📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 তিন ঢোক

📄 তিন ঢোক


আপনারা আল্লাহর নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস পাঠ করেছেন যাতে পানি পান সম্পর্কে তিনটি উপদেশ রয়েছে। এখন এ সম্পর্কে স্বয়ং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস ও আমল কি ছিল তা লক্ষ্য করুন।
নিম্নের হাদীস বর্ণণাকারী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا شَرِبَ تَنَفَّسَ عَلَى الْإِنَاءِ ثَلَاثَةَ انْفَاسٍ يَحْمَدِ اللَّهُ عَلَى كُلِّ نَفْسٍ وَيَشْكُرُهُ عِندَ أَخِرِهِنَّ
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কিছু পান করতেন তখন তিন ঢোকে পান করতেন, প্রত্যেক ঢোকে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করতেন এবং সর্বশেষে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন।"
অল্প অল্প করে পানি পান করার ফযীলত ও উপকারিতা অনেক। এই সবগুলি ফযীলতই মানুষের নিজের সাথে সম্পৃক্ত। আধ্যাত্মিকতা বা আচার ব্যবহারের সঙ্গে এর কোন সংযোগ নাই। কিন্তু ইসলাম শুধু মাত্র আধ্যাত্মিক ও চারিত্রিক শিক্ষার মাযহাব নয় রবং এটা মানুষের সার্বিক উন্নতির আহ্বানকারী এবং সর্বপ্রকার পরিপূর্ণতার জিম্মাদার। সুতরাং ইসলাম যিন্দেগীর সর্বপর্যায়ে পথ প্রদর্শন করে। স্বয়ং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাস্তব জীবনে আমল করে সবকিছু দেখিয়েছেন।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমরা যেন তাঁর কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করে নিজেদের জন্য বরকত লাভে সক্ষম হই।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 বসে পানি পান করা

📄 বসে পানি পান করা


খানা-পিনার আদবের ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশগুলি বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। সেগুলি নিজ নিজ অভ্যাসে পরিণত করা জরুরী। নিম্নের হাদীস বর্ণনাকারী হযরত আনাস (রাযি) বলেন:
نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَشْرِبَ الرَّجُلَ قَائِمًا
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন যে, কোন ব্যক্তি যেন দাঁড়িয়ে কিছু পান না করে।"
আজকাল আমাদের ছোট বড় কেউই ইসলামের এ আদবটির প্রতি দৃষ্টি দেয় না বরং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানাহার করাটাকে একটা ফ্যাশন মনে করে।
এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অপর এক সাহাবী হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ দাঁড়িয়ে পানি পান করবে না; ভুল ক্রমে পান করে ফেললে বমি করে দিবে।" মুসলিম শরীফ
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানাহার করা ফ্যাশন তো ঠিকই তবে ভাল ফ্যাশন নয়। দোজাহানের বাদশাহ হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৃষ্টিতে যা উত্তম সেটাই ভাল ফ্যাশন। কারণ তাঁর কোন নির্দেশ ও কাজই হেকমত থেকে খালি নয়।
যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যমযমের পানি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কেন পান করতেন, এ সম্পর্কে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, যেহেতু যমযমের পানির নিকট লোকজনের খুবই ভীড় ও জনসমাবেশ হয় তাই মানুষের কষ্ট কিছুটা কমানোর জন্য এভাবে পান করতেন। সেহেতু এখন যমযমের পানি কিবালা মুখী হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পান করা উম্মতের জন্য সুন্নত। এটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের একটা নগন্য উদাহরণ। তবে এ ধরনের ছোট ছোট বিষয়ও জীবনের মোড় পরিবর্তন করে ফেলে এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 পানিতে নিঃশ্বাস ফেলো না

📄 পানিতে নিঃশ্বাস ফেলো না


আমি পানি পান করার আদব সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়েকটি হাদীস উদ্ধৃত করেছি এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিম্নোক্ত বাণী সমূহ চিহ্নিত করছি।
* বিসমিল্লাহ বলে পানি পান করবে।
* এক শ্বাসে পানি পান করবে না বরং তিন শ্বাসে অল্প অল্প করে পান করবে।
* পানি পান করে আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া আদায় করবে, যার সুন্নতি শব্দগুলি হল 'আলহামদুল্লিাহ'।
* নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং এ পদ্ধতিতে পানি পান করতেন, এমনকি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাতো ভাই হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি ঢোকেই 'আল হামদুল্লিাহ' বলতেন এবং পরিশেষে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন।
* পানি পান করার ৪র্থ আদব হল দাঁড়িয়ে পান না করা। পরিতাপের বিষয় আমাদের দেশে আজ বুফে সিস্টেম (Buffet) আধুনিক সভ্যতার এক বিশেষ নিদর্শন ও বৈশিষ্ট্য হয়ে গেছে।
* শুধুমাত্র যমযমের পানি দাঁড়িয়ে ক্বিবলামুখী হয়ে পান করা সুন্নত। এভাবে পান করার হেকমত সুস্পষ্ট।
প্রথমতঃ যম্যম্ কূপের নিকট হিজায ও অন্যান্য স্থান থেকে আগত লোকদের ভীড়; দ্বিতীয়তঃ কূপের সম্মান ও পবিত্রতা।
* এখন পানি পান করার আদব সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরো একটি হাদীস পেশ করছি: হযরত ইকরামা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন:
نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَتَنَفُسَ فِي الْإِنَاءِ أَوْ يَنْفَخَ فِيهِ
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানির মধ্যে নিঃশ্বাস ফেলতে এবং ফুঁক দিতে নিষেধ করেছেন।" -মুসতাদরাক
পানির পাত্রের মধ্যে হুক্কার মত গড় গড় করা, পানি পান করার বর্তনের মধ্যে ফুঁক মারা স্বাস্থ্য নীতিরও পরিপন্থি। বিশেষতঃ যদি এ সকল পাত্রে অন্য কেউ পান করে তাহলে তো কথাই নাই। চিন্তার বিষয় হল, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীগুলির হিকমত ও দর্শন কতইনা মূল্যবান। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ স্বাস্থ্য নীতি বিষয়ক যে সকল তত্ত্ব আজ প্রমাণ করছেন তা শত শত বৎসর পূর্বেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন।
হযরত আবূ হুরাইরা (রাযি)-এর নিম্নোক্ত বর্ণনা বিষয়টিকে আরো সুস্পষ্ট করে দিয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, "তোমাদের কেউ কোন পাত্রে পানি পান করার সময় পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস ফেলো না।"
وَلَكِنْ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَتَنفُسَ فَلْيُؤَخِّرُهُ عَنْهُ ثُمَّ يَتَنفَسٌ
"যদি শ্বাস নেওয়ার প্রয়োজন হয় তবে পাত্র সরিয়ে শ্বাস নাও।" -মুসতাদরাক গ্রন্থে এ সম্পর্কে হযরত আবূ সায়ীদ খুদরী (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
অন্য এক রেওয়ায়াতে তিনি ইরশাদ করেছেন:
إِذَا شَرِبَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَتَنَفَسُ فِي الْإِنَاءِ
"তোমাদের কেউ কিছু পান করার সময় পাত্রের মধ্যে ফুঁক দিবে না।” বস্তুতঃ এটাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজের আমল ছিল। যার আলোচনা ইবনে মাজাহ ও অন্যান্য হাদীসের কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 পানি পান করার পর দুআ

📄 পানি পান করার পর দুআ


নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি পান করার পর যে দুআ পাঠ করতেন এ অধ্যায়ে তা উল্লেখ করা হল। এই দুআর বর্ণনাকারী হযরত আবূ জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী (রাযিঃ) বলেন,
كَانَ يَقُولُ بَعْدَ الشِّرْبِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ الْمَاءَ عَذِبًا فَرَانًا بِرَحْمَتِهِ وَلَمْ يَجْعَلْهُ مِلْحاً أَجَاجًا بِذُنُوبَنَا
"কিছু পান করার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, সমস্ত প্রশংসা ঐ আল্লাহর জন্য যিনি স্বীয় রহমতে পানিকে মিষ্টি ও সুস্বাদু বানিয়েছেন এবং আমাদের অপরাধ সত্ত্বেও এটাকে লবণাক্ত ও খারযুক্ত করেন নাই।" -তাবরানী
আল্লাহ! আল্লাহ!! মানব কূলের শিরোমণি, বিশ্বজাহানের সর্দার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর দরবারে কতই না কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মূলতঃ পানি মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়া একমাত্র সেই মহান সত্তা আল্লাহ তা'আলারই রহমত। আল্লাহর কোন বান্দা এমন আছেন যিনি এ নিয়ামতকে তার নেক কাজের প্রতিফল হিসাবে আখ্যায়িত করতে পারেন? আমাদের নেকের পাল্লা এমন কী ভারী হয়ে গেছে যার ফলে আমরা আল্লাহর এই নিয়ামতের হকদার হয়ে গেছি?
দুআর দ্বিতীয় অংশে রহমতের আধার বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মত গোনাহগার উম্মতদের বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বিপর্যয় যে ধরনেরই হোক না কেন তা বান্দার নিজেরই কর্মের প্রতিফল। তা না হয় পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর পিতা-মাতার চেয়েও বহুগুণে স্নেহশীল ও দয়ার্দ্র।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00