📄 নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটা প্রিয় খাদ্য লাউ
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ خَيَّاطًا دَعَا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِطَعَامٍ صَنَعِ فَذَهَبْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَرَّبَ خُبْزًا شَعِيرًا وَمَرَقَا فِيهِ دُبَّاء وَقَدِيدٌ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَتَبَّعُ الدُّبَّاءَ مِنْ حَوَالِي الْقِصْعَةِ فَلَمْ ازل احب الدباء بعد يومئذ
"হযরত আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত : একদা এক দর্জি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খানা খাওয়ার দাওয়াত দেয়। আমিও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে যাই। (আমন্ত্রণকারী) জবের রুটি এবং সুরবা পরিবেশন করল যার মধ্যে লাউ ও শুকনা গোশত ছিল। আমি দেখলাম আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রের কিনার থেকে লাউয়ের টুকরা খুঁজে বের করছেন। সে দিন থেকে আজ পর্যন্ত লাউ সর্বদাই আমার প্রিয় খাদ্য।" -বুখারী, মুসলিম
লাউ কয়েক প্রকার। আমাদের দেশে লাউকি, ঘিয়া লাউ গোল লাউ বা পিলকদু এবং লাল ফুল কদু সচরাচর পাওয়া যায়। প্রথম দুই প্রকার কম বেশী প্রায় একই বৈশিষ্ট্যের। কিন্তু তৃতীয় প্রকার একেবারেই ভিন্ন ধরনের, শুধু নামে মিল রয়েছে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাউকী পছন্দ করতেন। যাকে সাদা ফুলের কদু এবং ঘিয়া কদুও বলা হয়। এটা এক উত্তম তরকারী। খেতে খুবই সুস্বাদু এবং কার্যকারিতাও স্বাস্থ্য সম্মত, এবং স্বভাব খুবই ঠান্ডা এবং খুবই দ্রুত হজমকারী, পাকাতেও সুবিধা। এ দিকে চুলার উপর হাড়ি রাখা হল তো ওদিকে পাক হয়ে গেল। লাউয়ের তরকারী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুবই প্রিয় ছিল। -ইবনে মাজা
📄 হালুয়া এবং মধু
আমাদের দেশে হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত খাদ্য সমূহের মধ্য হতে বিশেষভাবে খেজুর, মধু, হালুয়া এবং ছাতু সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। রোযাদারের জন্য খেজুর দ্বারা ইফতার করা সুন্নত।
ছাতু পান করা এবং খানার সময় দস্তরখানার উপর হালুয়ার ব্যবস্থা থাকা একটা পছন্দনীয় সুন্নত। অবশ্য ছাতু শুধুমাত্র গ্রাম অঞ্চলের পানীয় হিসেবে সীমাবদ্ধ। পক্ষান্তরে মধু সর্বত্রই এবং সচরাচর ব্যবহৃত হয়ে থাকে। হালুয়া (মিষ্টি) আমাদের খাদ্যের সঙ্গে, বিশেষ করে কোন মাহফিলের পরে অত্যাবশ্যক একটা অংশ।
এ সম্পর্কে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) এর ইরশাদ লক্ষ্য করুন- তিনি বলেনঃ
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ الْحَلْواءَ وَالْعَسَلَ
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালুয়া-মিষ্টি এবং মধু পছন্দ করতেন।" মিশকাত শরীফ
আমরা সস্তা সুন্নত অন্বেষণকারী এবং সহজ সুন্নতের উপর আমলকারীরা এ বিষয়টা একেবারে ভুলে যাই যে, আরবী পরিভাষায় হালুয়া দ্বারা সকল প্রকার মিষ্টান্ন জাতীয় দ্রব্য বুঝায়। এমন কি কখনও কখনও মিষ্টি ফলকেও হালুয়ার মধ্যে শামিল করা হয়। (দ্রষ্টব্য মিশকাতের শরাহ মিরকাত)
আমরা উন্নত মানের সুজি এবং দেশী ঘি-এর সঙ্গে ছোট এলাচ, বাদাম, পেস্তা মিলিয়ে যে, সুস্বাদু "সুন্নত" হালুয়া তৈরী করে থাকি খয়রুল কুরুন অর্থাৎ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরবর্তী দুই যুগের লোকেরা সম্ভবত এ ধরনের খাদ্যের কথা চিন্তাও করতে পারেন নাই।
বিশ্বের শান্তির দূত হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক প্রকার হালুয়ার পরিচয় আপনারা সরীদের অধ্যায়ে লক্ষ্য করে থাকবেন। যে হালুয়ার উপাদান ছিল ছাতু, খেজুর এবং পনির অথবা দুধ। অন্য এক ধরনের প্রিয় হালুয়া তৈরী হত না-ছানা আটার মধ্যে খেজুরের রস মিশিয়ে।
📄 পীলুর কাল ফল
عَنْ جَابِرٍ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَرِ الظُّهْرَانِ نَجْبِي الْكِبَانَ فَقَالَ عَلَيْكُمْ بِالْأَسْوَدِ مِنْهُ فَإِنَّهُ أَطْيَبَ فَقِيلَ أَكُنْتَ تَرَعَى الْغَنَمَ؟ فَقَالَ نَعَمْ - وَهَلْ مِنْ نَّبِيِّ إِلَّا رَعَاهَا .
হযরত জাবের (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে থেকে "মারে যাহরান" এ মধ্যে "কাবাছ” (পিলুর ফল) টুকাইতেছিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কালো কালো ফল বেছে নাও। কারণ এগুলি খুব ভাল হয়ে থাকে। অতঃপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রশ্ন করা হল, আপনি কি বকরী চরিয়েছেন? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হ্যাঁ, এমন কোন নবী নাই যিনি বকরী চরান নাই।" -বুখারী, মুসলিম
হযরত জাবের (রাযিঃ)-এর বর্ণনায় উপরে যে "মারে যাহরান" সম্পর্কে বলা হয়েছে তা হলো মক্কার নিকটবর্তী একটা উপত্যকা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই স্থান দিয়ে সাহাবীগণের একটা জামাআত নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় সাহাবাগণ যখন কিবাস বা পিলু ফল সংগ্রহ করছিলেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন কালো কালো ফল সংগ্রহ কর। কারণ এগুলি উত্তম।
পিলু গাছ আমাদের দেশেও পাওয়া যায়। যা ঘন ছায়া বিশিষ্ট এবং পাতাগুলি পাতলা পাতলা হয়ে থাকে। গরমের মৌসুমে এগুলির ছায়া একটা নিয়ামত বিশেষ। মূলতঃ আমাদের দেশের পিলু ফল সাধারণত লালাভ হলুদ হয়ে থাকে। হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কালো দানাকে উত্তম বলে অভিহিত করেছেন।
📄 যায়তুন এবং এর তেল
عَنْ أَبِي أُسَيْدِ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُو الزَّيْتَ وَادَّهِنُوا بِهِ فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ -
"হযরত আবূ উসাইদ আনসারী (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা যায়তুনের ফল খাও এবং এর তৈল ব্যবহার কর। কারণ এটা একটা বরকতপূর্ণ বৃক্ষ। -মিশকাত, দারেমী, তিরমিযী
যায়তুন একটা ফলদার গাছের নাম এবং ঐ গাছের ফলকেও যায়তুন বলা হয়। ইংরেজীতে এটাকে ওয়ালিভ (OLIVE) বলা হয়। যায়তুনের তেলকে "যাইত" বলা হয়। শামদেশ এবং এর আশপাশে এই গাছ প্রচুর জন্মে থাকে। কোন কোন শীত প্রধান দেশেও এ গাছটি পাওয়া যায়। এর বরকত এবং উপকারিতা এ কারণেও হতে পারে যে আল্লাহ তা'আলা তার সর্বশেষ গ্রন্থের চার স্থানে যায়তুন শব্দটি উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁর পবিত্র কালামে যায়তুন এর কসম খেয়েছেন। যথা -
وَالزَّيْتُونَ وَطُورِ سِينِين وَهَذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ
যায়তুনের ফল এবং তৈল দু'টিই একান্ত উপকারী এবং ফায়দা দায়ক। হৃৎপিন্ড, মস্তিষ্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গের জন্যে শক্তি বর্ধক। মৃদু গরম তাসীর বিশিষ্ট। শরীরে শক্তি জোগায়। এর ফল ও তেল খাদ্য এবং ঔষধ দুটিই। আরব দেশে যায়তুনের তৈল ঘি-এর পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। দস্তরখানার সৌন্দর্য ও জাঁকজমক মনে করা হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়তুনের তেল এবং ফল উভয়ই ব্যবহার করতে বলতেন। আর এ দুটিকে বরকতময় বলেও আখ্যায়িত করেছেন। যায়তুনের তৈল নাশপতি এবং খাঁটি ঘি অপেক্ষা উত্তম।