📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান 📄 পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় খানা

📄 পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় খানা


كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَعِيبُ مَا كُولًا كَانَ إِذَا أَعْجَبَهُ أَكَلَهُ والا تركه
হাদীসের বর্ণনাকারী বলেন যে, "নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খানার দোষ বের করতেন না। খানা পছন্দ হলে খেয়ে নিতেন অন্যথায় চুপ থাকতেন।"
প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট সব জিনিস একই রকম প্রিয় নয়। কোন এক ব্যক্তির যে প্রকার খানা পছন্দ অন্যের তা পছন্দ নয়, এটা একটা স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। তবে এ কথাটি স্মরণ রাখা উচিত যে, রিযিক আল্লাহর একটা নিয়ামত। এতে দোষ-ত্রুটি বের করা রিযিকের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের নামান্তর। সর্বোপরি এতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নতের বিরোধিতা ও আল্লাহপাকের নাশুকরিয়া করা হয়। তাই আদৌ আমাদের এরূপ করা উচিত নয়।
হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনোই কোন খানায় দোষ ধরেন নাই। মনে চাইলে খেতেন আর মনে না চাইলে রেখে দিতেন। -বুখারী, মুসলিম
এ সম্পর্কে এক বুযুর্গের ঘটনা পাঠ করুন, তাহলো এক বুযুর্গের ইন্তিকালের পর কেউ তাঁকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞাসা করল, কেমন আছেন? তিনি জবাবে বললেন, হিসাব নিকাশের সমস্যা সহজেই মিটে গেছে। প্রশ্নকারী (আবার) বললেন, কোন্ নেক কাজটি কাজে এসেছে? বুযুর্গ জবাবে বললেন, আমার স্ত্রী একদিন খিচুড়ী পাকাতে গিয়ে ভুলে অতিরিক্ত লবন দিয়ে ফেলে। আমি খিচুড়ীর লোকমা মুখে দিতেই মনে হল মুখে যেন বিষ পুরে দিয়েছি। তখন অনিচ্ছায় মুখ থেকে ফেলে দিতে ইচ্ছা করল। কিন্তু হঠাৎ খেয়াল হলো এটা তো আল্লাহর নিয়ামত। বিবির সামনে অসন্তোষের একটা শব্দও উচ্চারণ না করে উক্ত খিচুড়ি পেট ভরে খেয়ে নেই। এই আমলটি আল্লাহ তা'আলার পছন্দ হয়ে যায় এবং ক্ষমার নির্দেশ মিলে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান 📄 দুই বা ততোধিক খানার মধ্যে বাছাই

📄 দুই বা ততোধিক খানার মধ্যে বাছাই


দোজাহানের সর্দার আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেমন দুঃখ, কষ্ট, দারিদ্রতা ও অনাহারে জীবন যাপন করেছেন তা সকলেই অবগত। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ)-এর বর্ণনানুযায়ী তাঁর পবিত্র হায়াতে এমন সুযোগ কখনো আসে নাই যে, সপ্তাহের সাতদিন চুলা জ্বলেছে। এ কথা স্পষ্ট যে, এমতাবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দস্তর খানায় খুব কমই একাধিক খানা এসে থাকবে। আমরা নালায়েক উম্মত একমাত্র তাঁর উসিলাতেই আল্লাহ তা'আলার অসংখ্য নিয়ামত ভোগ করছি। অথচ শুকরিয়ার শব্দটিও মুখে উচ্চারণ করি না।
দস্তরখানায় একাধিক খাদ্য আসলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি পদ্ধতি অবলম্বন করতেন তা তাঁর জীবন সঙ্গিনী হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ)-এর ভাষায় শুনন।
তিনি বলেন,
مَا خَيْرَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ شَيْئَيْنِ إِلَّا إِخْتَارَ أَيْسَرَهُمَا
নবী করীমসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মুখস্থ খানার মধ্যে পছন্দ অপছন্দের ব্যাপারে এই নীতি ছিল যে, খানার মধ্যে যা অধিক সহজ ও সাধারণ হত সেটাই বেঁচে নিতেন।"-বুখারী ও মুসলিম শরীফ
এটা শুধু খানার ক্ষেত্রেই নয় বরং সকল ক্ষেত্রেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সহজ সরল পদ্ধতি পছন্দ করতেন, কঠিন বিষয় কখনও গ্রহণ করতেন না। একটা প্রশস্ত দস্তরখানার উপর অনেক খানা থাকা অবস্থায় আমাদের কি পন্থা অবলম্বন করা উচিত এ ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইরশাদ হল:
كُلِّ مِمَّا يَلِيكَ
"তোমাদের নিকট থেকে খানা খাও।” লম্বা লম্বা হাত মারা এবং অন্যের সম্মুখ থেকে উঠিয়ে খাওয়া ইসলামী আদব ও শিষ্টাচারের খেলাপ। সর্বদাই নিজের সম্মুখস্থ বর্তন থেকে খাওয়া উচিত।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান 📄 খানা বণ্টনের পদ্ধতি

📄 খানা বণ্টনের পদ্ধতি


الايمن فالايمن
"যে ব্যক্তি ডান দিকে রয়েছে তার হক বেশী।"
একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণের এমন একটি মজলিসে তাশরিফ রাখেন যে মজলিসে সাহাবীগণের বসার তরতীব ছিল এরূপ : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাম দিকে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রাযি)-এবং তাঁর ডান দিকে একজন গ্রাম্য ব্যক্তি ছিল এবং তার সঙ্গে হযরত ওমর ফারুক (রাযিঃ) বসে ছিলেন। জনৈক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে দুধ পাঠালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু পান করে স্বীয় অভ্যাসানুযায়ী মজলিসের সাহাবীদের পালাক্রমে দিতে ছিলেন। হযরত ওমর ফারুক (রাযিঃ) আরয করলেন, প্রথমে আবূ বকর (রাযিঃ) কে দিন। কিন্তু হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান দিকে বসা গ্রাম্য লোকটিকে দিলেন (যার সঙ্গে হযরত ওমর (রাযিঃ) উপবিষ্ট ছিলেন। এবং ইরশাদ করলেন
الايمن فالايمن
"যে ব্যক্তি ডান দিকে আছে, তার হক (অধিকার) বেশী।"
হযরত সাহল ইবনে সাআদ (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কিছু পানীয় নিয়ে এলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু পান করলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ডান দিকে একটা ছেলে এবং বাম দিকে এক বৃদ্ধ বসা ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছেলেটিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তুমি কি এই বৃদ্ধকে আগে পান করাবার অনুমতি দিবে? ছেলেটি জবাবে বলল, কখনও নয়। যে অংশটুকু আপনার থেকে আমি লাভ করতে যাচ্ছি তাতে কাউকেই প্রাধান্য দিব না। সুতরাং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেয়ালাটি ছেলেটির হাতের উপর রেখে দিলেন।" বুখারী, মুসলিম
এ বর্ণনা থেকেই সম্মিলিত ইসলামী পানাহারের এ পদ্ধতি নির্ধারিত হয় যে, খানা-পিনা অথবা অন্য কোন জিনিস বন্টন করতে হলে ডান দিক থেকে বন্টন শুরু করবে। আর সর্বসম্মত অভিমত হলো ডান দিকে ছোট বা বড় যেমন লোকই থাকুক না কেন সকল অবস্থাতেই এই একই হুকুম প্রযোজ্য হবে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান 📄 অপরকে খাওয়ানো

📄 অপরকে খাওয়ানো


خَيْرُكُمْ مَّنْ اَطْعَمَ الطَّعَامَ
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি উত্তম যে অপরকে খানা খাওয়ায়।" -মুসতাদরাকে হাকেম
এর বিপরীত যে ব্যক্তি গরীব মিসকিনদের খানার ব্যবস্থা করেনা আল্লাহ তা'আলার পবিত্র কালামে তাকে কিয়ামত দিবসের প্রতি মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করা হয়েছে।'
এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইরশাদ এবং উৎসাহ ও প্রেরণামূলক হাদীস এত অধিক রয়েছে যে, যা একত্রিত করলে আলাদা এক গ্রন্থ তৈরী হয়ে যাবে। আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কথা পর্যন্ত বলেছেন যে, প্রতিবেশী ক্ষুধার্থ হয়ে শুয়ে আছে এ কথা জেনেও যে ব্যক্তি উদরপূর্ণ করে খায়, তার এই খানা সম্পূর্ণ জায়েয ও হালাল উপার্জনের মাধ্যমে অর্জিত হলেও সে যেন জেনে রাখে যে, সে হারাম খাদ্য দ্বারা পেট পূর্ণ করল। (আল্লাহ এই অবস্থা থেকে আমাদের পানাহ দান করুন।)
খানার মধ্যে নিজের সঙ্গে অন্যকে শরীক করায় কতটুকু বরকত তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই হাদীস দ্বারা অনুধাবন করুন। ইরশাদ হচ্ছে:
مَنْ أَطْعَمَ أَخَاهُ حَتَّى يُشْبِعَهُ وَسَقَاهُ حَتَّى يَرْوِيَهُ بَعَّدَهُ اللَّهُ مِنَ النَّارِ لِسَبْعِ خَنَادِقٍ مَا بَيْنَ كُلِّ خَنْدَقَيْنِ مَسِيرَةً خَمْسٍ مِائَةِ عَامٍ
"যে ব্যক্তি তার কোন ভাইকে এই পরিমাণ খানা খাওয়াল যাতে তার পেট পূর্ণ হয়ে যায় এবং এইপরিমাণ পান করাল যাতে সে তৃপ্ত হয়ে গেল। (তার জন্যে এ সুসংবাদ যে) আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে এই পরিমাণ দূরে রাখবেন যতটুকু সাত খন্দকের দূরত্ব রয়েছে। প্রত্যেক খন্দকের মাঝে পাঁচশত বছরের দূরত্ব বিদ্যমান।"
আলোচিত হাদীসের প্রথম শব্দ তার ভাই-এর উপর দৃষ্টি ফেলুন। এখানে অভাবী ও ক্ষুধার্থকে ভাই বলা হয়েছে। চাই সে নিজের ভাই হোক বা অন্য গোত্রের কেউ হোক না কেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px