📄 আয়াতে কেফায়াতে মুহিম্মাত
কুরআনুল হাকীমের নিম্নোক্ত সাতটি আয়াতে কারীমাকে আয়াতে কেফায়াতে মুহিম্মাত বা সকল প্রকার বালা-মুসীবত ও বিপদাপদ থেকে নিরাপত্তা লাভের আয়াত বলা হয়। এই মহান আয়াতগুলি দ্বারা যাবতীয় বালা-মুসীবত থেকে নিরাপদ থাকা যায়। এই আয়াতে কারীমাগুলি পাঠ করার মানে নিজের জন্য সার্বিক নিরাপত্তা হাসিল করা।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, দ্বীনি ও দুনিয়াবী ব্যাপারে এই সাতটি আয়াতের চেয়ে উত্তম আর কোন বিষয়ই হতে পারে না। এই সাতটি আয়াতে কারীমা প্রত্যেকদিন সাতবার পড়া উচিত। বুযুর্গানে দ্বীন শুরু এবং শেষে দরূদ শরীফও পাঠ করতেন।
সাতটি আয়াতে কারীমা এই-
(১) إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبِيرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّاتِكُمْ وَنُدْخِلُكُمْ مُدْخَلًا كَرِيماً -
(২) وَلَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبُوا وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبَ مَا اكْتَسَيْنَ وَاسْتَلُوا اللهَ مِنْ فَضْلِهِ إِنَّ اللهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا
(৩) إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِنْ تَكُ حَسَنَةٌ يُضَاعِفَهَا وَيُؤْتِ مِنْ لَدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا -
📄 দশটি “ক্বাফ” অক্ষর বিশিষ্ট পাঁচটি আয়াত
(দীর্ঘ জীবন সুস্বাস্থ্য ও বরকতের জন্য)
পবিত্র কুরআনে এমন পাঁচটি আয়াত রয়েছে যার প্রত্যকটি আয়াতে দশটি করে "ক্বাফ” অক্ষর আছে। এ গুলির রহস্য ও উপকারিতা অসংখ্য।
হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত: হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন এই পাঁচটি আয়াত লিখবে এবং ধুয়ে পানি পান করবে তার হাজার শেফা, হাজার স্বাস্থ্য ও হাজার রহমত হাসিল হবে। হাজার নরমী, হাজার ইয়াক্বীন ও হাজার নুর তার ভেতরে প্রবেশ করবে। যাবতীয় রোগ ব্যাধির দুঃখ কষ্ট ও চিন্তা পেরেশানী তার থেকে বের হয়ে যাবে। -তাফসীরে কাওয়াসী
হযরত সালমান ফারসী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক প্রশ্নের জওয়াবে ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এই আয়াতগুলি পাঠ করবে তার হায়াত দীর্ঘ হবে, তার গুনাহ মাফ হবে এবং তার উদ্দেশ্য সফল হবে। -তাফসীরুল আরায়েশ
মর্যাদাপূর্ণ পাঁচটি আয়াত এই-
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
(۱) أَلَمْ تَرَ إِلَى الْمَلَا مِنْ بَنِي إِسْرَاعِيلَ مِنْ بَعْدِ مُوسَى إِذْ قَالُوا لِنَبِي لَّهُمْ ابْعَثْ لَنَا مَلِكًا تُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ هَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ إِلَّا تُقَاتِلُوا قَالُوا وَمَا لَنَا أَنْ لَا تُقَاتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَقَدْ أُخْرِجْنَا مِنْ دِيَارِنَا وَابْنَا بِنَا فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ تَوَلَّوْا إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّلِمِينَ -
(২) لَقَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ فَقِيرٌ وَنَحْنُ أَغْنِيَاءُ سَنَكْتُبُ مَا قَالُوا وَقَتْلِهِمُ الْأَنْبِيَاءَ بِغَيْرِ حَقٌّ وَنَقُولُ ذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ -
(৩) أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُوًا أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا الصَّلوةَ وَأَتُوا الزَّكوة فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ إِذَا فَرِيقٌ مِنْهُمْ يَخْشُونَ النَّاسَ كَخَشْيَةِ اللَّهِ أَوْ أَشَدَّ خَشْيَةٍ وَقَالُوا رَبَّنَا لِمَ كَتَبْتَ عَلَيْنَا الْقِتَالَ لَوْ لَا أَخَّرْتَنَا إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ قُلْ مَتَاعُ الدُّنْيَا قَلِيلٌ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ لِمَنِ اتَّقَى وَلَا تُظْلَمُونَ فَتِيلًا -
(৪) وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَا ابْنَى آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَا نَا فَتُقُبِلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلُ مِنَ الْآخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ -
(৫) قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ قُلْ أَفَاتَّخَذْتُمُ مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ لَا يَمْلِكُونَ لَأَنْفُسِهِمْ نَفْعًا وَّ لَا ضَرًّا
(৬) قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَتُ وَالنُّورُ ام جَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَيْهِمْ قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ (قَيُّومَ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ الْقُوَّةَ .)
📄 রোগ-ব্যাধি ও ক্ষতিগ্রস্ততার প্রতিকার
হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত: একদা রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথাও যাচ্ছিলেন। এসময় একজন ভগ্ন হৃদয় জীর্ণশীর্ণ ব্যক্তির উপর তাঁর দৃষ্টি পড়ল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার এ অবস্থা কি করে হল? লোকটি বলল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! রোগ-ব্যাধি ও ক্ষয় ক্ষতির কারণে আমার এ অবস্থা হয়েছে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কালিমা শিখিয়ে দেবনা যা তোমার রোগ ও ক্ষয়-ক্ষতি দূর করতে পারে?
হাদীসের বর্ণনাকারী হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার অনুরোধে এ আয়াত আমাকে শিখিয়ে দেনঃ
تَوَكَّلْتُ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذُ وَلَدًا وَلَمْ يَكُن لَّهُ شَرِيكَ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُن لَّهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ وَكَبْرَهُ تَكْبِيرًا
অর্থাৎ "আমি সেই মহান সত্তার উপর ভরসা রাখি, যিনি জীবিত, যার মৃত্যু নাই, এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি না কোন সন্তান রাখেন, না তাঁর সার্বভৌমত্বে কোন শরীক আছে এবং দুর্দশাগ্রস্ত হন না, যে কারণে তাঁর কোন সাহায্যকারীর প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং সসম্ভ্রমে তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করুন।" সূরা বনী ইসরাইল: আয়াত ১১১
📄 চিন্তা ও পেরেশানীর প্রতিকার
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রহঃ) বলেন, রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন চিন্তা ও পেরেশানী দেখা দিলে তিনি এই দুআ করতেন:
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيتُ
অর্থাৎ “হে চিরঞ্জীব, হে চিরন্তন! তোমার অনন্ত রহমতের অছিলায় প্রার্থনা করছি।" হাকেম, তিরমিযী শরীফ