📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদ্য

📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদ্য


হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদ্য সম্পর্কে আমরা হাফেয ইবনে কাইয়্যিম (রহঃ)-এর ভাষায়, তাঁর "তিব্বে নববী" নামক কিতাব থেকে উদ্ধৃত করছি। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত খাদ্য সমূহ কখনও একত্রে খেতেন না।
/১/ لَمْ يَجْمَعُ قَطُّ بَيْنَ لَبَنِ وَسَمَكِ দুধ ও মাছ কখনও এক সঙ্গে খেতেন না।
(২) وَلَا بَيْنَ لَبَبْنِ وَحَامِضٍ দুধ ও টক জিনিস কখনও একত্রে খেতেন না।
وَلَا بَيْنَ غِذَائِيْنِ حَارَّيْنِ وَلَا بَارِدَيْنِ وَلَا تُزَجِينِ وَلَا قَابِضَيْنِ وَلَا مُسْهِلَيْنِ وَلَا غَلِيظَيْنِ وَلَا مُرْخَيْنِ وَلَا سُتَحِيلَيْنِ إِلَى خِلْطٍ وَاحِدٍ
(৩) দু'টি গরম খাদ্য, দু'টি ঠান্ডা খাদ্য, দু'টি চর্বিযুক্ত খাদ্য, দু'টি আঠালো খাদ্য, দু'টি নরম খাদ্য, দু'টি শক্ত খাদ্য একত্রে খেতেন না, এমন দু'টি জিনিস একত্রে খেতেন না যা একই স্বভাবে পরিণত হবে।
وَلَا بَيْنَ مُخْتَلِفَيْنِ كَقَابِضٍ وَ مُسْهِلٍ وَسَرِيعُ الهَضِمِ وَبَطِينِهِ
(৪) বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী কোন জিনিসও একত্রে খেতেন না। যেমন, একটা আঠাল খাদ্য এবং একটা নরম খাদ্য, একটা দ্রুত হজম সম্পন্ন এবং অপরটা বিলম্বে হজম হওয়া খাদ্য এক সঙ্গে খেতেন না।
وَلَا بَيْنَ شَوَى وَ هَبِيخٍ وَلَا بَيْنَ طَرِى وَتَدِيدٍ
(৫) ভুনা এবং রান্না খাদ্য, টাটকা এবং বাসী খাদ্য একত্রে খেতেন না। -যাদুল মাআদঃ খণ্ডঃ ২

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিত্যাজ্য খাদ্য সমূহ

📄 নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিত্যাজ্য খাদ্য সমূহ


আল্লামা হাফেয ইবনে কাইয়্যিম (রহঃ)-এর "যাদুল মাআদ' নামক সুপ্রসিদ্ধ কিতাব থেকে আমি পূর্ববর্তী পৃষ্ঠায় হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদ্য দ্রব্য সর্ম্পকে কিছু বর্ণনা দিয়েছি। এখন তাঁর এই সুবিখ্যাত কিতাব থেকেই সেই সকল খাদ্য সম্পর্কে আলোচনা করছি, যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেতেন না।
وَلَمْ يَكُنْ يَا كُلُّ طَعَامًا فِي وَقْتِ شَدَّةِ حَرَارَتِهِ
(১) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যাধিক গরম জিনিস খেতেন না।
وَلَا طَبِيخًا بَاتَنَا يَسْخِنُ لَهُ لِغَدٍ
(২) রাত্রের রান্না (বাসী) খাদ্য পরের দিন খেতেন না
وَلَا شَيْئًا مِنَ الْأَطْعِمَةِ الْعَفْنَةِ وَالْمَالِحَةِ كَالْكَوَامِخِ
(৩) অনুরূপভাবে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোন প্রকার দুর্গন্ধযুক্ত খাদ্য পছন্দ করতেন না এবং চটপটি জাতীয় খাদ্য যেমন, চাটনি ইত্যাদিও পছন্দ করতেন না।
অত্যধিক গরম খাদ্য না খাওয়ার হেকমত এবং এর ক্ষতি কারো অজানা নয়। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয়, আমরা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রীতি নীতি ভুলে গিয়ে অনেক সুস্বাদু স্বাস্থ্যকর খাদ্য থেকেও উপকারের পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। বাসী এবং দুর্গন্ধযুক্ত খাদ্যের ক্ষতির প্রতিক্রিয়া কি তা কারো অজানা নাই। চটপটি এবং চাটনি জাতীয় খাদ্য গ্রহণে গলা ও পাকস্থলীর যে রোগ সৃষ্টি হয় তা সকলেই অবগত। এতদসত্ত্বেও এ সকল খাদ্য থেকে যদি আমরা বিরত থাকতে না পারি তবে তা দুর্ভাগ্য ব্যতীত আর কি বলা যেতে পারে?

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অপছন্দনীয় খাদ্য

📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অপছন্দনীয় খাদ্য


'হযরত জাবের ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত: হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবূ আইয়্যুব আনসারী (রাযিঃ)-এর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। হযরত আবূ আইয়্যুব (রাযিঃ) যখনই খানা খেতেন তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাদ্যের কিছু অংশ পাঠিয়ে দিতেন। এ নিয়মে একদিন তিনি কিছু খানা পাঠালেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই খানা খেলেন না। তখন আবূ আইয়্যুব (রাযিঃ) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে খানা না খাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এর মধ্যে পেঁয়াজ মিশ্রিত রয়েছে। তখন তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পেঁয়াজ কি হারাম? হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি উত্তরে বললেন,
وَلَكِنِّي أَكْرَهُهُ مِنْ أَجْلِ رِيحِهِ
“হারাম নয় বটে, তবে দুগন্ধের কারণে আমি এটা পছন্দ করি না।” -তিরমিযী
তিনি যে শুধু পেঁয়াজ খাওয়া থেকেই বিরত থাকতেন তা নয় বরং দুর্গন্ধযুক্ত এমন কোন জিনিসই তিনি খেতেন না যদ্বারা অন্যের কষ্ট হয়। নিম্ন বর্ণিত হাদীস দ্বারা এটা প্রমাণিত হয়।
"হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে আবী ইয়াযিদ থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমাকে উম্মে আইয়্যুব (রাযিঃ) বলেছেন যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাড়ীতে তাশরীফ নিয়ে যান। তিনি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য খাদ্য তৈরী করলেন। যার মধ্যে কিছু শাক-সব্জিও ছিল। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত খাদ্য পছন্দ করলেন না। তিনি সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা খেয়ে নাও। আমি তোমাদের মত নই; আমার ভয় হয় যে, (এই খানায়) আমার সাথীদের তথা ফেরেশতাদের কষ্ট হবে।" -তিরমিযী

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 ক্ষতিকর খাদ্যের প্রতিক্রিয়া দূরকরণ

📄 ক্ষতিকর খাদ্যের প্রতিক্রিয়া দূরকরণ


যাদুল মাআদ নামক গ্রন্থ হতে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদ্যদ্রব্য সম্পর্কে অত্যন্ত উপকারী কিছু বিষয় পূর্বে বর্ণনা করেছি। খাদ্য সংক্রান্ত অধ্যায়ের শেষ পর্যায়ে আল্লামা হাফেয ইবনে কাইয়্যিম (রহঃ) অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটা বিষয়- হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষতিকর খাদ্যের প্রতিক্রিয়া কি করে দূর করতেন তা বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন:
كَانَ يُصْلِحُ ضَرَرَ بَعْضِ الْأَغْذِيَةِ بِبَعْضٍ إِذَا وَجَدَ إِلَيْهِ سَبِيلًا فَيَكْسِرُ حَرَارَةِ هَذَا بير دَةٍ هَذَا وَيَبُوسَةِ هَذَا يَرِطُوبَةِ هَذَا
"যদি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন ক্ষতিকর খাদ্য খেতেই হত তখন তিনি অন্য কোন ভাল খাদ্যের দ্বারা উক্ত খাদ্যের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া দূর করে নিতেন। অর্থাৎ ঐ জিনিসের গরম প্রতিক্রিয়াকে অন্য ঠান্ডা জিনিস দ্বারা এবং শুকনা জিনিসের প্রতিক্রিয়াকে আদ্র কোন জিনিস দ্বারা দূর করে নিতেন।"
অতঃপর আল্লামা হাফেয ইবনে কাইয়্যিম (রহঃ) কাঁকড়ী ও তাজা খেজুরের উদাহরণ দেন, যা একটা অন্যটার ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া দূরে করে থাকে। এভাবে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুকনা খেজুরকে ঘি এবং মাখন-এর সঙ্গে মিশিয়ে খেতেন, যাতে ঘিয়ের মাধ্যমে এর শুষ্কতা দূর হয়ে যায়। - যাদুল মাআদ: খণ্ডঃ ২
আবূ দাউদ ও তিরমিযী শরীফে এরূপ একটি রেওয়ায়াতও বিদ্যমান রয়েছে যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাজা খেজুরের সাথে খরবুজা খেতেন এবং বলতেন যে, খরবুজা খেজুরের গরম দূর করে দেয়। -যাদুল মাআদ: খন্ডঃ২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00