📄 সময় বরাদ্দ করা
গড়িমসি করা এবং ঠিকভাবে লক্ষ্য পূরণ করতে না পারার অন্যতম কারণ হলো লক্ষ্যের জন্য সময় বরাদ্দ না রাখা। জীবনের সবকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য সময় বরাদ্দ রাখা খুব ভালো একটি অভ্যাস।
ব্যক্তিগতভাবে বলতে গেলে, আমি আমার স্ত্রী, বাচ্চা, লেখালেখি, পড়াশোনা, কুরআন তিলাওয়াত, বাচ্চাদের হোম-স্কুলিং করানো এবং কাজের প্রতিটা ক্ষেত্রের জন্য সময় ভাগ করে রাখি। এভাবে সময় নির্দিষ্ট করে রাখার কারণেই আমার পক্ষে সব কাজ সুন্দরভাবে শেষ করা সম্ভব হয়।
এই অভ্যাসটা গড়ে তোলা খুব সহজ। প্রতিটা লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পনা ঠিক করার সময়ই কোন কাজের জন্য কতটুকু সময় দরকার তা নির্ধারণ করে ফেলুন। দেখুন ওই কাজটির জন্য কোন সময়টা যথার্থ এবং সে সময়টাই ঠিক করুন।
📄 একাগ্র হওয়া
একাগ্র হওয়া একটি অভ্যাস এবং গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসই বটে। পূর্বের এবং বর্তমান সময়ের সফল মানুষদের জীবন থেকে দেখা গেছে-তাদের সাফল্যের অন্যতম কারণ ছিল এই মুহূর্তের কাজটিতে একাগ্র থাকতে পারা। একাগ্রতা মানে হাতের সামনের কাজটির প্রতি সম্পূর্ণভাবে নিমগ্ন থাকা এবং নিজেকে বিক্ষিপ্ত হতে না দেওয়া।
এই অভ্যাস গড়ে তুলতে কিছু শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সময়-ব্যবহার সংকুচিত করা। একাগ্রতার সাথে কাজ করলে যে কাজ ত্রিশ মিনিটে শেষ হয়ে যাবে, বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে করলে সে জায়গায় সময় লাগবে দুঘণ্টা।
আমাদের ধর্মের একটি সুন্দর দিক হলো সালাতের মাধ্যমে একাগ্রতার বেশ ভালো প্রশিক্ষণ পাওয়া। যদিও অনেকে ভালোভাবে সালাত পড়ি না বলে এ উপকারটুকু পাই না। অনেকের জন্য সালাত একটি আনুষ্ঠানিকতার বিষয়, হৃদয় এবং আত্মার কোনো সংযোগ এতে থাকে না। একাগ্রতা গড়ে তোলার জন্য সালাত হলো সবচে উত্তম পন্থা। সালাত থেকে প্রাপ্ত এ প্রশিক্ষণ এরপর জীবনের অন্যসব ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যাবে।
📄 অনুসূচির সাথে লেগে থাকা
অনেকে দেখেছি একটি শিডিউল (অনুসূচি) বা টু-ডু লিস্ট তৈরি করেছেন কিন্তু সেটা মেনে চলেননি। কিছুদিন পর হাল ছেড়ে দিয়েছেন। এরপরও কিন্তু সময় কম নিয়ে তাদের অভিযোগ করা থামে না। রুটিন মেনে চলা একটি অভ্যাসের মতো, আর কোনো অভ্যাস গড়ে তুলতে লেগে থাকা খুব জরুরি। আর এই লেগে থাকাটা ততক্ষণ পর্যন্ত হতে হবে যতক্ষণ না তা আপনার জীবনযাপনের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে যাচ্ছে।
শিডিউল মেনে চলার অভ্যাসটি আমাদের সুন্দরভাবে সময় ব্যাহারে সাহায্য করবে।