📄 পানি আর খেজুর খেয়ে জীবন যাপন
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্রা স্ত্রী হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি হযরত ওরওয়া (রাযিঃ) কে বলেন, হে আমার ভাতিজা! নিশ্চয়ই আমি প্রথম তারিখের চাঁদ এবং এভাবে দু'মাসে তিনটি চাঁদ দেখতাম (অর্থাৎ পূর্ণ দু'মাস অতিবাহিত হয়ে যেত) কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে আগুন জ্বলত না (অর্থাৎ রান্না হত না)।" আমি (ওরওয়া) বললাম "হে আমার খালা! আপনারা কিভাবে জীবন কাটাতেন?" তিনি (হযরত আয়েশা) জবাবে বললেন, শুধু মাত্র দু'টি কালো জিনিসের মাধ্যমে অর্থাৎ খেজুর এবং পানির সাহায্যে। তবে অন্য আরও একটি উপায় ছিল, তা হল কিছু আনসার ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিবেশী ছিলেন, যাদের কিছু দুধওয়ালা পশু ছিল, তাঁরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ঐ জানোয়ারগুলির দুধ পাঠাতেন। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তা পান করতে দিতেন।" -বুখারী, মুসলিম
"হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ)-এর পূর্বের বর্ণনায় আপনারা জেনেছেন যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথীগণ না চালা জবের আটার রুটি খেতেন, তবে পরপর দুদিন একটানা জবের রুটি মিলত না এবং একদিন দুবেলা গোশতও জুটত না। এখন আপনারা এই হাদীস শুনলেন যে, দুই মাস ধরে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে চুলা জ্বলে নাই। তাদের দিনগুলি শুধু এক ঢোক পানি এবং খেজুরের দানা অথবা কখনও প্রতিবেশী আনসারদের পাঠান দুধে কেটেছে।
আল্লাহ! আল্লাহ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর ঘরওয়ালাদের মধ্যে কেমন ধৈর্য্য ছিল! মালে গনীমত এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অংশের ব্যাপারে সমালোচকদের চক্ষু খোলার জন্য এটা একটা বিরাট উপদেশ।
📄 কম খাওয়া ঈমানদারের লক্ষণ
এক পেটুককে দেখে হযরত ওমর ফারুক (রাযিঃ)-এর ছেলে হযরত আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন:
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْكَافِرَ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কাফেরগণ সাত অস্ত্র-নাড়ি দিয়ে খায় (অর্থাৎ অধিক খায়।" -তিরমিযী
হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ)-এর নিম্নোক্ত বর্ণনায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত হাদীসের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি (হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) বলেন, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক কাফের মেহমান হল। তাকে একটা বরকীর দুধ দেওয়া হলে সে তা পান করে নিল। অতঃপর আর একটা বকরীর দুধ দেওয়া হলে এটাও পান করে ফেলল। এভাবে তিন, চার এমন কি সাতটি বকরীর দুধ শেষ করে দিল। পরের দিন সে ইসলাম গ্রহণ করলে তাকে এক বকরীর পর দ্বিতীয় বকরীর দুধ দেওয়া হলে সে সবটুকু পান করতে পারল না। এ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন:
اَنَّ الْمُؤْمِنَ يَشْرَبُ فِى مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَشْرَبُ فِى سَبْعَةِ اَمْعَاءٍ
"মু'মিন শুধু মাত্র এক নাড়ি দিয়ে পান করে আর কাফির সাত নাড়ি দিয়ে পান করে (অর্থাৎ মুমিনের তুলনায় কাফির সাতগুণ বেশী পান করে।" -মুয়াত্তা, তিরমিযী, বুখারী
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অল্প খাওয়া মুমিন ও মুসলমানদের আলামত বলে বর্ণণা করেছেন। পক্ষান্তরে পেটুক ও বেশী খাওয়াকে কাফেরের লক্ষণ বলে উল্লেখ করেছেন। জন্মগতভাবে কারো খোরাক বেশী কারো কম হতে পারে কিন্তু সামগ্রিকভাবে মুসলমানদের খোরাক কম হওয়া চাই। এতে শারিরীক সুস্থতা, অন্তরের পবিত্রতা এবং ঈমানী দৃঢ়তা হাসিল হয়। অধিক খাওয়ার কি ক্ষতি? তার ব্যাখ্যা অন্য পৃষ্ঠায় দেখুন।
📄 অস্তরের রোগ-ব্যাধি এবং খানা
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَا إِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةَ إِذَا صَلُحَتْ صَلُحَ الْجَسَدُ كُلَّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
"হযরত নোমান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মনে রেখো, শরীরের মধ্যে (এমন) একটি মাংসপিন্ড আছে যতক্ষণ তা ঠিক থাকে সমস্ত শরীর ঠিক থাকে আর যখন তা খারাপ হয়ে যায় তখন সমস্ত শরীর নষ্ট হয়ে যায়। খুব মনে রেখো! এটা হল অন্তর। -বুখারী, মুসলিম, ইবনে মাজাহ
অন্তর বা ক্বলব যেমন সকল নেক ও বদ কাজের উৎস এবং এর ইচ্ছা প্রতিটি ভাল ও মন্দের প্রেরণা যোগায়। অনুরূপভাবে রক্তপিন্ডওয়ালা মাংসুল দিলের উপর মানুষের সুস্থতা ও অসুস্থতা সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। এর মধ্যে গন্ডগোল সৃষ্টি হলে মানুষের স্বাস্থ্যের মধ্যেও গন্ডগোল দেখা দেয়। আর সামান্য সময় যদি এর স্পন্দন বন্ধ হয়ে যায় তবে যিন্দিগির সম্পূর্ণ কার্যপ্রণালী উলট পালট হয়ে যায়। কারণ সমস্ত শরীরে রক্ত সরবরাহ এবং শিরা উপশিরার মাধ্যমে শরীরের সকল অংশে খাদ্য ও অক্সিজেন সরবরাহ করা উক্ত মাংস পিন্ডের (ক্বলবের) কাজ। রূহানী রোগের চিকিৎসক বিশ্বজাহানের সর্দার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত উপদেশাবলীর মধ্যে কূলবের যাবতীয় রোগ-ব্যাধি হতে বেঁচে থাকার দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়।
(১) ক্ষুধার সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল এবং কম খাদ্য খাওয়া।
(২) দুপুরের খানার পর সামান্য সময় আরাম করা, যাকে কায়লুলাহ বলা হয়। এ সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীস রয়েছে।
(৩) হারাম খাদ্য খাওয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা। কেননা এতে রূহানী এবং শারীরিক রোগ ব্যতীত আর কিছুই নাই।
সর্বশেষ কথা হল :
اَلَا بِذِكْرِ اللّٰهِ تَطْمَىِٕنُّ الْقُلُوْبُ
“জেনে রেখো! আল্লাহর স্মরণে (যিকিরে) অন্তরের প্রশান্তি হাসিল হয়।”