📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 রূপার পাত্র

📄 রূপার পাত্র


হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্রা স্ত্রী উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
الَّذِي يَشْرَبُ فِي آنِيَةِ الْفِضَّةِ إِنَّمَا يجر جرفي بطنه نار جهنم
"যে ব্যক্তি রূপার পাত্রে পান করে, সে (যেন) নিজের পেটে জাহান্নামের আগুন ভরে।"- বুখারী, মুসলি ম শরীফ
ইসলাম তার অনুসারীদেরকে সরলতা, অনাড়ম্বরতা শিক্ষা দেয় এবং সরলতা প্রিয় করে। ইসলামী শিক্ষা শুধু মাত্র ওয়াজ ও বক্তৃতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং আমলী যিন্দিগীর মধ্যে সচেতনভাবে এগুলির বাস্তবায়নও একান্ত জরুরী। যার একটা দৃষ্টান্ত হল স্বর্ণ, রূপা, রেশম ও সিল্কের পোশাক ইত্যাদি সম্পর্কে ইসলামী হুকুম সংক্রান্ত আমল।
প্রথমতঃ ইসলাম যাকাতের সম্পদ বন্টনের মাধ্যমে স্বর্ণ-রূপা সঞ্চয়ের সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে এবং সামর্থশীলদের সঞ্চয়ের মধ্যে গরীব নিঃস্বদের অংশীদার করেছে। স্বর্ণ-রূপা ব্যবহার মহিলাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে। পুরুষের জন্য এগুলির ব্যবহার একেবারেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
উপরোল্লেখিত হাদীস অনুযায়ী স্বর্ণ রূপার বর্তন নারী পুরুষ সকলের জন্যই নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। কারণ এতে ধনীদের ঘরে সম্পদ জমা হত এবং তাদের ইমারতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি হত। আর অন্যদিকে দরিদ্রদের মন ছোট হয়ে যেত। এভাবে ইসলামের স্বাভাবিক সহজ সরলতা একেবারেই খতম হয়ে যেত।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 স্বর্ণ রৌপ্যের বর্তন

📄 স্বর্ণ রৌপ্যের বর্তন


রূপার পাত্রে পানি ইত্যাদি পান করার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীস বর্ণনা করেছি। এখানে শুধু খানা পিনা সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরো কয়েকটি ইরশাদ পাঠ করুন।
(১) হযরত হুযাইফা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, "নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে রেশম ও সিল্কের পোষাক পরিধান করতে এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যের বর্তন ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরো ইরশাদ করেছেন যে,
هُنَّ لَهُمْ فِي الدنيا وهي لَكُمْ فِي الآخِرَةِ
"এই জিনিসগুলি কাফেরদের জন্য দুনিয়ায় এবং তোমাদের জন্য আখেরাতে রয়েছে।" -বুখারী, মুসলিম
(২) নবী করীম সসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সাহাবী থেকেই অন্য এক রেওয়ায়াত হল 'আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, রেশম ও সিল্কের কাপড় পরিধান করো না এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পান করো না এবং স্বর্ণ রৌপ্যের বাটিতে খেয়ো না।" -বুখারী ও মুসলিম শরীফ
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী সমূহের উপর সাহাবায়ে কেরামগণ কিভাবে আমল করেছেন সে সম্পর্কে মিশকাত শরীফের একটি বর্ণনা লক্ষ্য করুন। হাদীস বর্ণনাকারী হযরত আনাস ইবনে সিরীন বলেনঃ
আমি হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ)-এর সঙ্গে অগ্নি পূজকদের একটা জামাআতের নিকট ছিলাম। এক ব্যক্তি স্বর্ণের পাত্রে এক প্রকার হালুয়া নিয়ে এল। হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) খেলেন না। হালুয়া নিয়ে আসা লোকটিকে বলা হল এটা পাল্টিয়ে আন। হালুয়ার পাত্র পরিবর্তন করে আনা হলে তিনি তা খেলেন। - বায়হাকী

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 পানিতে ফুঁক দেওয়া

📄 পানিতে ফুঁক দেওয়া


বর্তমান যুগে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার উপর খুবই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারগুলি এ জন্য স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করছে। করপোরেশন ও পৌরসভাগুলিতে যথারীতি স্বাস্থ্য বিভাগ খোলা হচ্ছে। জনসাধারণ ধারণা করছে এগুলি সবই পাশ্চাত্য সভ্যতার ফল। পক্ষান্তরে ইসলাম স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার উপর যতটুকু গুরুত্বারোপ করেছে অন্য কোন শিক্ষা এতটুকু গুরুত্ব দেয় নাই। বরং ইসলাম তো পরিচ্ছন্নতা অপেক্ষা পবিত্রতার আবশ্যকতায় আরো এক ধাপ অগ্রসর। কারণ অন্যদের মধ্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আছে বটে কিন্তু পাক পবিত্রতা বলতে কিছুই নাই।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি) বলেন,
لَمْ يَكُنِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنفَخُ فِي طَعَامٍ وَلَا شَرَابٍ وَلَا يَنْفَسُ فِي الْإِنَاءِ
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খানা এবং পানীয়ের মধ্যে ফুঁক দিতেন না এবং বর্তনের মধ্যে নিঃশ্বাস ফেলতেন না।" সুতরাং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই যখন এটা করতেন না তখন অপরকে এমনটি করার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবী হযরত ইকরামা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্তনে নিঃশ্বাস ফেলতে এবং ফুঁক দিতে নিষেধ করেছেন।" - আবূ দাউদ, তিরমিযী
"হযরত আবু সায়ীদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানিতে ফুঁক দিতে নিষেধ করলে এক ব্যক্তি আরয করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি গ্লাসে ক্ষতিকর কিছু দেখি তবুও কি ফুঁক দেব না? হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, এটা ফেলে দিও।"

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 মশক্বীযা বা কলস থেকে পানি পান করা

📄 মশক্বীযা বা কলস থেকে পানি পান করা


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَشْرَبَ مِنْ فِي السَّقَاءِ أَو القُرْبَةِ -
"হযরত আবু হুরাইরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশক বা মশকীযায় মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।" -রিয়াযুস সালেহীন
হাদীসে উল্লেখিত ছিকা এবং "কিরবাহ” উভয় শব্দ মশক-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়। তবে উভয়ের আকৃতি ও পুরুত্বের মধ্যে কম বেশী পার্থক্য অবশ্যই রয়েছে। শাব্দিক অর্থের পেছনে না পড়ে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ কি? তাই দেখা উচিত। আর তা অত্যন্ত স্পষ্ট যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মশকে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই নিষেধাজ্ঞার হেকমত খুব সহজেই বুঝে আসে। প্রথমতঃ ভরা মশকে মুখ লাগালে পানির মধ্যে এর প্রভাব পড়বে। আর যদি আল্লাহ না করুন পানকারীর দাঁতে অসুখ থাকে বা মুখে অন্য কোন সমস্যা থাকে তবে এর প্রতিক্রিয়া সমস্ত পানিতে ছড়িয়ে পড়বে। আর এটা স্বাস্থ্য রক্ষা নীতির পরিপন্থী হবে।
দ্বিতীয়তঃ ভরা মশক থেকে পানি পান করায় কিছু পানি অবশ্যই পড়ে নষ্ট হবে। আর কোন কিছুই নষ্ট করা কখনও বৈধ হতে পারে না। অধিকন্তু পানি আল্লাহর নিয়ামত সমূহের একটা বড় নিয়ামত।
এতদ্ব্যতীত এটা একটা কুদরতী বিষয় যে, ভরা মশক থেকে নিশ্চিন্ত মনে শান্তির সঙ্গে পান করা মুশকিল। কারণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত হল ধীরে ধীরে কম পক্ষে তিন ঢোকে পান করা। স্বাস্থ্য বিধিমতে এটা একটা জরুরী বিষয়।
এই নিষেধাজ্ঞার চতুর্থ হিকমত হল, মশক থেকে পানি পান করায় কিছু পানি পতিত হয়ে ছিটে কাপড়ে লাগার খুবই সম্ভাবনা থাকে যা পবিত্রতা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00