📄 যায়তুন এবং এর তেল
عَنْ أَبِي أُسَيْدِ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُو الزَّيْتَ وَادَّهِنُوا بِهِ فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ -
"হযরত আবূ উসাইদ আনসারী (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা যায়তুনের ফল খাও এবং এর তৈল ব্যবহার কর। কারণ এটা একটা বরকতপূর্ণ বৃক্ষ। -মিশকাত, দারেমী, তিরমিযী
যায়তুন একটা ফলদার গাছের নাম এবং ঐ গাছের ফলকেও যায়তুন বলা হয়। ইংরেজীতে এটাকে ওয়ালিভ (OLIVE) বলা হয়। যায়তুনের তেলকে "যাইত" বলা হয়। শামদেশ এবং এর আশপাশে এই গাছ প্রচুর জন্মে থাকে। কোন কোন শীত প্রধান দেশেও এ গাছটি পাওয়া যায়। এর বরকত এবং উপকারিতা এ কারণেও হতে পারে যে আল্লাহ তা'আলা তার সর্বশেষ গ্রন্থের চার স্থানে যায়তুন শব্দটি উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁর পবিত্র কালামে যায়তুন এর কসম খেয়েছেন। যথা -
وَالزَّيْتُونَ وَطُورِ سِينِين وَهَذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ
যায়তুনের ফল এবং তৈল দু'টিই একান্ত উপকারী এবং ফায়দা দায়ক। হৃৎপিন্ড, মস্তিষ্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের জন্যে শক্তি বর্ধক। মৃদু গরম তাসীর বিশিষ্ট। শরীরে শক্তি জোগায়। এর ফল ও তেল খাদ্য এবং ঔষধ দুটিই। আরব দেশে যায়তুনের তৈল ঘি-এর পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। দস্তরখানার সৌন্দর্য ও জাঁকজমক মনে করা হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়তুনের তেল এবং ফল উভয়ই ব্যবহার করতে বলতেন। আর এ দুটিকে বরকতময় বলেও আখ্যায়িত করেছেন। যায়তুনের তৈল নাশপতি এবং খাঁটি ঘি অপেক্ষা উত্তম।
📄 সিরকা টক ও ঝালযুক্ত একটি উত্তম সালুন
عَنْ جَابِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلِ أَهْلَهُ الْإِدَامَ فَقَالُوا مَا عِنْدَنَا إِلَّا خَلَّ فَدَعَا بِهِ فَجَعَلَ يَأْكُلُ بِهِ وَيَقُولُ نِعْمَ الْآدَمُ الْخَلَّ نِعْمَ الْآدَمُ الْخَلَّ .
"হযরত জাবের (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আহলে বাইত (ঘরওয়ালাদের) নিকট জিজ্ঞাসা করলেন, ঘরে কি কোন সালুন বা তরকারী (মাছ, গোশত বা সজীর ব্যঞ্জন) আছে? ঘরের লোকেরা বললেন, ঘরে সিরকা ব্যতীত অন্য কিছু নাই। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা চেয়ে নিলেন এবং তা দ্বারা খানা খাওয়া শুরু করলেন। তিনি খানা খেতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, সিরকা কতইনা ভাল তরকারী; সিরকা কতইনা উত্তম তরকারী।" - মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ
লক্ষ্য করার বিষয়, তিনি সর্বোত্তম মানুষ হয়েও কেমন সরল সহজ ছিলেন যে, ঘরে যা কিছু উপস্থিত ছিল কোন লৌকিকতা না করে তা দিয়েই আহার করে ফেললেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যিন্দিগীর মধ্যে কতইনা অল্পে তুষ্টি (কানায়াত) এবং ধৈর্য্য ও শুকরিয়া ছিল যে, ভাল খারাপ যা কিছু মিলত তাতেই রাযী ও সন্তুষ্ট থাকতেন। আজ এমন কোন নেতা আছেন যিনি এমন একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে স্বচ্ছল লোকদের ঘরে কোন্ জিনিসের অভাব ছিল? মক্কা ব্যবসায়ের কেন্দ্র ছিল। সমস্ত দেশের ব্যবসায়ের পণ্য এবং দূর ও নিকটের সকল ধরনের নিয়ামত সেখানে সহজ লভ্য ছিল। তথাপি তিনি সিরকাকে তরকারীর মত ব্যবহার করতেন এবং সঙ্গে সঙ্গে একথা বলে প্রশংসাও করতেন যে, "সিরকা উত্তম তরকারী, "সিরকা উত্তম তরকারী।"
সিরকা মূলতঃ এত উপকারী যা বর্ণনা করে শেষ করার নয়। পেটের হাজারো সমস্যার উত্তম ঔষধ। পাকস্থলীর এবং হজম শক্তির সীমাহীন সহায়ক। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এক উপাদেয় জিনিস। তবে এটা খানার অতিরিক্ত একটা আইটেম, তরকারী নয়। তথাপি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাকে তরকারী হিসাবে ব্যবহার করেছেন।
📄 রাতের খানা
আল্লামা হাফেয ইবনে কায়্যিম (রাযিঃ) দোজাহানের বাদশাহ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খানা সম্পর্কিত আলোচনার শেষ পর্যায়ে একটা বিশেষ দরকারী এবং উপকারী বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, সে বিষয়টি তাঁর ভাষায়ই উল্লেখ করা হল।
ইবনে কায়্যিম (রহঃ) বলেন:
وَكَانَ يَأْمُرُ بِالْعَشَاءِ وَلَوْ بِكَفِّ مِنْ تَمْرَةٍ وَيَقُولُ تَرَكُ العَشَاءِ يَهْرَمُهُ
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রে খানা খাওয়ার নির্দেশ দিতেন যদিও এক মুষ্টি অথবা তার কম পরিমাণ খেজুর দিয়ে হোক না কেন, এবং তিনি বলতেন রাত্রের খানা ত্যাগ করা বার্ধক্য আনে।" -যাদুল মাআদঃ খন্ডঃ ২
আজকাল অনেক লোকই অজ্ঞতার কারণে অভ্যাসগত ভাবে রাত্রে খানা খায় না। এবং তারা ধারণা করে এতে বদহজমী থেকে রেহাই পাওয়া যায়। তাদের স্বীয় অভ্যাস পরিবর্তন করে ফেলা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অথবা কোন সমস্যার কারণে এমন করতে হলে ভিন্ন কথা। তা না হলে রাত্রের খানা যৎসামান্য হলেও খাওয়া চাই।
রাত্রের খানার ব্যাপারে এ বিষয়টিও ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রের খানা খেয়েই তৎক্ষণাৎ শুয়ে পড়া অথবা ঘুমিয়ে যাওয়াকে নিষেধ করেছেন। সে মতে চল্লিশ কদম হাটা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত। অর্থাৎ রাত্রের খানা খাওয়ার পর চল্লিশ কদম হাটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস ছিল।
আর এর বিপরীত দুপুরে খানার পর কায়লুলা করা অর্থাৎ কিছু সময়ের জন্যে শুয়ে আরাম করা সুন্নতে নববী। রাত্রের চল্লিশ কদম হাটা এবং দুপুরের কায়লুলার উপকারিতা প্রত্যেকের নিকট স্বীকৃত।
📄 জবের রুটি
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদ্য বিষয়ে আমি আল্লামা হাফেয ইবনে কায়্যিম (রহঃ)-এর বর্ণনা বিস্তারিতভাবে নকল করেছি। এতে যেন কারো এই ধারণা না হয় যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ধরনের খানায়ই অভ্যস্থ ছিলেন এবং প্রতিদিনই আল্লাহর নিয়ামত হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দস্তর খানায় থাকত। মোটেই নয়। বরং এর একেবারে বিপরীত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদ্য সাদাসিধা বরং অধিকাংশ সময়ই তাকে অনাহারে কাটাতে হত। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, আমার মনে পড়ে না যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় লাগাতার এক সপ্তাহ আমাদের ঘরে চুলা জ্বলেছে।
হযরত ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ছালাম (রাযিঃ)-এর নিম্নের রেওয়ায়াতটি লক্ষ্য করুন:
قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَ كَسْرَةٌ مِنْ خُبْزِ الشَّعِيرِ فَوَضَعَ عَلَيْهَا ثمرة فقال هذه إِدَامُ هذه
"তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম এর তরকারী।"
"হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবারস্থ ব্যক্তিগণ পর্যায় ক্রমে কয়েক রাত অনাহারে কাটিয়ে দিতেন। রাত্রের খানার জন্য কোন ব্যবস্থা হত না এবং অধিকাংশ সময় রুটি জবের হত।"