📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 কুণ্ঠিত হয়ে বসা

📄 কুণ্ঠিত হয়ে বসা


عَنْ قَيْلَةَ بِنْتِ مَخْرَمَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ قَائِلُ الْقُرْفَصَاءِ فَلَمَّا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْجِلْسَةِ أَرْعِدْتُ مِنَ الْفَرَقِ
"হযরত ক্বাইলা বিনতে মাখরামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুই হাঁটু উঁচু করে তাতে পবিত্র দুই হস্তদ্বারা পেছিয়ে ধরা অবস্থায় বসে থাকতে দেখিছি। তাঁকে এই বিনীত ভঙ্গীর বসা অবস্থায় দেখে আমি ভয়ে কেঁপে উঠি।" -আবূ দাউদ, শামায়েলে তিরমিযী
এই পবিত্র হাদীসে এমন কয়টি দিক রয়েছে, যা আমাদেরকে বিশেষ ভাবে চিন্তা করার আহবান জানাচ্ছে। প্রথমতঃ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বসা কত সাদাসিধা ছিল। তিনি হাঁটুদ্বয় খাড়া করে দুই হাত তাতে জড়িয়ে ধরে কুঞ্চিত অবস্থায় বসেছেন। বসার এই ভঙ্গিটি যেমন সহজ ও সাদাসিধা তেমনি আরামদায়কও বটে। দ্বিতীয়তঃ এই ভঙ্গিতে বসার মধ্যে একজন বান্দার বিনয় ও দাসত্বের পরিপূর্ণ প্রকাশ ঘটে। এই বসার মধ্যে গর্ব ও অহংকারের কোন সন্দেহও প্রকাশ পায় না। বরং দর্শকের উপর এই ভঙ্গিতে বসার একটা গভীর প্রভাব পড়ে। তৃতীয়তঃ এই সরল ও বিনয়ী বসার ভঙ্গি বর্ণনাকারীণী সহাবিয়্যার উপর এমন প্রচন্ড প্রভাব ফেলেছিল যে, তিনি ভয়ে কেঁপে উঠেন। সুতরাং আমাদের এরূপ চিন্তা কত ভুল যে, সহজ সরলতার মধ্যে গাম্ভীর্য ও প্রভাব থাকে না এবং সহজ-সরলতার দ্বারা অন্যেরা প্রভাবিত হয় না।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 অভিশপ্ত লোকদের বসার ভঙ্গি

📄 অভিশপ্ত লোকদের বসার ভঙ্গি


عَنِ الشَّرِيدِ بن سُوَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ مَرَّبِى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا جَالِسٌ هَكَذَا وَقَدْ وَضَعْتُ يَدِي الْيُسْرَى خَلْفَ ظَهْرِى وَاتَّكَاتُ عَلَى الْيَهِ يَدِى - قَالَ أَتَقْعُدُ قِعْدَةَ المَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ .
সারীদ ইবনে সুওয়াইদ (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, একদা রসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার নিকট দিয়ে গমন করেন। তখন আমি এমন অবস্থায় বসা ছিলাম যে, আমার বাম হাত আমার পিঠের উপর ছিল এবং আমার বৃদ্ধাঙ্গুলীর নীচের গোশতের উপর টেক দিয়ে বসা ছিলাম। হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কি এমনভাবে বসেছ যেভাবে সে সব লোক বসত, যাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার অভিসম্পাত বর্ষিত হয়েছে?"
পূর্বে আপনারা রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাদাসিধা কিন্তু গাম্ভীর্যপূর্ণ বসার ভঙ্গি কি ছিল তা পাঠ করেছেন। এবং এই সহজ সরল ও বিনয়ী বসার ভঙ্গি দর্শকদের উপর কি পরিমাণ প্রভাব বিস্তার করত তাও দেখেছেন। এবারে বসার অপর দিকটির প্রতি লক্ষ্য করুন, যাকে রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিশপ্ত লোকদের বসার ভঙ্গি বলে আখ্যায়িত করেছেন। বাহ্যতঃ বসার এই ভঙ্গিতে গর্ব, সম্মান ও মর্যাদা প্রকাশ পায়। কিন্তু পরিণামে মানুষ আল্লাহর অভিসম্পাতের শিকার হয়। সুতরাং বসার জন্য আমাদের এমন ভঙ্গি অবলম্বন করা উচিত যার মধ্যে সরলতা ও গাম্ভীর্য রয়েছে। আর এমন ভঙ্গির বসা থেকে আমাদের দূরে থাকা কর্তব্য যদ্বারা বাহ্যতঃ অহংকার ও মর্যাদার প্রকাশ পায় বটে, কিন্তু এই বসার দ্বারা মানুষ আল্লাহর গযবের উপযুক্ত হয়ে যায়।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 চিত হয়ে শোয়া

📄 চিত হয়ে শোয়া


عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ يَزِيدَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ رَأَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُسْتَلْقِيًا فِي الْمَسْجِدِ وَاضِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى
"হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) রেওয়ায়াত করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মসজিদে নববীতে এমন অবস্থায় চিত হয়ে শোয়ে থাকতে দেখেছেন যে, তখন তাঁর একটি পা অপর পায়ের উপর রাখা ছিল।" -বুখারী, মুসলিম।
হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুয়ার সাধারণ নিয়ম ছিল এই যে, তিনি ডান কাতে শুয়ে আরাম করতেন। সাধারণভাবে তাঁর ডান হাত মাথা মুবারকের নীচে থাকত এবং চেহারা আনওয়ার কেবলামুখী থাকত।
উপরোল্লেখিত হাদীসের বর্ণনাকারী একবার মাত্র হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মসজিদে চিত হয়ে শুইতে দেখেছেন। এটা ছিল একটা অসাধারণ ব্যাপার। হয়ত কাত পরিবর্তন করার জন্য তিনি এমন করে থাকবেন। এই মতের স্বপক্ষে যুক্তি হল এই যে, স্বয়ং বর্ণনাকারীই বলছেন যে, তখন তাঁর একটি পা মুবারক অন্যটির উপর রাখা ছিল। আর যদি এভাবেই তিনি শুয়ে থাকেন তবুও একপা অপর পায়ের উপর রাখার দ্বারা এ বিষয়ে তাঁর পূর্ণ সতর্কতার বিষয়টিই পরিস্ফুট হয়ে উঠে। এভাবে পায়ের উপর পা রাখার কারণে শরীরের কাপড় এদিক সেদিক হতে পারে না। কারণ, ঘুম তো ঘুমই। গভীর নিদ্রায় অবচেতন হয়ে যাওয়া একটি অতি স্বাভাবিক ব্যাপার। এমতাবস্থায় শরীরের কাপড় এদিক সেদিক হয়ে যাওয়া অসম্ভব কিছুই নয়।
একথা ঠিক যে, প্রত্যেক ব্যক্তির অভ্যাস ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। কিন্তু পরম সৌভাগ্যশীল সেই ব্যক্তি, যে তার অভ্যাস রাসুল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান আদর্শ মোতাবেক গঠন করে দুনিয়া ও আখেরাতের অফুরন্ত কল্যাণ ও সফলতার অধিকারী হয়।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 উপুড় হয়ে শোয়া

📄 উপুড় হয়ে শোয়া


عَنْ يَعِيشَ بْنِ طِخْفَةَ الْغِفَارِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ أَبِي بَيْنَمَا أَنَا مُضْطَجِعُ فِي الْمَسْجِدِ عَلَى بَطْنِى إِذَا رَجُلٌ يُحرِّ كُنِي بِرِجْلِهِ فَقَالَ إِنَّ هَذَا ضَجَعَةٌ يُبْغِضُهَا اللهُ - قَالَ فَنَظَرْتُ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
"হযরত ইয়াঈশ ইবনে তিখফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন আমার পিতা বর্ণনা করেছেন যে, একদা আমি মসজিদে উপুড় হয়ে শোয়া ছিলাম। হঠাৎ আমি অনুভব করলাম যে, কেউ আমাকে তার পা দিয়ে নাড়া দিচ্ছে। অতঃপর বলছে যে, এভাবে উপুড় হয়ে শোয়াকে আল্লাহ অপছন্দ করেন। আমার পিতা বলেন, অতঃপর আমি চোখ খুলে দেখলাম (এ ব্যক্তি আর কেউ নন) স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম"।
আপনি ভেবে দেখেছেন! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপুড় হয়ে শোয়াকে কত বড় ভুল ও ক্ষতিকর হিসাবে উল্লেখ করেছেন! মহান আল্লাহ এভাবে শোয়াকে ঘৃণা করেন।
উপুড় হয়ে শোয়ার দ্বারা মানুষের পাকস্থলী, হজমশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও ব্যাপকভাবে স্বাস্থ্যের উপর অত্যন্ত খারাপ প্রভাব পড়ে। হৃদয়ের স্পন্দন ও শ্বাস প্রশ্বাসে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। যে কাজটির মধ্যে এত খারাবী আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা পছন্দ করবেন কেন? যারা মানুষের মঙ্গল আর কল্যাণ চান তারা মানুষের জন্য মন্দ ও ক্ষতিকর কোন বিষয়কে কিভাবে মেনে নিতে পারেন?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00