📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 সময়-ব্যবহার সমালোচনা

📄 সময়-ব্যবহার সমালোচনা


একদিনের জন্য নিজের সমালোচক নিজেই হয়ে যান। আপনি আপনার সময়কে কীভাবে ব্যবহার করছেন, সেদিকটা একদিন মনিটর করুন। এভাবে একদিন প্রতিটা ঘণ্টাকে বিশ্লেষণ করার পর সেদিন রাতে রিপোর্ট হাতে নিয়ে বসুন। দেখুন কেমন গেল দিনটা। আমি নিশ্চিত আপনি চমকে যাবেন।

ঠিক কোন কোন সময় এবং কীভাবে আপনার সময়গুলো নষ্ট হচ্ছে, সেটা দেখতে পাবেন। এটা জেনে গেলে এরপর থেকে আরও ভালোভাবে সময়গুলো ব্যবহার করতে পারবেন। এ ধাপটাকে একদমই অবহেলা করবেন না। ৮০/২০ নীতি নামে একটি বিখ্যাত নীতি আছে। এ নীতি মাথায় রাখলে দেখবেন যে, অধিকাংশ মানুষই তাদের সময়ের সিংহভাগ অপচয় করে ফেলে আর অল্প একটি অংশ মাত্র কাজে লাগাতে পারে।

৮০/২০ নীতিটা মূলত অর্থনীতির বিষয়। এর মানে হলো আমাদের প্রতিদিনকার মাত্র ২০ ভাগ কাজ থেকে ৮০ ভাগ ফল অর্জিত হয়। আর ৮০ ভাগ কাজ মাত্র ২০ ভাগ ফল উৎপাদন করে। তাই যে কাজগুলোর প্রোডাক্টিভিটি বা উৎপাদনক্ষমতা বেশি, সেগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। একই সাথে বেশির ভাগ সময় নষ্টকারী কাজগুলোও চিহ্নিত করতে হবে।

৮০/২০ নীতির অনেক উদাহরণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনেই পাওয়া যাবে। যেমন, সালাত শুধু দিনে পাঁচবার পড়তে হয় কিন্তু এর আত্মিক প্রভাব সারা দিনের অন্যান্য কাজ থেকে বেশি। আবার আমরা তিন বেলা খাই। কিন্তু সারা দিন চলার শক্তি আসে এ তিন বেলা খাবার থেকেই।

এমনকি কর্মজীবনেও কিছু কাজের গুরুত্ব অন্যসব কাজ থেকে বেশি। ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য আমরা যে সময়টুকু দিই, সে সময়টুকু প্রাতিষ্ঠানিক অন্যান্য কাজে ব্যয় করা সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নিজেকে এক ঘণ্টা সময় দেওয়া যথেষ্ট অথচ এর প্রভাব জীবন বদলে দেওয়ার মতো। কিন্তু আমাদের জীবনে কোনো দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব না ফেলেই প্রাতিষ্ঠানিক কাজগুলোর পেছনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় চলে যেতে পারে।

আমাদের জীবনে ছোট ছোট অনেক কাজের প্রভাব লম্বা লম্বা কাজগুলোর চেয়ে বেশি। আমাদের গোটা জীবন এ ছোট ছোট কাজগুলো দিয়েই গড়ে উঠেছে। কিন্তু আমরা এ বিষয়টা তেমন খেয়ালই করি না। এ বিষয়টা গুরুত্বসহ নিলে জীবনের মোড়টাই বদলে যায়। কারণ, তখন ঠিক জায়গায় সময়টাকে কাজে লাগানো যায়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ধরুন, আপনি শিক্ষকতা করেন এবং শিক্ষকতাই আপনার সবচে প্রোডাক্টিভ কাজ। আগে সপ্তাহে দুই ঘণ্টা মাত্র ক্লাস নিতেন। কিন্তু এখন প্রতি সপ্তাহে ক্লাসের সংখ্যা আরও বাড়াবেন এবং ক্লাসগুলো আরও মানসম্মত করার চেষ্টা করবেন। তা হলে সময় নষ্টকারী বা অযথা কিছু কাজ বাদ দিতে পারেন। সে সময়টা বরং শিক্ষকতা করানোতে দিতে পারেন।

আবার ধরুন, আপনার চারটা ব্যবসায়িক বিনিয়োগ রয়েছে। কিন্তু সবচে ছোট ব্যবসাটা থেকেই বেশি লাভ আসছে। এক্ষেত্রে ওই ছোট ব্যবসায়ের পেছনে আপনার সময় এবং অর্থ দেওয়া উচিত এবং অন্য যে ব্যবসাগুলো থেকে কোনো লাভই হচ্ছে না, সেগুলো ধীরে ধীরে বন্ধ করে দিতে পারেন।

দেখুন, ৮০/২০ নীতিটি আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে এমনকি ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও কাজের এবং অকাজের, সময় নষ্টের জায়গাগুলো চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। ৮০% এবং ২০% কিন্তু বাঁধাধরা না, এটা শুধুই একটি সংখ্যাজোড়। ৮০/২০ নির্দেশ করে যে কাজগুলোতে আমরা খুব কম সময় দিই, সাধারণত সেগুলোর প্রভাব আমাদের জীবনে অন্য কাজগুলোর চেয়ে বেশি। এ নীতিটির মাধ্যমে আপনার প্রতিদিনের কাজগুলোর একটি মূল্যায়ন করে ফেলুন, তখন নিজেই এর ফলাফল দেখতে পাবেন। এই যে সময়ের হিসাব নেওয়া, নজরদারির মধ্যে রাখা, এ ব্যাপারটা ইসলামেও আছে। সময় নষ্ট না করা, প্রতিটা ঘণ্টার ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা-গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি মূল্যবোধ। এসব অনেকটা মুহাসাবাহর সাথে মিলে যায়।

মুহাসাবাহর বাংলা অর্থ হতে পারে, আত্ম-পর্যবেক্ষণ অথবা নিজের হিসেব নিজে নেওয়া। নিজের নিয়্যাত আর হৃদয়কে সব সময় পর্যবেক্ষণ করতে থাকার পদ্ধতি হলো মুহাসাবাহ। মুহাসাবাহর এ ধারণা আমরা টাইম ম্যানেজমেন্টেও নিয়ে আসতে পারি। কারণ, প্রবৃত্তির নিয়ন্ত্রণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকাও তেমন গুরুত্বপূর্ণ।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 টাইম ম্যানেজমেন্টের পদ্ধতি

📄 টাইম ম্যানেজমেন্টের পদ্ধতি


যদি আপনার সময় ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ইতোমধ্যে মুহাসাবাহ করে থাকেন, তা হলে নিশ্চয়ই জেনে গেছেন যে, দিনে আপনার কমপক্ষে ৪-৬ ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। সামনে আপনাদের এমন কিছু পদ্ধতির সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব, যেগুলো অনুসরণ করলে সময় আর এভাবে নষ্ট হবে না।

আমাদের সবার জীবনযাপনের ধরন ভিন্ন। তাই টাইম ম্যানেজমেন্টেও সর্বজনীন কোনো পদ্ধতি নেই। অর্থাৎ একটি পদ্ধতি সবার ক্ষেত্রে খাটবে না। আমি এখানে আমার অভিজ্ঞতা মোতাবেক টাইম ম্যানেজমেন্টের জন্য সবচে কার্যকর পদ্ধতিগুলো তুলে ধরব এবং ঠিক কোন ব্যক্তিত্বের সাথে কোন পদ্ধতি যায়, সেটাও উল্লেখ করব।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 সাপ্তাহিক পরিকল্পনা পদ্ধতি

📄 সাপ্তাহিক পরিকল্পনা পদ্ধতি


টাইম ম্যানেজমেন্টের জন্য প্রথম যে পদ্ধতিটা আমি গ্রহণ করি সেটা ছিল 'সাপ্তাহিক পরিকল্পনা পদ্ধতি'। এ পদ্ধতির কথা জানতে পারি স্টিফেন কভের '7 Habits of Highly Effective People' বই থেকে। টানা দুই বছর, ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলাম। পদ্ধতিটি আমার জন্য খুব কার্যকরী ছিল। সবকিছু ঠিকঠাকমতো ব্যবস্থা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সেরে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। সাপ্তাহিক পরিকল্পনা পদ্ধতির মূল কথা হলো, সপ্তাহের সাতটি দিনের প্রতিটা ঘণ্টার কাজের একটি লিস্ট করে রাখা।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 পদ্ধতিটির ভালো দিক হলো

📄 পদ্ধতিটির ভালো দিক হলো


এর মাধ্যমে আপনার সামনের দিনগুলোর করণীয় আগে থেকেই ঠিক হয়ে থাকে। কখনো অলস বসে থাকবেন না বা এরপর কী করবেন, তা নিয়ে ভাবনায় থাকবেন না। এখানে সবকিছুই পরিষ্কার এবং নিয়মতান্ত্রিক। আপনি যদি খুব গোছানো, পেশাদার কোনো ব্যক্তি হন, তবে সাপ্তাহিক পরিকল্পনা পদ্ধতি আপনার জন্যই।

এ পদ্ধতির প্রধান সমস্যা হলো প্রশস্ততার অভাব। সমস্যাটি সমাধানের জন্য আমি পরবর্তী সময়ে প্রতিদিন এক ঘণ্টা সময় হাতে রেখে পরিকল্পনা করেছি। এই এক ঘণ্টা আমি সে কাজগুলো করব যেগুলো আমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারিনি। তারপরও একটু ব্যস্ত জীবনযাপনকারীদের জন্য এ পদ্ধতিটি মেনে চলা কঠিন। যেমন কর্মজীবী মা, হোম-স্কুলিং করছেন এমন অভিভাবক এবং সারা দিন নানা রকম মিটিং এ ব্যস্ত থাকা লোকজন। তাই তাদের জন্য আরেকটি পদ্ধতির কথা তুলে ধরছি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px