📄 সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার
(দারিদ্রবিমোচন ও প্রশস্ত রিযিকের জন্যে)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এস্তেগফারকে নিজের জন্য অপরিহার্য্য করে নিয়েছে আল্লাহ তা'আলা তাকে সকল অভাব অনটন ও দারিদ্র থেকে মুক্তি দেন এবং যে কোন চিন্তা ও পেরেশানী থেকে নাজাত দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আবূ দাউদ, নাসায়ী
যে কোন বালা-মুসীবত ও দুঃখ কষ্টের সময় দুইটি জিনিসই মানুষের চিন্তা-ভাবনা ও পেরেশানী দূর করতে পারে। একটি হল অধিক পরিমাণে এস্তেগফার আর অপরটি হল সদকা-খয়রাত। হাদীস শরীফে বিভিন্ন এস্তেগফার বর্ণিত হয়েছে। এর যে কোন একটি পাঠ করাই যথেষ্ট। তবে বুখারী ও মুসলিম শরীফের নিম্নোক্ত সাইয়্যেদুল এস্তেগফারের বহু প্রশংসা উল্লেখিত হয়েছে।
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَعَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ .
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَسِرِينَ
হযরত আদম (আঃ) আল্লাহর দরবারে আরয করেছিলেনঃ "হে আমাদের পরওয়ারদিগার! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব। সূরাহ আরাফ: আয়াতঃ ২৩
📄 ফাতেহাঃ সূরায়ে শেফা
পবিত্র কুরআনের প্রথম সূরা ফাতেহাকে উলামাগণ সবচেয়ে মর্যাদাবান সূরা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইমাম বুখারী (রহঃ) এই সূরা ফাতেহাকে "আযমে সূআর" বা সূরা সমূহের মর্যাদাবান সূরা এবং 'কুরআনুল আযীম' নামে উল্লেখ করেছেন। স্বয়ং রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ
فَاتِحَةُ الْكِتَابِ شِفَاء لِكُلِّ دَاء
অর্থাৎ "সূরা ফাতেহা প্রত্যেক রোগের জন্য শেফা।"
📄 সূরা ফাতেহার কয়েকটি বিশেষ আমল
নিম্নে প্রদত্ত হল:
আমল-১: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম-এর শেষ অক্ষর "মীম" কে সূরা আলহামদুর সাথে মিলিয়ে ৪১বার পড়ুন এবং রোগীর উপর দম করুন। ইনশাআল্লাহ যে কোন ব্যথা ও রোগ ব্যাধি নিরাময় হবে।
আমল-২: ফজরের সুন্নত ও ফরয নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে সূরা ফাতেহাকে ৪১ বার বিসমিল্লাহ-এর সাথে মিলিয়ে পড়লে রুগ্ন ব্যক্তি আরোগ্য লাভ করবে। বিশেষতঃ চোখের রোগ বিদূরিত হবে। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ঋণমুক্ত হবে। দুর্বল সবল হবে।
আমল-৩ঃ ফজরের নামাযের পর ১২৫ বার সূরা ফাতেহা পাঠ করলে অবশ্যই মকসুদ ও উদ্দেশ্য হাসিল হবে। ইনশাআল্লাহ
আমল-৪: আল্লামা আহমদ দায়রবী (রহঃ) বলেন, শরীরের যে কোন জায়গায় ব্যথা হলে ব্যথার স্থানে হাত রেখে ৭ বার সূরা ফাতেহা পাঠ করবে এবং আল্লাহর নিকট আরোগ্যের জন্য দুআ করবে। ইনশাআল্লাহ রোগী আরাম পাবে। ফতহুল মজীদ
হযরত আলী (রাযিঃ) ও এক বিশেষ তরতীব ও পদ্ধতিতে সূরা ফাতেহা পাঠ করার তালক্বীন দিয়েছেন। শায়খ মুহিউদ্দীন ইবনুল আরাবী (রহঃ) ও এক খাস তরতীবে সূরা ফাতেহা পাঠ করার তরীকা বর্ণনা করেছেন। এমনিভাবে আবদুল ওয়াহহাব শা'রানী (রহঃ) ও সূরা ফাতেহা পাঠ করার এক বিশেষ নিয়ম পদ্ধতি বাৎলিয়েছেন।
আমল-৫: মানুষ বাধ্য করা, কল্যাণ লাভ এবং অনিষ্ঠতা থেকে বেঁচে থাকার জন্য নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সূরা ফাতেহা পাঠ অত্যন্ত উপকারী। তবে এই আমল কোন অবস্থাতেই অসৎ উদ্দেশ্যে করা যাবে না। তরতীবটি নিম্নরূপ:
ফজরের নামাযের পর বিসমিল্লাহসহ শুরু করবে-
রবিবার الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ ৬১৬ বার
সোমবার الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ৬১৯ বার
মঙ্গলবার مُلِكِ يَوْمِ الدِّينِ ২৪২ বার
বুধবার إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ৮৫৬ বার
বৃহষ্পতিবার اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ১০৭০ বার
শুক্রবার صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ ৮০৭ বার
শনিবার غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ৪২০০ বার
আমল-৬: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, সূরা ফাতেহা বিষের ঔষধ। -দারেমী
📄 আয়াতুল কুরসী
আয়াতুল কুরসী কুরআন মজীদের দ্বিতীয় সূরা, সূরা বাক্বারার দুইশত পঞ্চাশ নম্বর আয়াত। এই আয়াত অত্যন্ত বরকতময় ও মর্যাদাবান। হযরত উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ)-এর রেওয়ায়াতে এই আয়াতকে "আযম আয়াতুল্লাহ বা আল্লাহর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত হিসাবে অভিহিত করা হয়েছে। -মুসলিম। হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ)-এর রেওয়ায়াতে এটাকে "সাইয়্যেদু আয়াতুল কুরআন" বা কুরআনের আয়াত সমূহের সর্দার বলা হয়েছে। -তিরমিযী শরীফ
আমলঃ বমির উদ্রেকের জন্য লবণের ছোট ছোট ৭টি পুটলি বানিয়ে ৭ বার আয়াতুল কুরসী পাঠ করে দম দিন এবং সাতদিন সকালে রোগীর মুখে এগুলি ঢেলে দিন। ইনশাআল্লাহ বমির উদ্রেক থেকে আরোগ্য লাভ করবে।
এই আয়াত ১১ বার পাঠ করে মৃগী রোগীর উপর দম করলে খুবই উপকার পাওয়া যায়। কলিজা ব্যথা এবং হার্টের কম্পন দূর করার জন্য পাক বর্তনে তিনবার আয়াতুল কুরসী লিখে ধুয়ে রোগীকে পান করান। আল্লাহ চাহেন তো ফায়দা পাওয়া যাবে।
রোগ-ব্যাধি থেকে হিফাযত এবং যুগের ফেৎনা ফাসাদ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য আল্লামা আবুল ইয়াসার (রহঃ)ও আল্লামা দায়রবী (রহঃ) তাদের স্ব স্ব কিতাবে এই আমল লিখেছেন যে, মুহাররম মাসের প্রথম রাতে বিসমিল্লাহসহ আয়াতুল কুরসী ৩৬০ বার পাঠ করে দুআ করবে এবং নিজের যাবতীয় দুঃখ কষ্ট, বালা মুসীবতের জন্য আল্লাহর দরবারে কাকুতি মিনতি করবে। ইনশাআল্লাহ সকল দুঃখ কষ্ট ও বালা মুসীবত দূর হয়ে যাবে।
উলামাগণ এই আয়াতে কারীমার অসংখ্য ফাযায়েল লিখেছেন। বিশেষতঃ রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী পাঠ করে সীনায় দম করলে মানুষ দুঃস্বপ্ন, পেরেশান খেয়াল ও চুরি-চামারী থেকে নিরাপদ থাকে। করুণাময় আল্লাহ তার জান-মাল, পরিবার-পরিজন ও বাড়ী ঘরের হিফাযত করেন। কেননা, তিনিই তো সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা দানকারী। তিনিই সর্বোত্তম মাওলা ও সর্বোত্তম সাহায্যকারী। আর এ আয়াতে এই শিক্ষারই ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
ইরশাদ হচ্ছে:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ اللهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَوتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَؤُدُهُ حفظهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ .
আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নাই, তিনি জীবিত ও সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান যমীনে যা কিছু রয়েছে সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পেছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন? তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না কিন্তু তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলিকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন কিছু নয়। তিনিই সর্বোচ্চ ও সর্বাপেক্ষা মহান। -সূরা বাকারা: আয়াতঃ ২৫৫
আল্লামা মুহাম্মদ আল জাযরী (রহঃ) বলেন, যে মাল বা সন্তানকে আয়াতুল কুরসী পাঠ করে দম দেওয়া হবে অথবা লিখে মালের ভেতর ও সন্তানের গলায় রেখে দেওয়া হবে, শয়তান সেই মাল বা সন্তানের কাছেও পৌছতে পারবে না। -হিসনে হাসিন