📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পছন্দনীয় পানীয়

📄 নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পছন্দনীয় পানীয়


عَنْ عَائِشَةَ صِدِّيقَة رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ أَحَبَّ الشَّرْبِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحُلُو الْبَارِدُ
"হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বাপেক্ষা পছন্দীয় পানীয় ছিল ঠান্ডা মিষ্টি পানীয়।" -মুসতাদরাকে হাকেম
হযরত সুহাইব (রাযিঃ) স্বীয় দাদার ভাষায় বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, স্মরণ রেখো, দুনিয়া এবং আখেরাতের মধ্যে পানি হল পানীয় জিনিসের সর্দার। -মুসতাদরাক
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী দ্ধারাও পানির গুরুত্ব আরো বেশী উপলব্ধি করা যায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কিয়ামত দিবসে বান্দার নিকট থেকে সর্বপ্রথম যে হিসাব গ্রহণ করা হবে তা হলো আল্লাহ তা'আলা তার সুস্থতা ও ঠান্ডা পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন।" -মুসতাদরাক
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্ত ইরশাদ হতে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলি অবগত হইঃ-
(১) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানীয় জিনিসের মধ্যে ঠান্ডা এবং মিষ্টি পানীয় পছন্দ করতেন। বাস্তবেও ঠান্ডা পানি পান করায় অন্তরে আনন্দ আসে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মুখে আলহামদুলিল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর শুকরিয়া এসে যায়।
(২) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠাণ্ডা পানিকে আল্লাহর একটি বড় নিয়ামত মনে করতেন এবং ঠান্ডা পানি পছন্দ করতেন।
(৩) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, পানি উভয় জাহানের পানীয় জিনিসের সর্দার। আর তা দু'টি নিয়ামতের একটা যার সম্পর্কে কিয়ামত দিবসে সর্বপ্রথম প্রশ্ন করা হবে। সুতরাং আমাদেরকে পানির প্রত্যেকটি ফোঁটার যত্ন নেওয়া ও কদর করা আবশ্যক।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 পানি পান করার আদব

📄 পানি পান করার আদব


নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
إِذَا شَرِبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَمُصُّ الْمَاءَ مَصَّا وَلَا يَعِبُّ عَبَّاً فَإِنَّهُ مِنَ الْكِبَادِ
"তোমাদের মধ্যে কেউ যখন পানি পান করতে চায়, সে যেন চুমুক দিয়ে দিয়ে পান করে এবং পশুর মত পানিতে মুখ লাগিয়ে পান না করে কারণ এতে কলিজা বেদনা হয়।" -বায়হাকী, যাদুল মাআদ
প্রচন্ড গরম পড়লে পিপাসায় অস্থির হয়ে অনেকে এক নিঃশ্বাসেই ঘোট ঘোট করে সমস্ত পানি শেষ করে ফেলতে চায়; এতে কখনও পিপাসা নিবারণ হয় না বরং গলায় পানি আটকে যাওয়ার ভয় থাকে এবং এতে পেট নিঃসন্দেহে ভারী হয়ে যায়। অপরদিকে অল্প অল্প করে চুমুক দিয়ে দিয়ে পান করলে সামান্য পানিতেই পিপাসা মিটে যায় এবং কোন সমস্যায়ও পড়তে হয় না।
তাছাড়া পানিতে মুখ ডুবিয়ে পান করা পশুর স্বভাব। এতে নাক মুখের দুষিত নিঃশ্বাস টাটকা পানিকে নষ্ট করে ফেলে। দাড়ি মোচের চুল এবং ময়লা পরিষ্কার পানিকে নোংরা করে দেয়।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 পানি পান করার নিয়ম

📄 পানি পান করার নিয়ম


لَا تَشْرَبُوا نَفْسًا وَاحِدًا كَشَرْبِ الْبَعِيرِ وَلَكِنْ اشْرَبُوا مَثْنَى وَثُلَاثَ وَسَمُّوا إِذَا انتم شربتم واحمد وااذا انتم فرغتم -
"উটের মত এক দমে গড়্গট, করে পান করো না বরং দু'তিন দমে পান কর। পান করার সময় আল্লাহর তা'আলার নাম লও অর্থাৎ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম বল এবং পান করার পর আল্লাহর প্রশংসা কর। আর প্রশংসার সর্বাপেক্ষা উত্তম বাক্য হল-আলহামদুলিল্লাহ।”
উপরোল্লেখিত হাদীসে তিনটি উপদেশ রয়েছে:
(১) প্রথমতঃ পানি এক দমে গড়্গট্ করে উটের মত পান না করে অল্প অল্প করে পান করা উচিত। অধৈর্য্য হয়ে ব্যস্ততার সঙ্গে পানি পান করা উটের স্বভাব, আর এতে কয়েক প্রকার অসুবিধাও রয়েছে। এভাবে পান করায় পানি হলকুমে আটকে যেতে পারে। এতে হৃদযন্ত্রের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পিপাসা আরও তীব্র হয়। পরিতৃপ্তি আসে না।
(২) দ্বিতীয়তঃ শুরুতে আল্লাহর নাম নিয়ে পান করা উচিত। এতে হাজারও বরকত রয়েছে। মানুষ স্বভাবতঃই বিসমিল্লাহ বলে কোন হারাম জিনিস মুখে নিতে পারে না বা কোন অন্যায় কাজে লিপ্ত হতে পারে না। তাছাড়া আল্লাহকে স্মরণ করলে যে প্রশান্তি হাসিল হয় অন্য কোনভাবে তা সম্ভব নয়।
(৩) তৃতীয় উপদেশ হল: আল্লাহর নিয়ামত দ্বারা পরিতৃপ্ত হওয়ার পর তাঁর শুকরিয়া আদায় কর। অকৃতজ্ঞ হয়ো না।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 তিন ঢোক

📄 তিন ঢোক


আপনারা আল্লাহর নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস পাঠ করেছেন যাতে পানি পান সম্পর্কে তিনটি উপদেশ রয়েছে। এখন এ সম্পর্কে স্বয়ং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস ও আমল কি ছিল তা লক্ষ্য করুন।
নিম্নের হাদীস বর্ণণাকারী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا شَرِبَ تَنَفَّسَ عَلَى الْإِنَاءِ ثَلَاثَةَ انْفَاسٍ يَحْمَدِ اللَّهُ عَلَى كُلِّ نَفْسٍ وَيَشْكُرُهُ عِندَ أَخِرِهِنَّ
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কিছু পান করতেন তখন তিন ঢোকে পান করতেন, প্রত্যেক ঢোকে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করতেন এবং সর্বশেষে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন।"
অল্প অল্প করে পানি পান করার ফযীলত ও উপকারিতা অনেক। এই সবগুলি ফযীলতই মানুষের নিজের সাথে সম্পৃক্ত। আধ্যাত্মিকতা বা আচার ব্যবহারের সঙ্গে এর কোন সংযোগ নাই। কিন্তু ইসলাম শুধু মাত্র আধ্যাত্মিক ও চারিত্রিক শিক্ষার মাযহাব নয় রবং এটা মানুষের সার্বিক উন্নতির আহ্বানকারী এবং সর্বপ্রকার পরিপূর্ণতার জিম্মাদার। সুতরাং ইসলাম যিন্দেগীর সর্বপর্যায়ে পথ প্রদর্শন করে। স্বয়ং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাস্তব জীবনে আমল করে সবকিছু দেখিয়েছেন।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমরা যেন তাঁর কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করে নিজেদের জন্য বরকত লাভে সক্ষম হই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00