📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 দুই বেলা গোশত রুটি

📄 দুই বেলা গোশত রুটি


হযরত মাসরুক (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, আমি উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ)-এর নিকট গমন করলে তিনি আমার জন্য খানা আনলেন আর তিনি বলতে লাগলেন, আমি যখনি তৃপ্তি সহকারে খানা খাই তখনি আমার কান্না এসে যায় সুতরাং আমি কাঁদতে থাকি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আরয করলাম কেন?
তিনি বললেন, আমার ঐ সময়ের কথা মনে পড়ে যায় যখন আল্লাহর নবী পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন,
وَاللَّهِ مَا شَبِعَ مِنْ خَيْرٍ وَلَا لَحْمٍ مَرَّتَيْنِ فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ
“আমি কছম খেয়ে বলছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দিনই দুই বেলা রুটি এবং গোশত তৃপ্তি সহকারে খান নাই।” -শামায়েলে তিরমিযী
উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাযিঃ) যার লকব হল “সিদ্দীকা” বা সত্যবাদিনী তাঁর এ বর্ণনার চেয়ে আর কার বর্ণনা সত্য হতে পারে? যিনি ছিলেন সত্যবাদী পিতা সিদ্দীকে আকবর-এর সত্যবাদিনী মেয়ে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন সঙ্গিনী, অন্তরঙ্গ বন্ধু, নির্জনতা ও লোকালয়ের গোপন তথ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত। আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতি এবং তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতার প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন।
পক্ষান্তরে তাঁর উম্মতগণের অবস্থা হল, গোশত ছাড়া এক লোকমাও চলে না; সজীর মধ্যে গোশত, ডালে গোশত, চাউলে গোশত, সকালেও গোশত এবং • সন্ধ্যায়ও গোশত চাই। আর দোজাহানের বাদশাহ এমন জীবন যাপন করেছেন যে, কোন এক দিনও দুই বেলা তৃপ্তি সহকারে গোশত রুটি আহার করেন নাই। তাই তো পরবর্তী খোশহাল যামানায় উম্মুল মুমিনীনের দুই চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ত।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 দস্তর খানায় গোশত রুটি

📄 দস্তর খানায় গোশত রুটি


عَنْ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ قَالَ مَا شَبَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ خُبْرٍ وَلَا لَحْمِ إِلَّا عَلَى ضَفَفِ
"হযরত মালেক ইবনে দিনার (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'যফাফ” ব্যতীত না রুটি তৃপ্তি সহকারে খেয়েছেন না গোশত পেটভরে খেয়েছেন।"
হাদীসের বর্ণনাকারী মালেক (রযিঃ) বলেন, "আমি এক বদরী সাহাবীর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম 'যফাফ' অর্থ কি? তিনি বললেন, মানুষের সঙ্গে মিলিত হয়ে খাওয়া। -শামায়েলে তিরমিযী
তরকারীর মধ্যে গোশত হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিক পছন্দনীয় ছিল। আর গোশতের মধ্যে দস্ত, রান, মাছএবং গর্দানের গোশত তিনি পছন্দ করতেন। কিন্তু দোজাহানের বাদশাহ সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ট ব্যক্তিত্বের তৃপ্তি সহকারে গোশত খাওয়ার সুযোগ হত কই? উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারী বলেন, গোশত হোক অথবা রুটি হোক যদি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও তৃপ্তি সহকারে খেয়ে থাকেন তবে তা সম্মিলিত খানা তথা সাহাবীগণের মজলিসে বা কোন দাওয়াতের অনুষ্ঠানে খেয়েছেন।
এর দুটি কারণ হতে পারে। প্রথমতঃ তিনি তাঁর পবিত্র যিন্দেগীর অধিকাংশ সময় নেহায়েত দারিদ্র্য ও দুঃখ কষ্টের সঙ্গে কাটিয়েছেন, অনাহারে দিনাতিপাত করেছেন। আল্লাহ যখনই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অতিরিক্ত কিছু দিয়েছেন, সঙ্গে সঙ্গে তিনি মানুষের মধ্যে তা বন্টন করে দিয়েছেন। নিজের জন্য পছন্দ করে কিছুই রাখেন নাই। দ্বিতীয়তঃ তিনি কখনই একাকী খাওয়া পছন্দ করতেন না, সর্বদাই অন্যকে খানায় শামিল করতেন এবং সাহাবীদেরকে সর্বদাই এই ত্যাগ ও কুরবানীর শিক্ষা দিতেন।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 না চালা আটা

📄 না চালা আটা


আল্লাহর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খোরাক সম্পর্কে হযরত সাহল ইবনে সাআদ (রাযিঃ) থেকে একটা দীর্ঘ হাদীস বর্ণিত আছে। উক্ত হাদীসে তিনি একটা প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন। তাঁর নিকট কেউ প্রশ্ন করল, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় তোমাদের নিকট চালুনি ছিল কি? তিনি জবাবে বললেন আমাদের নিকট চালুনি ছিল না। অতঃপর প্রশ্ন করা হল তোমরা জবের আটা কি করতে? তিনি জবাবে বললেন,
كنا ننفخه فيطير منه ما طار ثم نثريه نعجنه
"আমরা তাতে ফুঁক দিতাম যা কিছু ভূসি ইত্যাদি উড়ার থাকত উড়ে যেত, অতঃপর আমরা তাতে পানি ছিটিয়ে গুলে নিতাম।"
-শামায়েলে তিরমিযী, বুখারী
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৈনন্দিন খাদ্য সম্পর্কে একটু চিন্তা করা উচিত। যিনি উভয় জাহানের বাদশাহ, বিশ্বে শান্তির অগ্রদূত এবং সর্বশেষ নবী ছিলেন তাঁর খাদ্য কি ছিল? মোটা রুটি, সাদাসিধা তরকারী, জবের আটার রুটি, আর সাথে যদি দু'চারটা শুকনা খেজুর অথবা সামান্য কিছু সিরকা মিলত তবে খুবই আনন্দ চিত্তে খেয়ে শুকরিয়া আদায় করতেন।
হযরত আনাস (রাযিঃ)-এর নিম্নোল্লেখিত হাদীসটি উপরোক্ত হাদীসটিকে আরো মজবুত করেঃ
مَا أَكَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُبْزًا مُرَقَّقًا وَلَا شَاةٌ سَمِيْطَةٌ حَتَّى
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর শেষ সময় (ওয়াফাত) পর্যন্ত কখনও পাতলা রুটি এবং ভুনা বকরী আহার করেন নাই।" -বুখারী শরীফ

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 পানি আর খেজুর খেয়ে জীবন যাপন

📄 পানি আর খেজুর খেয়ে জীবন যাপন


নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্রা স্ত্রী হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি হযরত ওরওয়া (রাযিঃ) কে বলেন, হে আমার ভাতিজা! নিশ্চয়ই আমি প্রথম তারিখের চাঁদ এবং এভাবে দু'মাসে তিনটি চাঁদ দেখতাম (অর্থাৎ পূর্ণ দু'মাস অতিবাহিত হয়ে যেত) কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে আগুন জ্বলত না (অর্থাৎ রান্না হত না)।" আমি (ওরওয়া) বললাম "হে আমার খালা! আপনারা কিভাবে জীবন কাটাতেন?" তিনি (হযরত আয়েশা) জবাবে বললেন, শুধু মাত্র দু'টি কালো জিনিসের মাধ্যমে অর্থাৎ খেজুর এবং পানির সাহায্যে। তবে অন্য আরও একটি উপায় ছিল, তা হল কিছু আনসার ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিবেশী ছিলেন, যাদের কিছু দুধওয়ালা পশু ছিল, তাঁরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ঐ জানোয়ারগুলির দুধ পাঠাতেন। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তা পান করতে দিতেন।" -বুখারী, মুসলিম
"হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ)-এর পূর্বের বর্ণনায় আপনারা জেনেছেন যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথীগণ না চালা জবের আটার রুটি খেতেন, তবে পরপর দুদিন একটানা জবের রুটি মিলত না এবং একদিন দুবেলা গোশতও জুটত না। এখন আপনারা এই হাদীস শুনলেন যে, দুই মাস ধরে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে চুলা জ্বলে নাই। তাদের দিনগুলি শুধু এক ঢোক পানি এবং খেজুরের দানা অথবা কখনও প্রতিবেশী আনসারদের পাঠান দুধে কেটেছে।
আল্লাহ! আল্লাহ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর ঘরওয়ালাদের মধ্যে কেমন ধৈর্য্য ছিল! মালে গনীমত এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অংশের ব্যাপারে সমালোচকদের চক্ষু খোলার জন্য এটা একটা বিরাট উপদেশ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00