📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 জবের রুটি

📄 জবের রুটি


নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদ্য বিষয়ে আমি আল্লামা হাফেয ইবনে কায়্যিম (রহঃ)-এর বর্ণনা বিস্তারিতভাবে নকল করেছি। এতে যেন কারো এই ধারণা না হয় যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ধরনের খানায়ই অভ্যস্থ ছিলেন এবং প্রতিদিনই আল্লাহর নিয়ামত হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দস্তর খানায় থাকত। মোটেই নয়। বরং এর একেবারে বিপরীত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদ্য সাদাসিধা বরং অধিকাংশ সময়ই তাকে অনাহারে কাটাতে হত। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, আমার মনে পড়ে না যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় লাগাতার এক সপ্তাহ আমাদের ঘরে চুলা জ্বলেছে।
হযরত ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ছালাম (রাযিঃ)-এর নিম্নের রেওয়ায়াতটি লক্ষ্য করুন:
قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَ كَسْرَةٌ مِنْ خُبْزِ الشَّعِيرِ فَوَضَعَ عَلَيْهَا ثمرة فقال هذه إِدَامُ هذه
"তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম এর তরকারী।"
"হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবারস্থ ব্যক্তিগণ পর্যায় ক্রমে কয়েক রাত অনাহারে কাটিয়ে দিতেন। রাত্রের খানার জন্য কোন ব্যবস্থা হত না এবং অধিকাংশ সময় রুটি জবের হত।"

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 সাদামাটা খাদ্য

📄 সাদামাটা খাদ্য


আপনারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় খাদ্য সম্পর্কে জেনেছেন। এখন দোজাহানের বাদশাহ হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (দৈনন্দিন) প্রকৃত খাদ্য সম্পর্কে জানুন। তাহলে বুঝতে পারবেন, দোজাহানের বাদশাহ কেমন কষ্টে যিন্দেগী যাপন করতেন এবং পৃথিবীতে ধৈর্য্য, শুকরিয়া অল্পেতুষ্টি ইত্যাদি মহৎ গুণাবলীর কেমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।
এ ব্যাপারে হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ খাদেম হযরত আনাস (রাযিঃ)-এর বর্ণনা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। তিনি বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْجِبُهُ الثَفَـلُ
“নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁড়ির খুরচন অর্থাৎ হাঁড়ির তলায় লেগে থাকা অংশ পছন্দ করতেন।” - তিরমিযী, বায়হাকী, মিশকাত
হযরত ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ নামক অন্য এক সাহাবী বর্ণনা করেন:
رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَ كَسْرَةَ مِنْ خُبْزِ الشَّعِيرِ فَوَضَعَ عَلَيْهِ تَمَرَةٌ فَقَالَ هَذِهِ إِدَامَ هذه
“আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম, তিনি জবের তৈরী একটা রুটি নিলেন এবং এর উপর খেজুর রেখে বললেন, এটা হল তরকারী, এটা হল তরকারী।”
যে নবীর গুণাবলী বর্ণনা করে শেষ করা যায়না। সেই সর্বোত্তম মানুষটির অবস্থা দেখলেন? হাঁড়ির অবশিষ্ট অংশ (তলানী) আগ্রহ সহকারে খেতেন এবং জবের রুটি ছিল তার দৈনন্দিন খাদ্য। আর জবের রুটির সঙ্গে খেজুরের দানা তরকারী হিসেবে ব্যবহার করতেন এবং বড় সন্তুষ্ট চিত্তে বলতেন “এটা হল সালুন। এট হল সালুন।”

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 দুই বেলা গোশত রুটি

📄 দুই বেলা গোশত রুটি


হযরত মাসরুক (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, আমি উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ)-এর নিকট গমন করলে তিনি আমার জন্য খানা আনলেন আর তিনি বলতে লাগলেন, আমি যখনি তৃপ্তি সহকারে খানা খাই তখনি আমার কান্না এসে যায় সুতরাং আমি কাঁদতে থাকি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আরয করলাম কেন?
তিনি বললেন, আমার ঐ সময়ের কথা মনে পড়ে যায় যখন আল্লাহর নবী পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন,
وَاللَّهِ مَا شَبِعَ مِنْ خَيْرٍ وَلَا لَحْمٍ مَرَّتَيْنِ فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ
“আমি কছম খেয়ে বলছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দিনই দুই বেলা রুটি এবং গোশত তৃপ্তি সহকারে খান নাই।” -শামায়েলে তিরমিযী
উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাযিঃ) যার লকব হল “সিদ্দীকা” বা সত্যবাদিনী তাঁর এ বর্ণনার চেয়ে আর কার বর্ণনা সত্য হতে পারে? যিনি ছিলেন সত্যবাদী পিতা সিদ্দীকে আকবর-এর সত্যবাদিনী মেয়ে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন সঙ্গিনী, অন্তরঙ্গ বন্ধু, নির্জনতা ও লোকালয়ের গোপন তথ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত। আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতি এবং তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতার প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন।
পক্ষান্তরে তাঁর উম্মতগণের অবস্থা হল, গোশত ছাড়া এক লোকমাও চলে না; সজীর মধ্যে গোশত, ডালে গোশত, চাউলে গোশত, সকালেও গোশত এবং • সন্ধ্যায়ও গোশত চাই। আর দোজাহানের বাদশাহ এমন জীবন যাপন করেছেন যে, কোন এক দিনও দুই বেলা তৃপ্তি সহকারে গোশত রুটি আহার করেন নাই। তাই তো পরবর্তী খোশহাল যামানায় উম্মুল মুমিনীনের দুই চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ত।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 দস্তর খানায় গোশত রুটি

📄 দস্তর খানায় গোশত রুটি


عَنْ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ قَالَ مَا شَبَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ خُبْرٍ وَلَا لَحْمِ إِلَّا عَلَى ضَفَفِ
"হযরত মালেক ইবনে দিনার (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'যফাফ” ব্যতীত না রুটি তৃপ্তি সহকারে খেয়েছেন না গোশত পেটভরে খেয়েছেন।"
হাদীসের বর্ণনাকারী মালেক (রযিঃ) বলেন, "আমি এক বদরী সাহাবীর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম 'যফাফ' অর্থ কি? তিনি বললেন, মানুষের সঙ্গে মিলিত হয়ে খাওয়া। -শামায়েলে তিরমিযী
তরকারীর মধ্যে গোশত হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিক পছন্দনীয় ছিল। আর গোশতের মধ্যে দস্ত, রান, মাছএবং গর্দানের গোশত তিনি পছন্দ করতেন। কিন্তু দোজাহানের বাদশাহ সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ট ব্যক্তিত্বের তৃপ্তি সহকারে গোশত খাওয়ার সুযোগ হত কই? উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারী বলেন, গোশত হোক অথবা রুটি হোক যদি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও তৃপ্তি সহকারে খেয়ে থাকেন তবে তা সম্মিলিত খানা তথা সাহাবীগণের মজলিসে বা কোন দাওয়াতের অনুষ্ঠানে খেয়েছেন।
এর দুটি কারণ হতে পারে। প্রথমতঃ তিনি তাঁর পবিত্র যিন্দেগীর অধিকাংশ সময় নেহায়েত দারিদ্র্য ও দুঃখ কষ্টের সঙ্গে কাটিয়েছেন, অনাহারে দিনাতিপাত করেছেন। আল্লাহ যখনই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অতিরিক্ত কিছু দিয়েছেন, সঙ্গে সঙ্গে তিনি মানুষের মধ্যে তা বন্টন করে দিয়েছেন। নিজের জন্য পছন্দ করে কিছুই রাখেন নাই। দ্বিতীয়তঃ তিনি কখনই একাকী খাওয়া পছন্দ করতেন না, সর্বদাই অন্যকে খানায় শামিল করতেন এবং সাহাবীদেরকে সর্বদাই এই ত্যাগ ও কুরবানীর শিক্ষা দিতেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00