📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 অন্তিম মূহুর্তে তালক্বীন

📄 অন্তিম মূহুর্তে তালক্বীন


যে কারো দুনিয়াতে আসার পর একদিন তাকে এখান থেকে বিদায় নিতেই হবে। মৃত্যুর স্বাদ তাকে চাকতেই হবে। দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার এই অন্তিম মুহূর্তটি কেমনে অতিক্রান্ত হবে? এ সম্পর্কে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন সম্মানিত সাহাবী হযরত আবু সায়ীদ খুদরী (রাযিঃ)-এর মুখ থেকে শুনুন। তিনি বলেন, রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ
لَقِنُوا مَوْتَاكُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
"তোমরা মৃত্যু পথযাত্রী লোকদের (তার অন্তিম মুহূর্তে) কালেমায়ে তাইয়্যেবা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর তালক্বীন কর।"-মুসলিম শরীফ
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অপর এক সাহাবী হযরত মুআয (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদীসও উপরোক্ত মুবারক ইরশাদের সমর্থন করে। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
مَنْ كَانَ أُخِرُ كَلَامِهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ
"যার জীবনের শেষ কালাম হবে "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ" সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" -মুসতাদরাক, আবূ দাউদ
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (আমার পিতা-মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক) এই পবিত্র বাণীর আছর হল এই যে, আজ আমাদের সমাজে সুপ্রচলিত নিয়ম এই যে, কোন রুগ্ন ব্যক্তির শুশ্রূষাকারী যখন অনুভব করে যে, এখন তার শেষ মুহূর্ত ঘনিয়ে এসেছে তখন তার মৃত্যু কষ্টের অবস্থায় তাকে কালিমায়ে তাইয়্যেবার তালক্বীন করে। তালক্বীনের অর্থ হল তাকে বলা হবে যে, কালামা তাইয়্যেবা “লা-ইলাহা ইল্লাহ" পাঠ কর। তবে এ ক্ষেত্রে সুন্নত হল এই যে, পাশে বসা লোকেরা নিজেরাই জোরে জোরে কালিমা তাইয়্যেবা পাঠ করতে থাকবে। বস্তুতঃ এর মধ্যে অনেক বড় হিকমত নিহিত রয়েছে।
পক্ষান্তরে যদি মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিকে কালিমা পড়তে বলা হয় তবে সে হয়তো পড়তে সক্ষম নাও হতে পারে। কারন এই কঠিন অবস্থায় তার জিহবার নড়াচড়া করার শক্তি আছে কিনা তার হুশ ও অনুভূতি ঠিক আছে কিনা তাতো জানার কোন উপায় নাই। সর্বোপরি খোদা না করুন মুত্যু যাতনায় তার মস্তিষ্কও তো বিকৃত হয়ে যেতে পারে। এমতাবস্থায় সে হয়তো কালিমা পড়তে অস্বীকারও করে বসতে পারে। সুতরাং পাশে অবস্থানরত শুশ্রূষাকারীগণ কালিমা পাঠ করতে থাকবে। আর রোগীর নিজেরই উপলব্ধি জাগ্রত হবে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তিম মূহুর্ত

📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তিম মূহুর্ত


আল্লাহ তা'আলার প্রিয় হাবীবের ওয়াফাতকালীন মুহূর্তগুলি কিভাবে কেটেছে? এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার সময় তাঁর পবিত্র মুখে কি কি কথা উচ্চারিত হয়েছে?
এই প্রশ্নের জওয়াব হযরতের অন্তিম মুহূর্তে শুশ্রূষাকারীণী তাঁর পবিত্রা স্ত্রী মুসলিম জননী হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ)-এর ভাষায় শুনুন। তিনি বলেনঃ
رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ بِالْمَوْتِ عِندَهُ قَدَحُ فِيهِ مَاءً وَهُوَ يُدْخِلُ يَدَهُ فِي الْقَدَحِ ثُمَّ يَمْسَحُ وَجْهَهُ بِالْمَاءِ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَسَكَرَاتِ الْمَوْتِ
"আমি রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওয়াফাতের সময় ঘনিয়ে এলে তাঁর পাশে রক্ষিত একটি পানির পাত্রে বার বার হাত ভিজিয়ে এনে স্বীয় চেহারা মুবারক মছেহ করতে দেখেছি। এ সময় তিনি বলছিলেন "আয় আল্লাহ! আমাকে মৃত্যুর কঠিন যাতনায় সাহায্য করুন।" -তিরমিযী শরীফ
এতদ্ব্যতীত বুখারী ও মুসলিম শরীফে উক্ত হযরত আয়েশা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত এইরূপ রেওয়ায়াত বিদ্যমান রয়েছে যে, তিনি বলেছেন, অন্তিম মুহূর্তে হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে ছিলেন তখন তিনি বলছিলেনঃ
اللهمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَالْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الْأَعْلَى
হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন এবং আমাকে আমার মহান বন্ধুর সান্নিধ্যে নিয়ে যান।
-বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ
আল্লাহ! আল্লাহ! জীবনের অন্তিম মুহূর্তটি কত কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে থাকে। আল্লাহর প্রিয় হাবীবের জীবনেও সেই চরম সন্ধিক্ষণটি অতিক্রান্ত হয়েছে। এ সময় তিনি এমন প্রচন্ড গরম অনুভব করেন, যার ফলে বারবার তিনি তাঁর হাত ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়েছেন ও ভিজা হাতে চেহারা মুবারক মুছেছেন। এ কঠিন অবস্থাতেও তিনি তাঁর পবিত্র মুখে আল্লাহর মাগফিরাত ও রহমত কামনা করছেন। মহান বন্ধুর সাথে মিলনের ঐকান্তিক আকাংখা ব্যক্ত করছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00