দিলাম এবং বিভিন্ন জায়গায় লেকচার দিতে যাওয়া কমিয়ে দিলাম, যাতে নিজেকে এবং পরিবারকে আরও বেশি সময় দিতে পারি। এতে করে আমার মাসিক আয় কমে গেলেও মানসিক প্রশান্তি এবং সুখ টাকার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক প্রশান্তি থাকলে ভবিষ্যতে আরও আয় করা সম্ভব হবে এবং কাজও আরও মানসম্মত হবে।

এই প্রসঙ্গে মনে রাখা উচিত যে, প্রাত্যহিক রুটিনে যেন বিশ্রাম এবং বিনোদনের জন্য যথেষ্ট সময় বরাদ্দ থাকে। অনেকেই এসবকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে বিবেচনা করেন না। তারা এগুলোকে সময়ের অপচয় ভাবেন। কিন্তু আল্লাহ আমাদের কিছু চাহিদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এসব চাহিদার মাঝে আছে বিনোদন এবং বিশ্রাম। এসব এড়িয়ে গেলে আমরাও বার্নআউটের স্বীকার হব। কারণ, মানবমস্তিষ্ক বিশ্রাম নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করার আগপর্যন্তই কাজ করতে পারে। এরপর আর পারে না।

তাই নিজের ওপর দয়া করুন এবং যখনই দরকার হয় তখনই বিশ্রাম নিন। প্রতি ঘণ্টায় পাঁচ মিনিটের একটি বিশ্রাম নিন, প্রতি সন্ধ্যায় নিজেকে এক ঘণ্টা সময় দিন। আর সপ্তাহে একটি দিন শুধু আরাম করবেন, এদিন কাজ নিয়ে কিছুই ভাববেন না।

প্রতি বছর একবার ঘুরতে যান। আল্লাহর এই সুন্দর পৃথিবীটা ঘুরে আসুন। এখানে মূল কথা হলো একটি ব্রেক নেওয়া এবং মনকে বিশ্রাম দেওয়া। কাজের সময়ে কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব পালনের সময়ে এটা সম্ভব না। এজন্য দরকার নির্জন একান্ত সময়। আর নিজের জন্য এমন সময় নেওয়াতে মোটেও দোষের কিছু নেই।

অধিকাংশ চাকরিতেই সপ্তাহে এক বা দুদিন ছুটি থাকে। কিন্তু সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের কাজের চাপের দুশ্চিন্তায় অনেকে এ ছুটির দিনগুলোও উপভোগ করতে পারেন না। সমাধান সে আগেরটাই—হাতের কাজে মন দিন। এক্ষেত্রে হাতের কাজটি হলো আরাম করা, বিশ্রাম নেওয়া। আরাম করার সময় মনকে দুশ্চিন্তা করার সুযোগ দেবেন না। সুখের এবং আনন্দময় জিনিস নিয়ে ভাবুন, মুহূর্তটা উপভোগ করুন। বিশ্রামের সময়টায় যা করছি, তা আনন্দের সাথে করুন। তা হলে আগামীকালের কাজ করতে আরও বেশি অনুপ্রেরণা পাবেন।

করে দেখুন, সত্যি ভীষণ উপকার পাবেন। পাঁচ মিনিটের হলেও ব্রেক নিন। সজীব অনুভূতি আবারও আপনার ভেতরটাকে উজ্জীবিত করে তুলবে।

বার্নআউট এড়াতে আমার সর্বশেষ উপদেশ হলো অযথা কাজ এবং মানসিক চাপকে 'না' বলুন। অন্যকে 'না' বলতে, তাদের অনুরোধ ফিরিয়ে দিতে অনেকেই বিব্রতবোধ করেন। তারা ভাবেন সবার কাজ করে দেওয়া তাদের যেন অবশ্য কর্তব্য। এ ধরনের স্বভাব অবাস্তব এবং আনপ্রোডাক্টিভ, ইসলাম আপনাকে এসব করতে বাধ্য করে না। ভদ্রভাবে 'না' বলা শিখুন, তখন মানুষও বুঝতে পারবে যে আপনি ব্যস্ত এবং তারা বিষয়টা ধীরে ধীরে মেনে নেবে।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 সবর থাকা

📄 সবর থাকা


গতিবেগ ধরে রাখার মানে সামনের সব বাধা ঠেলে নিজেকে এগিয়ে নিতে থাকা। এটাকেই আরবিতে সবর বলা হয়। একজন বিশ্বাসীর চরিত্রে এটা অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য, যার উল্লেখ কুরআনে অসংখ্যবার হয়েছে। সবরের অনুবাদ সাধারণত করা হয় ধৈর্য। কিন্তু সবর মানে শুধু ধৈর্য নয়, বরং এর সাথে অনেকগুলো বিষয় জড়িত। ধৈর্য ছাড়াও অধ্যবসায়, আত্ম-নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিকতাও এর অর্থের মধ্যে পড়ে। এ প্রত্যেকটা বিষয়ই টাইম ম্যানেজমেন্টের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px