📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত অগ্রাধিকার

📄 ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত অগ্রাধিকার


আমাদের ক্যারিয়ারের সাথে সম্পর্কিত অগ্রাধিকারগুলো মোটামুটি নিচের প্রকারগুলোতে ভাগ করা যায়। একেকজনের জন্য ব্যাপকতার ক্ষেত্রে আর গুরুত্ব অনুসারে এ প্রকারভেদে ভিন্নতা ঘটতে পারে।

স্বল্পস্থায়ী কাজ: এ কাজগুলো খুব অল্প সময়ে দ্রুততার সাথে সেরে ফেলা উচিত। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার মাঝে এসব কাজ যেন বাধা সৃষ্টি না করে।

দীর্ঘস্থায়ী কাজ: এক্ষেত্রে আমরা অনেকেই ভালোভাবে টাইম ম্যানেজ করতে ভুল করি। নির্ধারিত সময় শেষ হতে আরও দুই মাস সময় বাকি আছে দেখলে আমরা আরও গড়িমসি করি। এভাবে শেষমেশ কাজটি আর সুন্দরভাবে করাও হয়ে ওঠে না। এখানে সমাধান হলো আগেভাগে পরিকল্পনা করা।

প্রথমে দীর্ঘস্থায়ী কাজের ডেডলাইনগুলো চিহ্নিত করা উচিত। এরপর প্রতিদিন ত্রিশ মিনিট সময় কাজটির জন্য বরাদ্দ রেখে কাজ করে গেলে দেখবেন নির্ধারিত সময়ের আগেই আপনার কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এবং শুধু শেষ না, খুব ভালোভাবেই শেষ করতে পারবেন। এতে করে কাজের চাপ এবং দুশ্চিন্তাতেও পড়বেন না।

পেশাগত উন্নয়ন: চারপাশের এত এত জরুরি কাজ এবং অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ভিড়ে আমরা আমাদের পেশাগত উন্নয়ন নিয়ে সহজেই আত্মতুষ্টিতে ভুগি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে হলে পেশাগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আর এজন্য প্রতিদিন কিছু সময় নির্ধারিত করা উচিত, এমনকি প্রতিদিন ত্রিশ মিনিট করে হলেও। বই এবং আর্টিকেল পড়া, সেমিনারে অংশগ্রহণ করা এসবের মাধ্যমে নিজেকে নিয়মিত উন্নত করতে হবে এবং এভাবে একজন পেশাজীবী হিসেবেও দক্ষ হয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

আপনার যোগ্যতা যত বাড়বে, চাকরির সুযোগও তত বেশি আসবে, একইসাথে আপনার স্যালারিও ভালো হবে। বাস্তবতা হলো, পেশাগত দক্ষতাই আপনার সামনের জীবনে সবচে বেশি কাজে আসবে। কিন্তু খুব কমই আমরা এ বিষয়টাকে আমলে নেই।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 পারিবারিক অগ্রাধিকার

📄 পারিবারিক অগ্রাধিকার


এটা বেশ সহজ। অগ্রাধিকারের ধরন নির্ভর করবে আপনার পারিবারিক কাঠামোর ওপর।

জীবনসঙ্গী: আপনার জীবনসঙ্গীর জন্য প্রতিদিন সময় বের করুন। এটা করার সবচে ভালো উপায় হলো, বাচ্চাদের সাথে বেডটাইমটা আগে সেরে নেওয়া। ওরা ঘুমিয়ে যাবার পর একটি অখণ্ড ও সুন্দর সময় আপনার স্বামী/স্ত্রীর সাথে ব্যয় করুন। এটা হলো সাধারণ নিয়ম। কিন্তু বহুবিবাহের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটবে। এসব ক্ষেত্রে টাইম ম্যানেজমেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে সব স্ত্রীর জন্যই সময় বের করতে হবে এবং সবাইকেই সমান সময় দিতে হবে।

সন্তান-সন্ততি: অনেকে নিজের বাচ্চাদের সাথে একদমই সময় কাটান না। হয় এড়িয়ে যান অথবা নানা রকম গ্যাজেট দিয়ে ওদের ডুবিয়ে রাখেন, যাতে বাচ্চারা বিরক্ত না করে। ভুলে গেলে চলবে না, আপনার সন্তানেরাই এ পৃথিবীতে এবং আখিরাতের জন্য আপনার সর্বোত্তম বিনিয়োগ। তাদের আপনি সবচে ভালো যে উপহারটা দিতে পারেন, সেটা হলো আপনার সময়। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর আপনার কাজ শেষে এক ঘণ্টা সময় আপনার বাচ্চাদের জন্য রাখুন। ওদের সাথে আনন্দময় সময় কাটান। এভাবে আপনাদের সম্পর্কে একটি পরিবর্তন দেখতে পাবেন, একইসাথে এর মাধ্যমে ওদের বেড়ে ওঠাটাও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে।

বাবা-মা: তাদের সাথে একই বাসায় থাকলে তাদের জন্য প্রতিদিন সময় বের করুন। আর যদি একইসঙ্গে না থাকেন, তা হলে ফোনে যোগাযোগ করুন এবং সপ্তাহে অন্তত একবার তাদের দেখতে যান। তাদের অবহেলা করবেন না। কারণ, তাদের সন্তুষ্টিতেই আপনার জান্নাত পাওয়া সহজ হবে। বাবা-মাকে সময় দেওয়া প্রত্যেকের জীবনেই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

ভাই-বোন: আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমরা প্রত্যেকে আমাদের নিজেদের জীবন নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আমাদের ভাই-বোনরাও তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে দূরত্ব তৈরি হয়। মুসলিম হিসেবে আমাদের অবশ্যই পারিবারিক বন্ধন রক্ষা করার ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে। এজন্য নিজেদের মধ্যে মেসেজিং করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংযুক্ত থাকা এবং সময় সময় একে অপরকে দা'ওয়াত দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 সামাজিক কর্তব্য

📄 সামাজিক কর্তব্য


সমাজে কোনো না কোনোভাবে ভূমিকা রাখতে ইসলাম আমাদের উৎসাহিত করে। কিন্তু কাজের ব্যস্ততায় আমরা অনেকেই সমাজ থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্নই হয়ে পড়ি। কমপক্ষে যে সামাজিক কর্তব্যগুলো আমাদের পালন করা উচিত সেগুলো হলো:

দা'ওয়াহ: ইসলামের বার্তা অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া প্রতিটা মুসলিমের জন্য আবশ্যক। অনেকভাবেই আমরা এটা করতে পারি। এটা হতে পারে আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ইসলাম নিয়ে কিছু পোস্ট করে অথবা আপনার প্রতিবেশী কিংবা সহকর্মীর সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে। যাই হোক না কেন, দা'ওয়াহ আমাদের জীবনের অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে অবশ্যই যেন থাকে।

সামাজিক সেবা: আপনার নিজের এলাকাতে সমাজসেবামূলক কোনো কাজে অংশ নিতে পারেন। যদি বেশি সময় দিতে পারেন তা হলে তো ভালোই, না পারলে অল্প সময় হলেও দিন। এলাকার ভেতরে এমন অনেক কাজ রয়েছে, যাতে আপনি অন্ততপক্ষে সপ্তাহে একদিন হলেও সময় দিতে পারবেন। যদি এমন কোনো কাজ না পান, তা হলে আমার পরামর্শ হলো আপনি নিজেই কোনো সেবামূলক কাজের উদ্যোগ নিন।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 ব্যক্তিগত অগ্রাধিকার

📄 ব্যক্তিগত অগ্রাধিকার


এ জায়গায় অবহেলার পরিমাণ অন্য সব জায়গার চেয়ে অনেক বেশি। আমরা অন্যের জন্য কাজ করতে, ক্যারিয়ার নিয়ে পাগলামিতে এতই ব্যস্ত থাকি যে, নিজেদের জন্যই আমাদের তেমন একটি সময় বাকি থাকে না। আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং ব্যক্তিগত উন্নয়নের দিকে আমরা তেমন একটি মনোযোগ দিতে পারি না। কিন্তু এভাবে কখনই মানসিক প্রশান্তি আসবে না। আমাদের নিত্য দুশ্চিন্তা ও কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে কিছু ব্যক্তিগত অগ্রাধিকারের জায়গা ঠিক করতে হবে। আর প্রতিদিন একটু একটু করে উন্নত হবার চেষ্টা করে যেতে হবে। আর এজন্য যে কাজগুলো করতেই হবে, সেগুলো হলো:

পর্যাপ্ত ঘুম এবং খাওয়া: বেশি ঘুম এবং খাওয়া যেমন ক্ষতিকর, কম হলেও তেমনি। অতিরিক্ত ঘুম এবং খাওয়া আমাদের স্নায়ুকে দুর্বল করে তোলে, আলস্য সৃষ্টি করে। আবার অল্প পরিমাণ হলে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে, সতেজ ভাবটা থাকে না। এক্ষেত্রে আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে কত ঘণ্টা ঘুম আপনার লাগবেই (সাধারণত অনেকের ক্ষেত্রে ৬-৮ ঘণ্টা), আর সেভাবেই ঘুমের সময় ঠিক করুন। আর খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের চেয়ে কী খেলেন এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্ট সবচে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাই ব্রেকফাস্ট কখনোই মিস করবেন না। সারা দিন সতেজ এবং প্রাণবন্ত থাকার জন্য সকালের খাবারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বিনোদন এবং বিশ্রাম: অনেকে মনে করে মুসলিম হওয়া মানেই সারাক্ষণ ভালো কাজে ব্যস্ত থাকা, বিনোদন কিংবা বিশ্রামের জন্য কোনো সময়ই না থাকা। অথচ ব্যাপারটা মোটেও এমন না। ইসলামি জীবনাচারের পরিসীমার ভেতরেই হালাল বিনোদনের যথেষ্ট জায়গা আছে। তা ছাড়া মানুষ হিসেবেই আমাদের বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। যথেষ্ট বিশ্রাম এবং বিনোদন না পেলে আমাদের সজীবতা হারিয়ে যায়। তাই নিজের জন্য মানানসই কোনো বিনোদনের উপায় খুঁজে নিন। এরপর সেটার জন্য একটি সময় বরাদ্দ করুন। (গড়ে একজন মানুষের ১-২ ঘণ্টা বিনোদনের দরকার হয়)।

ব্যক্তিগত উন্নয়ন: আমাদের জীবনে উন্নতির অনেক জায়গা আছে। এমন সুপ্ত প্রতিভা আমাদের মাঝে আছে, যা দিয়ে আমরা চমৎকার সব কাজ করতে পারি। কিন্তু যতটা মনোযোগ দিলে অনেক কিছু করা সম্ভব হতো, এ জায়গায় আমরা ঠিক ততটা মনোযোগ দিচ্ছি না। আমার পরামর্শ থাকবে-প্রতিদিন ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য ত্রিশ মিনিট সময় রাখা। এসময় নিজেকে নির্জনে কিছু সময় দেওয়া উচিত। ব্যক্তিগত উন্নয়ন মানে নতুন কোনো স্কিল আয়ত্ত করা অথবা এমন কোনো জ্ঞান অর্জন করা, যা আপনার জীবনমান এবং ব্যক্তিত্বকে উন্নত করবে। যেমন, আত্মিক প্রশান্তি, চাপ নিয়ন্ত্রণ, টাইম ম্যানেজমেন্ট এবং রাগ নিয়ন্ত্রণ।

ব্যক্তিগত উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মূলত আমার এ বইটি লিখতে শুরু করা। সাধারণ মানুষের কাছে, যাতে ব্যক্তিগত উন্নয়নের একটি যথাযথ সিলেবাস থাকে, সে প্রেরণা থেকেই আমি ধারাবাহিক বই লেখার পরিকল্পনা করি। এ সিরিজের বইগুলো তাদের সে চাহিদাটা পূরণ করবে, এটাই মূল ইচ্ছা ছিল। প্রতিদিন কিছু সময় আত্মোন্নয়নে ব্যয় করলে নিজের মাঝেই বিশাল এক পরিবর্তন দেখতে পাবেন। দেখতে পাবেন কীভাবে আপনি প্রতি বছর আগের চেয়েও উন্নত হয়েছেন, আর নিজের এ পরিবর্তন অবশ্যই আপনার কাছেও ভালো লাগবে।

সব অগ্রাধিকারই কি রাখা সম্ভব? আসলে এগুলো তেমন কিছুই না। টাইম ম্যানেজমেন্ট যখন আপনার হাতের মুঠোয় এসে যাবে, তখন এর চেয়ে তিনগুণ বেশি কাজ আপনি করতে পারবেন। এখানে মূল কথা হলো, প্রতিটা কাজের জন্য সময় বের করা। খাতা-কলম (ল্যাপটপ অথবা ট্যাব) নিয়ে বসে ঠিক করুন সপ্তাহের কোন দিন কোন সময়ে কাজগুলো করবেন। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, আপনি সবগুলো কাজ করারই সময় পাবেন। এরপরও অনেক সময় বাকি থেকে যাবে যেগুলোতে ইমেইল এবং কলের উত্তর দিতে পারবেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px