📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 সময়ের বারাকাহ নেই?

📄 সময়ের বারাকাহ নেই?


নিচের কথোপকথনটা দেখুন, চেনা চেনা লাগে?

আহমাদ : শুক্রবার চলে এল। সময়গুলো যে কীভাবে চলে যায়!
আয়িশা : হ্যাঁ, সপ্তাহটা যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। সময়ের যেন কোনো বারাকাহ নেই।
আহমাদ : কিয়ামতের লক্ষণ এটা। কোনো কিছুই যেন করা হচ্ছে না ইদানীং। কাজ করতে করতে আর বিল দেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে আর কিছু করার সময়ই পাই না।
আয়িশা : ঠিক বলেছ। বাচ্চা আর ঘরের কাজ সামলাতে সামলাতেই সময় শেষ হয়ে যায়। একটি বই পড়ি না কত মাস হয়ে গেল!
আহমাদ : কী আর করবে? এটাই তো জীবন, তাই না?
আয়িশা : হ্যাঁ, এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে।

ওপরের কথোপকথনের সামান্য অংশও যদি চেনা মনে হয়, তা হলে আপনার জন্য সুখবর! দরকারি বইটিই কিনেছেন। এ বইয়ে আপনি কিছু সুন্দর অভ্যাস ও কৌশল শিখবেন, যেগুলো অনুসরণ করে আপনি সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারবেন।

অনেকেই অভিযোগ করে—সময়ের বারাকাহ চলে গেছে। কিন্তু আমি মনে করি না, সব ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য। বারাকাহ আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার এবং কেউ তাঁর কাছে বারাকাহ চাইলে, পাওয়ার চেষ্টা করে গেলে তিনি তাকে সেটা দেন। তো আপনি যদি আল্লাহর কাছে সময়ের বারাকাহ চেয়ে দু'আ না করে থাকেন, আপনাকেই বলছি, এখনই যান। (হ্যাঁ! বই বন্ধ করুন, আগে দু'আ করে আসুন, শেষ হলে এ পৃষ্ঠা থেকে আবার পড়া শুরু করুন)। যদি আপনি বারাকার জন্য দু'আ করেও কোনো পরিবর্তন দেখতে না পান, তা হলে আপনার জীবনযাপনে পরিবর্তন দরকার। হতে পারে আপনার কিছু অভ্যাস বদলাতে হবে এবং এভাবে বারাকাহ পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে যেতে হবে। এ বইটি সে কাজেই আপনাকে সহযোগিতা করবে।

সামনের অধ্যায়গুলোতে আমরা কিছু অভ্যাস এবং কৌশলের ব্যাপারে জানব, যা পরীক্ষিত এবং শতভাগ হালাল! (আধ্যাত্মিক এবং জাগতিক উভয়দিক থেকে)। সময় গোছাতে এবং জীবনের লক্ষ্য পূরণে এগুলো আপনার সহায়ক হবে।

শুরু করার আগে একটি গল্প বলি। কীভাবে আমি টাইম ম্যানেজমেন্ট আবিষ্কার করি এবং কীভাবে এ আবিষ্কার আমার জীবন গোছাতে সাহায্য করেছিল, সেই গল্প।

'৯০ ও '০০-এর দশকে বেড়ে ওঠা আমার প্রজন্মটা ছিল 'সময় নষ্টের' কাজে উসতাদ। ভিডিও গেমস, মুভি ছিল সময় নষ্টের অন্যতম উপকরণ। এভাবে সময় অপচয় করে দিন শেষে আমরাই আবার আফসোস করতাম, বড় কোনো কাজ করার মতো সময়ই পাই না। আর আমিও যেহেতু এ প্রজন্মেরই একজন, এমন কিছু বদঅভ্যাস আমারও ছিল। যেগুলো আপনাদের মাঝেও কারো কারো থাকতে পারে। যেমন, সময়ের কোনো হিসেব ছাড়াই রাত জেগে ভিডিও গেমস খেলা, মজার কোনো কাজ করতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করে দেওয়া এবং সবচেয়ে বাজে মাল্টি-টাস্কিং করা।

২০১০ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে আমি ইসলামিক অনলাইন ইউনিভার্সিটিতে যোগ দিই। যোগ দেবার সাথে সাথেই কাজের প্রচণ্ড চাপে আমি দিশেহারা হয়ে পড়ি। আমাকে সপ্তাহে ছয়টা ক্লাস নিতে হতো, ই-মেইল আর ফোরাম পোস্টের উত্তর দিতে হতো, আর এসাইনমেন্ট গ্রেডিং-এর কাজও ছিল। আমার মনে পড়ে, সে বছর হাজ্জের সময় আজিজিয়াতে আমি আমার শিক্ষক ড. বিলাল ফিলিপ্সের সাথে আলাপ করি। সেখানে তাকে আমার কাজের প্রচণ্ড চাপের ব্যাপারে অনুযোগ করি। তিনি তখন বললেন, আমি যেন একটি উপায় বের করে নিই। কারণ, কাজের চাপ বাড়বে বই কমবে না। হোটেলে ফেরার সময় তার কথাটি ভেবে দেখলাম। হাজ্জ থেকে ফিরে এসে সিদ্ধান্ত নিলাম, সময়কে আরও ভালোভাবে কাজে লাগানোর পদ্ধতি নিয়ে কিছু পড়াশোনা করব। তখন থেকে বিগত পাঁচ বছর ধরে আমি সেল্ফ-হেল্প এবং টাইম-ম্যানেজমেন্টের ওপর অনেকগুলো বই পড়েছি। প্রতিটা বই থেকেই আমি অনেক নতুন নতুন কৌশল এবং অভ্যাস সম্পর্কে জেনেছি, যেগুলো আমার দারুণ কাজে এসেছে।

আল-হামদু লিল্লাহ, এখন আমি IOU-এর প্রধান সহকারী শিক্ষক। এখন সপ্তাহে আমি ১২ ঘণ্টা ক্লাস নিই, প্রতি সেমিস্টারে ১০০০-এরও ওপর এসাইনমেন্ট গ্রেড করি। এ ছাড়া আমার ছেলে-মেয়েদের বাসায় পড়াই, বই আর প্রবন্ধ লিখি, অন্য প্রতিষ্ঠানেও পড়ানো হয় এবং সারা সপ্তাহ জুড়ে আরও অনেক কাজ করি। আমি বিশ্বাস করি এটা আসলে দুটো কাজের ফলাফল-
• বারাকার জন্য দু'আ করা।
• প্রতিনিয়ত সময়ের সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

• তো, আমি বইটি লেখার ব্যাপারে ধারণা পাই ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এই বিষয়ের ওপর কিছু লেখা ছিল আমার বহুল আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন। আমি ইতোমধ্যে অবশ্য টাইম ম্যানেজমেন্টের ওপর অনেক প্রবন্ধ লিখেছি, ওয়েবিনারে বক্তব্য রেখেছি আর ফেসবুকে অল্পস্বল্প কিছু টিপস পোস্ট করেছি।

যাহোক, আমার মনে হতো এ বিষয়ের ওপর লেখনীগুলোতে বড় ধরনের কিছু ফাঁক ছিল। বেশির ভাগ বই সেক্যুলার দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা (তারপরও অবশ্যপাঠ্য)। আর ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা বইগুলো হয় এতই যে, মূল বিষয়ের প্রতি মোটেও সুবিচার করা হয়নি; আর নয়তো এতই বিস্তারিত যে, সাধারণ মানুষ সেটা পড়ার আগ্রহই পাবে না। তাই টাইম ম্যানেজমেন্টের ওপর এ বইটি লেখা আমার লক্ষ্য বানিয়ে ফেলেছিলাম। সেই সঙ্গে দু'আ করছি সেল্ফ-হেল্প সিরিজের বইগুলোর জন্য এ বইটি যাতে একটি ভালো ভূমিকা হয়।

এ বইটি আমার পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য উপহার। আমার সারা দিনের পুরো সময়টার সর্বোচ্চটুকু কাজে লাগানোর জন্য যে কৌশল, অভ্যাস এবং টিপসগুলো অনুসরণ করি, সেগুলো এখানে আমি আপনাদের সাথে ভাগাভাগি করব, যাতে করে আপনারাও আপনাদের সময়কে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারেন। এভাবে একদিন, আমাদের প্রিয় পৃথিবীতে আমাদের বসবাস আরো উপভোগ্য হয়ে উঠবে, আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে।

সময়কে ভালোভাবে কাজে লাগানোর মৌলিক যেসব ধারণা, অভ্যাস এবং কৌশল রয়েছে, সেগুলো আমরা সামনের অধ্যায়গুলোতে দেখব। প্রতিটা অধ্যায়ের শেষে থাকবে 'যা যা করব' বিভাগ। এটা মূলত প্রায়োগিক দিকগুলো নিয়ে গঠিত। আমার পরামর্শ থাকবে এ বিভাগে উল্লিখিত কাজগুলো যেন ঠিকভাবে করা হয়, নিজের জীবনে কাজে লাগানো হয়। এতে করে নিজ নিজ জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আপনারা নিজেরাই অনুভব করবেন।

এ বইটি প্র্যাক্টিক্যাল। শুধুই পড়ে গেলেন, 'খুব ভালো বই' বলে প্রশংসা করলেন, শেষমেশ বুকশেলফে ফেলে রাখলেন, এমনটা করা যাবে না। বরং আপনার উচিত হবে, এখানে বর্ণিত কৌশলগুলো চেষ্টা করে দেখবেন এবং নিজের জীবনে প্রয়োগ করবেন।

আল্লাহ যেন আমাকে এ সিরিজের বইগুলো শেষ করার তাওফিক দেন, আমার কাজ কবুল করে নেন এবং এ বইটিকে পাঠকের জন্য উপকারী বানিয়ে দেন। আমীন।

যা যা করব
বইটি পড়ে শেষ করুন:)

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 সময়ের ব্যাপারে আমাদের দায়বদ্ধতা : ইসলামি দৃষ্টিকোণ

📄 সময়ের ব্যাপারে আমাদের দায়বদ্ধতা : ইসলামি দৃষ্টিকোণ


'রিষ্ক' নিয়ে আমাদের অনেকেরই ভুল ধারণা আছে। এ অধ্যায়টা বোঝার আগে রিস্ক নিয়ে আমাদের ধারণা পরিষ্কার হওয়া দরকার। আল্লাহ আমাদের যা যা দিয়েছেন, সে সবকিছুই রিস্ক। এটার ভালো বাংলা হতে পারে—সম্পদ। অনেকে রিস্ক বলতে শুধুই জাগতিক ধন-সম্পদ বোঝেন। আসলে ধন-সম্পদ, সুস্বাস্থ্য, যৌবন, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, নিরাপত্তা, জ্ঞান এবং সব ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতাই রিস্ক হতে পারে। এ ছাড়া এ বইয়ের মূল আলোচ্য—সময়ও রিষ্কের মধ্যে পড়ে।

সময় যে রিষ্কের একটি অংশ, এটা আমাদের বুঝতে এবং মেনে নিতে হবে। তা হলেই টাইম ম্যানেজমেন্টের সত্যিকার গুরুত্ব উপলব্ধি করা সম্ভব। সুস্বাস্থ্য এবং ধন-সম্পদের মতো সময়ও রিষ্কের অংশ। কিন্তু অন্যান্য রিষ্কের তুলনায় সময়ের দুটো অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে:

* এক দিনে প্রতিটা মানুষের জন্য নির্ধারিত সময়ের পরিমাণ একই।
* সময় নবায়নযোগ্য নয়, অর্থাৎ সময় একবার চলে গেলে আবার পাওয়া যায় না।

পৃথিবীতে একজন মানুষের জন্য কতটুকু সময় বরাদ্দ, এটা একমাত্র আল্লাহই জানেন। আর এই দিক বিচারে তাই সময় অন্যান্য রিষ্কের মতোই। পৃথিবীতে কেউ খুব অল্প সময়ই বাঁচে কিন্তু এর মাঝেই সে অনেক কিছু করে যায়। কারণ সে সময়কে মূল্য দিয়েছে। কেউ আবার অনেকদিন বাঁচার পরও তেমন কিছু করে যেতে পারে না। কারণ, সে সময়ের মূল্য অনুধাবন করতে পারেনি।

"সময় হলো তরবারির মতো; তুমি যদি তাকে ব্যবহার না করো, সে-ই তোমাকে ব্যবহার করবে।" (ইমাম আশ শাফিঈ রহ.)

ওপরের বৈশিষ্ট্যগুলো সময়ের ব্যাপারে আমাদের ধারণাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। আর নিচের তিনটা পয়েন্ট আমাদের কাছে সময়ের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলবে।

* নির্দিষ্ট পরিমাণ সময়কে কোনোভাবেই বাড়ানো সম্ভব না। তবে অন্যদের চেয়ে সময়কে আরও ভালোভাবে কাজে লাগিয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকা সম্ভব।
* যেহেতু সময় ফিরে পাওয়া যায় না, কাজেই সময় অপচয় করাটা বোকামি। কেন এমন সম্পদ আপনি অপচয় করবেন, যা কিনা ফিরে পাওয়া যায় না?
* আমরা কেউই জানি না আমরা কতদিন বেঁচে থাকব। তাই বর্তমান সময়টা নষ্ট করার মতো বিলাসিতা কি আমাদের করা উচিত? কোনোভাবেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ভবিষ্যতের জন্য ফেলে রাখা উচিত নয়।

এগুলো মাথায় রাখলে আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, সময় কত গুরুত্বপূর্ণ এক সম্পদ। আরও বুঝতে পারি, সময় নষ্ট করা টাকা নষ্ট করার চেয়েও খারাপ! কারণ, টাকা আবারও ফিরে আসতে পারে কিন্তু সময় কখনোই ফিরবে না। সময় নিয়ে যত হাদিস আছে, সেগুলোকে এ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে হাদিসগুলোর অর্থ আমাদের কাছে আরও পরিষ্কার হয়ে যায়। নিচের হাদিসটিকে ওপরের কথাগুলোর আলোকে বিবেচনা করা যাক,

“পাঁচটি জিনিসের পূর্বে পাঁচটি জিনিস থেকে উপকৃত হয়ে নাও। বার্ধক্যের আগে তারুণ্য, অসুস্থতার আগে সুস্থতা, দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতা, ব্যস্ততার আগে অবসর এবং মৃত্যুর আগে জীবন।” (শু‘আবুল ঈমান ৯৫৭৫; সহীহ আল জামে ১০৭৭)

লেখকের মন্তব্য:
* হাদিসটিতে যেসব জিনিসের কথা বলা হয়েছে সবই এক প্রকার রিস্ক। যেমন, তারুণ্য, সুস্বাস্থ্য, ধন-সম্পদ, অবসর এবং আমাদের জীবন।
* তাই এসব আমরা কীভাবে কাজে লাগাচ্ছি, এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত।
* লক্ষ করলে দেখবেন, হাদিসটিতে অবসর সময়ের কথা বলা হয়েছে, পুরো চব্বিশ ঘণ্টার কথা বলা হয়নি। আমাদের প্রতিদিন অনেক পার্থিব প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয়। যেমন, সালাত, চাকরি ইত্যাদি। এ সময়গুলোতে অন্য কিছুই করা সম্ভব নয়। তাই আসলে গোটা চব্বিশ ঘণ্টা নয় বরং অবসর সময়কে আমরা কীভাবে কাজে লাগাচ্ছি সেটাই বিবেচ্য।

"দুটি এমন নিয়ামাত আছে, যার ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষই উদাসীন। এগুলো হলো, সুস্থতা এবং অবসর।" (সহীহ আল বুখারী)

লেখকের মন্তব্য:
* হাদিসটিতে দুটি বিষয়কে সামনে আনা হয়েছে-সুস্থতা এবং অবসর।
* এ দুটি বিষয়ই ভালো কাজ করার জন্য খুব দরকার। সুস্বাস্থ্য এবং পর্যাপ্ত সময় ছাড়া ভালো কাজ করাটা খুব কঠিন।
* উভয় বিষয়কেই আমরা যেন আমাদের প্রাপ্য জিনিস বলে ধরে নিই। দাঁত থাকতে যেন দাঁতের মর্যাদা বুঝি।
* এ নিয়ামাতগুলোর জন্য আল্লাহর কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত। আর এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এ নিয়ামাতগুলো ভালো কাজে ব্যবহার করা। তাই অবসরকে কাজে লাগাতে হবে, কিছুতেই সময় নষ্ট করা যাবে না।

"আল্লাহ বলেছেন, আদম সন্তান সময়কে গাল-মন্দ করে আমাকেই ছোট করে। আমিই সময়, আমার হাতেই সবকিছু এবং আমিই দিন-রাতের আবর্তন ঘটাই।”

লেখকের মন্তব্য:
* এই হাদিসুল-কুদসিতে আল্লাহ বলছেন, তিনিই সময়। 'আলিমগণ এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, সময় আল্লাহর অধীনে এবং আমাদের প্রাপ্ত সময়টুকু তাঁরই দেওয়া। তাই এটি এক ধরনের নিয়ামাত। এজন্য সময়কে গাল-মন্দ করাটা আল্লাহকে গাল-মন্দ করার মতোই।
* একটি দিনে আমরা সবাই একই পরিমাণ সময় পাই। কেউ কম বা বেশি না। কাজেই জীবনের অপ্রাপ্তিগুলোর জন্য সময়কে গাল-মন্দ করা নিরর্থক। বরং সময়কে আমরা কীভাবে ব্যয় করছি, সেটা নিয়ে ভাবা উচিত। কীভাবে অন্যদের চেয়ে একটু ভিন্নভাবে সময়কে কাজে লাগানো যায়, সে চিন্তা করা উচিত।

একজন বিশ্বাসী সময়ের গুরুত্ব বোঝে। সে এটা অপচয় করতে চায় না। ওপরের সবগুলো হাদিস থেকে এটাই বোঝা যায়। সময় এমন একটি সম্পদ, যেটা প্রতি সেকেন্ডে ক্ষয়ে যাচ্ছে। তাই এক ঘণ্টা অপচয় করা মানে সে ঘণ্টাটা আর ফিরে না পাওয়া।

"আমার সবচেয়ে বেশি আফসোস সেই দিনটির জন্য, যে-দিন সূর্যাস্ত গেল কিন্তু আমার সৎকাজের পাল্লা একটুও ভারি হলো না।" (ইবন মাসউদ রা.)

এভাবে সময়ের হিসাব রেখে চলা আর সাধ্যমতো এর সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার ধারণা আমাদের মধ্যে গড়ে ওঠে। আমরা সীমিত সময়ের জন্য এ পৃথিবীতে এসেছি। এর মাঝেই সৃষ্টিকর্তার প্রতি, পরিবারের প্রতি, সমাজের প্রতি এবং আমাদের নিজেদের প্রতিও আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এসব দায়িত্ব পালনে ভারসাম্য কেবল যথাযথ টাইম ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমেই সম্ভব।

আর এটাই আমি এ বইয়ে আলোচনা করব। আপনাদের সাহায্য করব সে কৌশল এবং অভ্যাসগুলো অর্জন করতে, যেগুলোর মাধ্যমে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারবেন। এ কৌশলগুলো কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে, শিক্ষাজীবনে, পারিবারিক জীবনে, অবসরে এবং ধর্মীয় ক্ষেত্রেও ব্যবহার করতে পারবেন। আর সঠিকভাবে এসব মেনে চললে আমাদের জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে ভারসাম্য আসবে। আর এ ভারসাম্যপূর্ণ জীবনই সঠিক জীবনব্যবস্থা।

এখন যেহেতু আমরা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে টাইম ম্যানেজমেন্টের গুরুত্ব বুঝে গেছি, আর সময় নষ্ট করা উচিত হবে না। পৃষ্ঠা উল্টান এবং টাইম ম্যানেজমেন্টের প্রথম ধাপটা পড়া শুরু করে দিন।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 নিজেকে পুরস্কৃত করুন

📄 নিজেকে পুরস্কৃত করুন


এ পৃথিবীতে সবাইকে আপনার পক্ষে কখনোই পাবেন না। সবাই কখনও আপনার আইডিয়াগুলোকে বাহবা দেবে না বা আপনার প্রচেষ্টাগুলোর প্রশংসা করবে না। কিন্তু আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে। তাই নিজেই নিজেকে অনুপ্রেরণা দিন, কঠিন দিনগুলো পার হতে নিজেকে সাহস দিন।

নিজেকে উৎসাহিত করার একটি দিক হলো নিজের সব ছোটবড় অর্জনে নিজেকে পুরস্কৃত করা। এটা আপনার এগিয়ে চলার গতি বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে, সাফল্যের পথটাও সহজ করে দেবে। ছোটখাটো অর্জনগুলো ছোট ছোট উপহার দিয়েই উদ্যাপন করুন। উদাহরণ হিসেবে ধরুন, আপনার একটি রিপোর্ট লেখা বাকি ছিল। আপনি সেটা লিখে শেষ করেছেন ঠিক সময়ের ভেতরেই। এজন্য ১০ মিনিটের একটি ব্রেক আর এক কাপ কফি খেয়ে নিজেকে পুরস্কৃত করুন।

আর বড় অর্জনগুলোর পুরস্কারও হওয়া উচিত বড়সড়। যেমন, একটি গুরুত্বপূর্ণ কোর্স শেষ করা অথবা ব্যবসায় বড় মাপের লেনদেন হওয়া এসব অর্জনে পুরস্কারটাও হতে হবে বড় কিছু। এক্ষেত্রে রাতের বেলা পরিবারসহ আপনার পছন্দের কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া হতে পারে সবচে সেরা পুরস্কার।

মোদ্দাকথা হলো, নিজেই নিজের যত্ন নেওয়া। এটা আপনাকে আরও এগিয়ে যেতে আর অর্জনের পাল্লা ভারী করতে অনুপ্রাণিত করবে।

📘 টাইম ম্যানেজমেন্ট 📄 প্রতিটা কাজের জন্য সময় নির্ধারণ করুন

📄 প্রতিটা কাজের জন্য সময় নির্ধারণ করুন


আমরা সারা দিন ধরে একটি কাজের পেছনে লেগে থাকতে পারি না। কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিরতি নিতে হয়। একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে আর কাজ করতে ইচ্ছে করে না। আবার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিলে দ্রুত কাজ করার একটি চাপ কাজ করে এবং এতে করে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হয়ে যায়। যদি একটি কাজ করতে আপনার সাধারণত দুই ঘণ্টা সময় লাগে, তবে সে কাজের জন্য এক ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিন। আপনি দেখে অবাক হবেন যে, কাজটি শেষ করতে সম্ভবত আপনার ৪৫ মিনিটের বেশি লাগছে না। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো, সাধারণত যেটুকু সময় লাগে, তার অর্ধেক সময় নির্ধারিত করা।

কারণ ধরাবাঁধা সময়সীমা থাকলে আমাদের মন কাজটি দ্রুত করার জন্য পথ খুঁজতে থাকে। সময়সীমা বেঁধে দেওয়া শৃঙ্খলা মেনে চলার পথে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবার দ্রুত এবং ভালোভাবে কাজ করতেও সাহায্য করে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px