📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 ঘুমানোর দু’আ

📄 ঘুমানোর দু’আ


হযরত সায়ীদ ইবনে আবু উবাইদা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস খানির প্রথম অংশে আপনারা একটু আগেই পড়েছেন যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানায় যাওয়ার পূর্বে নামাযের ন্যায় অযু করতে এবং ডান কাতে শুতে বলেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন যে, ঘুমানোর আগে তোমারা নিম্নের দু'আটি পড়বেঃ
اللهم اسلمت نفسى اليك وفوضت أمرى اليك والجأت ظهري اليك رغبة و رهبة اليك لا ملجأ ولا منجى منك الا اليك
অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমি আমার জীবন আপনার নিকট হাওয়ালা করছি এবং আমার যাবতীয় বিষয় আপনাকে সোর্পদ করছি। আপনার প্রতি আশা ও ভীতির সাথে আমি আপনারই আশ্রয় গ্রহণ করছি। আপনি ব্যতীত কোন আশ্রয়স্থল ও ঠিকানা নাই।”
হযরত হুযাইফা (রাযিঃ) ও হযরত আবূ যর গিফারী (রাযিঃ) তাঁরা দু'জনেই রেওয়ায়াত করেছেন যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমানোর জন্য তাঁর বিছানায় যেতেন তখন এই দুআ পড়তেনঃ
بِسْمِكَ اللهم أَحْيَا وَ أَمُوتُ
উপরোক্ত দুআগুলি হল ঘুমানোর পূর্বে পাঠ করার জন্য। এবার ঘুম থেকে জেগে উঠে যে দু'আ পড়তে হবে সেগুলি লক্ষ্য করুন। হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমারা যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হবে তখন এই দুআ পাঠ করবেঃ
الحمد للهِ الَّذِي رَدَّ عَلَى رُوحِي وَعَافَانِي فِي جَسَدِي وَأَذِنَ لِي بِذِكْرِهِ
"সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমার আত্মা আমার দেহে ফিরিয়ে দিয়েছেন, আমার দেহকে আরাম দিয়েছেন এবং আমাকে স্বীয় যিকিরের তওফীক দিয়েছেন।" নাসায়ী
হযরত হুযাইফা (রাযিঃ) ও হযরত আবূ যর গিফারী (রাযিঃ) কর্তৃক উপরোল্লেখিত রেওয়ায়াতের শেষ অংশে আছে যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হতেন তখন এই দুআ পাঠ করতেনঃ
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
"সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে মৃত্যুর পর জীবন দান করেছেন এবং তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে।"
উপরোক্ত দুআসমূহ মুখস্ত করে নিন। সে ব্যক্তির চেয়ে অধিক নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত আর কে হবে যে ঘুমানোর আগে নিজেই নিজকে খালেক ও মালেকের নিকট সোর্পদ করে দেয়, যিনি চিরন্তন ও চিরঞ্জীব। যার না নিদ্রা আসে আর না তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হন।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর

📄 ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نُوْمِهِ فَلَا يَغْمِسُ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلُهَا ثَلَاثًا فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدَهُ
"হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হবে তখন সে যেন তার হাত তিন বার ধৌত করার আগে পানির পাত্রে না ডুবায়। কেননা, সে জানে না ঘুমানোর পর তার হাত শরীরের কোন কোন স্থানে গিয়েছে।" -শামায়েলে তিরমিযী
ভেবে দেখেছেন! পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও পাক-পবিত্রতার প্রতি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কত তীক্ষ্ণ নযর ছিল! স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য রক্ষার প্রতি কি পরিমাণ মনোযোগ ছিল! সর্বোপরি মানব জীবনের কত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়ের প্রতি তাঁর কত সতর্ক দৃষ্টি ছিল। সত্যিই তিনি যদি দিক নির্দেশনা না দিতেন তাহলে মানব জাতি আর কোথায় এবং কার নিকট থেকে দিকে নির্দেশনা পেত! তাই তো ইরশাদ হচ্ছে, ঘুম থেকে জেগে উঠার পর হাত না ধুয়ে কোন পাত্রে হাত দেবে না। অবচেতন ঘুমন্ত অবস্থায় তোমার হাত কোন কোন জায়গায় গিয়েছে, আর তা পাক রয়েছে না নাপাক হয়ে গেছে তা তো তোমার জানা নাই।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 ঘুমানোর আগে ও পরের দুআ সমূহ

📄 ঘুমানোর আগে ও পরের দুআ সমূহ


হযরত বারা ইবনে আযেব (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, হযরত রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিছানায় তশরীফ নিয়ে যেতেন তখন প্রথমে ডান কাতে শুইতেন অতঃপর এই দুআ পাঠ করতেনঃ
اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَى مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ
"আয় আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার নিকট সোপর্দ করলাম এবং আমার রুখ আপনার দিকে করলাম। এবং আমার সব কিছু আপনার হাওয়ালা করলাম। আমার যাবতীয় আশা-আকাংখা আপনারই নিকট। আপনার নিকটই আশা করি এবং আপনাকেই ভয় করি। আপনি ব্যতীত কোন আশ্রয় নাই। আপনি ছাড়া মুক্তিও নাই। আমি আপনার প্রেরিত কিতাব ও রাসুল-এর প্রতি ঈমান আনলাম।" -বুখারী শরীফ
হযরত হুযাইফা (রাযিঃ) বর্ণণা করেন, হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে শুইতেন তখন তিনি তাঁর হাত স্বীয় গাল মুবারকের নীচে রাখতেন এবং এই দুআ পড়তেনঃ
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ مِنَ اللَّيْلِ وَضَعَ يَدَهُ تَحْتَ خَدَّهُ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَ أَحْيَا
"আয় আল্লাহ! আমি আপনার নামেই মৃত্যুবরণ করছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নামেই জীবিত হব।"
এবং তিনি যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হতেন তখন এই দুআ পাঠ করতেনঃ
وَإِذَا اسْتَيْقَظَ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
"সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মৃত্যুর পর আমাকে জীবন দান করেছেন এবং তাঁর নিকটই আমাদের প্রত্যাবর্তণ করতে হবে।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00