📄 রোগীর উপর দম দেওয়া
সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী হুযুরের সুপ্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, একবার আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখার জন্য তাশরীফ নিয়ে আসেন। তিনি বললেন, হযরত জিব্রাঈল (আঃ) আমার উপর যে দম করেছিলেন-আমি কি তোমার উপর সেই দম করব না? আমি আরয করলাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক! আপনি অবশ্যই দম করুন। অতঃপর তিনি এই দুআ পড়ে আমার উপর দম করেন। -হাকেম, ইবনে মাজাহ
দুআটি এই-
بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ وَاللَّهُ يَشْفِيكَ مِنْ كُلِّ دَاءٍ فِيكَ وَمِنْ شَرِّ النَّفْتِ فِي الْعُقَدِ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নের কালিমাগুলি পাঠ করে হযরত আবু সায়ীদ খুদরী (রাযিঃ)-এর উপর দম করেছিলেন।
بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ وَ عَيْنٍ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ ارْقِيكَ
📄 চোখের দৃষ্টি শক্তি
(১) হযরত লাইস ইবনে সাআদ (রহঃ) বলেন, আমি হযরত উকুবা ইবনে নাফে (রহঃ) কে অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়াতে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহ তা'আলা তোমাকে চোখের দৃষ্টিশক্তি কিভাবে দান করলেন? তিনি জওয়াব দিলেন, আমাকে স্বপ্নে একজন লোক কিছু কালিমা পড়তে বললেন। আমি কালিমাগুলি পাঠ করার পর আল্লাহ তা'আলা আমার চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। কালিমাগুলি হল এই -
يَا قَرِيبُ يَا مُجِيبُ يَا سَمِيعَ الدُّعَاءِ يَا لَطِيفًا لِمَا يَشَاءُ ارْدُهُ عَلَى بَصَرِي
(২) খাজা ফরীদুদ্দীন (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি নিম্নের আয়াতটি ৭ বার এবং তার সাথে ৭ বার দরূদ শরীফ পাঠ করে নখের উপর ফুঁক দেবে এবং নখ দিয়ে চোখের উপর মসেহ করবে তার চোখের দৃষ্টি কখনো নষ্ট হবে না।
আয়াত খানি এই -
فكَشَفْنَا عَنْكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ
হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী (রহঃ) ও স্বীয় "কাওলুল জামীল" কিতাবে এই তদবীরের উল্লেখ করেছেন।
كهيعص - حم عسق
"হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আওলিয়া (রহঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি উপরোক্ত দশটি অক্ষরের একেকটি অক্ষর মুখে উচ্চারণ করবে এবং একেকটি আঙ্গুল বন্ধ করবে। এভাবে এক হাতের দশটি আঙ্গুল বন্ধ হয়ে গেলে তা চোখের উপর ফেরাবে, ইনশাআল্লাহ তার চোখের রোগ সম্পূর্ণরূপে ভাল হয়ে যাবে। -সিয়ারুল আওলিয়া
📄 মাথা ব্যথা, দাঁত ব্যথা ও চোখের ব্যথা
(১) হযরত জাফর সাদেক (রহঃ) থেকে বর্ণিত : তিনি বলেছেন, মাথা ব্যথার জন্য এই দুআটি ৭ বার পড়ে মাথা হাতিয়ে দেবে:
(۱) أَعُوذُ بِاللَّهِ الَّذِي سَكَنَ لَهُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
(২) আধ-কপালী ব্যথার জন্য আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত গুণবাচক পবিত্র নামগুলি লিখে মাথার উপর বেঁধে দিলে ব্যথার উপশম হবে ইনশাআল্লাহ্ !।
(۲) بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ يَ فَتَاحُ يَا وَهَّابُ يَا رَحِيمُ
(৩) দাঁত ব্যথার জন্য একটি কাগজের টুকরায় নিম্নোক্ত আয়াতখানি লিখে যে দাঁতে ব্যথা তার উপর রেখে দিবে।
لِكُلِّ نَباء وسوف تعلمون مستقر وس (۳)
(৪) ইমাম শাফী (রহঃ)-এর নিকট এক ব্যক্তি চোখের ব্যথার অভিযোগ করলে তিনি একটি কাগজে
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ فَكَشَفْنَا عَنْكَ غِطَاءَكَ فَبَصُرَكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاء
লিখে দিয়ে বললেন, এটা মাথায় বেঁধে রাখ। এতে আল্লাহর ইচ্ছায় সে ব্যক্তির চোখের ব্যথা ভাল হয়ে যায়।
📄 নারীদের জন্য বিশেষ তদবীর
(১) প্রসব বেদনা: কোন মহিলার প্রসব বেদনা উঠলে কাগজের টুকরায় এই আয়াতটি লিখে এটাকে পাক কাপড়ে পেছিয়ে মহিলার বাম রানে বেঁধে দেবে। দ্রুত সন্তান প্রসব হয়ে যাবে।
وَالْقَتْ مَا فِيهَا وَتَخَلَّتْ وَأَذِنَتْ لِرَبِّهَا وَحُقَّتْ اهيا شراهيا
(২) হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী (রহঃ) বলেন, আমাকে একজন অতি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি বলেছেন যে, যদি কোন মহিলার সন্তান প্রসবের পর জীবিত না থাকে তাহলে আজওয়াইন (উগ্রগন্ধ লতাবিশেষের বীজ) ও গোল মরিচ নিয়ে সোমবার দুপুর সময় ৪০ বার সূরা শামস পড়বে। প্রত্যেক বার আগে ও পরে দরূদ পাঠ করবে। অতঃপর আমলের দিন থেকে শিশুর দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত প্রতি দিন খাবে। ইনশাআল্লাহ এই মহিলার সন্তান স্বাভাবিক জীবন লাভ করবে।