📄 সূরা ইখলাস
সূরা ইখলাস পবিত্র কুরআনের একটি সংক্ষিপ্ত সূরা। এর ছোট্ট ছোট্ট পাঁচটি আয়াত রয়েছে। শব্দ সংখ্যা মাত্র পনেরটি। অর্থ ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে এই সূরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্যেই এই সূরাকে সুলুসে কুরআন বা কুরআনের এক তৃতীয়াংশ বলা হয়েছে। বহু উলামায়ে কেরামের অভিমত হল এই যে, যে ব্যক্তি নিয়মিতভাবে এই সূরা তেলাওয়াত করবে সে সামগ্রিক কল্যাণ লাভ করবে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের প্রত্যেক অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ থাকবে। আল্লামা বোনী (রহঃ) নিজের হাজত পূর্ণ হওয়া ও রোগ মুক্তির জন্য নিম্নোক্ত তরীকা উল্লেখ করেছেন।
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى إِلَهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ لَيْسَ كَمِثْلِهِ أَحَدٌ لَا تُسَلِّطْ عَلَى أَحَدًا وَلَا تُحَوِّجْنِي إِلَى أَحَدٍ وَاغْنِنِي يَا رَبُّ عَنْ كُلِّ اَحَدٍ بِفَضْل - قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدُ اللهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدُ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ - يَا مَنْ هُوَ قَدِيمٌ وَدَائِمَ وَيَا حَيُّ يَا قَيُّومُ يَا أَوَّلُ يَا أَخِرُ اقْضِ حَاجَتِي يَا فَرْدُ يَا صَمَدُ وَصَلَّى اللهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى إِلَهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ
📄 আয়াতে শেফা
কুরআন মজীদের নিম্নোক্ত ছয়খানি আয়াতে কারীমাকে আয়াতে শেফা বা রোগ মুক্তির আয়াত বলা হয়। হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (রহঃ) স্বীয় "শিফাউল আলীল" নামক কিতাবে এই আয়াতগুলির খুবই তারীফ করেছেন। এইগুলি কুরআনুল হাকীমের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আয়াত। বিসমিল্লাহ ও সূরা ফাতেহাসহ এই আয়াতগুলি পাঠ করে রুগ্ন ব্যক্তির উপর দম দিবে অথবা চীনা মাটির বাসনে লিখে পানির দ্বারা ধৌত করে রোগীকে পান করাবে। ইনশাআল্লাহ যে কোন রোগ আরোগ্য হবে।
ছয়টি আয়াত এই-
(১) وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ
(২) وَشِفَاءُ لِمَا فِي الصُّدُورِ
(۳) يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفُ الْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ
(٤) وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
(٥) وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
(٦) قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءُ
📄 আয়াতে কেফায়াতে মুহিম্মাত
কুরআনুল হাকীমের নিম্নোক্ত সাতটি আয়াতে কারীমাকে আয়াতে কেফায়াতে মুহিম্মাত বা সকল প্রকার বালা-মুসীবত ও বিপদাপদ থেকে নিরাপত্তা লাভের আয়াত বলা হয়। এই মহান আয়াতগুলি দ্বারা যাবতীয় বালা-মুসীবত থেকে নিরাপদ থাকা যায়। এই আয়াতে কারীমাগুলি পাঠ করার মানে নিজের জন্য সার্বিক নিরাপত্তা হাসিল করা।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, দ্বীনি ও দুনিয়াবী ব্যাপারে এই সাতটি আয়াতের চেয়ে উত্তম আর কোন বিষয়ই হতে পারে না। এই সাতটি আয়াতে কারীমা প্রত্যেকদিন সাতবার পড়া উচিত। বুযুর্গানে দ্বীন শুরু এবং শেষে দরূদ শরীফও পাঠ করতেন।
সাতটি আয়াতে কারীমা এই-
(১) إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبِيرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّاتِكُمْ وَنُدْخِلُكُمْ مُدْخَلًا كَرِيماً -
(২) وَلَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ بَعْضَكُمْ عَلَى بَعْضٍ لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبُوا وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبَ مَا اكْتَسَيْنَ وَاسْتَلُوا اللهَ مِنْ فَضْلِهِ إِنَّ اللهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا
(৩) إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ وَإِنْ تَكُ حَسَنَةٌ يُضَاعِفَهَا وَيُؤْتِ مِنْ لَدُنْهُ أَجْرًا عَظِيمًا -
📄 দশটি “ক্বাফ” অক্ষর বিশিষ্ট পাঁচটি আয়াত
(দীর্ঘ জীবন সুস্বাস্থ্য ও বরকতের জন্য)
পবিত্র কুরআনে এমন পাঁচটি আয়াত রয়েছে যার প্রত্যকটি আয়াতে দশটি করে "ক্বাফ” অক্ষর আছে। এ গুলির রহস্য ও উপকারিতা অসংখ্য।
হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত: হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন এই পাঁচটি আয়াত লিখবে এবং ধুয়ে পানি পান করবে তার হাজার শেফা, হাজার স্বাস্থ্য ও হাজার রহমত হাসিল হবে। হাজার নরমী, হাজার ইয়াক্বীন ও হাজার নুর তার ভেতরে প্রবেশ করবে। যাবতীয় রোগ ব্যাধির দুঃখ কষ্ট ও চিন্তা পেরেশানী তার থেকে বের হয়ে যাবে। -তাফসীরে কাওয়াসী
হযরত সালমান ফারসী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক প্রশ্নের জওয়াবে ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এই আয়াতগুলি পাঠ করবে তার হায়াত দীর্ঘ হবে, তার গুনাহ মাফ হবে এবং তার উদ্দেশ্য সফল হবে। -তাফসীরুল আরায়েশ
মর্যাদাপূর্ণ পাঁচটি আয়াত এই-
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
(۱) أَلَمْ تَرَ إِلَى الْمَلَا مِنْ بَنِي إِسْرَاعِيلَ مِنْ بَعْدِ مُوسَى إِذْ قَالُوا لِنَبِي لَّهُمْ ابْعَثْ لَنَا مَلِكًا تُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ هَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ إِلَّا تُقَاتِلُوا قَالُوا وَمَا لَنَا أَنْ لَا تُقَاتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَقَدْ أُخْرِجْنَا مِنْ دِيَارِنَا وَابْنَا بِنَا فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ تَوَلَّوْا إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّلِمِينَ -
(২) لَقَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ فَقِيرٌ وَنَحْنُ أَغْنِيَاءُ سَنَكْتُبُ مَا قَالُوا وَقَتْلِهِمُ الْأَنْبِيَاءَ بِغَيْرِ حَقٌّ وَنَقُولُ ذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ -
(৩) أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُوًا أَيْدِيَكُمْ وَأَقِيمُوا الصَّلوةَ وَأَتُوا الزَّكوة فَلَمَّا كُتِبَ عَلَيْهِمُ الْقِتَالُ إِذَا فَرِيقٌ مِنْهُمْ يَخْشُونَ النَّاسَ كَخَشْيَةِ اللَّهِ أَوْ أَشَدَّ خَشْيَةٍ وَقَالُوا رَبَّنَا لِمَ كَتَبْتَ عَلَيْنَا الْقِتَالَ لَوْ لَا أَخَّرْتَنَا إِلَى أَجَلٍ قَرِيبٍ قُلْ مَتَاعُ الدُّنْيَا قَلِيلٌ وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ لِمَنِ اتَّقَى وَلَا تُظْلَمُونَ فَتِيلًا -
(৪) وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَا ابْنَى آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَا نَا فَتُقُبِلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلُ مِنَ الْآخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ -
(৫) قُلْ مَن رَّبُّ السَّمَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ قُلْ أَفَاتَّخَذْتُمُ مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ لَا يَمْلِكُونَ لَأَنْفُسِهِمْ نَفْعًا وَّ لَا ضَرًّا
(৬) قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَتُ وَالنُّورُ ام جَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَيْهِمْ قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ (قَيُّومَ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ الْقُوَّةَ .)