📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 মাটি খাওয়া এবং চলা ফেরা অবস্থায় খাওয়া

📄 মাটি খাওয়া এবং চলা ফেরা অবস্থায় খাওয়া


مَنْ أَكل الطَّيِّنَ فَكَأَنَّمَا أَعَانَ عَلَى قَتْلِ نَفْسِهِ
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন "যে ব্যক্তি মাটি ভক্ষণ করে সে যেন নিজকে নিজে হত্যা করার জন্যে সাহায্য করে।" - তাবরানী
মাটি গুণগত ভাবে পবিত্র এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তাতে নাপাকী না লাগে ততক্ষণ তা পবিত্র থাকে। তবে মাটি খাওয়ার জিনিস নয়। মাটি খাওয়া অথবা মাটি মিশ্রিত কোন কিছু খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্যে খুবই ক্ষতিকর। এখানে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী পাঠকগণের সামনে তুলে ধরা হল।
মাটি হজমে সাহায্য করতে পারে না এবং নিজেও হজম হতে পারে না। কেননা এটা পাকস্থলীতে স্থির থাকে এবং পেটের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
الا كُلِّ فِي السُّوقِ دَنَاءَة
অর্থাৎ "বাজারে কোন কিছু খাওয়া নিকৃষ্ট কাজ।" বাজারে চলা ফেরা অবস্থায় খাওয়া ভদ্রতা ও সভ্যতার খেলাপ এবং স্বাস্থ্য রক্ষা বিধানের পরিপন্থী। চলতে ফিরতে এটা সেটা মুখে দেওয়া পশুর আচরণ, মানুষের কাজ নয়।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 খাওয়ার পূর্বে হাত ধৌত করা

📄 খাওয়ার পূর্বে হাত ধৌত করা


الْوَضُوءُ قَبْلَ الطَّعَامِ يُنفِى الْفَقْرَ وَبَعْدَهُ يَنْفِي اللَّحْمَ
"খাওয়ার পূর্বের অযু (হাত মুখ ধৌত করা) দরিদ্রতা দূর করে এবং খাওয়ার পর (হাত মুখ) ধৌত করায় স্থূলতা দূর হয়।”
অযূর আভিধানিক অর্থ ধৌত করা ও পবিত্র করা। উলামাগণ তিন প্রকার অযূর উল্লেখ করে থাকেন।
(১) অযূয়ে সালাত বা নামাযের অযূ। এতে হাত মুখ ধৌত করা ব্যতীত মাথা মাসেহ করা ও পা ধৌত করা ফরজ। কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া সুন্নাত।
(২) অযূয়ে নাউম বা ঘুমের অযূ। এ অযূতে হাত মুখ ধৌত করতে হয় এবং ইস্তিঞ্জা করতে হয়।
(৩) অযূয়ে তায়াম বা খাওয়ার অযূ। এ অযূতে হাত ধৌত করা ও কুলি করা সুন্নাত।
হযরত সালমান ফারসী (রাযি) বর্ণনা করেন, আমি তাওরাত কিতাবে পড়েছি, খাওয়ার পূর্বে অযু করায় বরকত নাযিল হয়। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ সম্পর্কে আলোচনা করলে তিনি বললেন -
بركت الطعام الوضوء قبله والوضوء بعده
"খাওয়ার পূর্বে এবং খাওয়ার পরে অযু করলে খানায় বরকত হয়।" -সূনানে আবূ দাউদ, তিরমিযী
আজো অধিকাংশ মানুষের সামনে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী সুন্নত বিষয় অস্পষ্ট রয়ে গেছে। তা হল রুমাল অথবা তোয়ালে ইত্যাদি দ্বারা হাত মোছা (শুষ্ককরা) অথবা না মোছার ব্যাপারে হুকুম কি?
মূলতঃ সুন্নত হল খাওয়ার পূর্বে হাত ধৌত করার পর কোন কাপড় বা তোয়ালে দ্বারা হাত না মোছা। অবশ্য খাওয়ার পর হাত ধৌত করে অবশ্যই কোন কাপড় অথবা তোয়ালে দ্বারা হাত মোছন করা যাবে। কিন্তু আশ্চর্য! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ পদ্ধতি কতই না হেকমতপূর্ণ। কারণ রুমাল হোক অথবা তোয়ালে হোক তাতে জীবানু অথবা ময়লা ইত্যাদি থাকা খুবই সম্ভব। তাই খানা খাওয়ার জন্য হাত ধৌত করার পর রুমাল তোয়ালে দ্বারা হাত মুছে ফেললে হাত ধোয়ার সমস্ত উদ্দেশ্যটাই ব্যর্থ হয়ে গেল।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 খাওয়ার পূর্বে দুআ পাঠ

📄 খাওয়ার পূর্বে দুআ পাঠ


হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে সকল কাজ আল্লাহর নামে শুরু করা হবে তার মধ্যে বরকত হবে। সেমতে খানা শুরু করার পূর্বে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত দোয়া রয়েছে। তা হলো:
بِسْمِ اللَّهِ وَعَلَى بَرَكَةِ اللَّهِ
অর্থাৎ আল্লাহর নাম ও তাঁর বরকতে শুরু করছি। এতে বুঝা যায়, খানার পূর্বে তাছমিয়াহ অর্থাৎ পূর্ণ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম পড়া জরুরী নয়।
যেমন ভাবে জানোয়ার পাখী ইত্যাদি জবাই করার পূর্বে তাছমিয়ার পরিবর্তে
بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُ أَكْبَرُ
“বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবার” বলা হয়। তেমনি খাওয়ার পূর্বেও এভাবে বললে চলবে।
বস্তুবাদী যে সকল লোক মাল আসবাব ও যুক্তি ব্যতীত অন্য কিছুতে বিশ্বাসী নয় তারা বলে থাকে, রুটির পরিবর্তে কয়েকটি কালিমা ও শব্দের দ্বারা পেট ভরবে কি করে? কি করে অল্প খাদ্য 'বিসমিল্লাহ' দ্বারা বাড়তে বা রবকতপূর্ণ হতে পারে? এ সকল লোক এ হাকীকত ভুলে যায় যে, ক্ষুধা এবং পরিতৃপ্তির সম্পর্ক বস্তুর সঙ্গে অবশ্যই রয়েছে কিন্তু তদাপেক্ষা অধিক সম্পর্ক হল অনুভূতি ও উপলব্ধির সাথে।
কে না জানে যে, চিন্তা ও পেরেশানীর সময় ক্ষুধা থাকে না। দুঃখে কষ্টে ক্ষুধা পিপাসার প্রতি লক্ষ্য থাকে না। পক্ষান্তরে বিপদে পড়লে পিপাসার সীমা থাকে না। তাই যে সৌভাগ্যবান ব্যক্তির চিন্তা চেতনা মহান আল্লাহ কেন্দ্রিক হয়ে যায় এবং যার ঈমান সকল গুণের আধাঁর মহান সত্তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়ে যায়, সে অবশ্যই সামান্য নেয়ামতকে অনেক বেশী মনে করে। বস্তুর বেশী কমের প্রতি তার ভ্রুক্ষেপ থাকে না। এ কারণে যে, তার জন্য স্বীয় প্রভুর নামই সব কিছু। সুতরাং নিজ প্রভুর স্মরণ তার সর্বাপেক্ষা মূল্যবান সামগ্রী। প্রকৃতপক্ষে সে ব্যক্তিই সুখী যে তার সৃষ্টিকর্তা ও মালিক-এর নামেই সকল কাজ আরম্ভ করে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভ করে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 খানা খাওয়ার জন্য বসার পদ্ধতি

📄 খানা খাওয়ার জন্য বসার পদ্ধতি


নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে বসে খানা খেতেন? এ প্রশ্নের জবাবের জন্যে নিম্নের হাদীসটি দেখুন-
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .... عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَجَلَسَ عَلَى ظَهْرٍ قَدَمَيْهِ رُبَّمَا نَصَبَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى وَجَلَسَ عَلَى الْيُسْرَى
"খানা খাওয়ার সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই হাটু গেড়ে স্বীয় কদম যুগলের পিঠের উপর বসতেন। অধিকাংশ সময় ডান পা খাড়া করে রেখে বাম পায়ের উপর বসতেন। (বর্ণনাকারী বসার উক্ত পদ্ধতি বর্ণনা করে এ কথাও বলেছেন যে, এ পদ্ধতিটি স্বীয় মহান রব্বুল আলামীনের প্রতি মনোযোগী হওয়ার বহিঃপ্রকাশ ছিল। এবং এতে খানার প্রতি আদব ও সম্মানের প্রকাশ ঘটতো।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00