📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 পানি পান করার পর দুআ

📄 পানি পান করার পর দুআ


নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি পান করার পর যে দুআ পাঠ করতেন এ অধ্যায়ে তা উল্লেখ করা হল। এই দুআর বর্ণনাকারী হযরত আবূ জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী (রাযিঃ) বলেন,
كَانَ يَقُولُ بَعْدَ الشِّرْبِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ الْمَاءَ عَذِبًا فَرَانًا بِرَحْمَتِهِ وَلَمْ يَجْعَلْهُ مِلْحاً أَجَاجًا بِذُنُوبَنَا
"কিছু পান করার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহর জন্য যিনি স্বীয় রহমতে পানিকে মিষ্টি ও সুস্বাদু বানিয়েছেন এবং আমাদের অপরাধ সত্ত্বেও এটাকে লবণাক্ত ও খারযুক্ত করেন নাই।" -তাবরানী
আল্লাহ! আল্লাহ!! মানব কূলের শিরোমণি, বিশ্বজাহানের সর্দার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর দরবারে কতই না কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মূলতঃ পানি মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়া একমাত্র সেই মহান সত্তা আল্লাহ তা'আলারই রহমত। আল্লাহর কোন বান্দা এমন আছেন যিনি এ নিয়ামতকে তার নেক কাজের প্রতিফল হিসাবে আখ্যায়িত করতে পারেন? আমাদের নেকের পাল্লা এমন কী ভারী হয়ে গেছে যার ফলে আমরা আল্লাহর এই নিয়ামতের হকদার হয়ে গেছি?
দুআর দ্বিতীয় অংশে রহমতের আধার বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মত গোনাহগার উম্মতদের বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বিপর্যয় যে ধরনেরই হোক না কেন তা বান্দার নিজেরই কর্মের প্রতিফল। তা না হয় পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর পিতা-মাতার চেয়েও বহুগুণে স্নেহশীল ও দয়ার্দ্র।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 রূপার পাত্র

📄 রূপার পাত্র


হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্রা স্ত্রী উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
الَّذِي يَشْرَبُ فِي آنِيَةِ الْفِضَّةِ إِنَّمَا يجر جرفي بطنه نار جهنم
"যে ব্যক্তি রূপার পাত্রে পান করে, সে (যেন) নিজের পেটে জাহান্নামের আগুন ভরে।"- বুখারী, মুসলি ম শরীফ
ইসলাম তার অনুসারীদেরকে সরলতা, অনাড়ম্বরতা শিক্ষা দেয় এবং সরলতা প্রিয় করে। ইসলামী শিক্ষা শুধু মাত্র ওয়াজ ও বক্তৃতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং আমলী যিন্দিগীর মধ্যে সচেতনভাবে এগুলির বাস্তবায়নও একান্ত জরুরী। যার একটা দৃষ্টান্ত হল স্বর্ণ, রূপা, রেশম ও সিল্কের পোশাক ইত্যাদি সম্পর্কে ইসলামী হুকুম সংক্রান্ত আমল।
প্রথমতঃ ইসলাম যাকাতের সম্পদ বন্টনের মাধ্যমে স্বর্ণ-রূপা সঞ্চয়ের সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে এবং সামর্থশীলদের সঞ্চয়ের মধ্যে গরীব নিঃস্বদের অংশীদার করেছে। স্বর্ণ-রূপা ব্যবহার মহিলাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে। পুরুষের জন্য এগুলির ব্যবহার একেবারেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
উপরোল্লেখিত হাদীস অনুযায়ী স্বর্ণ রূপার বর্তন নারী পুরুষ সকলের জন্যই নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। কারণ এতে ধনীদের ঘরে সম্পদ জমা হত এবং তাদের ইমারতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি হত। আর অন্যদিকে দরিদ্রদের মন ছোট হয়ে যেত। এভাবে ইসলামের স্বাভাবিক সহজ সরলতা একেবারেই খতম হয়ে যেত।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 স্বর্ণ রৌপ্যের বর্তন

📄 স্বর্ণ রৌপ্যের বর্তন


রূপার পাত্রে পানি ইত্যাদি পান করার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীস বর্ণনা করেছি। এখানে শুধু খানা পিনা সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরো কয়েকটি ইরশাদ পাঠ করুন।
(১) হযরত হুযাইফা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, "নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে রেশম ও সিল্কের পোষাক পরিধান করতে এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যের বর্তন ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরো ইরশাদ করেছেন যে,
هُنَّ لَهُمْ فِي الدنيا وهي لَكُمْ فِي الآخِرَةِ
"এই জিনিসগুলি কাফেরদের জন্য দুনিয়ায় এবং তোমাদের জন্য আখেরাতে রয়েছে।" -বুখারী, মুসলিম
(২) নবী করীম সসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সাহাবী থেকেই অন্য এক রেওয়ায়াত হল 'আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, রেশম ও সিল্কের কাপড় পরিধান করো না এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যের পাত্রে পান করো না এবং স্বর্ণ রৌপ্যের বাটিতে খেয়ো না।" -বুখারী ও মুসলিম শরীফ
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী সমূহের উপর সাহাবায়ে কেরামগণ কিভাবে আমল করেছেন সে সম্পর্কে মিশকাত শরীফের একটি বর্ণনা লক্ষ্য করুন। হাদীস বর্ণনাকারী হযরত আনাস ইবনে সিরীন বলেনঃ
আমি হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ)-এর সঙ্গে অগ্নি পূজকদের একটা জামাআতের নিকট ছিলাম। এক ব্যক্তি স্বর্ণের পাত্রে এক প্রকার হালুয়া নিয়ে এল। হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) খেলেন না। হালুয়া নিয়ে আসা লোকটিকে বলা হল এটা পাল্টিয়ে আন। হালুয়ার পাত্র পরিবর্তন করে আনা হলে তিনি তা খেলেন। - বায়হাকী

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 পানিতে ফুঁক দেওয়া

📄 পানিতে ফুঁক দেওয়া


বর্তমান যুগে স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার উপর খুবই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারগুলি এ জন্য স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করছে। করপোরেশন ও পৌরসভাগুলিতে যথারীতি স্বাস্থ্য বিভাগ খোলা হচ্ছে। জনসাধারণ ধারণা করছে এগুলি সবই পাশ্চাত্য সভ্যতার ফল। পক্ষান্তরে ইসলাম স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার উপর যতটুকু গুরুত্বারোপ করেছে অন্য কোন শিক্ষা এতটুকু গুরুত্ব দেয় নাই। বরং ইসলাম তো পরিচ্ছন্নতা অপেক্ষা পবিত্রতার আবশ্যকতায় আরো এক ধাপ অগ্রসর। কারণ অন্যদের মধ্যে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আছে বটে কিন্তু পাক পবিত্রতা বলতে কিছুই নাই।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি) বলেন,
لَمْ يَكُنِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنفَخُ فِي طَعَامٍ وَلَا شَرَابٍ وَلَا يَنْفَسُ فِي الْإِنَاءِ
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খানা এবং পানীয়ের মধ্যে ফুঁক দিতেন না এবং বর্তনের মধ্যে নিঃশ্বাস ফেলতেন না।" সুতরাং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই যখন এটা করতেন না তখন অপরকে এমনটি করার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবী হযরত ইকরামা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্তনে নিঃশ্বাস ফেলতে এবং ফুঁক দিতে নিষেধ করেছেন।" - আবূ দাউদ, তিরমিযী
"হযরত আবু সায়ীদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানিতে ফুঁক দিতে নিষেধ করলে এক ব্যক্তি আরয করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি গ্লাসে ক্ষতিকর কিছু দেখি তবুও কি ফুঁক দেব না? হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, এটা ফেলে দিও।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00