📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 খানায় তাকাল্লুফ

📄 খানায় তাকাল্লুফ


সুপ্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত সালমান ফারসী (রাযিঃ) বর্ণনা করেন:
أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ لَا تَتَكَلَّفَ لِلضَّيْفِ مَا لَيْسَ عِندَنَا وَأَنْ نَتَقَدَّمَ إِلَيْهِ مَا حَضَرَنَا
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমাদের নিকট যা নাই মেহমানদের খাতিরে তা যোগাড় করতে গিয়ে কষ্ট উঠাবে না। বরং যা কিছু উপস্থিত আছে তাদের সামনে তাই দিবে।"
তাবরানী নামক হাদীস গ্রন্থে এ বিষয়টি দু একটি শব্দের পরিবর্তন সাপেক্ষে এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে,
نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَتَكَلَّفَ لِلضَّيْفِ مَا لَيْسَ عِندَنَا .
"আমাদের নিকট যা নাই মেহমানদের খাতিরে তা নিয়ে কষ্ট উঠাতে আমাদেরকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।"
অনেক সময় আমরা এ ধরনের তাকাল্লুফের শিকার হয়ে থাকি। যার ফলে একদিকে মেহমান এক প্রকার লজ্জায় পড়ে যায় এবং আমরা পেরেশান হই। আর এ কারণে রহমতের ফিরিশতাকে অর্থাৎ মেহমানকে আমরা বিপদের মূল মনে কর।
উম্মী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের প্রকৃতি ও স্বভাব ভাল করেই জানতেন, উপলব্ধি করতেন। তাই তিনি মেহমানদের ব্যাপারে তাকাল্লুফ করতে নিষেধ করার সঙ্গে সঙ্গে এর হেকমতও বর্ণনা করে দিয়েছেন যে, فتبغضوه অর্থাৎ এ ভাবে তোমরা মেহমানদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে শুরু করবে। আর যে ব্যক্তি মেহমানের প্রতি বিদ্বেষ রাখে সে যেন আল্লাহর প্রতি বিদ্বেষ রাখে এবং যে আল্লাহর সঙ্গে বিদ্বেষ রাখবে আল্লাহও তাকে ঘৃণা করবেন। চিন্তা করে দেখুন! তাকালুফের ধারাবাহিকতা কোথায় গিয়ে শেষ হয়।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 পেট কিভাবে পূর্ণ হবে?

📄 পেট কিভাবে পূর্ণ হবে?


عَنْ وَحْشِيِّ بْنِ حَرْبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ : أَنَا تَأْكُلُ وَلَا نَشْبَعُ قَالَ فَلَعَلَّكُمْ تَفْتَرِقُونَ؟ قَالُوا نَعَمْ قَالَ فَاجْتَمِعُوا عَلَى طَعَامِكُمْ وَاذْكُرُ وَاسْمَ اللَّهِ يُبَارِكُ لَكُمْ فِيهِ .
আজকাল অধিকাংশ লোকই বে-বরকতের অভিযোগ করে থাকে। প্রতিটি লোকই অনুভব করে যে, জিনিসের মধ্যে বরকত নাই। বিশেষ করে খানার মধ্যে বরকত একেবারে নাই বললেই চলে। মানুষ খুব খায়, পেটও ভরে। কিন্তু 'পরিতৃপ্তি' বলতে যা বুঝায় তা লাভ হয় না। খেতে খেতেই আবার ক্ষুধা লাগে।
এমনটি কেন হয়? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী হযরত ওয়াহশী (রাযিঃ)-এর বর্ণিত নিম্নোল্লিখিত হাদীসে উক্ত প্রশ্নের জবাব রয়েছে।
তিনি বলেন, নবী করীম (সাঃ)-এর সাহাবীগণ একদা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা খানা খাই, কিন্তু আমাদের তৃপ্তি মিটে না। নবী করীম (সাঃ) বললেন, "সম্ভবত তোমরা পৃথক পৃথক ভাবে খানা খাও? সাহাবীগণ আরয করলেন, হ্যাঁ, (আমরা পৃথক পৃথক ভাবে খাই)। অতঃপর নবী করীম (সাঃ) বললেন, তোমরা একত্রে খানা খাবে এবং আল্লাহর নাম নিয়ে খানা খাবে; মেহেরবান আল্লাহ এতে তোমাদের খানায় বরকত দান করবেন। -সূনানে আবূ দাউদ
একত্রে খানা খাওয়ায় শুধুমাত্র দু'জনের খানা তিনজনের এবং তিন জনের খানা চারজনের জন্যে যথেষ্ট হওয়ার বরকত লাভ হয় না বরং উক্ত হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, একত্রে খানা খাওয়ায় প্রত্যেক ব্যক্তির পরিতৃপ্তিও অর্জিত হয়। আর সেই সঙ্গে আল্লাহর নামে খানা শুরু করলেতো نُورٌ عَلَى نُور অর্থাৎ তাতে খুব বেশী বরকত হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুসংবাদও সত্য। অতএব খানার মধ্যে কষ্টে পড়া প্রকৃত পক্ষে নিজেদেরই কর্মফল বৈ আর কিছুই নয়।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 খাওয়ার পর

📄 খাওয়ার পর


খাওয়ার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তিনটি সুন্নত বিশেষভাবে স্মরণ রাখা আবশ্যকঃ
১। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাওয়ার পর হাত মুখ ধৌত করাকে খানায় বরকত হওয়ার কারণ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। -সুনানে আবূ দাউদ, তিরযিমী
হযরত আনাস (রাযিঃ) এর বর্ণনা, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি চায় যে, আল্লাহ তায়ালা তার ঘরের বরকত বৃদ্ধি করে দেন, তার উচিত যখন খানা সামনে আসে তখন এবং দস্তর খানা যখন উঠিয়ে নেওয়া হয় (অর্থাৎ খানা শেষ হয়ে যায়) তখন হাত মুখ ধৌত করা।" -কাযবীনী
২। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ পান করার পর কুল্লি করতেন।
إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَرِبَ لَبَنًا فَدَعَا بِمَاءٍ فَمَضْمَضَ وَقَالَ إِنَّ له دسما
হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুধ পান করলেন অতঃপর পানি চাইলেন ও কুল্লি করলেন, আর বললেন এতে তৈলাক্ত পদার্থ থাকে।
৩। পানাহারের পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করতেন:
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ
৪। কারও বাড়ীতে দাওয়াত খেলে বাড়ীওয়ালার রিযিকের মধ্যে প্রশস্ততা ও বরকতের জন্য এই দুআ করতেনঃ
اللهم اطْعِمُ مَنْ أَطْعَمَنِي وَاسْقِ مَنْ سَقَانِي
৫। কখনও কখনও এ দুআও করতেনঃ
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَهُ وَسَوَّغَهُ وَجَعَلَ لَهُ مَخْرَجًا

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 খানা খাওয়ার পর দুআ

📄 খানা খাওয়ার পর দুআ


আল্লাহ তা'আলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খাওয়ার পর নিম্নের শব্দগুলি দ্বারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় ও দুআ করার শিক্ষা দিয়েছেন।
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ
"সমস্ত প্রশংসা এবং শুকরিয়া আল্লাহর যিনি আমাকে আহার করিয়েছেন। পান করিয়েছেন এবং আমাকে মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অর্থাৎ তিনি আমাদের শরীর ও দেহের জন্য যেমন অনুগ্রহ করে খাদ্য দান করেছেন, তেমনি আমাদের আখেরাতের মুক্তির জন্য ইসলামের মত দৌলত দান করেছেন।"
সমস্ত দিনরাত আল্লাহ তা'আলা যে অসংখ্য নিয়ামত দান করছেন তার পরিবর্তে শুকরিয়া হিসাবে এ কয়েকটি শব্দ উচ্চারণের কি যথার্থতা (হাকীকত) থাকতে পারে। মূলতঃ আসল উদ্দেশ্য হল মানুষের মধ্যে শুকরিয়া এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জযবা ও মানসিকতা সৃষ্টি করা।
হযরত আবূ উমামা (রাযিঃ) বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে থেকে দস্তরখানা উঠানো হলে তিনি নিম্নোক্ত দুআ পাঠ করতেন:
الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمَّدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ غَيْرَ مَكْفِي وَلَا مُسْتَغْنِى عَنْهُ رَبَّنَا
খানার দাওয়াতকারীর জন্য দুআর শব্দগুলি হলঃ
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ فَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمُ اللَّهُمَّ أَطْعِمُ مَنْ أَطْعَمَنِي وَاسْقِ مَنْ سَقَانِي
"হে আল্লাহ! দাওয়াতদাতাদের রিযিকের মধ্যে বরকত দান করুন। তাদের মাফ করে দিন এবং তাদের উপর রহমত করুন। হে আল্লাহ! যিনি আমাকে খানা খাওয়ালেন তাকে আপনার করুণা ও দয়ায় খানার মধ্যে প্রাচুর্য ও বরকত দান করুন। আর যিনি আমাকে পান করালেন তাকে গায়েব হতে পান করান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00