📄 রোগী দেখতে যাওয়ার হুকুম
এ পর্যায়ে রোগীকে দেখতে যাওয়া এবং তার সেবা শুশ্রূষা সর্ম্পকে কয়েকটি হাদীস উদ্ধৃত করা হল।
(১) হযরত আবূ মূসা আশআরী (রাযিঃ) বর্ণনা করেনঃ
أَطْعِمُوا الْجَانِعَ وَعُودُوا الْمَرِيضَ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "তোমরা ক্ষুধার্তকে খানা খাওয়াও এবং রুগ্নের সেবা-শুশ্রূষা কর।" -বুখরী শরীফ
...... حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسُ رَبُّ السَّلَامِ وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ
(২) "প্রত্যেক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের পাঁচটি হক রয়েছে। (এর মধ্যে দুটি হল) সালামের জওয়াব দেওয়া ও রুগ্নকে দেখতে যাওয়া ও তার সেবা শুশ্রূষা করা। -বুখারী ও মুসলিম শরীফ
(৩) হযরত বারা ইবনে আযেব (রাযিঃ) বর্ণনা করেনঃ
أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعِيَادَةِ الْمَرِيضِ
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে রুগ্নকে দেখতে যাওয়ার হুকুম দিয়েছেন।" -বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ
(৪) হযরত ছাওবান (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, হযরত রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا عَادَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ لَمْ يَزَلْ فِي عُرَفَةِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَرْجِعَ
"যখন কোন মুসলমান ভাই তার কোন মুসলমান রুগ্ন ভাইকে দেখতে যায়, সে যতক্ষণ পর্যন্ত ফিরে না আসে ততক্ষণ সে বেহেস্তের বাগানে থাকে।" -মুসলিম শরীফ ও মিশকাত শরীফ
📄 রোগী দেখতে যাওয়ার প্রতিদান
রুগ্নকে দেখতে যাওয়ার হুকুম এবং এর সওয়াব থেকে বঞ্চিত থাকার পরিণাম কি তা আপনারা পড়েছেন। এবার রোগী দেখতে যাওয়ার সওয়াব ও প্রতিদান কি তা পাঠ করুন।
হযরত আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
مَا مِنْ رَجُلٍ يَعُودُ مَرِيضًا مُمسِيَا إِلَّا خَرَجَ مَعَهُ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلِكٍ يَسْتَغْفِرُونَ لَهُ حَتَّى يُصِبحَ وَكَانَ لَهُ خَرِيفٌ فِي الْجَنَّةِ
وَمَنْ أَتَاهُ مُصْبحًا خَرَجَ مَعَهُ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلِكٍ يَسْتَغْفِرُونَ لَهُ حَتَّى يُمْسِي وَكَانَ لَهُ خَرِيفٌ فِي الْجَنَّةِ
“যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় কোন রুগ্নকে দেখতে যায় সত্তর হাজার ফেরেশতা সকাল পর্যন্ত তার জন্য মাগফিরাতের দুআ করতে থাকে এবং তার জন্য বেহেশতে একটি বাগান নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি সকালে কোন রোগী দেখতে যায় সত্তর হাজার ফেরেশতা সকাল পর্যন্ত তার জন্য মাগফিরাতের দুআ করতে থাকে এবং তার জন্য বেহেশতে একটি বাগান নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।"
হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ
مَنْ تَوَضَّا فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ وَعَادَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ مُحْتَسِبًا بُوَعِدَ مِنْ جَهَنَّمَ مَسِيرَةَ سَبْعِينَ خَرِيفاً
"যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করল এবং মুসলমান রুগ্ন ভাইকে দেখতে গেল তাকে জাহান্নাম থেকে সত্তর ফরসখের সমান রাস্তা দূরে সরিয়ে নেওয়া হল। -আবূ দাউদ
📄 বান্দার শুশ্রুষা আল্লাহর শুশ্রুষা
হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা বলবেন,
يَا ابْنَ آدَمَ مَرِضْتُ فَلَمْ تَعِدْنِي قَالَ يَا رَبِّ كَيْفَ اَعُودُكَ وَاَنْتَ رَبُّ الْعَالَمِينَ . قَالَ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ عَبْدِي فُلَانًا مَرِضَ فَلَمْ تَعُدُهُ أَمَّا عَلِمْتَ أَنَّكَ لَوْ عُدْتَهُ لَوَجَدَتَنِي عِندَهُ
"হে আদম সন্তান! আমি রুগ্ন ছিলাম। তুমি আমাকে দেখতে আস নাই। বান্দা আরয করবে, হে আমার রব্ব! আপনি তো বিশ্বজাহানের প্রভু! আমি আপনাকে কিভাবে দেখতে যাব? আল্লাহ তা'আলা বলবেন, তুমি জানতে যে আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল। কিন্তু তুমি তাকে দেখতে যাও নাই। তুমি যদি সেই বান্দাকে দেখতে যেতে তাহলে তুমি সেখানে আমাকে পেতে।"-মুসলিম শরীফ
ভেবে দেখুন! খিদমতে খালকের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ রুগ্নকে দেখতে যাওয়ার মর্যাদা কত বড়। আল্লাহ তা'আলা রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়াকে স্বয়ং তাঁকে দেখতে যাওয়ার সমান মর্যাদায় অভিসিক্ত করেছেন। অথচ তাঁর মহান সত্তা এ সব মানবীয় বিষয়াদি হতে পাক ও পূত পবিত্র। আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদেরকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করার জন্যই তাঁর প্রিয় হাবীবের মাধ্যমে এই ঘোষণা প্রদান করেছেন।
রোগী দেখার ব্যাপারে এ বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, রোগী আপন কি পর তার কোন শর্ত নাই। রোগী সে যে কেউ হোক ধনী-গরীব, আত্মীয়-অনাত্মীয়, পরিচিত অপরিচিত যে কারো রোগ শয্যায় তার পাশে যাওয়ায় সওয়াব রয়েছে।
📄 রোগী দেখার নিয়ম পদ্ধতি
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ رَضِ اللهُ عَنْهُ أَنَّ مِنْ تَمَامِ عِيَادَةِ الْمَرِيضِ أَنْ يَضَعَ أَحَدُكُمْ يَدَهُ عَلَى جَبْهَتِهِ أَوْ عَلَى يَدِهِ وَيَسْأَلُهُ كَيْفَ هُوَ ؟
“হযরত আবূ উমামা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রোগী দেখার উত্তম নিয়ম হল এই যে, তুমি রোগীর কপালে বা তার হাতে তোমার হাত রাখবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করবে যে, আপনি কেমন আছেন?” -তিরমিযী শরীফ
রোগী দেখার ব্যাপারে প্রায় অনুরূপ একটি রেওয়ায়াত হযরত ইবনুস সুন্নী (রহঃ) হতেও বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন:
تمامُ الْعَيَادَةِ أَنْ تَضَعَ يَدَكَ عَلَى الْمَرِيضِ وَتَقُولُ كَيْفَ أَصْبَحْتَ وَكَيْفَ أَمْسَيْتَ ؟
“রোগী দেখার নিয়ম হল এই যে, তুমি রোগীর শরীরে তোমার হাত রাখবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করবে যে, আপনার সকাল কেমন কাটল? আপনার সন্ধ্যা কেমন কাটল? (অর্থাৎ আপনি সকালে কেমন ছিলেন এবং সন্ধায় কেমন আছেন?)
উল্লেখিত দুটি হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, রোগী দেখার দ্বারা শুধু তার অবস্থা জিজ্ঞাসা করা উদ্দেশ্য নয়। বরং আসল বিষয় হল রোগীকে সান্ত্বনা ও শান্তি দেওয়া। আমরা কারো দুঃখ দরদ তো নিয়ে নিতে পারি না। তবে সুন্দর কথা ও উত্তম আচরণের দ্বারা তার হৃদয় মন অবশ্যই প্রফুল্ল করতে পারি। এভাবে তার দুঃখ কষ্ট কিছুটা হলেও হালকা করতে পারি।
রোগীর মাথায় বা তার হাতে হাত রাখার দ্বারা একদিকে যেমন তার জ্বরের প্রচন্ডতা অনুভব করা যায়। তেমনি তার প্রতি নিজের ঐকান্তিকতা এবং অকৃত্রিম সহমর্মিতার প্রকাশ ঘটে। আর এটা এমন একটি বিষয় যা একজন রোগীর জন্য খুবই প্রয়োজনীয়।