📄 মোতি, প্রবাল ও ইয়াকৃত
পবিত্র কুরআনের সাতাশ পারায় সূরা আর-রাহমান আল্লাহ তা'আলার বিভিন্ন নিআমতের আলোচনায় ভরপুর।
প্রতিটি নিআমত উল্লেখ করার পর প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে যে,
فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
অর্থাৎ "অতঃপর তোমাদের পালনকর্তার কোন্ কোন্ নিআমত অস্বীকার করবে?"
এই মুবারক সূরাতেই অত্যন্ত আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে মোতি, প্রবাল ও ইয়াকূতের হৃদয়গ্রাহী আলোচনা সন্নিবেশিত হয়েছে।
দেখুন সূরা আর-রাহমান: আয়াত: ২২ ও ৫৮
📄 খেজুর
কুরআনুল করীমের সূরা আবাসায় বারবার উল্লেখিত শাক সজি ফল-মূল ও বৃক্ষাদির আলোচনা এসেছে। অন্যান্য নিআমতসমূহের সাথে এখানে খেজুরের কথাও উত্থাপিত হয়েছে। যেমন ইরশাদ হচ্ছেঃ
فَأَنْبَتْنَا فِيهَا حَبَّا وَ عِنَبا وَقَضْبًا وَزَيْتُونَا وَنَخْلاً
"আমি জমিনে উৎপন্ন করেছি শস্য আঙ্গুর শাক-সব্জি, যাইতুন ও খেজুর বৃক্ষ।” -সূরা আবাসাঃ আয়াতঃ ২৭
আল্লাহ তা'আরা সূরা নাহলে খেজুর ও আঙ্গুরের বরকতের কথা নিম্নোক্ত ভাষায় উল্লেখ করেছেনঃ
وَمِنْ ثَمَرَاتِ النَّخِيلِ وَالْأَعْنَابِ تَتَّخِذُونَ مِنْهُ سَكَرًا وَرِزْقًا حَسَنًا ........
অর্থাৎ "খেজুর ও আঙ্গুর ফল থেকে তোমরা সাকার ও উত্তম খাদ্য তৈরী কর। নিঃসন্দেহে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য এতে নিদর্শন রয়েছে।" -সূরা নাহলঃ আয়াতঃ ৬৭
এতদ্ব্যতীত সূরা আনআমের নিরান্নব্বই নম্বর এবং সূরা মরিয়মের তেইশ নম্বর আয়াতেও খেজুর এবং খেজুরের উপকারিতা আলোচনা করা হয়েছে।
কুরআন মজীদের প্রথম পারায় সে সব শাক সব্জির কথা বলা হয়েছে যেগুলি মান্না ও সালওয়ার পরিবর্তে পাওয়ার জন্য বনী ইসরাঈল আবদার করেছিল। আল্লাহ তা'আলা তাদের আকাংখা পূর্ণ করে দিয়েছিলেন বটে কিন্তু নিআমতে ইলাহীর পরিবর্তে তাদের এই সব বস্তুর জন্য আবদার করাটা পছন্দ করেন নাই।
কুরআনের ভাষায় বনী ইসরাইল আবদার করেছিল:
فَادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُخْرِجُ لَنَا مِمَّا تُنْبِتُ الْأَرْضُ مِنْ بَعْلِهَا وَقِثَّانِهَا وَقُومِهَا وَعَدَسَهَا وَبَصَلِها .
"হে মূসা! আমাদের জন্য আপনার রব্বের নিকট বলুন, তিনি যেন আমাদেরকে এমন বস্তু সামগ্রী দান করেন যা জমিতে উৎপন্ন হয়-যেমন তরকারী, কাঁকড়ী, গম, মসুর ডাল পেঁয়াজ ইত্যাদি।" -সূরা বাকারা: আয়াত: ৬১
📄 হাদীস শরীফে উল্লেখিত রোগ-ব্যাধি
পরিশিষ্টের এই অংশে আমরা সে সব রোগ-ব্যাধির তালিকা পেশ করছি, যেগুলির আলোচনা ও চিকিৎসা বক্ষমান গ্রন্থে স্থান লাভ করেছে। রোগের উপসর্গ, নিদর্শন, কারণ ও চিকিৎসা ইত্যাদির বিস্তারিত বিবরণ সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় দেখুন।
রোগ চিকিৎসা পৃষ্ঠা
১. দৃষ্টি শক্তির দুর্বলতা কুস্বা ৯৫
২. চোখ উঠা কুস্বা ৯৫
৩. দাস্ত (অতিসার) মধু ৮৩
৪. সৌথ বা দেহে পানি আসা অপারেশন ১০১
৫. হৃদরোগ বিহিদানা, আজওয়া খেজুর ১০৫
৬. জ্বর ঠান্ডা পানি ৯৪
৭. বিষ ফোঁড়া মেহদী পাতা, অপারেশন ৮১, ১০২
৮. ত্বকাচ্ছাদন বা চুলকানি রেশমী পোষাক ব্যবহারের অনুমতি ৯৮
৯. নিমোনিয়া ওয়ারস, যাইত ১০৪
১০. যখম চাটাই পোড়া ছাই ১০৩
১১. বিষ আজওয়া খেজুর ১০৬
১২. মাথা ব্যথা মেহদী ৮১
১৩. গলনালীর আবদ্ধতা কুড় (গোঠ) আগর কাঠ ৯০
১৪. গৃদ্ধশী বা সাইটিকা দুম্বার চাকী ৯৩
১৫. দাস্ত (অতিসার) সোনামুখি, শিবরম ৮৫
১৬. পাকস্থলীর ব্যথা তালবীনা (খিচড়ীর মত পাকানো খাদ্য) ১০০
১৭. মোচড় বা মক্কান শিংগা লাগানো ৯৯
📄 হাদীস শরীফে উল্লেখিত প্রতিষেধক
এখানে আমরা সে সব ঔষধ ও প্রতিষেধকের তালিকা উপস্থাপন করছি যেগুলির বিস্তারিত বিবরণ এই গ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে।
প্রতিষেধক রোগ পৃষ্ঠা
১. কুম্বা চোখের ঔষধ ৯৫
২. মুসববর চেহারার লাবণ্য ও কমনীয়তার জন্য ৮৮
৩. বিহি দানা হৃদয়ের প্রশান্তি ও হার্টের শক্তির জন্য ۱۰۵
৪. তালবীনা (যবের দ্বারা প্রস্তুত) পেট ব্যথায় হালকা খাদ্য ১০০
৫. যব পেট ব্যথায় হালকা খাদ্য ১০০
৬. মেহদী মাথা ব্যথা, ফোঁড়া দুম্বল ও কাটা ঘায় ৮১
৭. ওয়ারস নিউমোনিয়া ১০৪
৮. যারীরাহ (চিরতা) ফোঁড়ার জন্য ১০২
৯. ছাই যখমের জন্য ১০৩
১০. যাইতুন নিউমোনিয়া ১০৪
১১. সুরমা চোখের দৃষ্টি শক্তির জন্য ৮৯
১২. সোনামুখি যে কোন রোগের জন্য উত্তম বিরোচক ৮৫
১৩. সানুত সকল রোগে ব্যবহারযোগ্য ৮৭
১৪. শিংগা রক্তের আধিক্যের জন্য ৯৯
১৫. শিবরম জুলাব ৮২
১৬. মধু সর্বরোগের শেফাদানকারী, পেটের পীড়ায় প্রতি মাসে তিন বার সেবনে বিশেষ উপকারী। ৮৩
১৭. কুসত বা গোঠ গলগন্ড ও নিউমোনিয়ার জন্য ৯০
১৮. আজওয়া খেজুর হৃদরোগ ও বিষের মহৌষধ ১০৬
১৯. আগর কাঠ গলগন্ডের প্রতিষেধক ৯০
২০. কৃষ্ণ জিরা সর্ব রোগের ঔষধ ৯২
২১. গাভীর দুধ সুস্বাস্থ্যের জন্য ৩০
২২. লবণ বিষাক্ত পোকা মাকড়ের কামড়ের ঔষধ স্বরূপ ৯৭
২৩. ঠান্ডাপানি জ্বরের জন্য ৯৪
২৪. মলম পট্টি যখম ১০৩
২৫. বরনী খেজুর সর্বরোগের প্রতিষেধক ১০৭
২৬. দুম্বার চাকী গৃদ্ধশী বা সাইটিকার জন্য ৯৩
২৭. চাটাই রক্ত বন্ধের জন্য ১০৩
২৮. আনজীর অর্শ ও ছোট সন্ধির ব্যথার প্রতিষেধক ১০৮