📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 গাভীর দুধ এবং ঘি

📄 গাভীর দুধ এবং ঘি


عن صُهَيْبِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يُرفعهُ عَلَيْكُمْ بِلَيْنِ الْبَقَرِ فَإِنَّهَا شِفَاءٌ وَسَمَنُهَا دَوَاءُ ولحمها داء
হযরত সুহাইব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা অবশ্যই গাভীর দুধ পান করবে। কেননা এর মধ্যে শেফা রয়েছে এবং এর ঘির মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে। আর এর গোশতের মধ্যে রোগ রয়েছে। - যাদুল মাআদ: খন্ড: ২
মুসদাতরাক গ্রন্থের "তিব্ব" অধ্যায়ের প্রথম হাদীস হল, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীতে এমন কোন রোগ-ব্যাধি পাঠান নাই যার ঔষধ প্রেরণ করেন নাই। আর গাভীর দুধের মধ্যে প্রত্যেক রোগের প্রতিষেধক রয়েছে।"
এই অধ্যায়েরই তৃতীয় হাদীসে শেফার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে যে,
فَإِنَّهَا تَقْرِمُ مِنْ كُلِّ شَجَرٍ
কেননা গাভী সব ধরনের গাছের পাতা খেয়ে থাকে।" -মুসতাদরাকে হাকেম
হাকীকত হল, উট, মহিষ, ভেড়া, বকরী এবং অন্যান্য সমস্ত প্রাণীর তুলনায় গাভীর দুধ উত্তম। সকল প্রকার ক্ষতি থেকে মুক্ত এবং কতিপয় রোগের শেফা। এতদ্ব্যতীত গাভীর ঘি, এবং মাখনও বহু রোগের প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে। চিকিৎসকগণ এটাকে ঔষধ হিসাবে ব্যবস্থা করে থাকেন।
তবে গরুর গোশত যেহেতু গরম, তাই এর গরম প্রতিক্রিয়া কিছুটা সমস্যাও সৃষ্টি করে থাকে। কিন্তু আমাদের কখনও একথা ভুলে গেলে চলবে না যে, গরুর গোশত হালাল। আর হালাল কোন কিছুকেই নিজের জন্য হারাম মনে করার অনুমতি শরীয়ত কখনও দেয় নাই। তবে ডাক্তারী মতে গরুর গোশত খাওয়া না খাওযা ভিন্ন কথা।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 খেজুর এবং কাঁকড়ী

📄 খেজুর এবং কাঁকড়ী


عَنْ عَبْدِ اللهِ بن جعفر رض قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ الرُّطْبَ بِالْقِتَاءِ
"হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাজা খেজুর এবং কাঁকড়ী একত্রে খেতে দেখেছি।" বুখারী, মুসলিম, মিশকাত
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাওয়ার এই পদ্ধতিটি কতই না চিকিৎসা সম্মত ছিল। রুতব' পাকা তরু তাজা খেজুরকে বলে। কাঁচা হোক বা শুকনা হোক খেজুর তাঁর নিজস্ব সর্বপ্রকার উপকারের সঙ্গে সঙ্গে গরম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। খেজুরের প্রতিক্রিয়া এবং বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চিকিৎসা বিষয়ক 'আজওয়া খেজুর' শিরোনামে চতুর্থ অধ্যয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।
কাঁকড়ীকে আরবীতে কিস্সা বলা হয়। মূলতঃ কাঁকড়ী ভিজা পানসা হয়ে থাকে। এর স্বভাব প্রতিক্রিয়াও ঠাণ্ডা। ধনী দরিদ্র নির্বেশেষে সকলের জন্যেই এটা ফল এবং সব্জি দুইটিই। এটা পিপাসা, গরম, জ্বালা-যন্ত্রণা এবং রক্তের চাপ ইত্যাদি কমিয়ে দেয়। অতি দ্রুত হজম হয়। -হায়াতে জিন্দিগী: পৃঃ ১১৪
কাঁকড়ী অন্তরে শান্তি আনে। পেশাব সৃষ্টি করে। প্রস্রাবের জ্বালা যন্ত্রণা দূর করে। মূত্রদ্বার দিয়ে পূঁজ, রক্ত ইত্যাদি নির্গত হওয়া বন্ধ করে। মূত্রাশয়ের পাথর এবং মূত্র থলীর জন্য বিশেষ উপকারী। -কিতাবুল মুফরাদাতঃ খাওয়াসুল আদবিয়া: পৃঃ ২৭৮
সর্বশক্তিমান আল্লাহ তা'আলা কাঁকড়ীর মধ্যে শতকরা ৭৫৬ ভাগ প্রাকৃতিক পানি, জমা করে দিয়েছেন। ১/২ ভাগ মাংস, ২/৩ ভাগ শ্বেতসার বা মাড় রয়েছে। তাছাড়া এতে তৈলাক্ত পদার্থ, খনিজ লবণ, পটাশিয়াম, লাইম, ফসফরাস, সালফার ইত্যাদিও বিদ্যমান রয়েছে। -সিহহাত আওর তন্দুরস্তীঃ পৃঃ ২০
হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর এবং কাঁকড়ী এক সঙ্গে খেতেন।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 তরমুজ এবং খেজুর

📄 তরমুজ এবং খেজুর


عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْكُلُ الْبِطِّيْخَ بِالرُّطَبِ يَقُوْلُ يَدْفَعُ حَرَّ هَذَا بِبَرْدِ هَذَا
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি তরমুজ ও খেজুর একত্রে খেতেন আর বলতেন তরমুজ খেজুরের গরম দূর করে দেয়। আর তাজা খেজুর তরমুজের ঠান্ডা দূর করে। -আবূ দাউদ, তিরমিযী
رطب বা তাজা খেজুর সম্পর্কে আমরা একটু আগেই বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
এখানে بطيخ বা তরমুজ সম্পর্কে চিকিৎসকগণের গবেষণালব্ধ ফলাফলের সার নির্যাস তুলে ধরা হলঃ
তরমুজের স্বভাব প্রতিক্রিয়া ঠাণ্ডা, পিপাসা নিবারণকারী, (অধিক) পেশাব সৃষ্টিকারী ও কুষ্ঠ কাঠিণ্য দূরকারী। পিত্তজ্বর, দাহজ্বর, মূত্র জ্বালা, মূত্রাশয়ের পাথর, ক্ষত, ক্ষয়রোগ, বিরক্তি, শীর্ণতা এবং শুষ্ক কাশির জন্যও এর ব্যবহার বিশেষ ফলাদায়ক -কিতাবুল মুফরাদাত, খাওয়াছছুল আদবীয়াহঃ পৃঃ ১৩৭
তরমুজ গরমী, শুষ্কতা, পিত্ত, পিপাসা এবং রক্তের জোস সমভাবে দূর করে, থাকে। এত উপকারী হওয়া সত্ত্বেও এটা বিলম্বে হজম হয়, মর্দামী শক্তি কমিয়ে দেয়। উত্তেজনা সৃষ্টি করে। (সিহহত ও যিন্দিগী: পৃঃ ১১৩)
তরমুজ সম্পর্কে আলোচিত বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার কথা ভাবুন এবং একটু চিন্তা করে দেখুন, খেজুরের সঙ্গে তরমুজের ব্যবহার কতটুকু উপকারী এবং সর্বপ্রকার ক্ষতিকর দিক থেকে কিভাবে বেঁচে থাকা যায়।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 খেজুর এবং মাখন

📄 খেজুর এবং মাখন


عَنْ ابْنَى بُسْرِ السُّلَمِيِّيْنِ قَالَا دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدِمْنَا زُيْدًا وَتَمَرًا وَكَانَ يُحِبُّ الزَّبَدُ وَالثَّمَرَ
বুসর সুলামী (রাযিঃ)-এর দুই পুত্র (আতিয়া এবং আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত: তাঁরা বলেন, আমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাশরীফ আনলেন। আমরা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে তাজা খেজুর এবং মাখন রাখলাম। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাখন এবং তাজা খেজুর পছন্দ করতেন। -মিশকাত শরীফ, যাদুল মাআদ: খন্ডঃ ৩
আরবে বিভিন্ন প্রকার খেজুর জন্মে থাকে। বিশেষ করে মদীনা মুনাওয়ারায় হরেক রমক খেজুর পাওয়া যায়।
তন্মধ্যে আজওয়া, সালবী, জ্বলি ইত্যাদি খেজুরের বৈশিষ্ট্য হাদীসেও বর্ণিত হয়েছে। আম্বর খেজুর সম্ভবতঃ আকারে সবচেয়ে বড়, সুস্বাদু ও দামী খেজুর। সুবাখখাল খেজুর শুষ্ক ও উগ্র স্বভাবের হয়ে থাকে। এটাকে বীচি হীন বাজে ফল মনে করা হয়। আমাদের দেশের অশিক্ষিত লোকেরা এ ধরনের বীচি হীন খেজুরকেই আজওয়া মনে করে থাকে।
উপরোল্লিখিত হাদীসে "তামার"কে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পছন্দনীয় খেজুর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 'তামার' শুকনা খেজুরকে বলা হয়। সুবহানাল্লাহ! প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মভূমির তাজা খেজুর সর্ম্পকে কি আর বলব। সে খেজুর কতইনা সুস্বাদু ও মিষ্টি হয়। সবচেয়ে বড় কথা হল, এটা নবী করীম (সঃ)-এর খুব পছন্দনীয় এবং তাঁর প্রিয় খাদ্য ছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00