📄 বদঅভ্যাসের ফাঁদ
টাইম ম্যানেজমেন্ট মূলত নতুন নতুন অভ্যাস গড়ে তোলা। শুরুতে সবচে কঠিন হলো অভ্যাসগুলো ধরে রাখা, যতক্ষণ না পর্যন্ত সেগুলো স্বভাবে পরিণত হয়। ইবনুল কাইয়্যিম আল জাওযিয়্যাহ বদঅভ্যাস গড়ে ওঠার পরিক্রমা নিয়ে চমৎকার একটি বিশ্লেষণ করেছেন:
“নেতিবাচক এবং মন্দ ভাবনাগুলোর বিরুদ্ধে দৃঢ় হয়ে দাঁড়ান। কারণ, এতে ব্যর্থ হলে সে ভাবনাগুলো ধারণায় রূপ নেবে। সে ধারণাগুলো রুখে না দিলে আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হবে। তাই রুখে দিন, প্রতিরোধ করুন।
যদি রুখে না দাঁড়ান, তা হলে এগুলো সংকল্প হয়ে দাঁড়াবে। যদি প্রতিরোধ না করেন তা হলে একসময় কাজটি ঘটিয়ে ফেলবেন। আর যদি এর বিপরীতে ভালো কিছু না করেন তা হলে এমন বদঅভ্যাস গড়ে উঠবে, যা পরিত্যাগ করা হবে খুব কঠিন।
বদঅভ্যাস ত্যাগ করা কঠিন তবে অসম্ভব না। মূল কথা হলো বদঅভ্যাসগুলো কেন ছাড়তে চাই, সে ব্যাপারটা জানা থাকা এবং ভালো অভ্যাস দিয়ে বদঅভ্যাসকে বদলে দেওয়া। টাইম ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে এর মানে হলো, গড়িমসি করার অভ্যাসকে পরিকল্পনা, ভেঙে ভেঙে কাজ করা এবং আগে থেকে কাজ এগিয়ে রাখার অভ্যাস দিয়ে বদলে দেওয়া।
তবু দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ছাড়া মোমেন্টাম ধরে রাখা খুব কঠিন। তাই এ ব্যাপারে সচেতন থাকাটা খুব জরুরি, যাতে বদঅভ্যাসে পুনরায় জড়িয়ে না যাই। কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে বদঅভ্যাসে জড়িয়ে পড়া থেকে আমরা বাঁচতে পারি:
📄 ডেইলি রিমাইন্ডার সেট করা
এমন কিছু থাকতে হবে, যা আপনাকে প্রতিদিন আপনার কাজগুলোর কথা মনে করিয়ে দেবে। অফিসের দেয়ালে পোস্টার হিসেবে অথবা পিসির ব্যাকগ্রাউন্ডে টু-ডু লিস্ট রাখতে পারেন। পোস্ট-ইট নোট ব্যবহার করে যেখানে যখন রিমাইন্ডার দরকার আঠা দিয়ে সেটে দিতে পারেন। PDA ব্যবহার করতে পারেন অথবা এলার্ম সেট করতে পারেন। কাজগুলোর কথা মনে করিয়ে দেবে, এমন কোনো অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।
ট্র্যাকে থাকার জন্য বর্তমানে যথেষ্ট ভালো ভালো পদ্ধতি আছে। একটু খোঁজাখুঁজি এবং সৃজনশীলতা ব্যবহার করে আপনার উপযোগী পদ্ধতিটি খুব সহজেই খুঁজে পেতে পারেন। মূল কথা হলো যখন যেখানে দরকার সেখানে সে সময়ে যেন ঠিকঠাক রিমাইন্ডার পান।
📄 পরিবার এবং বন্ধুদের মনে করিয়ে দিতে বলুন
এ ধাপটা দু-ধারি তলোয়ারের মতো। আপনার আশেপাশের মানুষেরা যদি নিজেরাই অগোছালো হন, তা হলে তাদের পক্ষ থেকে এক্ষেত্রে তেমন কোনো উপকারই পাবেন না। কারণ তাদের নিজেদেরই মনে থাকবে না।
কিন্তু আপনার জীবনকে গুছিয়ে দিতে ভূমিকা রাখতে পারে, এমন পরিবারের সদস্য বা বন্ধু খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে আপনার জন্য। বিশেষ করে আপনার শুরুর দিনগুলোতে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পরিবারের সে সদস্যটি কিংবা বন্ধুটি ফোন করে অথবা মেসেজ দিয়ে আপনাকে মনে করিয়ে দিতে পারে।
সাধারণত অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেকে এসব ব্যাপারে প্রশিক্ষিত করে তোলা উচিত। কিন্তু আপনার যদি এখনও প্রস্তুত না হোন, তবে এ পদ্ধতিটি আপনার জন্য খুবই কার্যকর। অন্ততপক্ষে যতক্ষণ না এটা আপনার অভ্যাসে পরিণত হচ্ছে।
📄 আপনার কাজ এবং পছন্দগুলো যাচাই করুন
মানুষকে আল্লাহ এমন একটি বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন যেটা আর কোনো প্রাণীর নেই। সেটা হলো নিজের ভাবনাগুলো নিয়ে চিন্তা এবং বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। কাজ করার আগে চিন্তাভাবনা করে এ দক্ষতাটা আমরা কাজে লাগাতে পারি।
উদাহরণস্বরূপ: ধরুন, আপনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একটি রিপোর্ট লিখবেন, যাতে সময় লাগবে এক ঘণ্টা। কিন্তু হঠাৎ একটি ফেসবুক নোটিফিকেশন এসে আপনাকে ৩ মিনিটের একটি ফানি ভিডিও দেখতে বলল। এই ভিডিওটা আপনি দেখলেন, দেখা শেষে আরেকটা ৫ মিনিটের ভিডিওর লিংক এল। সেটাও দেখলেন এবং এভাবে টানা এক ঘণ্টা ধরে আপনি একের পর এক ভিডিও দেখতেই থাকবেন, যদি নিজেকে না আটকান। নিজেকে তখন এই প্রশ্নগুলো করবেন, 'কী করছি আমি'? 'এটা কি প্রোডাক্টিভ'? 'এ কাজে কি সময় নষ্ট হচ্ছে'?
এসব সময় নষ্টের কাজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো এত সহজে হয়ে ওঠে না। মনকে ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। এর আগপর্যন্ত 'কী করছি', সে ব্যাপারে নিজেকে সচেতন থাকতে হয়। পথ থেকে সরে যাচ্ছি টের পেলেও নিজেকে মনে করিয়ে দিতে হবে। এজন্য নিজের সাথে সততা বজায় রাখতে হবে এবং নিজের প্রতিটা সিদ্ধান্তকে যাচাই করে নিতে হবে।