📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 সামাজিক কর্তব্য

📄 সামাজিক কর্তব্য


সমাজে কোনো না কোনোভাবে ভূমিকা রাখতে ইসলাম আমাদের উৎসাহিত করে। কিন্তু কাজের ব্যস্ততায় আমরা অনেকেই সমাজ থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্নই হয়ে পড়ি। কমপক্ষে যে সামাজিক কর্তব্যগুলো আমাদের পালন করা উচিত সেগুলো হলো:

দা'ওয়াহ: ইসলামের বার্তা অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া প্রতিটা মুসলিমের জন্য আবশ্যক। অনেকভাবেই আমরা এটা করতে পারি। এটা হতে পারে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ইসলাম নিয়ে কিছু পোস্ট করে অথবা আপনার প্রতিবেশী কিংবা সহকর্মীর সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে। যাই হোক না কেন, দা'ওয়াহ আমাদের জীবনের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে অবশ্যই যেন থাকে।

সামাজিক সেবা: আপনার নিজের এলাকাতে সমাজসেবামূলক কোনো কাজে অংশ নিতে পারেন। যদি বেশি সময় দিতে পারেন তা হলে তো ভালোই, না পারলে অল্প সময় হলেও দিন। এলাকার ভেতরে এমন অনেক কাজ রয়েছে, যাতে আপনি অন্ততপক্ষে সপ্তাহে একদিন হলেও সময় দিতে পারবেন। যদি এমন কোনো কাজ না পান, তা হলে আমার পরামর্শ হলো আপনি নিজেই কোনো সেবামূলক কাজের উদ্যোগ নিন।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 ব্যক্তিগত অগ্রাধিকার

📄 ব্যক্তিগত অগ্রাধিকার


এ জায়গায় অবহেলার পরিমাণ অন্য সব জায়গার চেয়ে অনেক বেশি। আমরা অন্যের জন্য কাজ করতে, ক্যারিয়ার নিয়ে পাগলামিতে এতই ব্যস্ত থাকি যে, নিজেদের জন্যই আমাদের তেমন একটি সময় বাকি থাকে না। আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং ব্যক্তিগত উন্নয়নের দিকে আমরা তেমন একটি মনোযোগ দিতে পারি না। কিন্তু এভাবে কখনই মানসিক প্রশান্তি আসবে না। আমাদের নিত্য দুশ্চিন্তা ও কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে কিছু ব্যক্তিগত অগ্রাধিকারের জায়গা ঠিক করতে হবে। আর প্রতিদিন একটু একটু করে উন্নত হবার চেষ্টা করে যেতে হবে। আর এজন্য যে কাজগুলো করতেই হবে, সেগুলো হলো:

পর্যাপ্ত ঘুম এবং খাওয়া: বেশি ঘুম এবং খাওয়া যেমন ক্ষতিকর, কম হলেও তেমনি। অতিরিক্ত ঘুম এবং খাওয়া আমাদের স্নায়ুকে দুর্বল করে তোলে, আলস্য সৃষ্টি করে। আবার অল্প পরিমাণ হলে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে, সতেজ ভাবটা থাকে না। এক্ষেত্রে আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে কত ঘণ্টা ঘুম আপনার লাগবেই (সাধারণত অনেকের ক্ষেত্রে ৬-৮ ঘণ্টা), আর সেভাবেই ঘুমের সময় ঠিক করুন। আর খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের চেয়ে কী খেলেন এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্ট সবচে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাই ব্রেকফাস্ট কখনোই মিস করবেন না। সারা দিন সতেজ এবং প্রাণবন্ত থাকার জন্য সকালের খাবারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বিনোদন এবং বিশ্রাম: অনেকে মনে করে মুসলিম হওয়া মানেই সারাক্ষণ ভালো কাজে ব্যস্ত থাকা, বিনোদন কিংবা বিশ্রামের জন্য কোনো সময়ই না থাকা। অথচ ব্যাপারটা মোটেও এমন না। ইসলামি জীবনাচারের পরিসীমার ভেতরেই হালাল বিনোদনের যথেষ্ট জায়গা আছে। তা ছাড়া মানুষ হিসেবেই আমাদের বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। যথেষ্ট বিশ্রাম এবং বিনোদন না পেলে আমাদের সজীবতা হারিয়ে যায়। তাই নিজের জন্য মানানসই কোনো বিনোদনের উপায় খুঁজে নিন। এরপর সেটার জন্য একটি সময় বরাদ্দ করুন। (গড়ে একজন মানুষের ১-২ ঘণ্টা বিনোদনের দরকার হয়)।

ব্যক্তিগত উন্নয়ন: আমাদের জীবনে উন্নতির অনেক জায়গা আছে। এমন সুপ্ত প্রতিভা আমাদের মাঝে আছে, যা দিয়ে আমরা চমৎকার সব কাজ করতে পারি। কিন্তু যতটা মনোযোগ দিলে অনেক কিছু করা সম্ভব হতো, এ জায়গায় আমরা ঠিক ততটা মনোযোগ দিচ্ছি না। আমার পরামর্শ থাকবে-প্রতিদিন ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য ত্রিশ মিনিট সময় রাখা। এসময় নিজেকে নির্জনে কিছু সময় দেওয়া উচিত। ব্যক্তিগত উন্নয়ন মানে নতুন কোনো স্কিল আয়ত্ত করা অথবা এমন কোনো জ্ঞান অর্জন করা, যা আপনার জীবনমান এবং ব্যক্তিত্বকে উন্নত করবে। যেমন, আত্মিক প্রশান্তি, চাপ নিয়ন্ত্রণ, টাইম ম্যানেজমেন্ট এবং রাগ নিয়ন্ত্রণ।

ব্যক্তিগত উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মূলত আমার এ বইটি লিখতে শুরু করা। সাধারণ মানুষের কাছে, যাতে ব্যক্তিগত উন্নয়নের একটি যথাযথ সিলেবাস থাকে, সে প্রেরণা থেকেই আমি ধারাবাহিক বই লেখার পরিকল্পনা করি। এ সিরিজের বইগুলো তাদের সে চাহিদাটা পূরণ করবে, এটাই মূল ইচ্ছা ছিল। প্রতিদিন কিছু সময় আত্মোন্নয়নে ব্যয় করলে নিজের মাঝেই বিশাল এক পরিবর্তন দেখতে পাবেন। দেখতে পাবেন কীভাবে আপনি প্রতি বছর আগের চেয়েও উন্নত হয়েছেন, আর নিজের এ পরিবর্তন অবশ্যই আপনার কাছেও ভালো লাগবে।

সব অগ্রাধিকারই কি রাখা সম্ভব? আসলে এগুলো তেমন কিছুই না। টাইম ম্যানেজমেন্ট যখন আপনার হাতের মুঠোয় এসে যাবে, তখন এর চেয়ে তিনগুণ বেশি কাজ আপনি করতে পারবেন। এখানে মূল কথা হলো, প্রতিটা কাজের জন্য সময় বের করা। খাতা-কলম (ল্যাপটপ অথবা ট্যাব) নিয়ে বসে ঠিক করুন সপ্তাহের কোন দিন কোন সময়ে কাজগুলো করবেন। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, আপনি সবগুলো কাজ করারই সময় পাবেন। এরপরও অনেক সময় বাকি থেকে যাবে যেগুলোতে ইমেইল এবং কলের উত্তর দিতে পারবেন।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 যেসব ফাঁদ এড়িয়ে চলবেন

📄 যেসব ফাঁদ এড়িয়ে চলবেন


আমাদের অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ করার ক্ষেত্রে কিছু ফাঁদ এড়িয়ে চলতে হবে। এ ফাঁদগুলো সাধারণত যেমন হয়:

জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হওয়া: আগেও বলেছি আমরা গুরুত্বপূর্ণ কাজের চেয়ে জরুরি কাজকে বেশি প্রাধান্য দিই। হয়তো ফোন-কলটা অত জরুরি ছিল না, ফেসবুক নোটিফিকেশনটা তো অবশ্যই জরুরি না। প্রতিবার মোবাইলের আলো জ্বলে ওঠার সাথে সাথে মোবাইল চেক করার অভ্যাসটা দমন করতে শিখুন। আমার জোর পরামর্শ থাকবে-কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেওয়ার সময় মোবাইল সাইলেন্ট অথবা সুইচড অফ করে রাখবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অথবা কল ব্যাক করার জন্য সময় আপনি পাবেন। তাই তৎক্ষণাৎ এসবে সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সাথে সাথে ফোন না ধরার জন্য আমরা অনেকেই বিব্রতবোধ করি। কিন্তু এর কোনো প্রয়োজন নেই। অধিকাংশ মানুষই বুঝে নেয় যে, আপনি হয়তো ব্যস্ত আছেন। না বুঝলেও ধীরে ধীরে এতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে এবং আপনার নির্ধারিত সময়েই আপনাকে কল করবে。

হাতের কাজটি মন দিয়ে না করা: কোনো কাজে দক্ষতা বাড়াতে হলে, সে কাজে অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে। কাজটি স্থিরতার সাথে এবং নিজের মধ্য থেকে করতে হবে। মনোযোগ দেওয়া আমাদের অনেকের জন্য বিশাল এক সমস্যা। এর একেবারে প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো সালাত। সালাত আমাদের মনোযোগ নিবদ্ধ করার সবচে ভালো প্রশিক্ষণের জায়গা হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের অনেকেরই সালাতের মাঝে মনোযোগ থাকে না। মন যেন তখন সালাত ছাড়া আর বাকি সব জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। মাঝেমধ্যে এতটাই ভুলোমনা হয়ে পড়ি যে, ভুলেই যাই কোন সূরাটা পড়ছিলাম অথবা কততম রাকা'আতে ছিলাম। মনোযোগী হতে পারা একটি স্কিল। এ দক্ষতা অর্জন করতে দরকার নিয়মিত চর্চা এবং আত্ম-নিয়ন্ত্রণ। আর এটা চর্চা করার সবচে ভালো জায়গা হলো সালাত। বুঝেশুনে সালাত আদায়ের মাধ্যমে মনোযোগী হওয়ার যাত্রায় অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সালাতে আপনি যেসব সূরা পড়ে থাকেন সেগুলোর অর্থ জেনে নিন, সূরাগুলো নিয়ে একটু পড়াশোনা করুন। এরপর সালাতে ওই সূরাগুলো পড়ার সময় মন দিয়ে পড়ুন। একটি সময় এ অভ্যাসটা ফোকাস অর্জন করতে আপনাকে সাহায্য করবে। আর সালাত থেকে প্রাপ্ত এ অভ্যাস আপনার জীবনের অন্য ক্ষেত্রগুলোতে সহায়তা করবে। মন এক জায়গায় না থাকলে ভালোভাবে এবং দ্রুত কাজ শেষ করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। মনকে এক জায়গায় স্থির রেখে কাজ করলে কাজটি ভালোভাবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যেই শেষ হয়। একটু পর কী করবেন, এসব নিয়ে ভাবতে যাবেন না। গতকাল এবং আগামীকাল দুটোই ভুলে যান এবং হাতের কাজটি মন দিয়ে করুন। তা হলে কাজটি ঠিক মনমতোই হবে।

নিজের এবং নিজের ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য সময় বের না করা: আমি এটা নিয়ে আগেও বলেছি এবং আবার বলাটা বাহুল্য মনে করছি না। আপনিই আপনার সবচে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। নিজের অর্থ-সম্পদ, ক্যারিয়ার এবং সন্তানদের প্রতি যেমন নিবেদিত থাকেন, নিজেকে আরও উন্নত করে তোলার ক্ষেত্রেও তেমন হয়ে উঠুন। নিজের চাহিদাগুলোকে একদমই অবহেলা করবেন না। নিজেকে সময় দিন। এমন না করলে বার্ন-আউট, অমনোযোগিতার স্বীকার হবেন। এমনকি গুনাহে জড়িয়ে পড়ারও সম্ভাবনা থাকে। প্রতি ঘণ্টায় মন হালকা করার জন্য পাঁচ মিনিটের একটি বিরতি নিন। তারপর পরবর্তী কাজে লেগে পড়ুন। দুপুরের খাবারের সময় কাজ থেকে বিরতি নিয়ে আল্লাহর 'ইবাদাত করুন এবং নিজেকে আরেকবার জাগিয়ে তুলুন। আবার সন্ধ্যায়ও বাসায় এমন একটি নির্জন সময় কাটান, একটু মজা করুন এবং সতেজ হয়ে যান। আবার একটু ভালোভাবে তাজা হয়ে উঠতে চাইলে কয়েক মাস পরপর পরিবারের সাথে ছুটি কাটান। অবশ্যই প্রতিদিন নতুন নতুন স্কিল শেখার জন্য সময় বের করতে ভুলবেন না, নিশ্চিত থাকুন এজন্য কখনো আফসোস করবেন না。

একটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে অন্যগুলো অগ্রাহ্য করা: জীবনের কোনো একটি দিক নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়বেন না, যাতে অন্য দিকগুলো অবহেলিত হয়। কিছু মানুষ তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে এত ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে, পরিবারকে সময় দিতে পারেন না। আবার কেউ সন্তানদের প্রতি বেশি মনোযোগী হতে গিয়ে জীবনসঙ্গীর কথা ভুলে যান। কিন্তু সবচে বেশি ঘটে—অন্য সবাইকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে নিজেকেই বঞ্চিত করা। এমনকি ইসলাম মেনে চলার ক্ষেত্রেও রাসূল (সা.) আমাদের ভারসাম্য বজায় রাখতে বলেছেন। 'ইবাদাতে আমাদের এতটা প্রান্তিক হয়ে যাওয়া উচিত না, যার কারণে পরিবার, কাজ এবং সর্বোপরি আমাদের নিজেদেরই অবহেলা করে বসব।

নিচের হাদিসে রাসূল (সা.) এ ধরনের প্রান্তিকতাকে চরমপন্থা হিসেবে অভিহিত করেছেন:
একবার তিনজন সাহাবি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের কাছে এসে তাঁর 'ইবাদাত সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তাদেরকে যখন তা জানানো হলো তারা অবাক হলেন। কারণ, তার পরিমাণ তাদের ধারণার চেয়ে ঢের কম ছিল। তারা ভেবেছিলেন তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে দিবারাত্র নামায-রোযাতেই কাটান। কখনো রাতে ঘুমান না এবং কোনো দিন বিনা রোযায় কাটান না। পরক্ষণে তারা ভাবলেন, তার তো এত বেশি 'ইবাদাতের দরকার নেই। আল্লাহ তা'আলা তাকে নিষ্পাপ রেখেছেন, তার কোনো গুনাহ নেই। তাই খুব বেশি 'ইবাদাত করা তার দরকার নেই। অন্যরা তো তার মতো নয়। তাদের অনেক গুনাহ হয়ে যায়। তাই তাদেরই বেশি বেশি 'ইবাদাত করতে হবে। একজন বললেন, 'আমি রাতভর নামায পড়ব। কখনো ঘুমাব না।' দ্বিতীয়জন বললেন, 'আমি জীবনভর প্রত্যেক দিন রোযা রাখব।' তৃতীয়জন বললেন, 'আমি নারীসঙ্গ পরিহার করে চলব। কখনো বিয়ে করব না।' তাদের একথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কানে গেল। তিনি তাদেরকে বললেন, 'তোমরা এই এই কথা বলেছ?' 'শোনো, আমি কিন্তু আল্লাহকে তোমাদের চেয়ে বেশি জানি। তাই তোমাদের চেয়ে তাকে ভয়ও বেশি করি, অথচ আমি কোনো দিন রোযা রাখি এবং কোনো দিন রাখি না। আমি নামাযও পড়ি এবং ঘুমাইও আর আমি বিবাহও করেছি। (এটাই আমার সুন্নাহ ও নিয়ম)। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ উপেক্ষা করে সে আমার অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত নয়।'

তাই সুখ এবং সাফল্যের চাবি হলো ভারসাম্য। জীবন হলো আল্লাহর অধিকার, সৃষ্টির অধিকার এবং আপনার সত্তার আপনার নিজের প্রতি অধিকারের এক ভারসাম্য। নিচের হাদিস থেকে নেওয়া ঘটনাটি এ কথাটাই সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে:
নবি (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (হিজরাতের পর মাদীনায়) একজন মুহাজির ও একজন আনসারকে ভাই বানিয়ে দিতেন। তিনি সালমান ও আবু দারদার মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করলেন। তারপর সালমান একদিন আবু দারদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে (তাঁর বাড়ি) গেলেন। তিনি দেখলেন আবু দারদার স্ত্রী উম্মে দারদা মলিন কাপড় পরে আছেন। তিনি তাকে বললেন, 'তোমার এ অবস্থা কেন?' তিনি বললেন, 'তোমার ভাই আবু দারদার দুনিয়ার কোনো প্রয়োজনই নেই।' (ইতোমধ্যে) আবু দারদাও এসে গেলেন এবং তার জন্য খাবার তৈরি করলেন। তারপর তাকে বললেন, 'তুমি খাও। আমি রোযা রেখেছি।' তিনি বললেন, 'তুমি খাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি খাব না।' সুতরাং আবু দারদাও (নাক্স রোযা ভেঙে দিয়ে তার সঙ্গে) খেলেন। অতঃপর রাতের বেলা আবু দারদা না নামায পড়তে গেলেন। সালমান তাকে বললেন, '(এখন) শুয়ে যাও।' তিনি শুয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর আবার তিনি (বিছানা থেকে) উঠে না নামায পড়তে গেলেন। আবার সালমান বললেন, 'শুয়ে যাও।' শেষমেশ রাতের শেষাংশে তিনি বললেন, 'এবার উঠে না নামায পড়ো।' তারা দুজনে একত্রে নামায পড়লেন। তারপর সালমান তাকে বললেন, 'নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার প্রভুর অধিকার রয়েছে। তোমার প্রতি তোমার নিজ সত্তারও অধিকার আছে এবং তোমার প্রতি তোমার পরিবারেরও অধিকার রয়েছে। অতএব, তুমি অধিকারগুলো দাও।' তারপর তিনি নবি (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে তাঁকে সমস্ত ঘটনা শুনালেন। নবি (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, 'সালমান ঠিকই বলেছে।'

ফন্ট সাইজ
15px
17px