📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 অপরকে খাওয়ানো

📄 অপরকে খাওয়ানো


خَيْرُكُمْ مَّنْ اَطْعَمَ الطَّعَامَ
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি উত্তম যে অপরকে খানা খাওয়ায়।" -মুসতাদরাকে হাকেম
এর বিপরীত যে ব্যক্তি গরীব মিসকিনদের খানার ব্যবস্থা করেনা আল্লাহ তা'আলার পবিত্র কালামে তাকে কিয়ামত দিবসের প্রতি মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করা হয়েছে।'
এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইরশাদ এবং উৎসাহ ও প্রেরণামূলক হাদীস এত অধিক রয়েছে যে, যা একত্রিত করলে আলাদা এক গ্রন্থ তৈরী হয়ে যাবে। আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কথা পর্যন্ত বলেছেন যে, প্রতিবেশী ক্ষুধার্থ হয়ে শুয়ে আছে এ কথা জেনেও যে ব্যক্তি উদরপূর্ণ করে খায়, তার এই খানা সম্পূর্ণ জায়েয ও হালাল উপার্জনের মাধ্যমে অর্জিত হলেও সে যেন জেনে রাখে যে, সে হারাম খাদ্য দ্বারা পেট পূর্ণ করল। (আল্লাহ এই অবস্থা থেকে আমাদের পানাহ দান করুন।)
খানার মধ্যে নিজের সঙ্গে অন্যকে শরীক করায় কতটুকু বরকত তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীস দ্বারা অনুধাবন করুন। ইরশাদ হচ্ছে:
مَنْ أَطْعَمَ أَخَاهُ حَتَّى يُشْبِعَهُ وَسَقَاهُ حَتَّى يَرْوِيَهُ بَعَّدَهُ اللَّهُ مِنَ النَّارِ لِسَبْعِ خَنَادِقٍ مَا بَيْنَ كُلِّ خَنْدَقَيْنِ مَسِيرَةً خَمْسٍ مِائَةِ عَامٍ
"যে ব্যক্তি তার কোন ভাইকে এই পরিমাণ খানা খাওয়াল যাতে তার পেট পূর্ণ হয়ে যায় এবং এইপরিমাণ পান করাল যাতে সে তৃপ্ত হয়ে গেল। (তার জন্যে এ সুসংবাদ যে) আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে এই পরিমাণ দূরে রাখবেন যতটুকু সাত খন্দকের দূরত্ব রয়েছে। প্রত্যেক খন্দকের মাঝে পাঁচশত বছরের দূরত্ব বিদ্যমান।"
আলোচিত হাদীসের প্রথম শব্দ তার ভাই-এর উপর দৃষ্টি ফেলুন। এখানে অভাবী ও ক্ষুধার্থকে ভাই বলা হয়েছে। চাই সে নিজের ভাই হোক বা অন্য গোত্রের কেউ হোক না কেন।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 মেহমানের পছন্দীয় খানা

📄 মেহমানের পছন্দীয় খানা


ইসলামী সমাজে মেহমানদের আদর আপ্যায়ন উন্নত চারিত্রিক গুণাবলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ পরম মেহমান নাওয়ায ছিলেন। তাদের নিকট একজন মেহমান রহমতের ফিরশতার চেয়ে কম ছিল না। মেহমানের খাতিরে তাঁরা স্বীয় আরাম আয়েশ কুরবানী করে দিতেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবীতো মেহমানদারীতে বিরল দৃষ্টান্তই স্থাপন করে গেছেন। ঘটনা এই যে, একদিন সেই সাহাবীর ঘরে এতটুকু খানা ছিল যাতে কোন রকমে একজনের চলে। এমতাবস্থায় রাত্রি বেলায় এক মেহমান এল। স্বামী স্ত্রী পরামর্শ করে নিলেন। খানা দস্তর খানায় রেখে (বাহানা করে) স্ত্রী বাতি নিভিয়ে দিলেন। আর স্বামী (বর্তনে) খালি হাত বুলাতে লাগলেন এবং খানা খাওয়ার শব্দের মত চপচপ করতে লাগলেন। উদ্দেশ্য মেহমান যেন মনে করে যে, তিনিও মেহমানের সঙ্গে যথারীতি খানায় শরীক আছেন। এভাবে মেহমান তৃপ্তি সহকারে খানা খেয়ে নিল। সুবহানাল্লাহ! ভেবে দেখুন। তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের কতই না জযবা ছিল।
মূলতঃ এগুলি সবই ছিল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা ও আমলী আদর্শের ফসল। হযরত জাবের (রাযিঃ) বর্ণনা করেন:
مَنْ لَذَّذَ أَخَاهُ بِمَا يَشْتَهِي كَتَبَ اللهُ لَهُ الفَ الفَ حَسَنَةٍ وَمُحِيَ عَنْهُ الفَ سَيِّئَةٍ
"যে ব্যক্তি তার ভাইকে স্বীয় প্রিয় বস্তু দ্বারা পরিতৃপ্ত করবে, আল্লাহ তাঁর আমল নামায় হাজার হাজার নেকী লিখে দিবেন। এবং তার হাজার হাজার গোনাহ মাফ করে দিবেন এবং তাঁর মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিবেন। আর তাকে তিনটি জান্নাত তথা জান্নাতুল ফেরদৌস, জান্নাতুল আদন এবং জান্নাতুল খুলদ থেকে খানা খাওয়াবেন।"

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 তাকাল্লুফ বা লৌকিকতার নিষেধাজ্ঞা

📄 তাকাল্লুফ বা লৌকিকতার নিষেধাজ্ঞা


عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ نُهِينَا عَنِ التَّكَلَفِ
"হযরত ওমর ফারুক (রাযিঃ)-এর পুত্র হযরত আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের লৌকিকতা দেখাতে নিষেধ করেছেন। -শামায়েলে তিরমিযী
হাদীস বিশারদগন তাকালুফ বা লৌকিকতার সংজ্ঞা এভাবে দিয়েছেনঃ "কষ্টের সঙ্গে এমন কোন বিষয় বা এমন কোন কাজ করা যার মধ্যে কোন কল্যাণ নিহিত নাই এবং যাতে কোন উপকারও হয় না।"
আল্লাহ ঐ সকল বুযুর্গদের উত্তম বদলা দান করুন যারা আরবের সর্বাপেক্ষা বড় ভাষাবিদ এবং আল্লাহর সর্বশেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অলৌকিক বর্ণনাকৃত বাণীর ব্যাখ্যাও এমন সুন্দরভাবে দিয়েছেন যা তাঁর শানের যথোপযুক্ত ছিল। তাকাল্লুফের উল্লেখিত ব্যাখ্যার ব্যাপারে একটু ভেবে দেখুন। তা কতই না অর্থবহ হয়েছে।
প্রতিটি এমন বিষয় যাতে কোন উপকার নাই এবং প্রত্যেক এমন কাজ যার কোন অর্থই হয় না, তা যদি বিশেষ কষ্ট স্বীকার করে সম্পন্ন করা হয় তবে সেটা তাকাল্লুফের মধ্যে গণ্য হবে। যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য এক হাদীসে ইরশাদ করেন:
مَنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ
"কোন ব্যক্তির জন্য ইসলামের সৌন্দর্য্য হল অযথা বা অনর্থক বিষয় ত্যাগ করার মধ্যে।" মুয়াত্তা ইমাম মালেক (রহঃ)
আসুন! এখন এবার একটু আমাদের নিজের জীবনের কর্ম এবং বন্ধু বান্ধবদের সাথে মিলা মেশা ও নিজের সামাজিক যিন্দেগীর দিকে গভীর দৃষ্টিতে দেখি, এতে উপকারী অনুপকারী বিষয় কি পরিমাণ প্রবেশ করেছে। আমার তো ধারণা আমাদের জীবনের সব কিছুতেই আমরা লৌকিকতার খোলস পড়ে আছি। আর ভেতরে সবই অন্তঃসার শূন্য-ফাঁকা।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 খানায় তাকাল্লুফ

📄 খানায় তাকাল্লুফ


সুপ্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত সালমান ফারসী (রাযিঃ) বর্ণনা করেন:
أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ لَا تَتَكَلَّفَ لِلضَّيْفِ مَا لَيْسَ عِندَنَا وَأَنْ نَتَقَدَّمَ إِلَيْهِ مَا حَضَرَنَا
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমাদের নিকট যা নাই মেহমানদের খাতিরে তা যোগাড় করতে গিয়ে কষ্ট উঠাবে না। বরং যা কিছু উপস্থিত আছে তাদের সামনে তাই দিবে।"
তাবরানী নামক হাদীস গ্রন্থে এ বিষয়টি দু একটি শব্দের পরিবর্তন সাপেক্ষে এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে,
نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَتَكَلَّفَ لِلضَّيْفِ مَا لَيْسَ عِندَنَا .
"আমাদের নিকট যা নাই মেহমানদের খাতিরে তা নিয়ে কষ্ট উঠাতে আমাদেরকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।"
অনেক সময় আমরা এ ধরনের তাকাল্লুফের শিকার হয়ে থাকি। যার ফলে একদিকে মেহমান এক প্রকার লজ্জায় পড়ে যায় এবং আমরা পেরেশান হই। আর এ কারণে রহমতের ফিরিশতাকে অর্থাৎ মেহমানকে আমরা বিপদের মূল মনে কর।
উম্মী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের প্রকৃতি ও স্বভাব ভাল করেই জানতেন, উপলব্ধি করতেন। তাই তিনি মেহমানদের ব্যাপারে তাকাল্লুফ করতে নিষেধ করার সঙ্গে সঙ্গে এর হেকমতও বর্ণনা করে দিয়েছেন যে, فتبغضوه অর্থাৎ এ ভাবে তোমরা মেহমানদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে শুরু করবে। আর যে ব্যক্তি মেহমানের প্রতি বিদ্বেষ রাখে সে যেন আল্লাহর প্রতি বিদ্বেষ রাখে এবং যে আল্লাহর সঙ্গে বিদ্বেষ রাখবে আল্লাহও তাকে ঘৃণা করবেন। চিন্তা করে দেখুন! তাকালুফের ধারাবাহিকতা কোথায় গিয়ে শেষ হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00