📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 সূরা ফাতেহার কয়েকটি বিশেষ আমল

📄 সূরা ফাতেহার কয়েকটি বিশেষ আমল


নিম্নে প্রদত্ত হল:
আমল-১: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম-এর শেষ অক্ষর "মীম" কে সূরা আলহামদুর সাথে মিলিয়ে ৪১বার পড়ুন এবং রোগীর উপর দম করুন। ইনশাআল্লাহ যে কোন ব্যথা ও রোগ ব্যাধি নিরাময় হবে।
আমল-২: ফজরের সুন্নত ও ফরয নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে সূরা ফাতেহাকে ৪১ বার বিসমিল্লাহ-এর সাথে মিলিয়ে পড়লে রুগ্ন ব্যক্তি আরোগ্য লাভ করবে। বিশেষতঃ চোখের রোগ বিদূরিত হবে। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ঋণমুক্ত হবে। দুর্বল সবল হবে।
আমল-৩ঃ ফজরের নামাযের পর ১২৫ বার সূরা ফাতেহা পাঠ করলে অবশ্যই মকসুদ ও উদ্দেশ্য হাসিল হবে। ইনশাআল্লাহ
আমল-৪: আল্লামা আহমদ দায়রবী (রহঃ) বলেন, শরীরের যে কোন জায়গায় ব্যথা হলে ব্যথার স্থানে হাত রেখে ৭ বার সূরা ফাতেহা পাঠ করবে এবং আল্লাহর নিকট আরোগ্যের জন্য দুআ করবে। ইনশাআল্লাহ রোগী আরাম পাবে। ফতহুল মজীদ
হযরত আলী (রাযিঃ) ও এক বিশেষ তরতীব ও পদ্ধতিতে সূরা ফাতেহা পাঠ করার তালক্বীন দিয়েছেন। শায়খ মুহিউদ্দীন ইবনুল আরাবী (রহঃ) ও এক খাস তরতীবে সূরা ফাতেহা পাঠ করার তরীকা বর্ণনা করেছেন। এমনিভাবে আবদুল ওয়াহহাব শা'রানী (রহঃ) ও সূরা ফাতেহা পাঠ করার এক বিশেষ নিয়ম পদ্ধতি বাৎলিয়েছেন।
আমল-৫: মানুষ বাধ্য করা, কল্যাণ লাভ এবং অনিষ্ঠতা থেকে বেঁচে থাকার জন্য নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সূরা ফাতেহা পাঠ অত্যন্ত উপকারী। তবে এই আমল কোন অবস্থাতেই অসৎ উদ্দেশ্যে করা যাবে না। তরতীবটি নিম্নরূপ:
ফজরের নামাযের পর বিসমিল্লাহসহ শুরু করবে-
রবিবার الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ ৬১৬ বার
সোমবার الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ৬১৯ বার
মঙ্গলবার مُلِكِ يَوْمِ الدِّينِ ২৪২ বার
বুধবার إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ৮৫৬ বার
বৃহষ্পতিবার اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ১০৭০ বার
শুক্রবার صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ ৮০৭ বার
শনিবার غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ৪২০০ বার
আমল-৬: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, সূরা ফাতেহা বিষের ঔষধ। -দারেমী

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 আয়াতুল কুরসী

📄 আয়াতুল কুরসী


আয়াতুল কুরসী কুরআন মজীদের দ্বিতীয় সূরা, সূরা বাক্বারার দুইশত পঞ্চাশ নম্বর আয়াত। এই আয়াত অত্যন্ত বরকতময় ও মর্যাদাবান। হযরত উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ)-এর রেওয়ায়াতে এই আয়াতকে "আযম আয়াতুল্লাহ বা আল্লাহর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। -মুসলিম। হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ)-এর রেওয়ায়াতে এটাকে "সাইয়্যেদু আয়াতুল কুরআন" বা কুরআনের আয়াত সমূহের সর্দার বলা হয়েছে। -তিরমিযী শরীফ
আমলঃ বমির উদ্রেকের জন্য লবণের ছোট ছোট ৭টি পুটলি বানিয়ে ৭ বার আয়াতুল কুরসী পাঠ করে দম দিন এবং সাতদিন সকালে রোগীর মুখে এগুলি ঢেলে দিন। ইনশাআল্লাহ বমির উদ্রেক থেকে আরোগ্য লাভ করবে।
এই আয়াত ১১ বার পাঠ করে মৃগী রোগীর উপর দম করলে খুবই উপকার পাওয়া যায়। কলিজা ব্যথা এবং হার্টের কম্পন দূর করার জন্য পাক বর্তনে তিনবার আয়াতুল কুরসী লিখে ধুয়ে রোগীকে পান করান। আল্লাহ চাহেন তো ফায়দা পাওয়া যাবে।
রোগ-ব্যাধি থেকে হিফাযত এবং যুগের ফেৎনা ফাসাদ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য আল্লামা আবুল ইয়াসার (রহঃ)ও আল্লামা দায়রবী (রহঃ) তাদের স্ব স্ব কিতাবে এই আমল লিখেছেন যে, মুহাররম মাসের প্রথম রাতে বিসমিল্লাহসহ আয়াতুল কুরসী ৩৬০ বার পাঠ করে দুআ করবে এবং নিজের যাবতীয় দুঃখ কষ্ট, বালা মুসীবতের জন্য আল্লাহর দরবারে কাকুতি মিনতি করবে। ইনশাআল্লাহ সকল দুঃখ কষ্ট ও বালা মুসীবত দূর হয়ে যাবে।
উলামাগণ এই আয়াতে কারীমার অসংখ্য ফাযায়েল লিখেছেন। বিশেষতঃ রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী পাঠ করে সীনায় দম করলে মানুষ দুঃস্বপ্ন, পেরেশান খেয়াল ও চুরি-চামারী থেকে নিরাপদ থাকে। করুণাময় আল্লাহ তার জান-মাল, পরিবার-পরিজন ও বাড়ী ঘরের হিফাযত করেন। কেননা, তিনিই তো সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা দানকারী। তিনিই সর্বোত্তম মাওলা ও সর্বোত্তম সাহায্যকারী। আর এ আয়াতে এই শিক্ষারই ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
ইরশাদ হচ্ছে:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَوتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَؤُدُهُ حفظهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ .
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নাই, তিনি জীবিত ও সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান যমীনে যা কিছু রয়েছে সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন? তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না কিন্তু তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলিকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন কিছু নয়। তিনিই সর্বোচ্চ ও সর্বাপেক্ষা মহান। -সূরা বাকারা: আয়াতঃ ২৫৫
আল্লামা মুহাম্মদ আল জাযরী (রহঃ) বলেন, যে মাল বা সন্তানকে আয়াতুল কুরসী পাঠ করে দম দেওয়া হবে অথবা লিখে মালের ভেতর ও সন্তানের গলায় রেখে দেওয়া হবে, শয়তান সেই মাল বা সন্তানের কাছেও পৌছতে পারবে না। -হিসনে হাসিন

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 সূরা ইখলাস

📄 সূরা ইখলাস


সূরা ইখলাস পবিত্র কুরআনের একটি সংক্ষিপ্ত সূরা। এর ছোট্ট ছোট্ট পাঁচটি আয়াত রয়েছে। শব্দ সংখ্যা মাত্র পনেরটি। অর্থ ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে এই সূরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্যেই এই সূরাকে সুলুসে কুরআন বা কুরআনের এক তৃতীয়াংশ বলা হয়েছে। বহু উলামায়ে কেরামের অভিমত হল এই যে, যে ব্যক্তি নিয়মিতভাবে এই সূরা তেলাওয়াত করবে সে সামগ্রিক কল্যাণ লাভ করবে এবং দুনিয়া ও আখেরাতের প্রত্যেক অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ থাকবে। আল্লামা বোনী (রহঃ) নিজের হাজত পূর্ণ হওয়া ও রোগ মুক্তির জন্য নিম্নোক্ত তরীকা উল্লেখ করেছেন।
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى إِلَهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ لَيْسَ كَمِثْلِهِ أَحَدٌ لَا تُسَلِّطْ عَلَى أَحَدًا وَلَا تُحَوِّجْنِي إِلَى أَحَدٍ وَاغْنِنِي يَا رَبُّ عَنْ كُلِّ اَحَدٍ بِفَضْل - قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدُ اللهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدُ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ - يَا مَنْ هُوَ قَدِيمٌ وَدَائِمَ وَيَا حَيُّ يَا قَيُّومُ يَا أَوَّلُ يَا أَخِرُ اقْضِ حَاجَتِي يَا فَرْدُ يَا صَمَدُ وَصَلَّى اللهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى إِلَهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 আয়াতে শেফা

📄 আয়াতে শেফা


কুরআন মজীদের নিম্নোক্ত ছয়খানি আয়াতে কারীমাকে আয়াতে শেফা বা রোগ মুক্তির আয়াত বলা হয়। হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (রহঃ) স্বীয় "শিফাউল আলীল" নামক কিতাবে এই আয়াতগুলির খুবই তারীফ করেছেন। এইগুলি কুরআনুল হাকীমের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আয়াত। বিসমিল্লাহ ও সূরা ফাতেহাসহ এই আয়াতগুলি পাঠ করে রুগ্ন ব্যক্তির উপর দম দিবে অথবা চীনা মাটির বাসনে লিখে পানির দ্বারা ধৌত করে রোগীকে পান করাবে। ইনশাআল্লাহ যে কোন রোগ আরোগ্য হবে।
ছয়টি আয়াত এই-
(১) وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ
(২) وَشِفَاءُ لِمَا فِي الصُّدُورِ
(۳) يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفُ الْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ
(٤) وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
(٥) وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
(٦) قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءُ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00