📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 খেজুর এবং কাঁকড়ী

📄 খেজুর এবং কাঁকড়ী


عَنْ عَبْدِ اللهِ بن جعفر رض قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ الرُّطْبَ بِالْقِتَاءِ
"হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাজা খেজুর এবং কাঁকড়ী একত্রে খেতে দেখেছি।" বুখারী, মুসলিম, মিশকাত
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাওয়ার এই পদ্ধতিটি কতই না চিকিৎসা সম্মত ছিল। রুতব' পাকা তরু তাজা খেজুরকে বলে। কাঁচা হোক বা শুকনা হোক খেজুর তাঁর নিজস্ব সর্বপ্রকার উপকারের সঙ্গে সঙ্গে গরম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। খেজুরের প্রতিক্রিয়া এবং বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিকিৎসা বিষয়ক 'আজওয়া খেজুর' শিরোনামে চতুর্থ অধ্যয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।
কাঁকড়ীকে আরবীতে কিস্সা বলা হয়। মূলতঃ কাঁকড়ী ভিজা পানসা হয়ে থাকে। এর স্বভাব প্রতিক্রিয়াও ঠাণ্ডা। ধনী দরিদ্র নির্বেশেষে সকলের জন্যেই এটা ফল এবং সব্জি দুইটিই। এটা পিপাসা, গরম, জ্বালা-যন্ত্রণা এবং রক্তের চাপ ইত্যাদি কমিয়ে দেয়। অতি দ্রুত হজম হয়। -হায়াতে জিন্দিগী: পৃঃ ১১৪
কাঁকড়ী অন্তরে শান্তি আনে। পেশাব সৃষ্টি করে। প্রস্রাবের জ্বালা যন্ত্রণা দূর করে। মূত্রদ্বার দিয়ে পূঁজ, রক্ত ইত্যাদি নির্গত হওয়া বন্ধ করে। মূত্রাশয়ের পাথর এবং মূত্র থলীর জন্য বিশেষ উপকারী। -কিতাবুল মুফরাদাতঃ খাওয়াসুল আদবিয়া: পৃঃ ২৭৮
সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা'আলা কাঁকড়ীর মধ্যে শতকরা ৭৫৬ ভাগ প্রাকৃতিক পানি, জমা করে দিয়েছেন। ১/২ ভাগ মাংস, ২/৩ ভাগ শ্বেতসার বা মাড় রয়েছে। তাছাড়া এতে তৈলাক্ত পদার্থ, খনিজ লবণ, পটাশিয়াম, লাইম, ফসফরাস, সালফার ইত্যাদিও বিদ্যমান রয়েছে। -সিহহাত আওর তন্দুরস্তীঃ পৃঃ ২০
হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর এবং কাঁকড়ী এক সঙ্গে খেতেন।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 তরমুজ এবং খেজুর

📄 তরমুজ এবং খেজুর


عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْكُلُ الْبِطِّيْخَ بِالرُّطَبِ يَقُوْلُ يَدْفَعُ حَرَّ هَذَا بِبَرْدِ هَذَا
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি তরমুজ ও খেজুর একত্রে খেতেন আর বলতেন তরমুজ খেজুরের গরম দূর করে দেয়। আর তাজা খেজুর তরমুজের ঠান্ডা দূর করে। -আবূ দাউদ, তিরমিযী
رطب বা তাজা খেজুর সম্পর্কে আমরা একটু আগেই বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
এখানে بطيخ বা তরমুজ সম্পর্কে চিকিৎসকগণের গবেষণালব্ধ ফলাফলের সার নির্যাস তুলে ধরা হলঃ
তরমুজের স্বভাব প্রতিক্রিয়া ঠাণ্ডা, পিপাসা নিবারণকারী, (অধিক) পেশাব সৃষ্টিকারী ও কুষ্ঠ কাঠিণ্য দূরকারী। পিত্তজ্বর, দাহজ্বর, মূত্র জ্বালা, মূত্রাশয়ের পাথর, ক্ষত, ক্ষয়রোগ, বিরক্তি, শীর্ণতা এবং শুষ্ক কাশির জন্যও এর ব্যবহার বিশেষ ফলাদায়ক -কিতাবুল মুফরাদাত, খাওয়াছছুল আদবীয়াহঃ পৃঃ ১৩৭
তরমুজ গরমী, শুষ্কতা, পিত্ত, পিপাসা এবং রক্তের জোস সমভাবে দূর করে, থাকে। এত উপকারী হওয়া সত্ত্বেও এটা বিলম্বে হজম হয়, মর্দামী শক্তি কমিয়ে দেয়। উত্তেজনা সৃষ্টি করে। (সিহহত ও যিন্দিগী: পৃঃ ১১৩)
তরমুজ সম্পর্কে আলোচিত বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবুন এবং একটু চিন্তা করে দেখুন, খেজুরের সঙ্গে তরমুজের ব্যবহার কতটুকু উপকারী এবং সর্বপ্রকার ক্ষতিকর দিক থেকে কিভাবে বেঁচে থাকা যায়।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 খেজুর এবং মাখন

📄 খেজুর এবং মাখন


عَنْ ابْنَى بُسْرِ السُّلَمِيِّيْنِ قَالَا دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدِمْنَا زُيْدًا وَتَمَرًا وَكَانَ يُحِبُّ الزَّبَدُ وَالثَّمَرَ
বুসর সুলামী (রাযিঃ)-এর দুই পুত্র (আতিয়া এবং আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত: তাঁরা বলেন, আমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাশরীফ আনলেন। আমরা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে তাজা খেজুর এবং মাখন রাখলাম। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাখন এবং তাজা খেজুর পছন্দ করতেন। -মিশকাত শরীফ, যাদুল মাআদ: খন্ডঃ ৩
আরবে বিভিন্ন প্রকার খেজুর জন্মে থাকে। বিশেষ করে মদীনা মুনাওয়ারায় হরেক রমক খেজুর পাওয়া যায়।
তন্মধ্যে আজওয়া, সালবী, জ্বলি ইত্যাদি খেজুরের বৈশিষ্ট্য হাদীসেও বর্ণিত হয়েছে। আম্বর খেজুর সম্ভবতঃ আকারে সবচেয়ে বড়, সুস্বাদু ও দামী খেজুর। সুবাখখাল খেজুর শুষ্ক ও উগ্র স্বভাবের হয়ে থাকে। এটাকে বীচি হীন বাজে ফল মনে করা হয়। আমাদের দেশের অশিক্ষিত লোকেরা এ ধরনের বীচি হীন খেজুরকেই আজওয়া মনে করে থাকে।
উপরোল্লিখিত হাদীসে "তামার"কে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পছন্দনীয় খেজুর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 'তামার' শুকনা খেজুরকে বলা হয়। সুবহানাল্লাহ! প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মভূমির তাজা খেজুর সর্ম্পকে কি আর বলব। সে খেজুর কতইনা সুস্বাদু ও মিষ্টি হয়। সবচেয়ে বড় কথা হল, এটা নবী করীম (সঃ)-এর খুব পছন্দনীয় এবং তাঁর প্রিয় খাদ্য ছিল।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয় খাদ্য গোশত

📄 নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রিয় খাদ্য গোশত


নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পছন্দনীয় খাদ্যের মধ্যে গোশত সর্বদা তালিকার শীর্ষস্থান লাভ করেছে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোশত খুবই পছন্দ করতেন এবং খুবই প্রশংসা করতেন। এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইরশাদ লক্ষ্যণীয়:
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَيِّدُ طَعَامِ أَهْلِ الدُّنْيَا وَأَهْلِ الْجَنَّةِ اللَّحْمُ
হযরত আবু দারদা (রাযিঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, দুনিয়া এবং জান্নাতবাসীদের প্রধান খাদ্য গোশত। -ইবনে মাজাহ, যাদুল মাআদ
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্য এক সাহাবী হযরত বুরাইদা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
خَيْرَ الْإِدَامِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ اللَّحْمُ
"দুনিয়া এবং আখেরাতের সর্বাপেক্ষা উত্তম সালুন হল গোশত।" -যাদুল মাআদ
এ সকল বর্ণনাসমূহের দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ব্যক্তিগতভাবেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গোশত পছন্দনীয় খাদ্য ছিল। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পছন্দনীয় খাদ্যের উপকারিতা সূর্যের মত স্পষ্ট। পৃথিবীর সকল হেকিম ও চিকিৎকগণ এ ব্যাপারে একমত যে গোশতের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ জীবনীশক্তি রয়েছে। অন্য কোন বস্তুর মধ্যে সম্ভবত গোশতের মত এত শক্তিবর্ধক ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মজবুতকারী শক্তি নাই। সবচেয়ে বড় কথা হল, যে জিনিস নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবীগণ করতেন, আমাদের এত কিছু তাহকীকেরও প্রয়োজন নাই। তবে যদি সে বিষয়ে তাহকীক করতে হয় তবে সেটা মনের এতমিনান ও ঈমান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে হতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00